সিদ্ধার্থ জৈন

সিদ্ধার্থ জৈন Universe is Not Locally Real!

22/08/2026
আজ বাংলার লোকসমাজে পুরোদমে দেবী মনসার আরাধনা চলছে।বাংলার গ্রামেগঞ্জে মনসাপূজা খুবই প্রচলিত, আমার দেখা মতে দক্ষিণবঙ্গ ও র...
18/08/2026

আজ বাংলার লোকসমাজে পুরোদমে দেবী মনসার আরাধনা চলছে।
বাংলার গ্রামেগঞ্জে মনসাপূজা খুবই প্রচলিত, আমার দেখা মতে দক্ষিণবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গে একশ্রেণির হিন্দুদের মধ্যে মনসাপূজা দুর্গাপূজার থেকেও বেশি গুরুত্ব বহন করে, যারা বাঁকুড়া-পুরুলিয়াতে থাকেন, তারা তো মনসাপূজার জাঁকজমক দেখেছেন।
শুধু হিন্দুই নয়, দেবী মনসার স্থান বাংলার ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সওদাগর (বণিক) সম্প্রদায়েও বিদ্যমান। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলিম সমাজে দেবী পূজার কোনো স্থান না থাকলেও, বাংলার ভৌগোলিক পরিবেশ এবং মধ্যযুগীয় লোকসাহিত্যের কারণে মনসা দেবীর প্রভাব সওদাগরদের স্মৃতি ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। মনসামঙ্গল কাব্য ও 'চাঁদ সওদাগর'-এর উত্তরাধিকার বাংলার মধ্যযুগীয় মঙ্গলকাব্য, বিশেষ করে মনসামঙ্গল কাব্যের মূল উপজীব্য হলো হিন্দু-মুসলিম উভয় বণিক বা সওদাগর সমাজের গল্প। এই কাব্যের প্রধান চরিত্র চাঁদ সওদাগর এবং বেহুলা-লখিন্দরের উপাখ্যান শুধু হিন্দুদের নয়, বাংলার মুসলিম সওদাগর ও সাধারণ মানুষের কাছেও এক অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদ।
লৌকিক দেবী রূপে সর্পদেবী মনসার উদ্ভব অনেক প্রাচীন ও আদিম সমাজে। সর্পাকীর্ণ ভারতে বিষধর সাপের ভীতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দ থেকে খ্রিষ্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে এর প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয়, পরে মধ্যযুগে পূর্ণাঙ্গ লৌকিক দেবীর রূপ লাভ করে। প্রাচীনকালে ভারত ও বাংলায় সাপের ভয় থেকে রক্ষা পেতে 'নাগ' বা সর্প উপাসনা প্রচলিত ছিল। এই আদিম উপাসনাই পরবর্তীতে মনসা দেবীর রূপ নেয়।
প্রাচীন হিন্দু পৌরাণিক সাহিত্যে (যেমন: মহাভারত) মনসার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে বাংলার লৌকিক ধর্মে তিনি সম্পূর্ণ আলাদা চরিত্র, যেখানে তাঁকে শিবের কন্যা বা স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং তাঁর মানবিক গুণাবলি ও রাগ-ক্ষোভ বেশি প্রাধান্য পায়। খ্রিষ্টীয় ১৫শ থেকে ১৭শ শতাব্দীর মধ্যে বাংলায় মনসামঙ্গল কাব্যগুলো রচিত হয়। এই কাব্যগুলোর মাধ্যমেই মনসা বাংলার ঘরে ঘরে স্থায়ী লৌকিক দেবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
প্রাচীন ভারতের এলিটদের ও ধনী বণিক শ্রেণির ধর্ম বলে পরিচিত জৈন ও বৌদ্ধধর্মও একসময় সমাজের দাবীতে “সর্পদেবীকে আত্মস্থ করে!”
লোকায়ত সর্পবিশ্বাসকে মহাযান বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে গ্রহণ করে বোধিসত্ত্ব ও দেবীরূপ দেওয়া।
সম্ভবত বৌদ্ধধর্মে আগে স্থান দেওয়া হয়
বৌদ্ধধর্মে সর্প ও নাগের উপস্থিতি খুবই প্রাচীন। তবে স্বতন্ত্র সর্পদেবী জাঙ্গুলী (Jāṅgulī)-র সুস্পষ্ট সাহিত্যিক পরিচয় পাওয়া যায় আনুমানিক ৬ষ্ঠ–৭ম শতকের মধ্যে। Śikṣāsamuccaya-তে (প্রায় ৭ম শতক) জাঙ্গুলীর নাম সর্পবিষের প্রতিষেধক মন্ত্রের প্রসঙ্গে পাওয়া যায়।
দেবী জাঙ্গুলী বৌদ্ধ ও প্রাচীন আদিবাসী সংস্কৃতিতে বিষ নিবারণকারী এক তান্ত্রিক দেবী হিসাবে পরিচিত। ভাষাতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাকরণ ও বৌদ্ধ হাইব্রিড সংস্কৃত অভিধান অনুযায়ী:মূল শব্দ: 'জাঙ্গুল' বা 'জাঙ্গুলী' র শাব্দিক অর্থ বা "বিষ নিরাময় বিদ্যা"।
