সিদ্ধার্থ জৈন

সিদ্ধার্থ জৈন

Share

Universe is Not Locally Real!

প্রকৃতি কি ন্যায় করে? 07/06/2026

এই যে আমরা ন্যায়বিচার বা ইনসাফের কথা বলি এই ধারণাটা আসলে কোত্থেকে এসেছে?
এটা কি কোন ঐশ্বরিক নিয়ম? বা প্রাকৃতিক নিয়ম?
নাকি এটা পুরোপুরি মানুষের তৈরি একটা ব্যবস্থা?
ন্যায়বিচারের উৎসটা কি? এটা কি প্রকৃতির মধ্যেই থাকা কোন আইন? যা সবকিছুতেই চলে?

প্রকৃতি কি ন্যায় করে? Enjoy the videos and music you love, upload original content, and share it all with friends, family, and the world on YouTube.

07/05/2026

রাম শব্দের অর্থ কি? বুৎপত্তি কি?
শব্দের বুৎপত্তি বলতে কোনো শব্দের মূল উৎস, গঠনপ্রক্রিয়া এবং অর্থের বিবর্তন সংক্রান্ত অধ্যয়নকে বোঝায়।
মনে রাখবেন, ধর্মের উৎপত্তির অনেক আগেই শব্দ ও নামগুলোর উৎপত্তি হয়ে গেছিল।
রাজা রাম বা ভগবান রাম জন্মানোর অনেক আগে থেকেই "রাম" শব্দটি ছিল বলেই না রাম নামটা দেওয়া হয়েছিল।
আমি বা আপনি আমাদের সন্তানের এমন কোন নাম দিতে পারব কি যেটা মানুষের সমস্ত ভাষার শব্দ ভান্ডারে নেই?
আসুন "রাম" শব্দটির গভীর বুৎপত্তি জানি......
রাম শব্দটি প্রাচীন ইন্দো-ইউরোপীয়-ইরানীয় ও অ্যাফ্রো-এশিয়াটিক- দুটি ভাষা পরিবারের শব্দভান্ডারেই রাম শব্দটি পাওয়া গেছে।
(সেমেটিক ভাষা যেমন মিশরীয়, হিব্রু, আরবি ইত্যাদি অ্যাফ্রো-এশিয়াটিক ভাষা পরিবারের)
সংস্কৃতের মত ইন্দো-ইউরোপীয়-ইরানীয় ভাষাগুলিতে রামের একটি অর্থ হল বড়, মহান, শক্তিশালী ইত্যাদি। তাই বড় আকৃতির কোন কিছুর আগে রাম জোড়া হয়, যেমন বড় "দাঁ বা কাটারি"কে রামদাঁ বলা হয়, আপনারা জানেন আমাদের বাংলা ভাষায় এরকম আরো অনেক শব্দ আছে।
আকাশে ওঠা বড় ধনুকের মত রঙিন আকৃতিকে রামধনুক বলা হয়, এটাও বিশাল বা বড় বোঝায়।
আবার প্রাচীন মিশরীয়তে "রা" মানে সূর্য, মিশরে এক ফ্যারাওয়ের নাম ছিল "রামেসু", যার অর্থ সূর্যের সন্তান। ভারতে "রাম" শব্দটি সম্ভবত সেমেটিক শব্দভান্ডারের, কারণ ভারতের দ্রাবিড় ও আর্য জনগোষ্ঠী মধ্য এশিয়া থেকেই এসেছিল, তাই ভারতীয় রাম শব্দের অর্থ হতে পারে বড়, মহান বা সূর্যের সন্তান, কারণ রামকে সূর্যবংশের দাবি করা হয়।
রাম শব্দের অন্য একটি অর্থও পাওয়া গেছে, যে ঘুরে বেড়ায়, অর্থাৎ যাযাবর, তাকে প্রাচীন ইন্দো-ইউরোপীয়ান-ইরানিয়ানে "রম বা রাম" বলা হয়, এটা থেকেই ইংরেজি "রোমিং" শব্দটি এসেছে।
আপনারা অনেকেই তো জানেন যে সংস্কৃত, ল্যাটিন, গ্রিক, ইংরেজি, জার্মান, নর্স, রাশিয়ান ইত্যাদি ভাষাগুলো বৃহত্তর ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি শাখা হল ইন্দো-ইরানীয়, এই পরিবারে আছে সংস্কৃত, প্রাকৃত, ফার্সি, আফগানি, নুরিস্তানি, কুর্দ, হিন্দি, উর্দু, গুজরাতি, মারাঠি, বাংলা ইত্যাদি ভাষাগুলো।
ল্যাটিন, গ্রিক, ইংরেজি, জার্মান, নর্স, রাশিয়ান ইত্যাদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গুলিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাম শব্দের অর্থ হয় শক্তিশালী।
সূত্র: অক্সফোর্ড ও উইকশনারি Etymology অনলাইন ডিকশনারি।

