Chhayapoth - Milkyway

Chhayapoth - Milkyway a group of limitless members.. its intention to do work and research on SHRI SHRI THAKUR ANUKUL CHANDRA'S real ideology and spread His holy blesssings.

21/08/2026
17/08/2026

আদর্শকে অনুসরণ করে নিজের আচরণে, অন্তরে ফুটিয়ে তোলার জন্য এক মূর্ত আদর্শ প্রয়োজন, কেবল মতাদর্শ নয়। এমন এক আয়নার প্রয়োজন যাঁর সামনে দাঁড়িয়ে
ইষ্ট এবং তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে নিজের মধ্যে ফুটিয়ে তোলার এক আদর্শ মাফিক আয়নার দরকার হয়। যার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবিম্বের মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করা যায়, কতটা নিজের মধ্যে ইষ্ট সত্তা জাগিয়ে তোলা হয়েছে। কতটা সেই আদর্শকে নিজেদের বাস্তব জীবনে পরিস্ফুটিত করে তুলতে পেরেছি।
তাই আমাদের জীবনে আদর্শ কেমন হওয়া উচিত সেই বিষয়ে অপূর্ব এক ব্যাখ্যা করেছেন পুরুষোত্তম প্রপৌত্র পূজনীয় শ্রীবৌধায়ন চক্রবর্তী দাদা।
✳️✳️✳️✳️✳️✳️✳️✳️✳️✳️✳️✳️✳️✳️

' আদর্শ '
শ্রী বৌধায়ন চক্রবর্তী

আমরা দৈনন্দিন জীবনে ‘আদর্শ’, ‘দর্পণ’, 'দৃশ্য', 'দর্শক', 'দর্শন' এই শব্দগুলো প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি। ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই শব্দগুলির মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। কেবল উচ্চারণগত ভাবেই নয়, উৎপত্তিগত ভাবেও। ‘দৃশ’ ধাতু থেকেই তৈরি হয়েছে উপরোক্ত শব্দগুলো। 'দৃশ' ধাতুর সঙ্গে যখন ‘আ’ উপসর্গ যুক্ত হয়, তখন এর ব্যাপ্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ যা দেখছি তা সর্বশ্রেষ্ঠ এবং এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কিছু হতে পারে না—এই ধারণা থেকেই অনুকরণীয় অর্থে ‘আদর্শ’ শব্দের প্রচলন ও প্রয়োগ শুরু হয়। প্রতিটি মানুষের জীবনে আলাদা আদর্শ ব্যক্তিত্ব থাকতে পারেন। তবে মনস্তাত্ত্বিক সত্য হলো—প্রতিটি মানুষই মনে মনে নিজেকে নির্ভুল, সঠিক এবং নিখুঁত মনে করে। আর নিজেকে কোথায় দেখা যায়?—আয়নায়। সেই কারণেই ‘আদর্শ’ শব্দটির প্রাথমিক অর্থ ছিল 'আয়না'। সংস্কৃত ‘আদর্শ’-এর ফারসি প্রতিশব্দ হলো ‘আয়না’। আবার ‘আদর্শ’ শব্দটিরই রূপান্তর হয়ে চলতি বাংলায় এসেছে ‘আরশি’। আবার 'দর্পণ' নামেও 'আয়না'-র একটি প্রতিশব্দ আছে। তাদের মধ্যেও মনস্তাত্বিক যোগাযোগ আছে। কিরকম?--- সংস্কৃত শব্দ 'দর্প' থেকে এসেছে 'দর্পণ' শব্দটি। 'দর্প' শব্দের অর্থ হলো অহংকার। যখন কোনো মানুষ আয়না বা দর্পণের সামনে দাঁড়ায়, তখন নিজেকে দেখে তার মনে একপ্রকার আনন্দ, আত্মতৃপ্তি ও অহংকার জাগ্রত হয়—“আমি কত সুন্দর, আমি কত নিখুঁত!” নিজের প্রতি এই মুগ্ধতা বা দর্প প্রকাশ পায় বলেই 'আয়না'র নাম হয়েছে ‘দর্পণ’। এই লাইনটি লিখতে লিখতেই মনে পড়ছে অত্যন্ত জনপ্রিয় জার্মান রূপকথা "স্নো হোয়াইট"- এর সেই Evil Queen-এর কথা---"আয়না, আয়না! বলো তো দেখি, এ রাজ্যে কে সবচেয়ে সুন্দরী?" সে আসলে শুনতে চাইতো যে তার চেয়ে সুন্দরী আর কেউ নেই। আয়না তাকে তেমন কথাই শোনাতো।

