04/02/2020
. . .. *ভারতের সংবিধান *
প্রস্তাবনা
“আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে চাই। একই সঙ্গে এর নাগরিকদের
সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার
চিন্তা, প্রকাশ, বিশ্বাস, আস্থা ও উপাসনার স্বাধীনতা
মর্যাদা ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে চাই
এবং তাদের সকলের মধ্যে সকল ব্যক্তির মর্যাদা ও দেশের ঐক্য ও সংহতি নিশ্চয়তাদায়ী সৌভ্রাতৃত্ব বাড়িয়ে তুলতে চাই”
“আমাদের বিধান পরিষদ, ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এই সংবিধান গ্রহণ করল, কার্যকর করল ও আমাদের হাতে সংবিধান তুলে দিল।”
প্রস্তাবনার মূল শব্দগুলির অর্থ কী?
“আমরা, ভারতের জনগণ” বলতে ভারতের মানুষের চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব বোঝায়।
এখানে ভারতকে “প্রজাতন্ত্র” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা থেকে বোঝায় সরকার হবে জনগণের দ্বারা ও জনগণের জন্য।
এখানে উদ্দেশ্য হিসেবে “সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক ন্যায়ের” কথা বলা হয়েছে।
১৯৫৬ সালে নেহরু বলেছিলেন, “গণতন্ত্রের কথা মুখ্যত আগে যা বলা হয়েছে, রাজনৈতিক গণতন্ত্রে মুখ্যত সব মানুষের ভোটাধিকার রয়েছে। কিন্তু যে মানুষ একেবারে নিচে রয়েছে, বাইরে রয়েছে, ধরুন যে মানুষটা উপোসী, ক্ষুধার্ত, তার একটা ভোট তার প্রতিনিধিত্ব করে না। রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়, যদি না এর মাধ্যমে কেবল অর্থনৈতিক গণতন্ত্র, সমতার ক্রমবর্ধমানতার পরিমাপ করা যেতে পারে, এবং যদি না জীবনের সুন্দর জিনিসগুলি অন্যদের কাছে ছড়িয়ে না দেওয়া যেতে পারে এবং মোটাদাগের অসাম্যগুলি দূর করা যেতে পারে।”
“স্বাধীনতা”, “সমতা” ও “সৌভ্রাতৃত্ব”কেও আদর্শ ধরা হয়েছে।
বি আর আম্বেদকর বিধান পরিষদে তাঁর অন্তিম ভাষণে বলেছিলেন, “রাজনৈতিক গণতন্ত্রের ভিত্তিতে সামাজিক গণতন্ত্র না থাকলে তা টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্র মানে কী? তার মানে এমন একটা জীবন যেখানে স্বাধীনতা, সমতা ও সৌভ্রাতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় যে তিনটি পৃথক নয়। এই তিনে মিলে একটি সংযুক্তি তৈরি হয় যার একটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেই গণতন্ত্র তার উদ্দেশ্য হারাবে। স্বাধীনতাকে সমতার থেকে আলাদা করা যায় না, সমতাকে পৃথক করা যায় না স্বাধীনতার থেকে। আবার সৌভ্রাতৃত্বের থেকে স্বাধীনতা ও সমতাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না।”
১৯৭৬ সালে সংবিধানের ৪২ তম সংশোধনীতে ‘সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে’র জায়গায় ‘সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’ গৃহীত হয়েছে। সে সময়ে ‘দেশের ঐক্য’-কে বদলে ‘দেশের ঐক্য ও সংহতি’ করা হয়েছে।