Photos from সিদ্ধার্থ জৈন's post 22/01/2026

বর্তমান সরস্বতীর উৎস এক প্রাচীন ইন্দো-ইউরোপীয় প্রেম ও জ্ঞানের দেবী, যার থেকে গ্রিকদের জ্ঞান, প্রেম ও যুদ্ধের দেবী এথিনা, রোমানদের মিনার্ভা ও আমাদের সরস্বতীর উৎপত্তি হয়েছিল।
ভারতে মহাযান বৌদ্ধরা প্রথম তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরস্বতীর বড় ও সুন্দর মূর্তি স্থাপন করে ও মন্ত্র তৈরি করে আরাধনা শুরু করে, তবে মহাযান ধর্মে সরস্বতীর আরাধনা করলেই জ্ঞান অর্জন হবে - এমন বলা হয়না, মহাযানে শুধু মনের একাগ্রতা বাড়ানোর জন্য মূর্তির সামনে বসে ধ্যান করা হয়, যেটা এখনও চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে করা হয়।
আর ১২ শতাব্দী পর্যন্ত বাঙালি ছিল বৌদ্ধ, তাই সরস্বতী পূজার দিন বাঙালির "প্রেম দিবস"।
আবার রাজস্থানের জৈন রাজারা বড় বড় পাথরের তৈরি সরস্বতীর মূর্তি বানিয়েছিল, যেগুলোর মাথার ওপরে থাকেন মহাবীর, এরকম অনেক মূর্তি দিল্লী মিউজিয়ামে আছে।
গ্রিক-রোমানরা খ্রিষ্টান হওয়ার পর এথিনা-মিনার্ভার আরাধনা ছেড়ে দেয়, তবে মূর্তি বানিয়ে সাজিয়ে রাখে।

25/12/2025

২৫ শে ডিসেম্বর নয় ক্ষমার সাগর যিশুর জন্মদিন, অতীতের প্যাগান (প্রকৃতিপূজক ও পৌত্তলিক) উৎসব, যিশুর জন্মদিন হিসাবে পরে জুড়ে দেয় খ্রিস্টান ধর্মগুরুরা! কারণ ধর্মের থেকে প্রাচীন এত জনপ্রিয় উৎসব থেকে মানুষকে বিরত করা মুশকিল ।
গুগল নোটস এলএম দিয়ে বানানো ভিডিও।

11/10/2025

গোমূত্রকে পবিত্র ভাবার সংস্কৃতি, গোমূত্র দিয়ে শুদ্ধিকরণ আসলে সেই প্রাচীন ইরানী ধর্মের সংস্কার, যখন আর্য, আর জরাথুষ্ট্র ধর্ম সেই প্রাচীন ধর্মটি থেকে আলাদা হয়নি, ইন্দো-ইরানিয়ান মাইগ্রেশনের সঙ্গেই এই প্রথা ভারতে এসেছিল।

প্রশ্ন - প্রাচীন ইরানী ও জরাথুষ্ট্র ধর্মে কি গোমূত্রের ব্যবহার ছিল?