তাহলে দেখা গেল, একটি বিশেষ শব্দকে কেন্দ্র করে কেমন মনস্তাত্বিক সামঞ্জস্য বজায় রেখে অন্য প্রতিশব্দ তৈরি হয়। কবেই সেসব তৈরি হয়ে গেছে তবু এখনও প্রাসঙ্গিক, তা সে এদেশেই হোক বা বিদেশে। আর উপরোক্ত শব্দ বা প্রতিশব্দগুলোতে 'আমি-আমি' ভাব বা আত্মকেন্দ্রিকতার ভাবটাই প্রকট। কিন্তু 'আদর্শ' বলতে যদি এমন 'আয়না' বোঝায় যেখানে 'আমি আসলে কেমন এবং আমার কেমন হওয়া উচিত'--- এটা মুখ্য হয়ে ফুটে ওঠে; অনুকরণের বদলে যদি অনুসরণ মুখ্য হয়ে ওঠে; 'দর্পণ' যদি মনের Evil-কে জব্দ অর্থাৎ দর্পচূর্ণ করার প্রেরণাস্রোত হয়ে ওঠে--- তাহলেই আর শব্দগুলোর অর্থতে আত্মকেন্দ্রিকতার ছাপ থাকে না; বরং সেসব তখন আত্মপরিশুদ্ধির, আত্মোন্নয়নের বার্তাবাহী হয়ে যায়।

আদর্শ মানে তাইই যা আমাদের বোধ বা চেতনার জানালা খুলে দেয়। 'যা' বলতে কিছু গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়। অর্থাৎ বিশেষণ। তাহলে বিশেষ্য কেউ তো নিশ্চয়ই আছেন! তাই আদর্শ মানে বলা চলে আদর্শ ব্যক্তিত্ব---যিনি কোনো না কোনো দৃষ্টান্ত রেখেছেন সমাজে। যেমন আদর্শ শিক্ষক, আদর্শ ছাত্র, আদর্শ ডাক্তার, আদর্শ খেলোয়াড়, আদর্শ রাজনীতিবিদ, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের মনের মতন কোনো না কোনো আদর্শ ব্যক্তিত্ব নিশ্চয়ই আছেন সমাজে। তাঁদের দেখে অনুপ্রাণিত হই আমরা। কিন্তু "আমার মনের মতন" ব্যাপারটাই তো বেশ একটা জটিল বিষয়, ধাঁধার মতন যেন! সচরাচর আমরা আমাদের পছন্দসই প্রবৃত্তির সমর্থনে এমন আদর্শের নির্বাচন করে থাকি। তাই তাঁদের থেকে আমরা বেশি কিছু শিখতে পারিনা। উল্টে তাঁদের আচরণের কিছু কিছু অনুকরণ করে প্রবৃত্তির সাথে মিশিয়ে নিজের এক জগাখিচুড়ি ব্যক্তিত্ব তৈরি করে ফেলি। না ফুটে ওঠে সেই আদর্শের অভিব্যক্তি আমার মধ্যে, না হয় নিজের বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত স্ফুরণ। নিজেই নিজের আদর্শ হয়ে আত্মসন্তুষ্টিতে ডুবে থাকি। তাতে জেরবার হই নিজে ও নিকট পরিবেশকেও তেমনই করে থাকি।

কিন্তু আদর্শ যদি এমন হন যিনি আমার প্রবৃত্তিকে সঠিক দিশা দেখাতে চান, আমাকে অনিয়ন্ত্রিত থেকে সুনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে চান, যাঁর কাছে গেলে নিজের দূর্বলতা---যেগুলোকে আমি সযত্নে আড়াল করে রাখতে চাই---সেইসব সমেত নিজেকে সম্যকভাবে দেখা যায়, যিনি আমার সবটা জেনে আমাকে সৎ-এ পরিচালনা করতে চান--- তেমন আদর্শই তো কাম্য হওয়া উচিত আমার। তঁদনুগ চলনেই আমার জীবন প্রকৃত উন্নতিমূখর হয়ে উঠতে পারে। "যা'কে দেখে চলায় তোমার চলন সার্থক হয় / উল্লঙ্ঘনে এড়াতে পার অনেক বিপর্য্যয়; / যা'র ভাবে আর কথায় কর অন্তর-বিন্যাস, / সেই মানুষই আদর্শ --- যা'র ইষ্টেতে সন্ন্যাস" । এই আদর্শই হলেন ইষ্টদেব--মানুষের পরম ভরসাস্থল--প্রিয় পুরুষোত্তম। মানুষরূপে যতবার তিনি ধরাধামে এসেছেন, এই অন্তর-বিন্যাস করেই তিনি মনুষ্যত্বকে দেবত্বে উন্নীত করেছেন। উস্কোখুস্কো চুল নাহয় সাধারণ আয়নায় দেখে ঠিক করে নেওয়া যায়, কিন্তু উস্কোখুস্কো অন্তর ঠিক করতে লাগে এমনই সত্যিকার আদর্শ। "সত্যিকার আদর্শ যিনি / সদগুরুও তিনি, / বেফাঁস লোকে বিভেদ দেখে / বাস্তবে না চিনি।"

