Mukul Sir : An Experienced Bengali Tutor

Mukul Sir : An Experienced Bengali Tutor Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Mukul Sir : An Experienced Bengali Tutor, Education Website, Puratan Bazar, Diamond Harbour.

 #জাতীয়_বিজ্ঞানমনস্ক_দিবসজাতীয় বিজ্ঞানমনস্কতা দিবস প্রতি বছর ২০শে আগস্ট সারা দেশ জুড়ে পালিত হয়ে থাকে । সমাজ থেকে কুস...
20/08/2026

#জাতীয়_বিজ্ঞানমনস্ক_দিবস

জাতীয় বিজ্ঞানমনস্কতা দিবস প্রতি বছর ২০শে আগস্ট সারা দেশ জুড়ে পালিত হয়ে থাকে । সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে দৈনন্দিন জীবনে যুক্তিবাদী বৈজ্ঞানিক এবং প্রশ্ন করার মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিনটি উদযাপিত হয় । ২০১৩ সালের ২০শে আগস্ট উগ্ৰ ধর্মান্ধ অতিদক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের গুলিতে নিহত যুক্তিবাদী ও চিকিৎসক নরেন্দ্র অচ্যুত দাভোলকরের (১লা নভেম্বর, ১৯৪৫ - ২০শে আগস্ট, ২০১৩) স্মরণে এই দিনটি পালিত হয় ।

নরেন্দ্র অচ্যুত দাভোলকার বিশিষ্ট ভারতীয় চিকিৎসক, সমাজসেবী, যুক্তিবাদী, কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনের নেতা, লেখক এবং মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন । সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসাবে গড়ে তুলতে যে আন্দোলনের সূচনা করছিলেন তাতে বেশ কিছু অতিদক্ষিণপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিরোধ ছিল । ফলস্বরূপ, তিনি ২০শে আগস্ট, ২০১৩ তারিখে দুই আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান । পরের বছর ২০১৪ সালে সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করেন ।

নরেন্দ্র অচ্যুত দাভোলকারের জন্ম ১৯৪৫ সালের ১লা নভেম্বর । বাবার নাম অচ্যুত দাভোলকার আর মায়ের নাম ছিল তারাবাঈ । তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় মহারাষ্ট্রের সাতারার নিউ ইংলিশ স্কুলে । মাধ্যমিক পাশের পর সাঙ্গলির উইলিংডন কলেজ হয়ে ডাক্তারি পড়ার জন্য মরাজ-এর সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই এমবিবিএস পাশ করেন । তিনি শিবাজী ইউনিভার্সিটি কাবাডি দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং ভারতের কাবাডি দলের হয়ে তিনি বাংলাদেশ সফরে যান । কাবাডিতে সাফল্যের জন্য তিনি মহারাষ্ট্র সরকারের 'শিব ছত্রপতি যুবরাজ' সম্মানে ভূষিত হন । তিনি বারো বৎসর সক্রিয়ভাবে চিকিৎসক হিসাবে পরিষেবা দেন ।