Photos from সিদ্ধার্থ জৈন's post 03/09/2025

রাঢ়বঙ্গ, জঙ্গলমহল বা ছোটনাগপুরের জঙ্গলে পাওয়া “অষ্টমী ছাতু (মাশরুম) বা কাড়ান ছাতু বা দুর্গা ছাতু বা পরব ছাতু”র রহস্য উন্মোচন।
এই মাশরুমটির বটানিক্যাল নাম হল Termitomyces heimii, ১৯৭৯ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কুরুপ্পাস্বামী নটরাজন ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন, ফরাসি মাইকোলজিস্ট রজার হেইমকে সম্মান জানাতে বটানিক্যাল নাম রাখা হয় Termitomyces heimii (টার্মিটোমাইসেস হেইমি)।
Termitomyces heimii এক প্রজাতির মিথোজীবি ছত্রাক যা উইপোকাদের সঙ্গে জৈবিক সহাবস্থানে (symbiosis) জীবনচক্র সম্পন্ন করে, জীববিজ্ঞানে সিম্বায়োটিক সম্পর্কের অর্থ হল যেখানে দুটি জীব প্রজাতি ঘনিষ্ট সম্পর্কে জীবনচক্র সম্পন্ন করে, এবং উভয় প্রজাতিরই উপকার হয়। এই প্রজাতিটি অ্যাগারিকেলস (Agaricales) বর্গের এবং লিওফিল্যাসি পরিবারের, এই ছত্রাক সাধারণত ভারত, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে জন্মায়, রাঢ়বঙ্গের বিভিন্ন জঙ্গলে এটি পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে সাধারণত আষাঢ়ের শেষ থেকে শুরু করে আশ্বিনের শেষ পর্যন্ত জন্মায়। যেহেতু এই মাশরুম উইপোকার সহাবস্থান ছাড়া জন্মায়না, তাই নবীন পলিমাটি অঞ্চলে, যেখানে মাটির নিচে উইপোকা বাসা তৈরি করতে পারেনা, সেখানে জন্মায়না।
টার্মিটোমাইসেস গণের অন্যান্য প্রজাতিগুলি আফ্রিকা, এশিয়া এবং মধ্য আমেরিকার গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চল জুড়ে জন্মায়, যদিও আণবিক গবেষণা আফ্রিকা এবং এশিয়ায় টার্মিটোমাইসেসগুলির পৃথক উৎপত্তি দর্শায়।
ছত্রাকের ফলদেহ গুলি খুবই সুস্বাদু, গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চল জুড়ে এটি "উইপোকা মাশরুম, বন মাশরুম, জংলি মাশরুম" নামে পরিচিত।
অন্যান্য টার্মিটোমাইসেস প্রজাতিগুলির মত রাঢ়বঙ্গের প্রজাতিটিও উইপোকার বাসায় বাস করে। এটি বন-জঙ্গলের পাশাপাশি বাগান এবং চারণভূমিতেও জন্মাতে যায়, যেখানে ওডোন্টোটার্মস প্রজাতির উইপোকা দেখা যায়। কয়েকটি প্রজাতির উইপোকা আক্ষরিক অর্থেই এই মাশরুমের ”চাষ” করে, তাদের নিজেদের খাবার জন্য।
প্রথমে উইপোকারা গাছের মৃত পাতা, কাঠ, ছাল সংগ্রহ করে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসে, তারপর কর্মী উইপোকারা সেগুলো চিবিয়ে একটি তা অর্ধপাচিত মন্ডে রূপান্তরিত করে, যেটি ছত্রাকটির বেড়ে ওঠার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যাকে বলে ফাঙ্গাস কম্ব বা ফাঙ্গাস গার্ডেন। উইপোকাদের অন্ত্রে আগে থেকেই টার্মাইটোমাইসেস ছত্রাকের স্পোর (ছত্রাকের বীজ) থাকে, তারা কাঠ-পাতার তৈরি মন্ডের ওপর মলত্যাগ করার মাধ্যমে ছত্রাকের স্পোর রোপণ করে, ছত্রাকের স্পোর অঙ্কুরিত হয় এবং বৃদ্ধি পায় এবং এক সময়ে তা ছোট ছোট গাঁট তৈরি করে, এই গাঁটগুলি খুব পুষ্টিকর, যা উইপোকারা খায়, এই কাজ তারা চক্রকারে করে যায়। উইপোকার বাসা মাটির নিচে ২-৩ মিটার গভীর থাকতে পারে, টার্মাইটোমাইসেস প্রজাতির ছত্রাক শুধু উইপোকাদের সহায়তায়ই বাঁচতে পারে, তাই দুর্লভ।
