07/08/2026
ভারতীয় ভাষাগুলিতে কলা শব্দটিকে মনে করা হয় যে মুন্ডা ভাষা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে, আধুনিক ভাষা গবেষকরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
মুন্ডারি ভাষার কদল (kadaḷ), সাঁওতালি ভাষার কয়রো (kôerô), কোডা ভাষার কেরা (kɛɾa), কোরকু ভাষার কেড়ে (keɽe) শব্দগুলোর সাথে এর মিল লক্ষ্য করা যায়।
শব্দটির বিবর্তন: কদল--> কদলা (প্রাকৃত)--> কলা
(সংস্কৃতে 'কদলী' নামে যোগ হয়েছে)
ভাষাতাত্ত্বিক হুগারভর্স্ট (Hoogervorst) বলেন আদি মুন্ডারা আবার শব্দটি মূলত প্রোটো-মালয়-পলিনেশীয় শব্দ *qaʀutay থেকে গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ প্রোটো-তাই শব্দ *kluəjꟲ (যা থেকে থাই ভাষার glûai এসেছে)-এর কথা উল্লেখ করা যায়।
তথ্যসূত্র: wiktionary, A Comparative Dictionary of the Indo-Aryan Languages"
আধুনিক সংস্কৃত আসলে প্রধানত ৩টি ভাষা পরিবারের থেকে শব্দ নিয়ে গড়ে উঠেছে - ইন্দো-ইরানীয় (আর্য), মুন্ডা ও দ্রাবিড়।
বৈদিক সংস্কৃত শব্দ ভান্ডারে কয়েকটি পরিচিত মুন্ডা শব্দ;
মুন্ড, কুমার, কুলায়, কুলঙ্গ, কদল, কদলী, কম্বল, কোটি, কাকম্বীর, কর্কুট, কপর্দিন, কার্পাস, কবন্ধ, কবষ, কীলাস, কিমীদ, কীনাশ, কিয়ম্বু, কুরঙ্গ, খন্ড, চিক্কন, তুঙ্গ, তুন্ড, প্রাকার, বর্বট।
বৈদিক সংস্কৃত শব্দ ভান্ডারে কয়েকটি পরিচিত প্রোটো-দ্রাবিড় শব্দ;
আকাশ, তুলসী, ডমরু, নীর, কান, কপোল, কাল, কালী, কটু, কোণ, কৌলিক, ঘোটক, পটল, পেটিকা, দন্ড, কুল্ফ, কুল, বিল, খল, মারি।
বৈদিক সংস্কৃত শব্দ ভান্ডারে কয়েকটি পরিচিত আধুনিক দ্রাবিড় শব্দ;
চন্দন, কমল, কল্লোল, কুঠার, কুসুম্বরী, উদগল, তীর নারিকেল, নগর, নেত্র, মঞ্জুষা, মালা, মলয়, মুখ, যদু, লম্পট, শব, সন্ধ্য।
১৯৫৫ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারত বিশেষজ্ঞ থমাস বারো সংস্কৃতে প্রায় ৫০০টি শব্দ তালিকাভুক্ত করেন যেগুলিকে তিনি অইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার ঋণ বলে মনে করেন।
তথ্যসূত্র: আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, https://indianculture.gov.in/ebooks/proto-munda-words-sanskrit