১৯৮০ সালে নিজেকে সমাজকর্মী হিসাবে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন দাভোলকার । বাবা আদভের "এক গাঁও এক পানোঠা" (One village - One well) -এর আদর্শে ন্যায়-বিচারের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে দাভোলকার কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ ওঠেন এবং "অখিল ভারতীয় অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি"-র সাথে যুক্ত হন । পরে ১৯৮৯ সালে তিনি 'মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন । বহু ভণ্ড সাধু ধর্ম ও মোক্ষলাভের নামে দিনের পর দিন ভাঁওতাবাজি ও বুজরুকির মাধ্যমে দুর্বলচিত্ত, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন অসংখ্য মানুষকে প্রতারিত করে থাকে । এইসব ভণ্ড সাধু-সন্তের অবৈজ্ঞানিক তান্ত্রিক চিকিৎসাতেও প্রবঞ্চিত হতেন বহু মানুষ । এদের প্রতিহত করতে, সমাজে অন্ধবিশ্বাসের প্রকোপ আটকাতে এবং কুসংস্কার নির্মূল করে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করে তাঁর এই সংগঠন । পঁচিশ বছরে মহারাষ্ট্র জুড়ে ২২৫ টি এইরকম কেন্দ্র চালু করেছিলেন তিনি । যে সব চমৎকারী কাণ্ডকারখানা নানা সাধু-সন্তরা দেখিয়ে থাকেন, সেসবের পেছনে লুকিয়ে থাকা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিগুলো তিনি ফাঁস করে দিতেন । প্রায় তিন দশক ধরে এইসব ভণ্ড সাধুবাবাদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন তিনি । সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের জীবনে স্বার্থ, সুরক্ষা মর্যাদা ও উন্নত জীবনচর্চায় শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সাতারায় 'পরিবর্তন' নামে এক সামাজিক কর্ম কেন্দ্রও গড়ে তোলেন দাভোলকর । ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ সালে দাভোলকার দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি সাম্যের অধিকার, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, ভারতের ধর্মীয় ব্যবস্থা ও ধর্মীয় দাঙ্গা প্রতিহত করা ইত্যাদির ব্যাপারে অতি সক্রিয় ছিলেন । তিনি মারাঠাওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে "ড. বি আর আম্বেদকর মারাঠাওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয়" করার পক্ষে নামান্তর আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন । বিখ্যাত মারাঠা পাক্ষিক "সাধনা" পত্রিকার সম্পাদনাও করেছেন তিনি ।

বিবাহ করেছিলেন শৈল দেবীকে । তাঁদের এক পুত্র হামিদ ও এক কন্যা মুক্তা । ছেলের নাম মারঠি মুসলমান সমাজকর্মী ও সংস্কারক হামিদ দলবাই-এর নাম অনুসারে রাখেন । তিনি নাস্তিক ছিলেন বলেই তাদের বিবাহ পঞ্জিকা অনুসারে ও প্রথাগত রীতি মেনে করাননি ।

২০১০ খ্রিস্টাব্দে দাভোলকারের 'মহারাষ্ট্র অন্ধ শ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি' কুসংস্কারবিরোধী ও ব্ল্যাকম্যাজিক বিলের খসড়া তৈরি করে । কিন্তু কিছু উগ্ৰ হিন্দুত্ববাদী দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল এটির বিরোধিতা করতে থাকে । কারণ হিসাবে বলা হয় এটি হিন্দু সংস্কৃতি রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী হবে । কিন্তু দাভোলকার এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন - এই বিলে ঈশ্বর ও ধর্মীয় বিষয়ে কিছুই নেই, বিলটি সংবিধানে প্রদত্ত পূজা-অর্চনার মৌলিক স্বাধিকারের বিরুদ্ধে নয়, এটি সমাজে প্রবঞ্চনা প্রতিহত ও শোষণ হতে নিষ্কৃতির জন্যই ।

কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসের অচলায়তন ভেঙে ফেলা সহজ কাজ ছিল না । স্বভাবতই দাভোলকার বিরাগভাজন হয়েছেন বহু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ও তথাকথিত সমাজপতিদের । ২০১৩ সালের ২০শে আগস্ট মহারাষ্ট্রের পুনেতে যখন তিনি প্রাতঃভ্রমণে বের হন তখন সকাল ৭ টা ২০ মিনিটে অজ্ঞাতপরিচয় দু'জন উগ্ৰ ধর্মান্ধ অতিদক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী আততায়ী তার উপর পরপর চার রাউন্ড গুলি চালায় । ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঠিক একইভাবেই ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রের অধ্যাপক ও গবেষক গোবিন্দ পানসারে, কন্নড় ভাষার শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম এম কালবুর্গি, এবং ২০১৭ সালে কর্নাটকের বিশিষ্ট সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে যায় উগ্ৰ ধর্মান্ধ অতিদক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের হাতেই ।