দেবী জাঙ্গুলী মূলত প্রাচীন উত্তর ভারতের শাবর বা কিরাত প্রভৃতি শামনিক আদিবাসী সম্প্রদায়ের দেবী ছিলেন, যাঁরা বনাঞ্চলে বাস করতেন। এই বন্য বা 'জঙ্গলে' বসবাসকারী সংস্কৃতির সাথে দেবী যুক্ত থাকায় তাঁর নাম 'জাঙ্গুলী' বা 'জঙ্গলের দেবী' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
অথর্ববেদে বিষনাশক শক্তি হিসেবে 'কিরাত-গিরি' বা বন্য কন্যার উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে বৌদ্ধ মহাযান ও বজ্রযান ঐতিহ্যে অবলোকিতেশ্বর বা তারার এক রূপ হিসেবে 'আর্য জাঙ্গুলী' (Ārya Jāṅgulī) নাম দিয়ে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়, যিনি বিষ ও সর্পদংশন থেকে রক্ষা করেন
পরবর্তী তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মে, বিশেষত ৭ম শতকের মধ্যে, জাঙ্গুলীকে সর্পদংশন ও বিষ থেকে রক্ষাকারী দেবী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। এলোরার ৭ম শতকের শেষভাগের বৌদ্ধ নিদর্শনেও জাঙ্গুলীসহ নারী দেবতাদের তান্ত্রিক বৌদ্ধ আচার-পরম্পরায় অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়।
জৈনদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের সঙ্গে নাগ প্রতীকের সম্পর্কি প্রাচীন হলেও, সর্পদেবী পদ্মাবতীকে পার্শ্বনাথের যক্ষী হিসেবে সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রমাণ মূলত মধ্যযুগে দেখা যায়। তাঁর স্বতন্ত্র আইকনোগ্রাফি ও উপাসনা বিশেষভাবে প্রায় ১০ম শতক থেকে দৃশ্যমান বলে জৈন শিল্প-ইতিহাসে ধরা হয়।
আরও মজার বিষয় হলো, জৈন সাহিত্যেও জাঙ্গুলী নামটি সর্পবিষনিবারক দেবী হিসেবে পাওয়া যায়; ১৪৮৯ খ্রিস্টাব্দের একটি জৈন পাণ্ডুলিপিতেও জাঙ্গুলীর উল্লেখ আছে। অর্থাৎ বৌদ্ধ সর্পদেবী-ঐতিহ্য ও জৈন ধর্মীয় জগতের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা ছিল।
জৈন ও বৌদ্ধধর্মে ঐশ্বরিক ব্যক্তিত্বমূলক সৃষ্টিকর্তার ধারণা না থাকলেও পূজা কেন করা হয়?
কারণ "পূজা” মানেই সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বরের উপাসনা - এমন নয়, জৈন ও বৌদ্ধ দর্শনে পূজার অর্থ ও উদ্দেশ্য অনেকটাই আলাদা।
জৈন দর্শনে বিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন এমন কোনো সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের ধারণা নেই। কিন্তু গুণী ব্যক্তিত্ব ও তীর্থঙ্করদের পূজা করা হয়। তাঁরা দেবতা হিসেবে বিশ্ব সৃষ্টি বা পরিচালনা করেন না; তাঁরা এমন সিদ্ধপুরুষ, যাঁরা কর্মবন্ধন অতিক্রম করে মুক্তি লাভের পথ দেখিয়েছেন।
তাই জৈন পূজায় দেবী-দেবতা ও তীর্থঙ্করের কাছে সাধারণত “আমাকে এই জিনিস দাও” ধরনের পূজা-প্রার্থনার চেয়ে শ্রদ্ধা, আত্মশুদ্ধি ও আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব বেশি। পরবর্তীকালে জৈন ধর্মে পদ্মাবতী, অম্বিকা প্রভৃতি যক্ষ-যক্ষিণীর মতো দেবদেবীর পূজাও জনপ্রিয় হয়েছে। এঁদের অনেককে লোকবিশ্বাস ও ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত মুক্ত আত্মাদের অধীনস্থ দেবসত্তা হিসেবে দেখা হয়, সৃষ্টিকর্তা হিসেবে নয়।
আবার বৌদ্ধদর্শনেও কোনো সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা কেন্দ্রীয় ধারণা নয়, বরং জীবের চৈতন্যতেই মহাবিশ্বের অবস্থান। বুদ্ধ নিজেকে সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলে দাবি করেননি। কিন্তু বুদ্ধের মূর্তি, স্তূপ, বোধিবৃক্ষ ইত্যাদির সামনে নত হওয়া, ফুল-ধূপ নিবেদন করা ইত্যাদি প্রচলিত হয়েছে।
