26/02/2026
ছাত্র অবস্থায় আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শিক্ষিকার হাতে মার খেয়ে, বকা খেয়ে বড়ো হয়েছি। তাদের শাসন, বকা, মার আশীর্বাদ হিসাবে নিয়েছি। খুব কষ্টে মানুষ হওয়া পরিবার থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সাসন্দে চলতে পারবো এমন আর্থিক অবস্থায় পৌঁছেছি। এখনো শিক্ষক শিক্ষিকাদের দেখলে প্রণাম করি।
ছাত্র ছাত্রীরা ছেলে মানুষ, অপরিণত তাদের দুস্টুমি আমাদের কাছে স্বাভাবিক, অত্যান্ত স্বাভাবিক। গত ১২ বছর শিক্ষকতা জীবনে ছাত্রছাত্রীদের অনেক বদমায়েশি দেখেছি। নিজের সন্তানের মতো বকে, ভালোবেসে বুঝিয়ে বা শাস্তি দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করেছি। হয়তো সবসময় সফল হয় নি।
কিন্তু বর্তমানে সকল শিক্ষক সমাজ আরো একটি বড়ো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। অভিভাবকদের মনোভাব। একটা বড়ো অংশের অভিভাবক অভিভাবিকা শিক্ষকশিক্ষিকাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন তাদের প্রিয় সন্তান সন্তোতিদের সঠিক মূল্যবোধ শেখাতে। কিন্তু কিছু অভিভাবক অভিভাবিকা শিক্ষকশিক্ষিকাদের সামান্যতম বিশ্বাস বা ভরসা করেন না। কিন্তু নিজের সন্তানকে অন্ধ বিশ্বাস করেন। ফলে কোনো ছাত্র ছাত্রী অন্যায় করলে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করলে, সেই নির্দিষ্ট অভিভাবক/ অভিভাবিকা শিক্ষকদের দোষ মনে করেন। এমন কি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে "দেখে নেবো", "আমাকে চেনেন না আমি কি করতে পারি " এমন হুমকি ও দেন বিদ্যালয়ে এসে।
অমত পরিস্থিতিতে শিক্ষক শিক্ষিকারা নিজেদের সন্মান রক্ষায় শিক্ষকতা কাজ টি শুধু মাত্র পেশা হিসাবে দেখতে শুরু করেছেন। এবং ছাত্রছাত্রীদের সন্তান নয় শুধু ছাত্র/ছাত্রী ভাবতে শুরু করেছেন।
কারণ সবার কাছে তার সন্মান প্রিয়।
ফলে ছাত্রসমাজ এবং ভবিষৎ সমাজ মূল্যবোধহীন সমাজে পরিণত হবে। এটা সমস্ত শিক্ষক সমাজের কাছে অত্যান্ত দুঃখের, বেদনার।