দাভোলকরের হত্যাকাণ্ডের চার দিনের মধ্যেই অর্ডিন্যান্স পাশ হয়ে যায় । এর পর ‘জাত পঞ্চায়েত’-এর ক্ষমতা কেড়ে নিতে অন্য একটি জরুরি বিল পাশ করাতে সক্ষম হয় তাঁর সংগঠন । নরেন্দ্র দাভোলকার সমাজসেবী হিসাবে যে অবদান রেখেছেন তারই স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার ২০১৪ সালে তাঁকে মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রদান করে ।

২০১৮ সালে সর্বভারতীয় জনবিজ্ঞান নেটওয়ার্ক সাংবিধানিক কর্তব্যকে সমুন্নত রেখে জনবিজ্ঞান আন্দোলনের প্রথম শহীদের প্রয়াণ দিবসটির স্মরণে 'ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক টেম্পার ডে' (National Scientific Temper Day) তথা 'জাতীয় বিজ্ঞানমনস্কতা দিবস' পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । সর্বভারতীয় গণবিজ্ঞান নেটওয়ার্ক মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির সহযোগিতায় ২০১৮ সালের ২০শে আগস্ট প্রথমবার জাতীয় বিজ্ঞানমনস্কতা দিবস উদযাপন শুরু করে । ক্রমে সারা দেশের সমস্ত বিজ্ঞান সংগঠন সামিল হয় । বিজ্ঞান-ভিত্তিক যুক্তিবাদী চিন্তার প্রচার, কুসংস্কারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই এবং বিজ্ঞান-বিরোধী ধারণার প্রসারের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই বার্ষিক উদযাপন ।

দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞান সংগঠন, যেমন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চসহ দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞান সংগঠন র‍্যালি, পথসভা ও প্রচারের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করে থাকে । তাই সারা দেশে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ আন্দোলনে ২০শে আগস্ট তারিখটি এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে ।

দেবতা মন্দিরে ভরা                    সিন্দূর চন্দনে গড়া                       বাণী-তীর্থে উচ্চে তুলি শির,তুমি দেবতারো ব...
18/08/2026

