19/12/2020
Warning
শেষ অবধি পড়বেন
সৎসঙ্গের কমিশন!!
*****************
" আচ্ছা বন্ধু,- একটা সত্যি কথা বলবি?"
-" চেষ্টা করব। বল,- কি বলবি?"
-" এই যে তোরা এত দীক্ষা টিক্ষা দিয়ে বেড়াস, নিজের গাড়ীর তেল পুড়ে এত দূরে দূরে চলে যাস, চেম্বার-প্রাইভেট প্রেক্টিস বন্ধ রেখে তোদের ঠাকুরের কাজ করে বেড়াস,- দেওঘর থেকে কমিশন কেমন দেয় তোকে? কোন লাভ তো আছে তোদের নিশ্চয়ই!!"
-" অবশ্যই লাভ আছে৷ কমিশন ছাড়া আমি কোন স্বার্থে এই কাজ করব? এত বোকা ভাবিস নাকি আমায়?"
বন্ধু হা করে তাকিয়ে আছে।
-" তাই তো!! আমিও তো ভাবি,- কমিশন টমিশন না পেলে কেউ এমনভাবে কেন কাজ করবে!! "
-" ঠিকই ভেবেছিস!! আমরা যারা সৎসঙ্গের সাথে যুক্ত হয়ে ঠাকুরের কাজ করি,- প্রত্যেককেই বেশ ভাল পরিমান কমিশন দেয়।"
-" কেমন দেয়? মান্থলী কত?"
-" দেয় বেশ ভালই। তুই যত রোজগার করিস,- তার চাইতে অনেকগুন বেশী।"
-" বলিস কি!! কত? বলনা,- শুনি।"
-" দাড়া,- হিসেব করে বলছি। "
-" আচ্ছা,-তাই বল।"
-" আমি এক এক করে বলছি,- তুই হিসাব রাখিস।
প্রতি উইক এন্ডে ফুর্তি করার জন্য ও রিলাক্সড হওয়ার জন্য তুই মান্থলী কত টাকার মদ কিনে খাস? "
-" এই তো,- তিন চার হাজার খরচ হয় মান্থলী৷ "
-" তুই শুধু উইক এন্ডে মাল খেয়ে যেমন রিলাক্সড ফিল করিস,আনন্দ করিস- এর চেয়েও অনেক বেশী রিলাক্সেশন ও আনন্দ আমি প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে ফিল করি ঠাকুরের কাজের সাথে যুক্ত থাকলে। প্রত্যেক উইক এন্ডে তোর মদের দামের নিরিখে তাহলে আমার এই রিলাক্সেশন ও আনন্দের দাম কত হচ্ছে,- লিখে রাখ।"
-" হুম,- বুঝলাম।"
-" না,- এখনও শেষ হয়নি।
তুই তোর মেন্টাল স্ট্রেস কমাতে রোজ সিগারেট খাস। মান্থলী কত টাকার সিগারেট লাগে?"
- " এই তো,- তিন চার হাজার টাকা চলে যায়।"
- আমি ঠাকুরের কাজ করলে সারাদিন সারা মাস স্ট্রেস ফ্রী থাকি৷ রাতে নাক ডেকে ঘুমাই।এর দাম কত টাকা হতে পারে তোর সিগারেটের খরচের নিরিখে,- হিসাব করে লিখে রাখ।"
-" এই নাকি তোর কমিশন?"
-" না। আরো আছে। তুই তোর পরিবারের মা, বাবা, বউ, বাচ্ছা এবং তোর নিজের জন্য মান্থলী কত টাকার ঔষধ কিনিস?"
