নবজাগরণ টিউশন পয়েন্ট

  • Home
  • India
  • Dinhata
  • নবজাগরণ টিউশন পয়েন্ট

নবজাগরণ টিউশন পয়েন্ট 🇮🇳 সুশিক্ষিত রাষ্টবাদী নাগরিক তৈরির লক্ষ্যে"🇮🇳

গল্পের নাম:- শ্রদ্ধার এক চিলতে আলো 🪔শহরের নামকরা ব্যবসায়ী আকাশ। বড় বড় ডিগ্রি তার ঝুলিতে, সমাজে তার অগাধ প্রতিপত্তি। কিন্...
11/09/2026

গল্পের নাম:- শ্রদ্ধার এক চিলতে আলো 🪔

শহরের নামকরা ব্যবসায়ী আকাশ। বড় বড় ডিগ্রি তার ঝুলিতে, সমাজে তার অগাধ প্রতিপত্তি। কিন্তু এত কিছুর পরেও আকাশে একটা তীব্র অহংকার কাজ করত। সে মনে করত, মানুষের সফলতার পেছনে কেবল তার নিজের মেধা আর পরিশ্রমই শেষ কথা।
একদিন আকাশ তার দামি গাড়ি নিয়ে গ্রামের বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ মাঝরাস্তায় একটা ছোট বাজারের কাছে তার গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়। ড্রাইভার গাড়ি ঠিক করতে ব্যস্ত, আর আকাশ বিরক্ত হয়ে গাড়ির বাইরে এসে দাঁড়াল। ঠিক তখনই তার চোখ গেল রাস্তার পাশে একটা ভাঙাচোরা, পুরনো ঘরের দিকে। জীর্ণ একটা সাইনবোর্ডে লেখা—"প্রাথমিক পাঠশালা"।
ভেতর থেকে একটা খসখসে, চেনা কণ্ঠস্বর ভেসে আসছিল। আকাশ কৌতূহলবশত দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। দেখল, ভেতরে এক বৃদ্ধ শিক্ষক ছেঁড়া চট বিছানো মেঝেতে বসে কয়েকজন বাচ্চাকে পড়াচ্ছেন। লোকটার গায়ের জামাটা মলিন, চশমাটার একপাশের ফ্রেম সুতো দিয়ে বাঁধা। খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতেই আকাশের বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। এ তো আর কেউ নন, তার ছোটবেলার অংকের শিক্ষক—হরেন স্যার!
ছোটবেলায় হরেন স্যার ভীষণ কড়া ছিলেন। সামান্য ভুল করলেই বেত মারতেন, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। আকাশের মনে আছে, একবার অংক ভুল করায় স্যার তাকে পুরো ক্লাসের সামনে খুব বকেছিলেন। সেই থেকে আকাশের মনে হরেন স্যারের প্রতি একটা ক্ষোভ আর তাচ্ছিল্য তৈরি হয়েছিল। আকাশ মনে মনে ভাবল, "এত বছর পার হয়ে গেল, লোকটা এই ভাঙা ঘরেই পড়ে রইল। আর আজ আমি কোথায় পৌঁছে গেছি! কী লাভ হলো অমন মারধর আর পণ্ডিতি দেখিয়ে?"
আকাশের ঠোঁটের কোণে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। সে ঘরের ভেতরে পা রাখল।
আকাশকে দেখে হরেন স্যার পড়া থামালেন। চোখের চশমাটা ঠিক করে বৃদ্ধ মানুষটি চেনার চেষ্টা করলেন। তারপরই তার ফোকলা দাঁতের মুখটা এক অদ্ভুত আনন্দে ভরে উঠল। তিনি আনন্দে প্রায় চিৎকার করে উঠলেন, "আরে আকাশ না! তুই এত বড় হয়ে গেছিস বাবা?"
আকাশ পকেটে হাত দিয়ে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, "হ্যাঁ স্যার। ব্যবসার কাজে এদিকে এসেছিলাম, গাড়িটা নষ্ট হলো তাই ভাবলাম একটু দেখা করে যাই। তা স্যার, আপনার অবস্থা তো দেখছি আগের মতোই রয়ে গেল। এখনো এই ভাঙা ঘরেই পড়ে আছেন?"