দেবতা মন্দিরে ভরা সিন্দূর চন্দনে গড়া
বাণী-তীর্থে উচ্চে তুলি শির,
তুমি দেবতারো বড়ো এ যুগের অর্ঘ্য ধরো,
বন্দি সাধু চন্দ্রধর বীর ।
এ বঙ্গের সমতলে ‌‌ তৃণ-লতা-গুল্মদলে
বজ্রজয়ী তুমি বনস্পতি,
জ্ঞানায়ুধ সত্যভৃৎ সর্পফণা-দর্পজিৎ
শালপ্রাংশু মহাভূজ রথী ।
সান্তালী পর্বত 'পরে ‌ হিন্তালের যষ্টি করে
দৃপ্ত-দীপ্তি তোমার পৌরুষ,
তোমা ঘেরি চারিপাশে বাঁচে মরে কাঁপে ত্রাসে
কোটি কোটি ভীরু অমানুষ ।
তবে শিরে যমদণ্ড ‌ ‌ ভেঙে হল সাত-খণ্ড,
পণ তব প্রাণেরো অধিক,
সাত পুত্র-শব 'পরি ‌‌ শ্মশানেশ্বরেরে স্মরি
বামাচারী তুমি কাপালিক !
সনকার আর্তনাদে চম্পকনগর কাঁদে,
ডুবে যায় চৌদ্দ মধুকর,
কৌপীন করিয়া সার তোমার পুরুষকার
পথে পথে ফিরে দিগম্বর ।
অশ্রুবিন্দু নাই চোখে দুর্বিষহ মহাশোকে
নেত্র তব উগারে অনল,
শুধু তব জগদীশ ‌ কণ্ঠে ধরেছেন বিষ
সর্ব অঙ্গে তোমার গরল ।
বিশেষ তনু নীলরুচি আত্মা তব শুভ্র শুচি
নীলাম্বরে পূর্ণচন্দ্রোপম,
সহস্র ফণার মাঝে তোমার পৌরুষ রাজে
নাগবৈরী বৈনতেয় সম ।
হরিয়া নশ্বর ধন তোমা নিঃস্ব অকিঞ্চন
কে করিবে ? এত স্পর্ধা কার ?
পুরুষার্থ-শিরোমণি ‌‌ শাশ্বত যে ধনে ধনী
বিশ্বে সেই নমস্য সবার ।
তোমারে করিতে বন্দি ব্যর্থ দেবতার ফন্দি
মানুষের সনে সন্ধি যাচে,
সর্ব বৈর দণ্ড-ভয় ‌ যে-জন করেছে জয়
দণ্ড-দাতা প্রার্থী তারি কাছে ।
সারা বিশ্ব অসহায় নিয়তির জয় গায়
দাসীত্বে নোওয়াতে তার শির,
একাই যুঝিলে শৈব স্তম্ভিত দম্ভিত দৈব
কম্পমান পাষাণ-মন্দির ।
যুগ যুগ ধরি যত মূক জীব অবিরত
দৈব-দণ্ড আসিয়াছে সহি,
তোমার মাঝারে সবি সংহত বিগ্ৰহ লভি
‌ রুদ্রকণ্ঠে হল কি বিদ্রোহী ?
সহস্র বৎসর ধরি ভয়ে কাঁপে থরথরি
নরনারী যূথবদ্ধ ছাগ,
বজ্রমন্দ্রে তার মাঝে ‌‌ শুনাইলে দেবরাজে
"মানুষেরও চাই যজ্ঞভাগ ।"
শিখাইলে এই সত্য তুচ্ছ নয় মনুষ্যত্ব
দেব নয়, মানুষই অমর,
হে ব্রহ্মজ্ঞ মহাযোগী হইতে চাহ নি ভোগী
সত্য-ব্রহ্মে করি সংকোচন,
সুখ-দুঃখ-দ্বন্দ্বাতীত ‌ পান করি চিদমৃত
জিনেছিলে মৃত্যুর শাসন ।
উদ্যত-কনকঘট ‌ সহস্র দেউল মঠ
কাল দণ্ডে হয়ে গেছে গুঁড়া,
গরল-সিন্ধুর মাঝে ‌‌ তোমার সে শৌর্য রাজে
চিরদিন মৈনাকের চূড়া ।।

- কবিশেখর কালিদাস রায়
(চাঁদ সদাগর)

আজ গ্ৰামবাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্যসম্পন্ন লোকায়ত উৎসব মনসা পূজা । শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে (৩১শে বা ৩২শে শ্রাবণ) সারা পশ্চিমব...
18/08/2026

আজ গ্ৰামবাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্যসম্পন্ন লোকায়ত উৎসব মনসা পূজা । শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে (৩১শে বা ৩২শে শ্রাবণ) সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ব্যাপকভাবে মনসা দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয় । তবে স্থানবিশেষে জৈষ্ঠ মাসের শুক্লা দশমী তিথিতে অনুষ্ঠিত দশহরার দিনে, আষাঢ় মাসের পূর্ণিমার পর যে পঞ্চমী তিথি (কৃষ্ণা পঞ্চমী) শ্রাবণ মাসের শুক্লা পঞ্চমী (নাগপঞ্চমী) এবং ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা পঞ্চমী তিথিতেও এই পূজা হয়ে থাকে । ভাদ্র মাসের শেষদিনের আগের দিন, অর্থাৎ বিশ্বকর্মা পূজার আগের দিন রান্নাপূজার মাধ্যমেও এই পূজার চল রয়েছে কোথাও কোথাও ।