সেখানে পূজার মূল উদ্দেশ্য ছিল বুদ্ধদের প্রতি শ্রদ্ধা, অবলোকিতেশ্বরদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁদের শিক্ষা স্মরণ এবং নিজের মনকে ধর্মচর্চার দিকে কেন্দ্রীভূত করা (মহাযান ও বজ্রযান বৌদ্ধধর্মে অবলোকিতেশ্বর হলেন পরম করুণা ও দয়ার প্রতীক প্রধান বোধিসত্ত্ব। সংস্কৃত শব্দটির অর্থ "যিনি জগৎকে করুণাভরে অবলোকন বা দর্শন করেন"। তিনি সকল বুদ্ধের কৃপা ও করুণার মূর্ত প্রকাশ)। পরবর্তী মহাযান ও বজ্রযান বৌদ্ধধর্মে বিভিন্ন বুদ্ধ, বোধিসত্ত্ব, দেবতা ও রক্ষক-সত্তার পূজাও বিকশিত হয়।
আসলে দর্শন ও লোকাচার এক জিনিস নয়। একটি ধর্মের দার্শনিক মতবাদে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর না থাকলেও তার অতি সাধারণ বুদ্ধি ও জ্ঞানের অনুসারীদের ধর্মীয় আচারে শ্রদ্ধা, প্রতীক, দেবসত্তা, মন্ত্র, নৈবেদ্য ও পূজা থাকতে পারে, কারণ সকল মস্তিষ্কের পক্ষে সৃষ্টিকে পরম চৈতন্য বা ব্রহ্মের প্রকাশ রূপে বোঝা সম্ভব নয়। ঐতিহাসিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কম প্রচলিত বিষয় হলো সময়ের সঙ্গে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের আনুষ্ঠানিক পূজাচর্চা অনেকটাই ভারতীয় লোকধর্ম ও প্রচলিত দেবতা-সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে বিকশিত হয়েছে।
সবশেষে বৈদিক ব্রাহ্মণ্য ধর্মে মনসা দেবীর আত্মস্থকরণ ঘটে।
বাংলায় লোকায়ত সর্পদেবী মনসা অনেক প্রাচীনকাল থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। ইতিহাসে ৮ম–১২শ শতকের বাংলাকে মনসা উপাসনার বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময় বলা হয়েছে। প্রাক-আধুনিক ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গবেষক রিচার্ড ইটনের গবেষণা অনুযায়ী মনসার মূল কাহিনি ও আচার ৫ম–১০ম শতক, সম্ভবত তারও আগে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল এবং প্রায় ১০০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রভাবশালী মনসা উপাসক শ্রেণি যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল, যেমন বাংলার প্রভাবশালী বণিক ও সওদাগর সম্প্রদায়ের মধ্যে।
১০ম থেকে ১২শ শতকের বাংলায় মনসার পাথরের মূর্তির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিদর্শন পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এই সময়ে তিনি ইতিমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠিত দেবী। তবে তাঁকে তখনও মূলধারার ব্রাহ্মণ্য দেবীসমাজে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয়নি।
এরপর ব্রাহ্মণ লেখক ও পুরাণকারেরা মনসাকে নিজেদের ধর্মতাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করতে শুরু করেন। তাঁকে শিবের কন্যা হিসেবে দেখানো এবং কাশ্যপ, বাসুকী প্রভৃতি পুরাণিক চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এই আত্মস্থকরণের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। গবেষণায় দেখা যায়, দেবীভাগবত, পদ্মপুরাণ ও ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের অপেক্ষাকৃত পরবর্তী সংস্করণগুলিতে মনসার কাহিনি প্রবেশ করে; এগুলির রচনাকাল আনুমানিক ১৩শ শতক বা তার পরবর্তী। এটি ছিল দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমন্বয় (religious assimilation)। এমনকি ১২০০–১৬০০ সময়কালেও ব্রাহ্মণ্য সমাজের একটি অংশ মনসাকে পুরোপুরি গ্রহণ করেনি; তাঁর ব্রাহ্মণ্যকরণ ছিল অসম্পূর্ণ ও ধীরগতির।
তবে মনসা, পদ্মাবতী বা জাঙ্গুলী একই দেবী - এমন সরল সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, বরং গবেষণায় পাওয়া যায় যে এইসমস্ত সর্পদেবীরা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন সর্প উপাসনা, লোকায়ত সর্পবিশ্বাস, বৌদ্ধ তন্ত্র ও জৈন যক্ষ-যক্ষিণী পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত ও বিবর্তিত।

