28/06/2022
#সংস্কৃত_কেরিয়ার:
অনেকের কাছে সংস্কৃত একটা পিছিয়ে পড়া সাব্জেক্ট, যাদের কাছে সংস্কৃত মানেই হচ্ছে-
নরঃ নরৈ নরাঃ
বেঞ্চের উপর দাঁড়া!
যে সংস্কৃত ভাষা থেকে বিবর্তনের হাত ধরে আজকের বাংলা এসেছে, আগে হিন্দির অস্তিত্ব ছিল না, যে সংস্কৃত টানে সাত সমুদ্রের ওপারের বিদেশীকে, যেখানে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত পড়ানো হয় সেখানে আমাদের দেশেই আজ সংস্কৃত বিপন্ন! যেখানে মানুষজনের ভাষাই ছিল সংস্কৃত, পুঁথি ছিল সংস্কৃতে, যে সংস্কৃত যুগ যুগ ধরে একটা সভ্যতার কথা বলে গেছে, যেখানে পড়ার একমাত্র মাধ্যম গুরুগৃহ বা টোল ছিল সম্পূর্ণরূপে সংস্কৃতের কাছে ঋণী, সেই সংস্কৃতে দক্ষিণ ভারতের একটা ছোট্ট গ্রাম কথা বলছে বলে আমরা গর্বিত! এমনই দশা যে, সরকারকে আজ প্রমোট করতে হচ্ছে! সংস্কৃত শুধু একটা ভাষা নয়, একটা সংস্কৃতি,একটা সভ্যতার ধারক ও বাহক!
উচ্চমাধ্যমিকে স্টুডেন্টরা সংস্কৃত নেয় নম্বর বেশি উঠবে বলে অথচ পরবর্তীতে সংস্কৃত নিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করবে এমন পরিকল্পনা অনেকেরই থাকেনা।
যাইহোক সংস্কৃত পড়ার জন্য প্রচুর ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ দেশে(বিদেশেও) রয়েছে,সেগুলোর নাম দিয়ে আর কলেবর বাড়াচ্ছিনা।
সংস্কৃত নিয়ে পড়ে কী কী কেরিয়ার আছে দেখে নেওয়া যাকঃ
বিএড করে নিতে পারলেই পাওয়া যায় শিক্ষকতার সুযোগ। এ রাজ্যে শিক্ষকতা করতে গেলে আপারের জন্য গ্র্যাজুয়েশনে সংস্কৃত এবং বিএড/ডিএলএড, ১১-১২ তে শিক্ষকতা করতে গেলে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে সংস্কৃত ও বিএড থাকতে হয়।
সেন্ট্রালের স্কুলগুলোর জন্য-
TGT(Sanskrit) এর ক্ষেত্রে ৫০% নম্বর সহ গ্র্যাজুয়েশন(৩ বছরই সংস্কৃত পড়ে থাকতে হবে), B.Ed. এবং CTET paper -II পাশ করে থাকতে হবে।
PGT(Hindi) এর ক্ষেত্রে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে যাদের সংস্কৃত আছে তারা তখনই আবেদন করতে পারবে যখন গ্র্যাজুয়েশনে হিন্দি থাকবে।
তাই যারা উচ্চমাধ্যমিকের পর সংস্কৃত নিয়ে পড়বে ভাবছো তারা যদি গ্র্যাজুয়েশনে হিন্দি পাস সাব্জেক্ট হিসেবে রাখো তাহলে শিক্ষকতা শুধু নয় অনেক ক্ষেত্রেই তোমাদের সুযোগ বাড়বে। গ্র্যাজুয়েশনে হিন্দি থাকলে বিএড থাকুক বা না থাকুক ভারতীয় সেনাবাহিনীর HEC (Havildar Education Corps) এ নিয়োগ পাওয়া যায়।
KVS, NVS, APS, WBPDCL, মহর্ষি সন্দীপনী রাষ্ট্রীয় বেদবিদ্যা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় আদর্শ বেদ বিদ্যালয়, বিভিন্ন রাজ্যের টিচিং পোস্টে নিয়োগ হয়।
NEP, New Education Policy তে সংস্কৃত শিক্ষায় জোর দেওয়ার জন্য স্কুলগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে সংস্কৃতের পোস্ট বাড়বে যেহেতু ছোট থেকেই বাচ্চারা সংস্কৃত শেখার সুযোগ পাবে। ফলে বাইরের রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলোতে সংস্কৃত টিচাত নিয়োগের জোয়ার এখন থেকেই দেখা দিয়েছে।
যেসব ক্যান্ডিডেটরা সংস্কৃত নিয়ে পড়ার পর B.Ed./ D.El.Ed করবে এবং CTET paper -I পাশ করবে তারা আবার সেন্ট্রালের PRT পোস্টের জন্য যোগ্য।
এছাড়া M.Phil, Ph.D. করতে পারো। NET, SET দিয়ে কলেজে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কাজ করতে পারো।
টিচিং(স্কুল ও কলেজ) ছাড়া বিভিন্ন কম্পিটিটিভ এক্সাম তো আছেই যেগুলো গ্র্যাজুয়েট যোগ্যতায় দেওয়া সম্ভব, এছাড়াও সাব্জেক্টের উপর ভিত্তি করে নিম্নোক্ত পোস্টগুলোতে নিয়োগ হয়-
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে Junior Commissioned Officer ( Religious Teacher), National Museum এ Curator (Manuscripts), বিভিন্ন সংস্থায় ট্রান্সলেটর, পুরোহিতদের প্রশিক্ষক, সংস্কৃত টাইপিস্ট, প্রুফ রিডার, সাব্জেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট( SME) হিসেবে কাজ করা যায়। Private Tuition করা তো যায়ই!
Manuscriptologist হিসেবে কাজ করতে গেলে সংস্কৃতে মাস্টার্স করা ছাড়াও Diploma in Manuscriptology লাগে।
স্টাফ সিলেকশন কমিশনের মাধ্যমে Assistant Epigraphist (Sanskrit Inscriptions) পদে নিয়োগ হয়।
নিয়োগ হয় Sahitya Akademi তেও।
Traditional স্বীকৃত Yogacharya হতে গেলে সংস্কৃতে মাস্টার্স করে তারপর যোগ এর ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা থাকলে ভালো হয়।
শিক্ষিত জ্যোতিষ, বাস্তুবিচারক, পন্ডিত(ব্রাহ্মণরা) হওয়া যায় সংস্কৃত নিয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স করলে।
সরকারি জব,অ্যাডমিশন, প্রোজেক্টের জন্য নিয়মিতভাবে আপডেট পেতে Central Sanskrit University এর ওয়েবসাইটে আড়ি পাততে পারো। http://www.sanskrit.nic.in/job_opportunitiesopportunities.php
©প্রদীপ শাসমল, ২৮/০৬/২০২২