দেবী মনসা আরাধনার ঐতিহ্য পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে দক্ষিণে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সর্বত্রই বিরাজমান । রাঢ়বাংলার বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলাতে এই পূজা রীতিমতো উৎসবের আকার নেয় । এই কারণে অনেকে মনসা পূজাকে রাঢ়বাংলার (বিশেষতঃ বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার) জাতীয় উৎসবও বলে থাকেন । এছাড়াও বর্ধমান, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগণা ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের কিছু জেলায় তারস্বরে ডিজে বক্স বাজিয়ে এই পূজা হয়ে থাকে । যা অনেকের কাছে রীতিমতো আতঙ্কের । এ'থেকেই স্থানীয়ভাবে "মনসাতঙ্ক" কথাটির সৃষ্টি হয়েছে । তবে কলকাতা তথা শহরাঞ্চলে এই পূজার চল অতোটা নেই । মনসা পূজার অঙ্গরূপে ভেলা ভাসানোর সুপ্রাচীন ঐতিহ্য দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

মনসা পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয়তম দেবী । তবে এই জনপ্রিয়তা কোনো ভক্তি বা ভালোবাসা সঞ্জাত নয় । সম্পূর্ণভাবে ভয়সঞ্জাত । যে ভয় মৃত্যুভয়, সুনিশ্চিত মৃত্যুর ভয় । সর্পসঙ্কুল পশ্চিমবাংলায় প্রতিবছর যেভাবে শুধুমাত্র সাপের কামড়ে ব্যাপকহারে মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে, যেভাবে ঘরে ঘরে প্রিয়জন বিয়োগজনিত শোকের ছায়া নেমে আসে, সেই ভয় থেকেই মনসাপূজার এতো জনপ্রিয়তা । এই ভয়ের শিকড় যে কত গভীরে, তা ধরা পড়েছে মনসাদেবীর উদ্দেশ্যে কোনো অজ্ঞাত লোককবি রচিত এই গানটিতে :

জয় জয় মা মনসা জয় বিষহরি গো
বন্দনা করি মাগো মা মনসার চরণে
জয় জয় মা মনসা
মাগো,ঢেঁকির মত গদ্দান মায়ের কুলার মত ফণা
এক ছোবলে ছবি করে শ্মশান পাঠাইও না গো
জয় জয় মা মনসা ।

মাগো, তোমার ছানাপোনা ঘুরে আঁদাড়্যে পাঁদাড়্যে
বৌ-ঝি গুল্যান সাঁঝ বিহানে ঘাটে যাত্যে লারে গো
জয় জয় মা মনসা
মাগো, তোমার নিঃশ্বাসে মাগো শরীল হৈল নীল
দর্শনে বদন সাদা হাতে পায়ে খিল গো
জয় জয় মা মনসা ।

অর্চনা করিয়া মাগো জীবন ভিক্ষা মাগি
তুমার ছানাপোনার ভয়ে খিল দিয়ে রাত জাগি গো
জয় জয় মা মনসা
গরিব দুখীর দিকে মাগো একটুকু কম চাও
পুজা লিয়ে দেবী নিজের ছা-গুলা সামলাও
জয় জয় মা মনসা ।

জয় জয় মা মনসা জয় বিষহরি গো
বন্দনা করি মাগো মা মনসার চরণে
জয় জয় মা মনসা…

মনসাপূজার ঐতিহ্য সম্পূর্ণভাবে বাংলার নিজস্ব লোকসংস্কৃতিজাত । একমাত্র এই পূজাতেই দেখা যায় দেবীর বাহনকে দেবীর সামনে বলি দিতে । মনসাদেবীর বাহন হাঁসকে বলি দেওয়া হয় মনসাপূজায় । হাঁসবলি (উচ্চারণভেদে হাঁসাবলি) মনসাপূজার অন্যতম অঙ্গ । বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় এত বেশি হাঁস বলি দেওয়া হয় যে, ওই জেলাগুলিতে মনসাপূজাকে হাঁসের পরবও বলে থাকেন অনেকে । এছাড়াও মনসাপূজায় পাঁঠাবলিও হয়ে থাকে অনেক জায়গায় । হাঁস, পাঁঠা ছাড়াও দেবীকে আমিষভোগ রূপে ইলিশমাছ, পোনামাছও ইত্যাদি দেওয়ার চল রয়েছে ব্যাপকভাবে । তবে কোথাও কোথাও নিরামিষভোগেরও প্রচলন রয়েছে ।

