03/09/2025
ধূপগুড়ির গধেয়ার কুঠি হাই স্কুল আজ কাবাডিময়।
-------------------------------------------------------------------
প্রতিভাকে পুরোপুরি চেপে রাখতে পারে না প্রতিকূলতা l সঠিক সময়ে তার স্ফুরণ ঘটবেই l গধেয়ার কুঠি হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা তা প্রমাণ করে দিল হাতেগরমে l হ্যাঁ, কাবাডিতে l রাজ্য চ্যাম্পিয়ন l জাতীয় দলে সুযোগ !
জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গধেয়ার কুঠি হাই স্কুল l খেলার মাঠ বলো, খেলার সরঞ্জাম বলো, শিক্ষক-শিক্ষিকার অপ্রতুলতা বলো, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিকাঠামো বলো --- সকল প্রতিকূলতাকে সাথে নিয়েই এসেছে এই অভাবনীয় সফলতা l বালক ও বালিকা'র অনূর্ধ্ব - 14, অনূর্ধ্ব - 17, অনূর্ধ্ব - 19 বিভাগের মোট 6 টি টিমের মধ্যে 4 টি টিম জোনাল পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় l জোনের হয়ে জেলা পর্যায়েও নজরকাড়া সাফল্য পায় গধেয়ার কুঠির খেলোয়াড়রা l বিভিন্ন বিভাগে মোট 22 জন খেলোয়াড় 'রাজ্য কাবাডি'তে অংশ নেয় শুধু গধেয়ার কুঠি হাই স্কুল থেকেই, যা বিদ্যালয় কাবাডি প্রতিযোগিতার ইতিহাসকে ওলট-পালট করে দেয় l জলপাইগুড়ি জেলার হয়ে অনূর্ধ্ব - 14 বালিকা দলকে নেতৃত্ব দেয় গধেয়ার কুঠি হাই স্কুল l সুচিত্রা পাটোয়ারী, সমৃদ্ধি রায়, হর্ষিতা রায় ও পূরবী রায় মোট 4 জন অংশ নেয় বিদ্যালয় থেকে l নদিয়া জেলাকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে 'রাজ্য চ্যাম্পিয়ন'- এর শিরোপা অর্জন করে জলপাইগুড়ির অনূর্ধ্ব - 14 বালিকা দল l 'ম্যান অফ দা ম্যাচ'-এর ট্রফিটি ছিনিয়ে নেয় গধেয়ার কুঠির সুচিত্রা l নির্বাচকদের বিবেচনায় জাতীয় দলে খেলার ছাড়পত্রও পেয়ে যায় সে l অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলার হয়ে অনূর্ধ্ব - 14 বালক টিমে বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ করে সাত - সাতজন খেলোয়াড় -- নিলয়, সায়ন, তেজস'রা... l চূড়ান্ত পর্বে তারা উঠতে না পারলেও নিলয় রায়ের খেলার দক্ষতা-কৌশল ছিল চমকপ্রদ l নির্বাচকরা তাকেও বেছে নেয় 'জাতীয় কাবাডি'খেলার সৈনিক হিসেবেl
বিগত বছরেও এই বিদ্যালয় থেকে জাতীয় কাবাডি দলে খেলে এসেছিলো রিতু রায় ও জয় রায় l আর এদের সকলের দুর্জয় সাফল্যের নেপথ্যে যে দু'জন মানুষের নিরলস ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, তাঁরা হলেন -- বিদ্যালয়ের দুই শারীর শিক্ষক, সরবিন্দু রায় এবং অমর শৈব্য মহাশয় l তাঁদের দক্ষতা ও শিখন-কৌশলের ফসল কুড়োচ্ছে গধেয়ার কুঠি হাই স্কুল l তবে এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় রায় মহাশয়ের পৃষ্ঠপোষকতাকেও কুর্ণিশ জানাতে হয় l বিদ্যালয়ের প্রত্যেক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দিনে সম্মানের সহিত উচ্চারিত হবে সুচিত্রা-নিলয়-রিতু-জয় রায়ের নাম l
বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকা এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষজনের প্রত্যাশা -- সরবিন্দু এবং অমরবাবু যেন ঠিক এভাবেই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে তুলে নেন রিতু-জয়-সুচিত্রা-নিলয়ের মতো সোনার টুকরোগুলোকে l
.................. সংগৃহীত।