11/09/2022
শ্রাদ্ধবাসর ও নিঃসঙ্গতা
সতীশ বাবু চলে গেলেন।পরিণত বয়সেই তাঁর মৃত্যু হলো।তাঁর সময়কালের যাঁরা ছিলেন তাঁদের শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়।এমন নয় যে খবর শুনে তাঁরা শ্রাদ্ধবাসরে উপস্থিত হবেন।পরিবারের সবাইকে সমবেদনা জানাবেন।সেই সময় যাঁরা তাঁর খুব কাছাকাছি ছিলেন প্রত্যেকের হাতেই যেন এক একটা পরোয়ানা ধরা।তাঁরা ক্লান্ত ন্যুব্জ।তুমি গেলে যাও আমিও যাচ্ছি-এমন একটা ভাব।এবং নিঃসঙ্গতা।পুরোনোকথা কেউ শুনবে এমন পরিস্থিতি নেই।সতীশ বাবু চড়থাপ্পড় বেশ মারতেন।তাঁর ওই অঞ্চলের বহু ছাত্র দীঘাবিদ্যাভবনে পড়াশোনা করে গেছে।বাগান পরিচর্যা,চাষবাস করতে খুব পছন্দ করতেন।ব্যাস!এই তো গেল মামুলি ব্যাপার।দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই ভবনে শিক্ষকতা করেছেন।হাজার ছাত্র তাঁর। এইটুকু কোনো মূল্যায়নে আসেনা।অথবা এইটুকুই বলায় সরাৎসার।শ্রাদ্ধবাসরের সকাল তিনজন প্রতিনিধির একজন হয়ে বারবার এই ভাবনাতেই আক্রান্ত হচ্ছিলাম।খুব সাদামাটা ছিল অনুষ্ঠানের পরিবেশ।আমন্ত্রিত ছিলেন হাতে গোনা।ভাবনাটা এজন্য আরো বেশি বেগ পেল।কোনোরকম আলোড়ন তৈরি হয়নি।উপস্থিতেরা তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোনো স্তুতিতে মতেন নি।নব্বই পেরিয়ে গেছিলেন। বেশ কর্মক্ষম ছিলেন।রোগভোগের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় নি।এর থেকে আর বড়ো সাফল্য কী হতে পারে।বিদ্যাভবন থেকে এত দূরে এক প্রত্যন্ত গ্রামে দাঁড়িয়ে দীপ্তিহীন কীর্তিহীন এক সতীশ বাবু বলে নিজেকে মনে হলো।কোন শীতে আমার অনুপস্থিতি এভাবে অন্তিম হয়ে শেষ হবে।