পরিশেষে একটা কথাই বলার, সাপের কামড় থেকে বাঁচবার ব্যবস্থা আপনাকে নিজেকেই করে নিতে হবে । রাতে মশারি টাঙাতেই হবে, ঘরে কোনোভাবে ইঁদুরের গর্ত যাতে না থাকে কিংবা ঘরে যাতে ইঁদুর বা ব্যাঙ ঢুকতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । ঘরে পুরোনো জিনিসপত্র ডাঁই করে বেশি দিন ফেলে রাখা নিরাপদ নয় । এছাড়াও সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হলে অতি উজ্জ্বল টর্চ ব্যবহার, জোরে জোরে পায়ে শব্দ করে হাঁটা এবং ঝোপঝাড় যেখানে রয়েছে, সেখানে না যাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে সচেতন থাকতেই হবে । আর একজন মানুষের জীবন সাপের জীবনের থেকে মূল্যবান হওয়া সত্ত্বেও, সর্বোপরি সাপের কামড়ে প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও সরকার যে এই বিষয়ে আশ্চর্যজনকভাবে উদাসীন, এই বিষয়ে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে । সর্বোপরি, কাউকে সাপে কামড়ালে এতোটুকু সময় নষ্ট না করে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে নিয়ে যেতেই হবে । সাপে কামড়ানো রোগীকে অতিদ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে কোনো মনসা পূজার মণ্ডপে, মনসার থানে, মনসার মন্দিরে বা কোনো ওঝা, গুণীন, জ্যোতিষী বা অনুরূপ কারো কাছে নিয়ে গেলে তা হবে ইচ্ছাকৃতভাবে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটানোর সামিল, আরও স্পষ্টভাবে বললে ওই রোগীকে হত্যা করার সামিল । মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতায় আপনি বা আপনার প্রিয়জন বাঁচলে তবেই আপনার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য তথা সংস্কৃতি রক্ষা পাবে ।

কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য :জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুতবাণীকত যুগ, কত বর্ষান্তের শেষে             ...
15/08/2026

কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য :

জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুতবাণী

কত যুগ, কত বর্ষান্তের শেষে
জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী :
আকাশে মেঘের তাড়াহুড়ো দিকে দিকে
বজ্রের কানাকানি ।
সহসা ঘুমের তল্লাট ছেড়ে
শান্তি পালাল আজ ।
দিন ও রাত্রি হল অস্থির
কাজ, আর শুধু কাজ !
জনসিংহের ক্ষুদ্ধ নখর
হয়েছে তীক্ষ্ণ, হয়েছে প্রখর
ওঠে তার গর্জন—
প্রতিশোধ, প্রতিশোধ !

হাজার হাজার শহীদ ও বীর
স্বপ্নে নিবিড় স্মরণে গভীর
ভুলি নি তাদের আত্মবিসর্জন ।
ঠোঁটে ঠোঁটে কাঁপে প্রতিজ্ঞা দুর্বোধ :
কানে বাজে শুধু শিকলের ঝন্‌ঝন্‌;
প্রশ্ন নয়কো পারা না পারার,
অত্যাচারীর রুদ্ধ কারার
দ্বার ভাঙা আজ পণ;
এতদিন ধ’রে শুনেছি কেবল শিকলের ঝন্‌ঝন্‌ ৷

ওরা বীর, ওরা আকাশে জাগাত ঝড়,
ওদের কাহিনী বিদেশীর খুনে
গুলি, বন্দুক, বোমার আগুনে
আজো রোমাঞ্চকর;
ওদের স্মৃতিরা শিরায় শিরায়
কে আছে আজকে ওদের ফিরায়
কে ভাবে ওদের পর ?
ওরা বীর, আকাশে জাগাত ঝড় !