Termitomyces ছত্রাকের স্পোর সংগ্রহ করে কৃত্রিমভাবে সাবস্ট্রেটে লাগালেও তা অনেক সময় অঙ্কুরিত হয় না, কারণ, ছত্রাকটির স্পোর উইপোকাদের পাকস্থলীর এনজাইমেরর মাধ্যমে সক্রিয় হয়, কিছু সংস্থা উইপোকাদের অনুকরণে কৃত্রিম সাবস্ট্রেট ও পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, আংশিক সাফল্যও পাওয়া গেছে।
আমরা যেটি ছাতু বা মাশরুম বলে খাই, সেটা আসলে ছত্রাকের “ফলদেহ বা ফ্রুটিংবডি (fruiting body)”, এটা ছত্রাকের সেই অংশ যা প্রজননের জন্য “স্পোর” উৎপাদন করে, এটা মাটি বা পচা জৈব পদার্থের উপরে দৃশ্যমান হয় এবং টুপি, কাণ্ড এবং ফুলকার মত গঠন থাকতে পারে, ফলদেহ আসলে মাইসেলিয়ামের একটি জটিল নেটওয়ার্কের সমষ্টি, যার ৮০-৯০% জল, এরসঙ্গে বিভিন্ন কার্বোহাইড্রেট (যেমন সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন, এবং কাইটিন বা চিটিন), প্রোটিন (টার্মাইটোমাইসেসে উচ্চ প্রোটিন থাকে), সামান্য পরিমাণে ফ্যাট বা লিপিড থাকে। এছাড়া বিভিন্ন মিনারেল, ভিটামিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। কিছু ছত্রাকে বিশেষ রাসায়নিক (যেমন পলিস্যাকারাইড, টারপেনয়েড) থাকে, যা স্বাদ বা ঔষধি গুণ যোগায়।
অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ফ্রুটবডি মাটির তলায় থাকা সুতোর মত মূল গঠন মাইসেলিয়াম (mycelium) থেকে বৃদ্ধি পায় এবং উপরে উঠে আসে, ফ্রুটবডি গঠনের জন্য উচ্চ আর্দ্রতা (৮০-৯০%) প্রয়োজন এবং ২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আদর্শ, রাঢ়বঙ্গে এই পরিবেশ বর্ষাকালে তৈরি হয়, ফলে।
রাঢ়বঙ্গে এই ছত্রাকটির উদগমের সঙ্গে বিভিন্ন “মিথ” জড়িয়ে আছে, যেমন অষ্টমী তিথি ধরে গজায়, যেমন জন্মাষ্টমী, রাধাষ্টমী, জিতাষ্টমী বা দুর্গাষ্টমীতেই ওঠে! বাস্তবে ছত্রাক তিথি মেনে ওঠেনা, যেখানে মানুষের মত চেতনাসম্পন্ন জীব নিজের ইচ্ছামত দিনে সন্তান জন্ম দিতে পারেনা, তাহলে ছত্রাক কিভাবে তিথি জানবে!! আসলে ছত্রাকের ফলদেহ ওঠা খুবই আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, মাটির জৈব পদার্থের উপস্তিতির ওপর নির্ভর করে। স্থানীয় জলবায়ুর কারণে এই ছত্রাকের ফলদেহ পুরো বর্ষাকাল জুড়ে ধাপে ধাপে এবং বিভিন্ন উইঢিবিতে বা বাসায় একসাথে ওঠে, এরজন্য মাটির নিচে মাইসেলিয়ামের নেটওয়ার্ক দায়ী, সংগ্রকারী মানুষজন প্রাচীন অভ্যাস অনুযায়ী অষ্টমী তিথির আশেপাশে সংগ্রহ করতে জঙ্গলে যায়, ফলে মানুষের মনে ছত্রাক আর অষ্টমীর মধ্যে একধরনের কাল্পনিক যোগ তৈরি হয়েছে, চান্দ্রমাসকে ৩০টি ভাগে ভাগ করা হয়, এই ৩০টি ভাগের প্রত্যেকটিকে বলা হয় তিথি। যদিও আমি দেখেছি মাশরুমগুলি ৩-৪ মাস জুড়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই পাওয়া যায়।

