02/08/2020
বিশ্ববরেণ্য আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়:
বঙ্গজননী রত্নগর্ভা। যুগে যুগে একের পর এক অমূল্য রত্নের জন্ম দিয়েছেন বঙ্গমাতা। আজকের দিনেই জন্ম হয় বঙ্গমাতার এমন এক তেজস্বী পুত্রের ,যিনি পরাধীন ভারতবাসীকে দেখিয়েছিলেন বিজ্ঞানের আলো। সারা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছিলেন বাঙালি কোন দিক থেকেই পিছিয়ে নেই। তিনি বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।
বিদেশ থেকে পড়া শেষ শেষ করেই দেশে ফিরে আসেন এবং প্রেসিডেন্সিতে রসায়নের অধ্যাপক রূপে যোগদান করেন। উপযুক্ত পরিসর এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির তখন যথেষ্ট অভাব। অবশেষে প্রফুল্ল চন্দ্রের উদ্যোগে এবং তৎপরতায় 1892 গড়ে উঠল নতুন ল্যাবরেটরি ।সকলকে নিয়ে গবেষণায় মেতে উঠলেন প্রফুল্ল চন্দ্র।
বিশেষ প্রয়োজনে পারদ প্রস্তুত করতে গিয়ে তৈরি করলেন মারকিউরাস নাইট্রাইট। নতুন এই লবণ বিজ্ঞানীমহলে সাড়া ফেলে দেয়। এরপর একে একে পারদ ক্যালসিয়ামের ডবল নাইট্রাইট ,পারদ ও লিথিয়ামের নাইট্রাইট প্রস্তুত করেন । শীঘ্রই বিশ্বে পরিচিত হলেন 'master of nitrites'নামে ।
এছাড়াও খাবারের ভেজাল নির্ণয়ের রাসায়নিক পদ্ধতি 11 টি মিশ্র ধাতুর আবিষ্কার ,গবাদি পশুর হাড় পুড়িয়ে সালফিউরিক অ্যাসিড প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে রসায়ন জগতে বিস্ময় সৃষ্টি করেন।
প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান চর্চার সাথে বিশ্বের পরিচিতি ঘটান ।তার বিখ্যাত গ্রন্থ হিন্দু রসায়ন চর্চাতে প্রাচীন ,মধ্য ও তান্ত্রিক যুগে রসায়ন চর্চার আলোচনা করতে গিয়ে চরক- সুশ্রুত -নাগার্জুন প্রভৃতি প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞানীদের অবদানের বিচার বিশ্লেষণ করেছেন।
কর্মবিমুখ বাঙালি জাতিকে ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করার জন্য এবং দেশের বিভিন্ন শিল্প উন্নতির বিধানের চেষ্টায় প্রফুল্ল চন্দ্র নানাভাবে উৎসাহিত উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করেছেন। জাতি গঠনের এই মানসিকতা নিয়ে তিনি জন্ম দিয়েছিলেন কর্মবিমুখ বাঙালি জাতিকে ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করার জন্য এবং দেশের বিভিন্ন শিল্প উন্নতির বিধানের চেষ্টায় প্রফুল্ল চন্দ্র নানাভাবে উৎসাহিত উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করেছেন। জাতি গঠনের এই মানসিকতা নিয়ে তিনি জন্ম দিয়েছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড। তার প্রতিষ্ঠিত ভারতের প্রথম রাসায়নিক দ্রব্য ঔষধ প্রস্তুতির এই কারখানা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। COVID -19 চিকিৎসায় যে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহৃত হচ্ছে,তা বেঙ্গল কেমিক্যাল এর সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রস্তুত করা হত। করোনা আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচাতেই এই সংস্থা আবারো উদ্যোগী।
আমরা মাতৃভাষা কি ভুলে গিয়ে যতই বিদেশি ভাষা কে আপন করে নি না কেন বাংলা ভাষায় পঠন-পাঠনের জন্য আজীবন চেষ্টা করে গেছেন প্রফুল্ল চন্দ্র । তিনি বলেছেন_"আমাদের দেশে জনসাধারণের মধ্যে যদি আমরা বিজ্ঞানের মূল তথ্য প্রচার করতে চাই তবে সে প্রচার দেশীয় ভাষাতেই করতে হবে বিদেশি ভাষায় নয়। "
তার বিজ্ঞান সাধনায় উপলব্ধির ফসল হল
"life and experience of a Bengali chemist".,"history of Hindu chemistry","বাঙালির মস্তিষ্ক ও তার অপব্যবহার" ইত্যাদি ।
এ কথা মানতে কোন দ্বিধা নেই বিজ্ঞান চর্চায় প্রফুল্ল চন্দ্র যে অবদান রেখে গেছেন তা চিরস্মরণীয় ও শাশ্বত। তাকে দেখে এবং তার অনুপ্রেরণায় পরবর্তী বাঙালি বিজ্ঞানীরা যে অনুপ্রাণিত হয়েছেন -হচ্ছেন এবং হবেন তা বলাই বাহুল্য।
আজ তার জন্মদিনে "আনমনার পটচিত্র "পরিবারের সকলের তরফ থেকে জানাই শতকোটি প্রণাম।
কলমে: অর্পণ🍁
পোস্টার: অপ্রেমিক🥀