আকাশের কথার ভেতরের খোঁচাটা হরেন স্যার বুঝতে পারলেন না। তিনি উল্টে গর্বিত গলায় পাশের বাচ্চাদের বললেন, "দেখ দেখ রে তোরা, এই আকাশ কিন্তু আমার ছাত্র ছিল। আজ ও শহরের মস্ত বড় মানুষ। আমার শেখানো অংক দিয়েই ও আজ কোটি কোটি টাকার হিসাব রাখে।" বৃদ্ধ শিক্ষকের চোখে তখন আনন্দের জল।
ঠিক সেই মুহূর্তে হরেন স্যারেরই বয়সী আরেকজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলেন। তিনি ওই গ্রামেরই একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। আকাশকে সেখানে দেখে তিনি অবাক হয়ে হরেন স্যারকে বললেন, "হরেন বাবু, আপনি এখনো এই ছেলেকে চাটুকারিতা করছেন? আপনি জানেন না, ও গত মাসে আমাদের এলাকার ওই এতিমখানার জমিটা জবরদখল করার চেষ্টা করেছে? ওর নামে কত জালিয়াতির মামলা চলছে শহরে! ও টাকার গরমে মানুষকে মানুষ মনে করে না।"
কথাটা শুনে হরেন স্যারের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন। আকাশের অহংকারী মুখটা মুহূর্তের মধ্যে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে ভাবল, এবার বুঝি স্যার তাকে সবার সামনে অপমান করবেন, ছোটবেলার মতো তীব্র তিরস্কার করবেন।
কিন্তু হরেন স্যার তা করলেন না। তিনি ওই ভদ্রলোকের হাত ধরে শান্ত গলায় বললেন, "ও যা করেছে, তা হয়তো ওর চারপাশের পরিবেশ আর লোভের কারণে করেছে। কিন্তু ও আজ যখন এই ভাঙা পাঠশালায় পা রেখেছে, তখন ও কোনো অপরাধী বা বড় ব্যবসায়ী নয়। ও কেবলই আমার ছাত্র। শিক্ষক হিসেবে আমি হয়তো ওকে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাটা পুরোপুরি গেঁথে দিতে পারিনি, সে ব্যর্থতা আমার। কিন্তু আমার ঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আমার ছাত্রকে কেউ অপমান করবে, এটা আমি সইব না। ও যেমনি হোক, ও আমার ছাত্র। আর আমি যেমনি হই না কেন, আমি ওর শিক্ষক।"
হরেন স্যারের এই কথা কটি যেন আকাশের কানে এসে চাবুকের মতো পড়ল। যে স্যারকে সে মনে মনে তাচ্ছিল্য করছিল, যাকে সে ব্যর্থ ভাবছিল, সেই মানুষটিই আজ তার সম্মান বাঁচাতে নিজের কাঁধে ব্যর্থতার দায় তুলে নিলেন! আকাশের চোখের সামনে থেকে অহংকারের পর্দাটা ছিঁড়ে পড়ে গেল। সে বুঝতে পারল, শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় বা বড় ডিগ্রিতে থাকে না, শিক্ষা থাকে শিক্ষকের এমন বিশাল হৃদয়ের আদর্শে।
আকাশের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে সমস্ত অহংকার ভুলে হরেন স্যারের মলিন পায়ের কাছে নতজানু হয়ে বসে পড়ল এবং স্যারের পা ছুঁয়ে প্রণাম করল। ভাঙা চশমার আড়াল থেকে হরেন স্যারের চোখ দুটো আবার ভিজে উঠল, তবে এবার তা পরম তৃপ্তির।
আকাশ সেদিন মনে মনে অনুভব করল—"শিক্ষক যেমনি হোক, যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, তিনি আমার শিক্ষক। তাঁর দেওয়া শিক্ষার আলোই আমার ভেতরের অন্ধকার দূর করার একমাত্র চাবিকাঠি।"