রেফারেন্স: Termitomyces heimii - উইকিপিডিয়া,
Termitomyces heimii Associated with Fungus-Growing Termite - Springer
South Indian Agaricales V: Termitomyces heimii -Natarajan K, JSTOR 3759201
Termitomyces of Southeast Asia - D. N Pegler, M. Vanhaecke

Photos from সিদ্ধার্থ জৈন's post 30/05/2025

দীর্ঘকাল পশ্চিমী ধাঁচে কঠোর কমিউনিজম চালানোর পর, চীনের নাগরিকদের মনের ক্ষোভ শান্ত করতে "বুদ্ধের শরণ" নিচ্ছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি।

কারণ কঠোর মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী লাইন মানুষকে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিছিন্ন করে দেয়, সংস্কৃতির অভাবে সাধারণ জনগণ হতাশাগ্রস্ত হয়, কারণ সাধারণের মনে এতটা জোর নেই যে, তারা পুরোপুরি অনাধ্যাত্মবাদী বা এথেইস্ট হয়ে উঠবে, এটা আশা করাও ভুল।

তাই এশিয়ার নিজস্ব সাম্যবাদী "গৌতম বুদ্ধ"র শরণ নাও, বৌদ্ধদর্শন = নাস্তিকতা + মানবতাবাদ + মানবপ্রেম।

কমিউনিস্টদের পুরোহিত কর! অথবা পুরোহিতদের দিয়ে কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রচার করাও!

চীনা কমিনিউস্ট পার্টি কিভাবে চীনাকরণে গৌতম বুদ্ধকে ব্যবহার করছে?

ChatGPT said:

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP) গৌতম বুদ্ধকে চীনাকরণ (Sinicization) প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে—এটি মূলত বৌদ্ধ ধর্মের, বিশেষ করে তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব কমিয়ে চীনা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও আদর্শের সঙ্গে ধর্মীয় অনুশীলনকে খাপ খাওয়ানোর একটি কৌশল। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় তুলে ধরা হলো যার মাধ্যমে CCP গৌতম বুদ্ধকে চীনাকরণের জন্য ব্যবহার করছে:

১. বুদ্ধের "চীনা সংস্করণ" তুলে ধরা

চীন সরকার বুদ্ধকে "চীনা সংস্কৃতির অংশ" হিসেবে উপস্থাপন করছে। তারা প্রচার করে যে বুদ্ধধর্ম চীনের একটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং এটি চীনা সভ্যতার বিকাশে অবদান রেখেছে। এর মাধ্যমে তারা দাবি করে, বৌদ্ধ ধর্ম চীনেই বিকশিত হয়েছে এবং এটি চীনা সংস্কৃতির অংশ, বাইরের কিছু নয়।

➡️ উদ্দেশ্য: তিব্বতি বা ভারতীয় প্রভাবকে খাটো করে বুদ্ধকে "চীনা" করে তোলা।

২. দালাই লামার প্রভাব খর্ব করা

তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে দালাই লামার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন সরকার ভবিষ্যতের দালাই লামা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে বলেছে, পরবর্তী দালাই লামা নির্বাচন করতে হলে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন লাগবে। তারা একধরনের “চীনা অনুমোদিত” দালাই লামা তৈরি করার প্রচেষ্টা চালায়।

➡️ উদ্দেশ্য: তিব্বতি ধর্মীয় নেতৃত্বকে সরকারনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত করে তোলা।

৩. মঠ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

চীনে বৌদ্ধ মঠগুলোতে সরকার “দেশপ্রেমিক ধর্মীয় নেতৃত্ব” প্রতিষ্ঠা করছে। ধর্মীয় নেতাদের CCP-এর প্রতি অনুগত হতে হয় এবং তারা ধর্মীয় বক্তৃতা দেয়ার সময় CCP-এর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কথা বলেন।

➡️ উদ্দেশ্য: বৌদ্ধ ধর্মকে "রাষ্ট্রের অনুগত ধর্ম" বানানো।

৪. বুদ্ধের বার্তা পুনর্নির্মাণ

চীন সরকার বুদ্ধের শিক্ষা ও বার্তাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে, যাতে তা "সামাজিক স্থিতিশীলতা", "হারমোনি", ও "রাষ্ট্রীয় ঐক্য"-এর সঙ্গে মিলে যায়। তারা বুদ্ধের অহিংসা বা মধ্যপন্থার মত শিক্ষা ব্যবহার করছে CCP-এর মতবাদ সমর্থনে।

➡️ উদ্দেশ্য: ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে CCP-এর রাজনৈতিক বার্তা প্রচার।

