22/03/2026
শিশু নিকেতন নার্সারী স্কুলের দশম বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান "দশধা"-র মঞ্চে বীরত্ব ও দেশপ্রেমের এক অনবদ্য উপস্থাপন এই নৃত্যনাট্যটি।
"সিংহের পদধ্বনি : স্বরাজ্যের স্বপ্নদ্রষ্টা শিবাজী মহারাজ"
এই নিত্যনাট্যের অর্ঘ্য নিবেদিত সেই যুগপুরুষের চরণে, যিনি কোনো উত্তরাধিকারের সিংহাসনে বসেননি, বরং আপন শৌর্য আর অবিশ্রান্ত শ্রমে ইতিহাসের বক্ষে খোদাই করেছেন স্বীয় মহিমা। তাঁর পরিচয় কোনো ভূমিকার মুখাপেক্ষী নয়; তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টিই শতাব্দীকাল ধরে বিশ্ববাসীর কাছে তাঁর শাশ্বত পরিচয় পৌঁছে দেয়। আজ সমগ্র ভারতভূমি তাঁর চরণে ঋণী-কেননা সেই মহামানবের আবির্ভাব না ঘটলে হয়তো ভারতের শাশ্বত অস্তিত্ব ইতিহাসের ধূলিকণায় বিলীন হয়ে যেত।
"মস্তক যাঁর নত হয়নি কভু কোনো মদমত্তের তরে, স্বরাজ্য যাঁর মন্ত্র ছিল জীবন-মরণ পণে-সেই শিবাজীর জয়গানে আজ আকাশ-বাতাস ভরে, ভারত-ভাগ্য বিধাতা জাগে বীরের সিংহাসনে।"
১৬৩০ সাল, ১৯শে ফেব্রুয়ারি। জুন্নারের পুণ্যভূমি শিবনেরী দুর্গ সাক্ষী রইল এক অলৌকিক মুহূর্তের। মাতা জিজাউয়ের কোলে ভূমিষ্ঠ হলো এক সিংহশিশু। সেই লগ্ন থেকেই রচিত হতে শুরু করল এক নতুন উপাখ্যান। যাঁর অদম্য সাহস আর বিদ্যুৎগতির রণকৌশল একদিন কাঁপিয়ে দিয়েছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোঘল সাম্রাজ্যের ভিত।
প্রতাপগড়ের সানুদেশে যখন ছদ্মবেশে নেমে আসে বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া, ঠিক তখনই বাঘনখের এক নিপুণ আঁচড়ে শিবাজী মহারাজ চূর্ণ করে দেন উদ্ধত আফজল খাঁর দর্প। সে এক অমিত বিক্রমের ইতিহাস-যেখানে ছলনার বিনাশ ঘটিয়ে সত্য আর বীরত্বের জয়ধ্বজা উড়িয়েছিলেন হিন্দুভি স্বরাজ্যের কেশরী।
তিনি কেবল একজন যোদ্ধা নন, তিনি এক আদর্শের নাম। তিনি মাতা জিজাবাই ও পিতা শাহজীর নয়নমণি, অত্যাচারীর ত্রাস এবং আর্তের রক্ষক-হিন্দুভি স্বরাজ্যের স্বপ্নদ্রষ্টা, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ।
এই মহান আদর্শকে পাথেয় করেই আজকের প্রজন্মের বেড়ে ওঠা প্রয়োজন। অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সন্তানদের হৃদয়ে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের সেই বীরত্ব, দেশপ্রেম এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার বীজ বুনে দেওয়া। যাতে তারা শুধু সফল মানুষ নয়, বরং এক একজন আদর্শ দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদের সেই সাহসের পাঠ দিই, যা একদিন ভারতকে আরও গৌরবান্বিত করবে।
ভারত মাতা কি জয়!
জয়তু শিবাজী, জয়তু ভবানী!
ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ কি জয়!"