26/08/2023
এক গভীর ষড়যন্ত্র যা হার মানাবে পলাশীর ষড়যন্ত্র কে: যা ভারতের মহাকাশ গবেষণা কে ১৫বছর পিছিয়ে দেয় ।
***********************************
নাম্বি নারায়ণন নামে এক তরুণ প্রতিভাবান কেরেলিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ১৯৬৬ সালে যোগ দিলেন ইসরোর থুম্বা ইকোয়াটোরিয়াল রকেট লঞ্চ স্টেশন এ। দ্রুত বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো আমাদের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী Dr. কালামের সাথে।তখন অলরেডি Dr. কালাম সলিড propellant নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু দীর্ঘ মহাকাশ যাত্রার জন্য দরকার লিকুইড propulsion ইঞ্জিন। কিন্তু এই cryogenic engine এর টেকনোলজি তখন ভারতের অধরা। নাম্বি ইচ্ছা প্রকাশ করলেন লিকুইড propellants এর উপর গবেষণা করবেন। ভারত সরকার তাকে পাঠালেন Princeton university তে। নামবির ইচ্ছা cryogenic system এর প্রবাদ প্রতিম প্রফেসর Crocco এর কাছে গবেষণা করবেন। কিন্তু প্রফেসর Crocco তখন স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। তার কাছে আরও অনেক গবেষক, গবেষণা শেষ করার অপেক্ষা করছে। নাম্বি নাছোড়। পৌঁছে গেলেন প্রফেসর Crocco এর বাড়ি তে এবং প্রায় পরিচারকের মতো তার বাড়িতে কাজ করলেন শর্ত একটাই সব কাজের ফাঁকে একটু নাম্বি কে গাইড করবেন। রেকর্ড টাইম এ নাম্বি তার গবেষণা শেষ করলেন। প্রফেসর Crocco কিন্তু চিনতে ভুল করেন নি তার অসামান্য প্রতিভাধর ছাত্র কে। নাম্বি র নাম Crocco স্বয়ং সুপারিশ করলেন নাসা কে। তৎকালীন দিনে নাসা সর্বোচ্চ মাইনে অফার করে নাম্বি কে। কিন্তু অর্থের প্রলোভন কে দূরে সরিয়ে নাম্বি ফিরলেন ভারতে। স্বপ্ন একটাই লিকুইড propulsion cryogenic engine তৈরি করবেন। পরবর্তী পর্যায়ে ফ্রান্সে গিয়ে viking ইঞ্জিন নিয়ে গবেষণার সময় কৌশলে শিখলেন টেকনিকাল দিক গুলো। ১৯৮৫ সালে তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ভারত তৈরী করলো Vikas engine যা লিকুইড propellant এর সাহায্যে চলে।
আরও শক্তিশালী ইঞ্জিন যখন বানানোর চেষ্টা করছেন তখন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং কেরল পুলিশ তাকে এই সংক্রান্ত তথ্য পাচারের দায়ে ১৯৯৪সালের নভেম্বর মাসে গ্রেফতার করে। দুজন মালয়েসিয়া বাসী বিদেশী মহিলা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেন। পুলিশ ও IB, তার জেলে থাকা কালীন অকথ্য অত্যাচার করে যাতে পুলিশ এর ইচ্ছা মতো তিনি দোষ স্বীকার করেন।
১৯৯৬ সালে কেস টি CBI হাতে যায়। CBI এর তদানীন্তন ডিরেক্টর বিজয় রামা রাও নিজে তদন্ত শুরু করেন। রাও বুঝতে পারেন নাম্বি কে ফাঁসানো হয়েছে এক বিদেশী রাষ্ট্রের মদতে। CBI তার চার্জেশিট এ নাম্বি কে নির্দোষ বলে। ১৯৯৮সালে সুপ্রিম কোর্ট নাম্বি কে নির্দোষ বলে ঘোষণা করে। ২০০১ সালে জাতীয় মানবধিকার কমিশন স্পষ্ট জানায় যে নাম্বি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার এবং কেরল সরকার কে ১কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলে। নাম্বি কিন্তু হার মানেন নি। সর্বোচ্চ আদালতে তিনি লড়াই চালাতে থাকেন। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্য বিশিষ্ট বিশেষ বেঞ্চ কেন্দ্র সরকার কে ৫০লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়। ২০২১সালে আদালতের চাপে কেরল সরকার তাকে ১.৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়। সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দেয় যে সমস্ত পুলিশ ও IB অফিসার নাম্বি র বিরুদ্ধে তদন্ত করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে CBI তদন্ত শুরু করার জন্য। ইতিমধ্যে IB এর এক ডেপুটি ডিরেক্টর বিদেশে পালিয়ে গেছেন। আজও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নাম্বি, প্রকৃত দোষী দের খুঁজে বের করার জন্য।......
©