৫. মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের চীনকেন্দ্রিক প্রচার

CCP এমন এক ধরনের বৌদ্ধ চর্চা উৎসাহিত করছে যেটা ভারতের তুলনায় চীনের সংস্কৃতির সঙ্গে বেশি মিলে যায়, যেমন হান চীনা প্রভাবিত মহাযান শাখার বিস্তার।

➡️ উদ্দেশ্য: ভারতীয় বা তিব্বতি প্রভাবিত বৌদ্ধধর্মকে হ্রাস করা।

সারসংক্ষেপ:

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি গৌতম বুদ্ধকে চীনাকরণের জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় বিশ্বাস ও চর্চাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা, ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেয়া, এবং তিব্বতি ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর স্বাধীন সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় চর্চাকে দমন করা।

রাষ্ট্রপতি শি পুরেনো সব মঠ-মন্দির গুলিকে বিশাল বিশাল সংস্কৃতি কেন্দ্রে পরিণত করছেন, https://www.youtube.com/watch?v=wsewiDQDvEs

#সিপিআইএম #বাংলা #সমাজবাদী #সমাজ

27/05/2025

সেপারেট ইলেক্টোরেটস কী?

সেপারেট ইলেক্টোরেটস হলো একটি পদ্ধতি যেখানে কোন নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভোটার শুধুমাত্র তাদের নিজ ক্যাটাগরির প্রার্থীকে ভোট দিত এবং সেই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নির্বাচিত হত শুধুমাত্র সেই সম্প্রদায়ের ভোটে।

SC/ST-দের জন্য সেপারেট ইলেক্টোরেটস:
1932 সালে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যাকডোনাল্ড "কম্যুন্যাল অ্যাওয়ার্ড" ঘোষণা করেন, যার ফলে দলিতদের (তৎকালীন 'ডিপ্রেসড ক্লাস') জন্য পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখা হয়।

তবে মহাত্মা গান্ধী এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন এবং অনশন শুরু করেন। পরে ড. বি. আর. আম্বেডকর এবং গান্ধীর মধ্যে পুণা চুক্তি (Poona Pact) হয়।

পুণা চুক্তির ফলে কী হয়?

দলিতদের জন্য সেপারেট ইলেক্টোরেটস বাতিল করা হয়, তার পরিবর্তে, রিজার্ভড সিটস (Reserved Seats) চালু করা হয়, যেখানে দলিত প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের দ্বারা নির্বাচিত হন, কিন্তু নির্দিষ্ট আসনগুলো শুধুমাত্র দলিত প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।

সংক্ষেপে:

SC/ST-দের জন্য এক সময় সেপারেট ইলেক্টোরেটস প্রস্তাবিত হয়েছিল (1932), কিন্তু পুণা চুক্তির ফলে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে স্বাধীন ভারতে শুধু রিজার্ভেশন ব্যবস্থা (reserved constituencies) চালু করা হয়।

17/05/2025

কাশ্মীরী পন্ডিত স্বাহা ভট্ট প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন, এবং কাশ্মীরে ইসলামের প্রসার ঘটান

চতুর্দশ শতাব্দীতে রচিত রাজতরঙ্গিনী অনুসারে ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দে, কাশ্মীরের সুলতান সিকন্দরের উপদেষ্টা পন্ডিত স্বাহা ভট্ট সুফি মীর সৈয়দ আলী হামদানির প্রভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মালিক সাইফুদ্দিন নাম নেন, পন্ডিত স্বাহা ভট্ট ওরফে মালিক সাইফুদ্দিন তার মেয়েকে সুলতান সিকন্দরের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন, ধর্মান্তরিত স্বাহা ভট্ট কাশ্মীরের সুলতানকে পরামর্শ দেন যেসব হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করবেনা, সেইসব হিন্দুদের কাশ্মীর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হোক।

16/05/2025

আমি চ্যাট জিপিটিকে প্রশ্ন করেছিলাম -
জানতে চাই, কোন হিন্দু রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান কোন ধর্ম থেকে এসেছে?