গল্পের নাম:- শিক্ষার আলো ~🌅                                             একটি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক ছিলেন। একজ...
10/09/2026

গল্পের নাম:- শিক্ষার আলো ~🌅



একটি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক ছিলেন। একজন প্রবীণ ও অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির গণিতের শিক্ষক, নাম সুরেশ বাবু। অন্যজন তরুণ এবং বিজ্ঞানের শিক্ষক, নাম বিকাশ বাবু। বিকাশ বাবু আধুনিক প্রযুক্তিতে বেশ দক্ষ ছিলেন, কিন্তু তাঁর মনে মনে একটু অহংকার ছিল। তিনি ভাবতেন সুরেশ বাবুর পুরোনো দিনের পড়ানোর পদ্ধতি এখনকার যুগের সাথে চলে না।বিকাশ বাবু প্রায়ই স্টাফ রুমে অন্য সহকর্মীদের সামনে, এমনকি ক্লাসে ছাত্রদের পরোক্ষভাবে সুরেশ বাবুর পড়ানোর স্টাইল নিয়ে কটূক্তি ও খারাপ মন্তব্য করতেন। তিনি বলতেন, "সুরেশ বাবুর ব্যাকডেটেড পদ্ধতি দিয়ে ছাত্রদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।"সুরেশ বাবু সব জানতেন। শিক্ষকেরা সমাজ গড়ার কারিগর, তাই নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি তিনি পছন্দ করতেন না। তাই তিনি বিকাশ বাবুর এসব কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজ নীরবে করে যেতেন এবং বিকাশ বাবুকে দেখলেই মৃদু হেসে নমস্কার জানাতেন।একদিন ঘটলো একটি বড় দুর্ঘটনা। বিকাশ বাবু নবম শ্রেণীতে একটি জটিল বৈজ্ঞানিক সমীকরণ ও তার সমাধান বোঝাচ্ছিলেন। কিন্তু তাড়াহুড়ো আর অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে তিনি বোর্ডে একটি মস্ত বড় ভুল করে ফেললেন। ক্লাসের কয়েকজন বুদ্ধিমান ছাত্র সেই ভুলটি ধরে ফেলে এবং নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করতে শুরু করে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কান পর্যন্ত যাওয়ার উপক্রম হলো। বিকাশ বাবু যখন নিজের ভুলটি বুঝতে পারলেন, তখন তাঁর আত্মসম্মানে প্রচণ্ড আঘাত লাগলো। তিনি চরম লজ্জিত ও বিব্রত বোধ করতে লাগলেন।ঠিক সেই সময় সুরেশ বাবু ওই ক্লাসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছে যাওয়ার আগেই ছাত্রদের ডেকে নিজের ক্লাসে নিয়ে এলেন। তিনি অত্যন্ত স্নেহের সাথে ছাত্রদের বললেন, "দেখো বিজ্ঞান বা যে কোন বিষয়ে অনেক সময় বড় বড় বিজ্ঞানীদেরও ভুল হয়ে যায়। বিকাশ বাবু অত্যন্ত মেধাবী এবং পরিশ্রমী শিক্ষক। তোমাদের ভালো করার জন্য তিনি দিনরাত খাটেন। আজ হয়তো অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে একটা ছোট ভুল হয়ে গেছে। চলো, ভুলটা আমরা সবাই মিলে বোর্ডে একসাথে শুধরে নিই।"সুরেশ বাবু ছাত্রদের শান্ত করলেন এবং বিকাশ বাবুর ভুলটিকে আড়াল করে তাঁর সম্মান রক্ষা করলেন।ছুটির পর স্টাফ রুমে যখন কেউ ছিল না, তখন বিকাশ বাবু মাথা নিচু করে সুরেশ বাবুর সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর চোখে তখন অনুশোচনার জল।"সুরেশ বাবু পরম স্নেহে বিকাশ বাবুর কাঁধে হাত রেখে বললেন, "বিকাশ বাবু, আমরা শিক্ষক। আমাদের মূল কাজ শুধু বইয়ের পড়া মুখস্থ করানো নয়, ছাত্রদের চরিত্র গঠন করা। আমরা যদি নিজেরাই একে অপরের পিঠের পেছনে নিন্দা করি বা একে অপরকে ছোট প্রমাণের চেষ্টা করি, তবে ছাত্ররা আমাদের কাউকেই শ্রদ্ধা করতে শিখবে না। একজন শিক্ষকের আসল আলো ফুটে ওঠে তাঁর সহনশীলতা ও ত্যাগে।"সেদিন থেকে বিকাশ বাবুর অহংকার ধুলোয় মিশে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, সহকর্মীর নিন্দা করে নিজেকে বড় করা যায় না, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসাই একজন মানুষকে প্রকৃত শিক্ষক করে তোলে।

⚫ গল্পের শিক্ষা:কোনো পেশাতেই, বিশেষ করে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায়, একে অপরের সমালোচনা বা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করা অনুচিত। সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখলে সমাজের চোখে নিজেদের মর্যাদা এবং শিক্ষার মান—দুই-ই বৃদ্ধি পায়।

06/09/2026

Happy teachers day 🎆🥳🎇

06/09/2026

Happy teachers day 🎆🎇🎉🥰🎊

26/07/2026

🇮🇳🇮🇳🇮🇳🫡🫡🫡

15/07/2026

✊✊✊🇮🇳🇮🇳🇮🇳⛳⛳⛳

📖 কারক ও সমাস📊📈🎯
14/07/2026

📖 কারক ও সমাস📊📈🎯

14/07/2026

✊ভবিষ্যতের পথ চলা 📈🎯⛳

Address

১ম খন্ড কিশামত করলা (দোলের পাঠ)
Dinhata
৭৩৬১৩৫

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নবজাগরণ টিউশন পয়েন্ট posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category