দুইই চাই আমাদের। নিজের অন্তর ও বাহির দুইই সুবিন্যস্ত করতে চাই আমরা। অন্তর বিন্যাসের জন্য চাই ইষ্টগুরু ও তাঁর প্রতি নিষ্ঠা, আর শিক্ষাগুরুর মাধ্যমে আমরা যুগোপযোগী নানাবিষয়ে দক্ষতা লাভ করে বিন্যস্ত করব আমাদের বহির্জগত। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন---"শিক্ষাগুরু থাক না অনেক / শিখো যেমন পারো, / ইষ্টগুরু একই কিন্তু / নিষ্ঠা সহ ধরো"। আজকাল প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির নানা প্রভাবে সমাজ যেমন পুষ্ট হয়েছে, তেমনই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সমাজে নানা উপসর্গও দেখা দিয়েছে। মানুষের মনোজগত আজ প্রযুক্তি ও বৃত্তিপ্রসূত নানা জাঙ্ক ফাইলে ছেয়ে গেছে। ইন্টারন্যাল মেমোরি ভরে উঠছে এসবে। কাজ করতে পারছে না তাই মানবিক মূল্যবোধের খুব সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। শ্রীশ্রীঠাকুর সেই কবেই সাবধান করে দিয়েছিলেন--- "... গতিক দেখে মনে হয় মনুষ্যত্বের মূল বুনিয়াদ লোপ পেয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়"। এমন অবক্ষয় মানুষ যে উপভোগ করে, তা নয়। তবু কাটিয়ে উঠতেও পারেনা এমন বৃত্তিফাঁস। যুগে যুগেই তদানীন্তন কালের বিকশিত সভ্যতা লোপ পেয়েছে মূলতঃ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের ফলেই। বিজ্ঞান তখনকার মতন নিশ্চয়ই আধুনিক ছিল, প্রযুক্তিও ছিল---তবু রক্ষা করতে পারেনি। তাই এই চরম আধুনিক যুগেও বৈষয়িক উন্নতির সাথে সাথে আধ্যাত্মিক উন্নতিও চাই। আদর্শ ও পরিবেশের সাথে নিজের মেলবন্ধন বজায় রাখা চাই।

"আদর্শ বা ইষ্ট তিনিই, যাঁ'র ব্যক্তিত্বেই তোমার কল্যাণ-প্রেরণা নিহিত, আর, যাঁ'কে দেখে বা বুঝে নিজেকে নিয়ন্ত্রিত ক'রে তুমি কল্যাণের অধিকারী হও"।--- এই কল্যাণ মানুষের চির আকাঙ্ক্ষিত। তাই এমন আদর্শের প্রতি টান অনুভব করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু "মানুষের আকাঙ্ক্ষিত মঙ্গল তার অভ্যস্ত সংস্কারের অন্তরালে থাকে" বলে অজ্ঞানতাবশতঃ, অভিভূতিবশতঃ অশ্রেয়কে শ্রেয় ভেবে তার সাথে যুক্ত হয়ে থাকে। যুক্ত হওয়ার আবেগ মানুষের মধ্যে থাকেই। সৎ নাহলে অসৎ, ইষ্টতন্ত্র নাহলে বৃত্তিতন্ত্র---কোনো না কোনো আদর্শের সাথে মানুষ যুক্ত থাকেই। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন---"আদর্শ যত উচ্চ ও উদার হয় ততোই ভালো। কারণ যত উচ্চতা বা উদারতার আশ্রয় নেবে, তুমিও ততো উচ্চ ও উদার হবে"। রূপায়িত আদর্শকেন্দ্রিক নিষ্ঠানন্দিত চলন আমাদের তাঁরই ঈপ্সিত উচ্চতা ও উদারতায় সমৃদ্ধ করে তুলুক, সুবিন্যস্ত করে তুলুক ব্যক্তি-দম্পতি-গৃহ-সমাজ-রাষ্ট্র সহ বিশ্বের প্রতিপ্রত্যেককে।

🙏 বন্দে পুরুষোত্তমম্ 🙏

সারথী এবং রথ দুটি জিনিসই একে অপরের  উপর নির্ভরশীল।রথ ছাড়া সারথীর ভূমিকা নেই, তেমনই সারথী ছাড়া রথের নিয়ন্ত্রণ সহ নির্দ...
27/07/2026