🟢 ১. আদিবাসী ও দ্রাবিড় সংস্কৃতি (হিন্দুধর্মের আগে)
উৎস: প্রাক-আর্য আদিবাসী ও দ্রাবিড় ঐতিহ্য

প্রাকৃতিক উপাসনা – গাছ, নদী, পাহাড়, পশুপাখি ইত্যাদির পূজা।

নারীত্ব ও প্রজনন প্রতীক – যোগীনি, শক্তি, লিঙ্গ-যোনি পূজা ইত্যাদি।

সাপ, পাথর, গ্রাম দেবতা পূজা – এইসব পরবর্তীতে হিন্দু ধর্মে অন্তর্ভুক্ত হয়।

➡️ এসব অনুষঙ্গ হিন্দু লোকাচারে এখনও বিদ্যমান, যেমন গ্রামীণ দেবীর পূজা (চণ্ডী, মনসা), সর্প পূজা, অশ্বথ গাছ পূজা ইত্যাদি।

🟣 ২. পারস্য (জরথ্রুস্ট্রিয়ান) ও গ্রিক প্রভাব
সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫ম-১ম শতাব্দী
অগ্নি পূজা – বেদে অগ্নি উপাসনা থাকলেও, পারসিক জরথ্রুস্ট্রিয়ান ধর্মেও অগ্নির তাৎপর্য ছিল; পারস্পরিক প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা।

নবগ্রহ পূজা ও জ্যোতিষ – গ্রিক-ব্যাবিলনীয় জ্যোতিষের মাধ্যমে ভারতে গ্রহ-নক্ষত্র সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান গড়ে ওঠে।

🟠 ৩. বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব
সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে
সংন্যাস ও সন্ন্যাসধর্ম – সন্ন্যাসী জীবনযাপন ও মোক্ষ-লক্ষ্য বৌদ্ধ ধর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দু দর্শনে প্রবেশ করে।

মন্ত্র, ধ্যান ও মণ্ডল – তান্ত্রিক হিন্দুধর্মে ব্যবহারিত অনেক রীতি, যেমন মন্ত্র জপ, মণ্ডল অঙ্কন, মূলত বৌদ্ধ তান্ত্র থেকে আগত।

চক্র (chakra) ও ধ্যান প্রথার রীতিগত বিকাশ বৌদ্ধ যোগ থেকে এসেছে।

🟡 ৪. জৈন ধর্মের প্রভাব
সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে
অহিংসা নীতি – জৈন ধর্মে অহিংসার কড়াকড়ি পরবর্তীতে হিন্দু ধর্মেও গুরুত্ব পায় (বিশেষত বেদান্ত ও গীতা ব্যাখ্যায়)।

ব্রত (উপবাস) – নির্দিষ্ট দিন উপবাস ও নানান ব্রত পালন জৈন ধর্মের কাঠামো থেকে প্রভাবিত।

কঠোর নিরামিষ ভোজন রীতি ও ছোঁয়াছুয়ি আচার - জৈন ধর্মের থেকে আসা।

🟢 ৫. ইসলামি প্রভাব (সুফিবাদ ও মধ্যযুগীয় যুগ)
সময়কাল: ৮ম শতাব্দী থেকে শুরু করে মধ্যযুগজুড়ে
ভক্তি আন্দোলন – সুফি ভাবধারা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দু ভক্তি আন্দোলন গড়ে ওঠে, যেমন কবীর, রবিদাস, মীরাবাঈ।

সাধু-সন্ত ভক্তি, গান-বাজনার মাধ্যমে উপাসনা (কীর্তন) – সুফি কাওয়ালির প্রভাব আছে।

সমাধি বা মাজারের উপাসনা – কিছু হিন্দু সাধুর সমাধিকে কেন্দ্র করে মাজারধর্মের মতো উপাসনা গড়ে উঠেছে।

🔵 ৬. খ্রিস্টান ও পাশ্চাত্য প্রভাব
সময়কাল: ঔপনিবেশিক যুগ (১৮শ শতাব্দী থেকে)
সংস্কার আন্দোলন (ব্রাহ্ম সমাজ, আর্য সমাজ) – খ্রিস্টান মিশনারিদের নৈতিক শিক্ষা ও একেশ্বরবাদী ধারণা থেকে প্রভাবিত হয়ে মূর্তিপূজা বিরোধিতা, বৈদিক শুদ্ধতা প্রচলিত হয়।

দানের মাধ্যমে ধর্মসেবা (সেবা-ভাবনা) – খ্রিস্টান "charity"-র ধারণা হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত হয় (রামকৃষ্ণ মিশন ইত্যাদি)।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhanbad?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhanbad