03/04/2025
২৬ হাজার স্বপ্নের অপমৃত্যু
রাত পেরোলেই নতুন ভোর, কিন্তু ২৬ হাজার পরিবারের জন্য সেই ভোর আর আসছে না। তারা এখনও অন্ধকারেই। কারণ, তাদের জীবিকার শেষ আলোটুকুও নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে দুর্নীতির অভিযোগে ২৬ হাজার মানুষের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো— যারা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছিল, তাদের চিহ্নিত করা গেল না। তাই, ন্যায়ের নামে নির্বিচারে সবাইকে ছাঁটাই করা হলো। এতে সৎ ও যোগ্য চাকরিপ্রাপ্তরাও চাকরি হারালেন। যাদের জীবনের পরিশ্রম, লড়াই, ত্যাগ ছিল এই একটি চাকরির পেছনে, তাদের স্বপ্ন মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেল।
এই ২৬ হাজার মানুষ শুধু একা নন। তাদের পেছনে আছে পরিবার, নির্ভরশীল বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তানেরা। একজনের চাকরি মানে পুরো পরিবারের রুটিরুজির নিশ্চয়তা। এখন সেই নিশ্চয়তাটুকু নেই। কারও ছেলেমেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে, কারও বাবা-মায়ের ওষুধ কেনার টাকা থাকবে না, কেউ হয়তো মাথার ছাদটুকুও হারাবে।
তাহলে এই অন্যায়ের দায় কার?
শাসক বলবে, আদালতের রায় তারা মেনে চলেছে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, দুর্নীতি যারা করল, যারা টাকা নিয়ে চাকরি বিক্রি করল, তারা কি শাস্তি পেল? চাকরি পেতে যারা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছিল, তাদের কি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হলো? না, কিছুই হলো না। শুধু কিছু নিরপরাধ মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হলো।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, কিন্তু দুর্নীতি সেই মেরুদণ্ডকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। রাজ্যে যখন শিক্ষামন্ত্রী নিজেই দুর্নীতির দায়ে জেলে, তখন শিক্ষাক্ষেত্রে এই নৈরাজ্য নতুন কিছু নয়। তবু, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলে, তাদের ভয় দেখানো হয়, হুমকি দেওয়া হয়, কখনো বা তাদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়।
এটা কি শুধুই একবারের ঘটনা, নাকি এটি একটি ব্যবস্থার সংকট? যেখানে যোগ্যতার চেয়ে টাকা বড়, যেখানে সৎ থাকার মূল্য দিতে হয় চাকরি হারিয়ে, যেখানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে মুখ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এই গল্প ২৬ হাজার মানুষের নয়, এটি গোটা সমাজের, যেখানে সাধারণ মানুষ অন্যের অন্যায়ের বোঝা বয়ে নিয়ে চলেছে।