সারথী এবং রথ দুটি জিনিসই একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
রথ ছাড়া সারথীর ভূমিকা নেই, তেমনই সারথী ছাড়া রথের নিয়ন্ত্রণ সহ নির্দিষ্ট দিকে চলন ক্ষমতাও নেই। আবার রথ বলতে যেমন প্রভু জগন্নাথ এর কথা মনে ভেসে ওঠে, তেমনই সারথী বলতে মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মুহূর্তে শ্রীকৃষ্ণের কথা মনে ভেসে ওঠে।
অর্থাৎ কখনও ভক্তকে ভগবানের রথের সারথী হয়ে উঠতে হয় তাঁর সেবা তাঁর প্রতি অগাধ আস্থার মাধ্যমে আবার ঠিক ভগবানও ভক্তের রথের সারথী হয়ে ওঠেন বাস্তব জীবনের কঠিন থেকে কঠিনতম কুরুক্ষেত্র পার করে দেওয়ার জন্য।
এগুলি নিছকই পুরানতত্ত্ব মনে হলেও ঠিকঠাক ভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে এইসব প্রেক্ষাপট গুলো। আমরা প্রতিনিয়তই কুরুক্ষেত্র ময়দানে লড়াই করছি , প্রিয়পরম কে রথের (আমাদের জীবনের ) সারথী বানিয়ে জীবনের কঠিন কুরুক্ষেত্র গুলি জয় করছি।
এই বিষয়েই ইষ্টচেতনা মুলক একটি ধারণার খুব সুন্দর আলোচনা করেছেন , শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রপৌত্র পূজনীয় শ্রী বৌধায়ন চক্রবর্তী দাদা।
নিজেও পড়ুন ভাবুন এবং অপরকেও সুযোগ করে দিন।

🌻রথের সারথী🌻

শ্রী বৌধায়ন চক্রবর্তী

"বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী"--- শক্তির দম্ভে পাণ্ডবদের উদ্দেশ্যে করা চরম অবমাননা সূচক যুবরাজ দুর্যোধনের এহেন উক্তির ফলে কুরুক্ষেত্রের মহারণ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল। তার আগেও কৌরবকূল দ্বারা পাণ্ডবদের নানাবিধ কৌশলে নিপীড়িন ও হেনস্থার দৃষ্টান্ত কিছু কম না থাকলেও সর্বগ্রাসী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ যাতে এড়ানো যায়, তার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছিল বারম্বার। স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, মহামতি বিদুর নানাভাবে চেষ্টা করেছিলেন যাতে যুদ্ধ না হয়। কিন্তু "স্বেচ্ছাচার যেখানে সমর্থিত,--- সত্তাচার সেখানে অবগুণ্ঠিত"। তাই তাঁদের প্রচেষ্টা বিফলেই যায়।

যাই হোক, যুদ্ধ আসন্ন। দেহ-মনে, অস্ত্রে, পরিকল্পনায় শান দেওয়ার সাথে সাথে দল ভারী করার চিন্তা-ভাবনাও ঘুরপাক খাচ্ছে উভয়পক্ষের মাথায়। অবশেষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে এসে উপস্থিত হন দুর্যোধন ও অর্জুন। ভগবান তো আর ভেদবুদ্ধিপ্রবণ নন বরং তিনি চিরকালই " জীবনবৃদ্ধ্যসিকলকং মিত্রামিত্রবল্লভম্"। কিন্তু " তাঁকে অহং-এর কষ্টিপাথরে কষা যায় না", দুর্যোধন তাই পেতে পারেননি তাঁকে। আর অর্জুন পেয়েছিলেন তাঁকে আপন কর্ম-আচার-ব্যবহারের গুণে, শ্রদ্ধা-ভক্তি-প্রেমের যে বাঁধনে নিজেকে বেঁধে রেখেছিলেন তাঁর সাথে---সেই কষ্টিপাথরে কষে। লক্ষ নারায়ণী সেনা পেয়ে দুর্যোধন দম্ভ-দর্পে আরও বলীয়ান হয়ে যান। আর অনন্যহৃদয় সখা শ্রীকৃষ্ণকে নিরস্ত্র সারথী রূপে পেয়েও অর্জুন পেয়েছিলেন আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। যুদ্ধের সূচনা লগ্ন থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কখনও বিষাদযোগ আবার কখনও বা অবধারিত মৃত্যুযোগ থেকে রক্ষা করেছেন। কিন্তু যুদ্ধ করতে হয়েছে অর্জুনকেই। তিনি অর্জুন বা পাণ্ডবদের হয়ে যুদ্ধ করে দেননি। এমন নয় যে শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধবিদ্যায় নিপুণ ছিলেন না বা শক্তিশালী ছিলেন না। মহাভারতের সময় শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন দ্বারকাধীশ, তিনি দ্বারকায় রাজ্য স্থাপন করেছিলেন। পরাক্রমী শিশুপাল ও নরকাসুরকে বধ করেছিলেন এবং বানাসুরের দর্প চূর্ণ করেছিলেন। এছাড়াও কংসকে তিনি কিশোর বয়সেই বধ করেছিলেন। অর্থাৎ, শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু এক দক্ষ যোদ্ধা হিসাবেও প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তবু তিনি কুরুক্ষেত্রের ধর্মযুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেননি। যুদ্ধ চলাকালীন একবার ভীষ্মের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে শ্রীকৃষ্ণ রথের চাকা তুলে আক্রমণ করতে উদ্যত হলেও তা ছিল অর্জুনকে যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করারই নামান্তর। তাঁর কৌশল, দিশা-নির্দেশ না থাকলে বা অর্জুন সেই নির্দেশ না মানলে নিশ্চিত ছিল পরাজয়।