ভারতীয় ভাষাগুলিতে কলা শব্দটিকে মনে করা হয় যে মুন্ডা ভাষা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে,  আধুনিক ভাষা গবেষকরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।...
07/08/2026

ভারতীয় ভাষাগুলিতে কলা শব্দটিকে মনে করা হয় যে মুন্ডা ভাষা থেকে ধার নেওয়া হয়েছে, আধুনিক ভাষা গবেষকরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
মুন্ডারি ভাষার কদল (kadaḷ), সাঁওতালি ভাষার কয়রো (kôerô), কোডা ভাষার কেরা (kɛɾa), কোরকু ভাষার কেড়ে (keɽe) শব্দগুলোর সাথে এর মিল লক্ষ্য করা যায়।
শব্দটির বিবর্তন: কদল--> কদলা (প্রাকৃত)--> কলা
(সংস্কৃতে 'কদলী' নামে যোগ হয়েছে)
ভাষাতাত্ত্বিক হুগারভর্স্ট (Hoogervorst) বলেন আদি মুন্ডারা আবার শব্দটি মূলত প্রোটো-মালয়-পলিনেশীয় শব্দ *qaʀutay থেকে গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ প্রোটো-তাই শব্দ *kluəjꟲ (যা থেকে থাই ভাষার glûai এসেছে)-এর কথা উল্লেখ করা যায়।
তথ্যসূত্র: wiktionary, A Comparative Dictionary of the Indo-Aryan Languages"