- " চার পাঁচ হাজার টাকার ঔষধ তো লেগে যায় প্রতি মাসে।"
-" আমরা যারা ঠাকুরের কাজে যুক্ত থাকি,- আমরা এত আনন্দে থাকি, স্ট্রেস ফ্রী থাকি, সাধারণ নিরামিষ আহার করি, নেশামুক্ত থাকি, ঠাকুরের বলে দেওয়া সদাচারসম্পন্ন হয়ে চলি,রোজ তুমুল কীর্তন করি, ইষ্টকাজে সারাদিন ব্যাস্ত থাকি,- আমাদের পরিবারে রোগশোক খুব একটা প্রবেশ করার সুযোগ পায়না। ঔষধ প্রায় লাগেই না বলতে পারিস। হিসাব করে লিখে রাখ,- কত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে৷
এছাড়াও জীবনের নানা জটিল সমস্যায়, দুরারোগ্য রোগে আমরা দেওঘর গিয়ে আচার্য্যদেব শ্রীশ্রীদাদা, শ্রীশ্রীবাবাইদাদা উনাদের কাছে নিবেদন করতে পারি। উনাদের নির্দেশ মত চলে খুব অনায়াসে কত কত দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় হচ্ছে, কত জীবন রক্ষা হচ্ছে,- তার কোন ইয়ত্তা নেই। লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেও যে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়না,- আমরা বিনে পয়সায় তাঁর কাছে গিয়ে সেই সমস্যার সমাধান পাই৷
এই সুস্থতার মূল্য, সমস্যামুক্তির মূল্য, জীবনের মূল্য, নিশ্চিত জীবনের মূল্য কত টাকা হয়,- লিখে রাখ। "
-" আর কিছু?"
-" হুম। আরো আছে।
তুই যে এত পার্টি-শার্টি করিস, বন্ধুদের নিয়ে কয়েকদিন পর পর মস্তি করিস,- তোর এমন কয়জন বন্ধু আছে যাদের যেকোনো সময় বিপদে আপদে ডাকলে কাছে পাবি? এমন কয়জন মানুষ তোর জীবনে আছে যারা তোকে ভালবাসে, তোর ভাল চায়?"
-" খুব কম রে বন্ধু। চার পাঁচজন হয়তো পাবো এমন।"
-" আমরা যারা ঠাকুরকে ধরে তাঁর কাজে যুক্ত থাকি,- আমাদের জীবনে এমন প্রিয়জনের সংখ্যা অগুনতি। সারা রাজ্যে, বহিঃরাজ্যে, বিদেশে এমন বহু বহু আপনজন রয়েছে আমার,- যারা আমায় অন্তর দিয়ে ভালবাসে। আমিও তাদেরকে ভালবাসি৷ আমরা সবাই আমাদের প্রিয়পরমকে কেন্দ্র করে একে অপরের সাথে পরম আত্মীয়তার বাঁধনে জড়িয়েছি। তাদেরকে কিছুদিন পর পার্টিতে ডাকতে হয়না, হাজার হাজার টাকা খরচ করে মদের আসর বসাতে হয়না।
এই যে আমার মানুষ সম্পদ,- এর আর্থিক মূল্য কত হতে পারে,- হিসাব করে লিখে রাখ।"
-" এই বুঝি কমিশন?"
-" না, - আরো আছে।
এই যে তুই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য দুই হাতের আঙ্গুলে প্রায় লক্ষাধিক টাকার দামী দামী পাথর লাগিয়েছিস, কয়েকদিন পর পর জ্যোতিষের কাছে দৌড়াস, বছরে একবার কালী মায়ের সামনে জোড়া পাঁঠা বলি দিস,- এসব কোন খরচই আমাদের করতে হয়না। তবু আমাদের ভাগ্য খারাপ হয় না৷ আমাদের প্রিয়পরমের ইচ্ছাই আমাদের ভাগ্য। তাঁর সাথে যুক্ত হয়ে আমরা এক নিশ্চিত ও শান্তির জীবন কাটাই প্রতিমুহূর্তে।
এই ভাগ্য ও শান্তির আর্থিক মূল্য কত হতে পারে,- হিসাব করে লিখে রাখ। "
বন্ধু আমার কমিশনের হিসাব গুলিয়ে ফেলছিল৷ তাই আর কথা বাড়াই নি।
**************************
ডাঃ রাজেশ চৌধুরী
আগরতলা
১৮-১২/২০