বলার তাৎপর্য এই যে, ভগবান কখনোই কিছু করে দেবেন না। তিনি সুযোগ করে দেবেন, উদ্বুদ্ধ করবেন, আশীর্বাদ করবেন কিন্তু কর্ম করতে হবে নিজেকেই। আমাদের করণীয় হলো তাঁর আদেশ-নির্দেশ গুলোর সাথে নিজ কর্মের মেলবন্ধন ঘটানো। যেমন করেছিলেন অর্জুন, পঞ্চপাণ্ডব। তাঁরা বোধ করেছিলেন যে জীবনে সেই পরমব্রহ্মের উপস্থিতির মূল্য লক্ষ নারায়ণী সেনার বীরত্বের আস্ফালনের থেকেও অনেক বেশি। আপন কর্ম বিনা তো মুক্তি নাই, তাই স্বধর্মোচিত কর্মকে আদর্শকেন্দ্রিক হয়ে করে যাওয়াই আমাদের কাজ।

কুরুক্ষেত্র বা আপন কর্মক্ষেত্র চিরকালই রণাঙ্গণ। এটি যেন কোনো বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চল নয়। এই মর্ত্যভূমিই হলো কুরুক্ষেত্র। এই বিশ্বের প্রতিটি গৃহ-সমাজ-রাষ্ট্রে, জলে-জঙ্গলে-পাহাড়ে যেকোনো প্রজাতিভুক্ত জীবজগতের তাদের মতন করে কুরুক্ষেত্র রচিত হয়ে আছে। একেই বলা যেতে পারে Struggle For Existence. আবার আমাদের এই মস্তিষ্ক কি কম বড় কুরুক্ষেত্র! প্রতিনিয়ত এই দুই কুরুক্ষেত্রেই সতের সাথে অসতের লড়াই, ধর্মের সাথে অধর্মের লড়াই, অহং-এর সাথে বিনম্রতার লড়াই, জ্ঞানের সাথে অজ্ঞানতার লড়াই, সত্তার সাথে প্রবৃত্তির লড়াই চলতেই থাকে। সারথীও আছেন, তবে তাঁকে আমরা নিজেদের ইচ্ছাধীন করে রাখি। তাই দুর্ভোগের বিরাম নাই, অথচ অজ্ঞতার বিজ্ঞ পরিবেশন করে উদযাপন করি নিজের পরাজয়কেই। কিন্তু জীবনের উদ্দেশ্য তো তাই নয়। "অসংখ্য বন্ধন-মাঝে মহানন্দময় লভিব মুক্তির স্বাদ"---এই হলো জীবনের অন্তর্নিহিত চাহিদা। তার জন্য চাই জীবনরথের সেই সারথীকে পরম অত্যাজ্য আত্মীয় করে তোলা, তাঁর ইচ্ছাধীন হয়ে থাকা। "তিনি যাই বলে দেবেন তাই করতে হবে, বিনা আপত্তিতে, বিনা ওজরে বরং পরম আনন্দে"---এই পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে আসাটাই হলো আপন কুরুক্ষেত্রকে ধর্মক্ষেত্রে পরিণত করা। জয়ী হওয়ার আনন্দও সেখানেই---এই পথে চলাতেই।

অহংকারের দৃষ্টিতে দেখা লক্ষ সেনার বল,
দুর্যোধন তাই চেয়েছিল নারায়ণী সেনার দল।
অস্ত্রের ভরে জয় খোঁজে, ক্ষমতার মোহে অন্ধ,
বোঝেনি সে সারথীবেশে কে মেটায় যত দ্বন্দ্ব!
মথুরা বিজয়ী, দ্বারকাধীশ, পরাক্রমী ভগবান,
কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গণে তাঁর কীই বা অবদান!
সেনাপতি নয়, যোদ্ধাও নয়--রথের সারথী হয়ে,
চিত্রনাট্য আঁকলেন তিনিই ধর্মকে সাথে লয়ে।
অর্জুন শুধু চেয়েছিল তাঁরে, চায়নি অন্য কিছু,
নিরস্ত্র, তবু অত্যাজ্য সখ্যতা হয়নি আগুপিছু।
মহারণের সূচনালগ্নে বিষাদযোগের গ্রাসে
অর্জুন যবে দিশেহারা মোহ-বন্ধনের ফাঁসে;
সারথী রূপে দ্বারকাধীশ কাটান মায়াজাল,
বিশ্বরূপের বিশালতায় পার্থ হলেন চক্ষুষ্মান।
"স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ",
বৃত্তিধাঁধায় পরধর্মো আপন মনে হয় অহরহ।
জীবনরথের যাত্রীকে তাই সারথী নির্ভর হওয়াই চাই,
মোহ-দম্ভের খানাখন্দ কখন যে আসে, ঠিক নাই।
সারথী তিনি, পথ দেখাবেন, লড়তে হবে নিজেকে,
তিনি দেবেন চালিকাশক্তি, ভরসা বোধ-বিবেকে।
আমরা কেবল ভ্রমের মায়ায় আলোর পেছনে ছুটি,
পার্থের মতো পরম স্রষ্টায় সঁপি না হৃদয় লুটি।
জীবনরথের রশি তিনি ধরেই আছেন অলক্ষে
আমরাই শুধু সচেতন নই, হারিয়ে যাই স্ব-পক্ষে।
পরম বান্ধব পরম স্রষ্টার নিঃশব্দ উপস্থিতি
বোধ করাটাই জীবনে ঘটায় স্বধর্মের পরিচিতি।
বহিরঙ্গ ছাপিয়ে যবে ভিতর আলোকিত হবে
মোহ-দর্পের আস্ফালনে আর তো না ভয় রবে।
হোক সে যুদ্ধ কিংবা শান্তি—তিনিই পথপ্রদর্শক,
সারথী রূপে মহারথী তিনি, সাক্ষী-রক্ষী সমার্থক।