আধুনিক সংস্কৃত আসলে প্রধানত ৩টি ভাষা পরিবারের থেকে শব্দ নিয়ে গড়ে উঠেছে - ইন্দো-ইরানীয় (আর্য), মুন্ডা ও দ্রাবিড়।
বৈদিক সংস্কৃত শব্দ ভান্ডারে কয়েকটি পরিচিত মুন্ডা শব্দ;
মুন্ড, কুমার, কুলায়, কুলঙ্গ, কদল, কদলী, কম্বল, কোটি, কাকম্বীর, কর্কুট, কপর্দিন, কার্পাস, কবন্ধ, কবষ, কীলাস, কিমীদ, কীনাশ, কিয়ম্বু, কুরঙ্গ, খন্ড, চিক্কন, তুঙ্গ, তুন্ড, প্রাকার, বর্বট।
বৈদিক সংস্কৃত শব্দ ভান্ডারে কয়েকটি পরিচিত প্রোটো-দ্রাবিড় শব্দ;
আকাশ, তুলসী, ডমরু, নীর, কান, কপোল, কাল, কালী, কটু, কোণ, কৌলিক, ঘোটক, পটল, পেটিকা, দন্ড, কুল্ফ, কুল, বিল, খল, মারি।
বৈদিক সংস্কৃত শব্দ ভান্ডারে কয়েকটি পরিচিত আধুনিক দ্রাবিড় শব্দ;
চন্দন, কমল, কল্লোল, কুঠার, কুসুম্বরী, উদগল, তীর নারিকেল, নগর, নেত্র, মঞ্জুষা, মালা, মলয়, মুখ, যদু, লম্পট, শব, সন্ধ্য।
১৯৫৫ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারত বিশেষজ্ঞ থমাস বারো সংস্কৃতে প্রায় ৫০০টি শব্দ তালিকাভুক্ত করেন যেগুলিকে তিনি অইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার ঋণ বলে মনে করেন।
তথ্যসূত্র: আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, https://indianculture.gov.in/ebooks/proto-munda-words-sanskrit

ঈশ্বর কোনো ব্যক্তি নন যিনি মন্দিরে, সপ্তম আকাশে, স্বর্গে বসে মানুষের সৃষ্টি পরিচালনা করছেন। যা কিছু অস্তিত্বশীল, তার সবক...
25/07/2026

ঈশ্বর কোনো ব্যক্তি নন যিনি মন্দিরে, সপ্তম আকাশে, স্বর্গে বসে মানুষের সৃষ্টি পরিচালনা করছেন।
যা কিছু অস্তিত্বশীল, তার সবকিছুই ঈশ্বরের অংশ।

এই যে আমরা ন্যায়বিচার বা ইনসাফের কথা বলি এই ধারণাটা আসলে কোত্থেকে এসেছে?এটা কি কোন ঐশ্বরিক নিয়ম? বা প্রাকৃতিক নিয়ম? না...
07/06/2026

এই যে আমরা ন্যায়বিচার বা ইনসাফের কথা বলি এই ধারণাটা আসলে কোত্থেকে এসেছে?
এটা কি কোন ঐশ্বরিক নিয়ম? বা প্রাকৃতিক নিয়ম?
নাকি এটা পুরোপুরি মানুষের তৈরি একটা ব্যবস্থা?
ন্যায়বিচারের উৎসটা কি? এটা কি প্রকৃতির মধ্যেই থাকা কোন আইন? যা সবকিছুতেই চলে?

Enjoy the videos and music you love, upload original content, and share it all with friends, family, and the world on YouTube.