নিদ্রায়, কাজকর্মের ফাঁকে
ওরা দিনরাত আমাদের ডাকে
ওদের ফিরাব কবে ?
কবে আমাদের বাহুর প্রতাপে
কোটি মানুষের দুর্বার চাপে
শৃঙ্খল গত হবে ?
কবে আমাদের প্রাণকোলাহলে
কোটি জনতার জোয়ারের জলে
ভেসে যাবে কারাগার ।
কবে হবে ওরা দুঃখসাগর পার ?

মহাজন ওরা, আমরা ওদের চিনি;
ওরা আমাদের রক্ত দিয়েছে,
বদলে দুহাতে শিকল নিয়েছে
গোপনে করেছে ঋণী ।
মহাজন ওরা, আমরা ওদের চিনি !
হে খাতক নির্বোধ,
রক্ত দিয়েই সব ঋণ করো শোধ !
শোনো, পৃথিবীর মানুষেরা শোনো,
শোনো স্বদেশের ভাই,
রক্তের বিনিময় হয় হোক
আমরা ওদের চাই ॥

14/08/2026

মা'কে বন্দনা করি :

 ্বাধীনতা_দিবসের_শুভেচ্ছা
14/08/2026

্বাধীনতা_দিবসের_শুভেচ্ছা

11/08/2026
কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও ?তারি রথ নিত্যই উধাওজাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন -চক্রে পিষ্ট আঁধারের বক্ষ-ফাটা তার...
08/08/2026

কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও ?
তারি রথ নিত্যই উধাও
জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন -
চক্রে পিষ্ট আঁধারের বক্ষ-ফাটা তারার ক্রন্দন ।
ওগাে বন্ধু,
সেই ধাবমান কাল
জড়ায়ে ধরিল মােরে ফেলি তার জাল -
তুলে নিল দ্রুতরথে
দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে
তোমা হতে বহু দূরে ।
মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে
পার হয়ে আসিলাম

আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়;
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
আমার পুরানো নাম ।
ফিরিবার পথ নাহি;
দূর হতে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।

কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে
বসন্তবাতাসে
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,
ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,
সেইক্ষণে খুঁজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে
তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃতিপ্রদোষে
হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
হয়তো ধরিবে কভু নামহারা স্বপ্নের মুরতি ।
তবু সে তো স্বপ্ন নয়,
সব চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয় -
সে আমার প্রেম,
তারে আমি রাখিয়া এলেম
অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে ।
পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
কালের যাত্রায় ।

হে বন্ধু, বিদায় ।

তোমার হয় নি কোনো ক্ষতি ।
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি
যদি সৃষ্টি ক’রে থাক তাহারি আরতি
হোক তব সন্ধ্যাবেলা -
পূজার সে খেলা
ব্যাঘাত পাবে না মোর প্রত্যহের ম্লানস্পর্শ লেগে;
তৃষার্ত আবেগবেগে
ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে ।
তোমার মানস ভোজে সযত্নে সাজালে
যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষায়
তার সাথে দিব না মিশায়ে
যা মোর ধূলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে ।
আলো তুমি নিজে
হয়তো-বা করিবে রচন
মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন ।
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।

মোর লাগি করিয়ো না শোক -
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক ।
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই,

শূন্যেরে করিব পূর্ণ এই ব্রত বহিব সদাই ।
উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
সেই ধন্য করিবে আমাকে ।
শুক্লপক্ষ হতে আনি
রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
যে পারে সাজাতে
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে,
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি ।
তোমারে যা দিয়েছিনু তার
পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার ।
হেথা মোর তিলে তিলে দান,
করুণ মুহূর্তগুলি গণ্ডূষ ভরিয়া করে পান
হৃদয়-অঞ্জলি হতে মম ।
ওগো তুমি নিরুপম,
হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান;
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শেষের কবিতা)

06/08/2026

🍀🌱No matter how difficult the past, life always finds a way to grow.🌿✨

Credit : The Beauty of Nature

Address

Puratan Bazar
Diamond Harbour
743331

Telephone

+919933436275

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mukul Sir : An Experienced Bengali Tutor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Mukul Sir : An Experienced Bengali Tutor:

Shortcuts

Share