🙏বন্দে পুরুষোত্তমম্ 🙏

বর্ষা ঋতুর অন্তর্গত শ্রাবণ মাস হলো আমাদের কাছে অন্যতম পবিত্র মাস। একদিকে যেমন প্রকৃতি সবুজে সেজে ওঠে, সতেজ হয়ে ওঠে গাছপ...
22/07/2026

বর্ষা ঋতুর অন্তর্গত শ্রাবণ মাস হলো আমাদের কাছে অন্যতম পবিত্র মাস। একদিকে যেমন প্রকৃতি সবুজে সেজে ওঠে, সতেজ হয়ে ওঠে গাছপালা ও নদী-নালা; তেমনি অপর দিকে "বোল বম্" বা " হর হর মহাদেব" ধ্বনিতে মুখরিত হয় চারপাশ; আবার শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি যোগে ঘরে-আশ্রমে শুরু হয় মাতৃ সম্মেলন। শ্রাবণ মাস শ্রীশ্রীবড়মার পবিত্র জন্মমাস। সেই উপলক্ষে মূলতঃ দীক্ষিত মায়েরা সারা মাস জুড়ে আয়োজন করেন এই অনুষ্ঠানের। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে মাতৃ সম্মেলনের সাথে আষাঢ় মাসের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, কিংবা মাতৃ সম্মেলনের সূচনা লগ্নের কথা, গৌরবময় অতীতের কথা অনেকেরই অজানা। গর্বে বুক ভরে ওঠা, শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যাওয়া, বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে যাওয়ার মতন কিছু বিবরণ আপন লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন পূজনীয় শ্রী বৌধায়ন চক্রবর্তী দাদা। আপনাদের কাছে সেটা তুলে ধরা হলো। পড়ুন, জানুন, সংগ্রহ করে রাখুন ও অন্যকেও এসবের সুযোগ করে দিন । জয়গুরু ।