07/05/2026

রাম শব্দের অর্থ কি? বুৎপত্তি কি?
শব্দের বুৎপত্তি বলতে কোনো শব্দের মূল উৎস, গঠনপ্রক্রিয়া এবং অর্থের বিবর্তন সংক্রান্ত অধ্যয়নকে বোঝায়।
মনে রাখবেন, ধর্মের উৎপত্তির অনেক আগেই শব্দ ও নামগুলোর উৎপত্তি হয়ে গেছিল।
রাজা রাম বা ভগবান রাম জন্মানোর অনেক আগে থেকেই "রাম" শব্দটি ছিল বলেই না রাম নামটা দেওয়া হয়েছিল।
আমি বা আপনি আমাদের সন্তানের এমন কোন নাম দিতে পারব কি যেটা মানুষের সমস্ত ভাষার শব্দ ভান্ডারে নেই?
আসুন "রাম" শব্দটির গভীর বুৎপত্তি জানি......
রাম শব্দটি প্রাচীন ইন্দো-ইউরোপীয়-ইরানীয় ও অ্যাফ্রো-এশিয়াটিক- দুটি ভাষা পরিবারের শব্দভান্ডারেই রাম শব্দটি পাওয়া গেছে।
(সেমেটিক ভাষা যেমন মিশরীয়, হিব্রু, আরবি ইত্যাদি অ্যাফ্রো-এশিয়াটিক ভাষা পরিবারের)
সংস্কৃতের মত ইন্দো-ইউরোপীয়-ইরানীয় ভাষাগুলিতে রামের একটি অর্থ হল বড়, মহান, শক্তিশালী ইত্যাদি। তাই বড় আকৃতির কোন কিছুর আগে রাম জোড়া হয়, যেমন বড় "দাঁ বা কাটারি"কে রামদাঁ বলা হয়, আপনারা জানেন আমাদের বাংলা ভাষায় এরকম আরো অনেক শব্দ আছে।
আকাশে ওঠা বড় ধনুকের মত রঙিন আকৃতিকে রামধনুক বলা হয়, এটাও বিশাল বা বড় বোঝায়।
আবার প্রাচীন মিশরীয়তে "রা" মানে সূর্য, মিশরে এক ফ্যারাওয়ের নাম ছিল "রামেসু", যার অর্থ সূর্যের সন্তান। ভারতে "রাম" শব্দটি সম্ভবত সেমেটিক শব্দভান্ডারের, কারণ ভারতের দ্রাবিড় ও আর্য জনগোষ্ঠী মধ্য এশিয়া থেকেই এসেছিল, তাই ভারতীয় রাম শব্দের অর্থ হতে পারে বড়, মহান বা সূর্যের সন্তান, কারণ রামকে সূর্যবংশের দাবি করা হয়।
রাম শব্দের অন্য একটি অর্থও পাওয়া গেছে, যে ঘুরে বেড়ায়, অর্থাৎ যাযাবর, তাকে প্রাচীন ইন্দো-ইউরোপীয়ান-ইরানিয়ানে "রম বা রাম" বলা হয়, এটা থেকেই ইংরেজি "রোমিং" শব্দটি এসেছে।
আপনারা অনেকেই তো জানেন যে সংস্কৃত, ল্যাটিন, গ্রিক, ইংরেজি, জার্মান, নর্স, রাশিয়ান ইত্যাদি ভাষাগুলো বৃহত্তর ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি শাখা হল ইন্দো-ইরানীয়, এই পরিবারে আছে সংস্কৃত, প্রাকৃত, ফার্সি, আফগানি, নুরিস্তানি, কুর্দ, হিন্দি, উর্দু, গুজরাতি, মারাঠি, বাংলা ইত্যাদি ভাষাগুলো।
ল্যাটিন, গ্রিক, ইংরেজি, জার্মান, নর্স, রাশিয়ান ইত্যাদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গুলিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাম শব্দের অর্থ হয় শক্তিশালী।
সূত্র: অক্সফোর্ড ও উইকশনারি Etymology অনলাইন ডিকশনারি।

Address

Dhanbad

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সিদ্ধার্থ জৈন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category