************

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবন এবং দর্শন থেকে উদ্ভুত সৎসঙ্গ আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হ'ল মাতৃ সম্মেলন। মাতৃ সম্মেলন কথাটির অর্থ হ'ল মায়েদের মিলন মেলা। মিলন মেলা মানে কিন্তু অন্যান্য অনেক সামাজিক ও ধর্মীয় মেলার মত সমাবেশ বা জমায়েত নয়। শ্রীশ্রীঠাকুরের সমগ্র জীবনদর্শনের মূল কথাই হল "বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা”। "কর, হও, পাও"-- এই হল তাঁর মন্ত্র। একজন কুমারী মেয়ে বা বধূ তার নানাবিধ ভূমিকা পালন করে কীভাবে এককথায় সার্থক নারী হয়ে উঠতে পারবে সেই বিষয়ক ধ্যান-ধারণা ও শিক্ষা দেওয়ার-নেওয়ার সমাবেশ হল মাতৃ সম্মেলন। মাতৃ সম্মেলন শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রবর্তিত প্রকৃত নারী শিক্ষা সঞ্চারণার জন্যই নিবেদিত। তাছাড়াও এই সংসারের নানান ঘাটে জোয়ার ভাটার অমোঘ বিধানে মানুষের মনের কোণে পলি জমে ওঠে স্বাভাবিকভাবে, জমতে জমতে গভীরতাও কমে। মায়েদের ক্ষেত্রে ক্লান্ত অবসন্ন মনকে ঊর্জীতেজা ও ইষ্টপ্রাণ করে রাখাটাও মাতৃ সম্মেলনের অন্যতম উপযোগিতা। মনে পড়ে যাচ্ছে " গল্প হলেও সত্যি" সিনেমার কথা। একজন সৎ ও আদর্শনিষ্ঠ " কাজের লোকের" প্রভাবে কীভাবে এক এলোমেলো পরিবার একগাট্টা হয়ে উঠল! প্রত্যেকে কেমন আপন বৈশিষ্ট্যে বিকশিত হয়ে উঠল! সিনেমাই তো, তবুও কেমন নিজের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত মনে হয় না ? অমন একটা মানুষের অভাব বোধ হয় না ? আসলে এই সব-পেয়েছির-যুগেও মানুষের বুনিয়াদি চাহিদা কিন্তু বদলায়নি। সে এমন সমাবেশ খোঁজেই যেখানে সে সুবিন্যস্ত হয়ে বিকশিত হয়ে উঠতে পারে, শান্তি-স্বস্তির অধিকারী হয়ে উঠতে পারে। মাতৃ সম্মেলনের উদ্দেশ্যও তাইই। এই প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুরের সাথে জনৈকা মায়ের আলাপচারিতার কথা উল্লেখ করা হলো --- "একটি মা কথাপ্রসঙ্গে বললেন---আমার খুব ইচ্ছা করে নিজেদের মধ্যে পরস্পর মেলামেশা, যাতায়াত, আদান-প্রদান খুব থাকে।
শ্রীশ্রীঠাকুর প্রীত হয়ে বললেন---সেই তো ভাল। তাতে শক্তি বাড়ে, ঐক্য হয়, বৈশিষ্ট্য ঠিক থাকে, আত্মীয়তা গজায়। প্রত্যেকে মনে ভাবে যে আমার কেউ আছে। মনের বল বেড়ে যায়। সুখী হওয়ার পথ হলো অপরকে সুখী করা। ঐ নেশা নিয়ে নিরন্তর লেগে পড়ে থাকতে হয়। সহযোগিতা খুব ভাল। দেওয়া--নেওয়া। আমি তোমার জন্য করি, কিন্তু একবাটি কাঁঠালের তরকারি রেঁধেও আমাকে দেওয়ার কথা তোমার মনে পড়ে না, তার মানে আমি এতখানি দুরে আছি তোমার মনের থেকে। ওতে দানা বাঁধে না।... আগে কত বড় বড় পরিবার ছিল। একশ দেড়শ লোকের একান্নবর্তী বিরাট পরিবার ছিল। পরিবারের কর্তাকে কেন্দ্র করে সবাই কেমন সংহত হয়ে থাকত--সকলেই যেন সকলের জন্য--কেমন একটা একগাট্টা ভাব--অন্তহীন প্রাণঢালা দরদ ও মমতা। পরস্পরের সুখশান্তি এবং সংসারের উন্নতির জন্য সকলেই প্রাণের আবেগে করত আর পরিবারের কর্তা যার যথাপ্রয়োজন যোগান দিতেন, যাতে প্রত্যেকেই তার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফুটে উঠতে পারে, সার্থক হতে পারে। একেই বলে Indian Communism (ভারতীয় সাম্যবাদ)।" (আঃ প্রঃ ১৫/২২.২.১৯৪৯)

কী অপূর্ব বাস্তব কথা ! আর শ্রীশ্রীঠাকুরই হলেন এর আদর্শ উদাহরণ। তাঁকে কেন্দ্র করে, তাঁর মনোজ্ঞ চলনে চলে তদানীন্তন গড়ে ওঠা তাঁর বিরাট একান্নবর্তী পরিবার "সৎসঙ্গ"- এর পরিচয় তো এমনই ছিল। সেইসব সোনাঝরা দিনগুলোর বর্ণনা শুনলে বা পড়লেও মন এক অনাবিল আনন্দে ভরে ওঠে। এমন নয় যে তখন অভাব অনটন ছিল না বা দুঃখ কষ্ট ছিল না বা রোগ শোক ছিল না; কিন্তু সেসব ছাপিয়েও তাদের ছিল এক প্রেমঘন দরদী অভিভাবক---যাঁর পোষণদীপ্ত, প্রেরণাপুষ্ট, ব্যথা-উপশমী আচরণ-বাক্য-কর্ম সবার উদ্দেশ্যেই থাকত। নানান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একানুরক্তি, তীব্রতা ও ক্রমাগতি সম্পন্ন চলনে চলে সৌন্দর্য্য ও সার্থকতায় ভরিয়ে তুলতে পেরেছিল নিজের জীবনকে।

শ্রীশ্রীঠাকুরের জ্যেষ্ঠা কন্যা পূজনীয়া সাধনা দেবীর তত্বাবধানে প্রথম মাতৃ সম্মেলন শুরু হয়। তিনি সদদীক্ষা লাভের পর তাঁর পিতাকে কেবল জন্মদাতা হিসেবেই নয়, আপন ইষ্টদেব, আচার্য্য, বিশ্বপিতা রূপেও চিনতে পেরেছিলেন। আশ্রমের কন্যা, বধূ ও মায়েদের নিয়ে তিনি তাঁর ইষ্টপূজার অঙ্গ হিসেবে শুরু করেছিলেন মাতৃ সম্মেলন। মাতা শ্রীশ্রীমনোমোহিনী দেবী ও শ্রীশ্রীবড়মা --- এনাদেরও পূর্ণ সমর্থন দিয়ে শুরু হয় এই মহতী উদ্যোগ। আমরা নাম দেখে অনেকসময় ভূল করি যে এই অনুষ্ঠানটি বুঝি শ্রীশ্রীবড়মার অনুষ্ঠান বা তাঁকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠান। তা কিন্তু নয়, স্বয়ং শ্রীশ্রীবড়মারও তা পছন্দের নয়। শ্রীশ্রীঠাকুরই হলেন সৎসঙ্গের প্রাণপুরুষ, তাঁকে কেন্দ্র করেই যা কিছু সব। মাতৃ সম্মেলনও তাই,--- শ্রীশ্রীঠাকুরকে কেন্দ্র করে মায়েদের, মেয়েদের তাদের মতন করে মেতে থাকা এবং তাতে শ্রীশ্রীবড়মার অবদানও অনস্বীকার্য। পূজনীয়া সাধনা দেবীর পরিচালনায় প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ইষ্টপূজা, প্রার্থনা, নামধ্যান অনুষ্ঠিত হতো। ক্রমে ক্রমে আশ্রমের মেয়েরা একে একে দৈবগুণসম্পন্না হয়ে উঠেছিল। তিনি নিজে নাটক রচনা করতেন, নিজে পরিচালনা করতেন । সৃষ্টি করেছিলেন এক অভিনব সমাবেশ যেখানে পুরুষের প্রবেশাধিকার ছিল না, এমনকি দর্শক হিসেবেও নয়। মেয়েরাই নাটক লিখত, মেয়েরাই অভিনয় করত, মেয়েরাই দেখত। "সংঘমিত্রা" তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক। যদিও আজ তার ঠাঁই হয়েছে ইতিহাসের পাতায়। শ্রীশ্রীঠাকুর একদিন কথাপ্রসঙ্গে বলেছিলেন--- "সাধনার লেখার ধাঁচ আমার লেখার মতো।" এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের প্রশস্তিপত্র আর কী হতে পারে ! তাঁর বিরচিত "ইষ্ট সম্বর্ধনা" পাঠ করলে সত্যিই শ্রীশ্রীঠাকুরের লেখা বলেই মনে হয়। মায়েদের ইষ্টপূজার মন্ত্রস্বরূপ এই লেখাটিতে আবেগমিশ্রিত দিব্য অনুভূতি তথা কৃতজ্ঞতা-কৃতার্থতা ও দায়বদ্ধতার অনুরাগনিবদ্ধ সমর্পণী সুর রয়েছে ছত্রে ছত্রে। শ্রীশ্রীঠাকুর বিরচিত, আমাদের নিত্য করণীয় "প্রার্থনা"(দয়াল আমার প্রভু আমার) ও "অগ্নিহোত্র" তিনি যেন রচনার বহু আগেই উপলব্ধি করেছিলেন সাধনযোগে এবং তারই আহুতি স্বরূপ রচনা করেছিলেন "ইষ্ট সম্বর্ধনা"। কতই না স্বস্তি-তৃপ্তির কারণ হয়েছিলেন তিনি তাঁর প্রিয়পরমের! এছাড়াও গরিব-দুঃখী সৎসঙ্গী ও গ্রামবাসীদের জন্য তিনি গড়ে তুলেছিলেন একটি তহবিল, পুরনো কাপড় এবং যেমন যা জোটে তেমন পয়সা সংগ্রহ করে করে। এই দায়িত্ব তিনি বহন করেছিলেন নিজেই ---নিঃশব্দে, প্রচারবিহীনভাবে। অনেকেই জানেন না যে শ্রীশ্রীঠাকুরের "নারীর নীতি" গ্রন্থে প্রথমেই যে বাণীখানি সংকলিত হয়েছে---"মেয়ে আমার, তোমার সেবা, তোমার চলা, তোমার চিন্তা, তোমার বলা...."--- এটি তাঁরই এই সুযোগ্যা কন্যাকে লেখা একটি চিঠির অংশবিশেষ। এই বাণীর অন্যতম সেরা দৃষ্টান্ত ছিলেন পূজনীয়া সাধনা দেবী। ২৩শে আষাঢ় তাঁর জন্মদিন। মাত্র ২৪ বছর ছিল তাঁর লৌকিক জীবন। অমর হয়ে আছেন ও থাকবেন তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের অতুলনীয়া ভক্ত হিসেবে, একনিষ্ঠ সাধিকা হিসেবে, পরমপিতার তৃপ্তি স্বস্তি ও গর্বের কারণরূপিনী সন্তান হিসেবে। মাতৃ সম্মেলনে "ইষ্ট সম্বর্ধনা" পাঠ করা ছাড়াও, অন্যান্য পূজনীয়া মাতৃবর্গের জীবনবন্দনার সাথে সাথে পূজনীয়া সাধনা দেবীর ইষ্টময় জীবন ও কর্ম নিয়েও কিছু আলোচনা করা উচিত। আলোচনা করা উচিত তৎকালীন সমাজের প্রচলিত প্রথা ও অভ্যস্ত মানসিকতায় আবদ্ধ নারীজীবনে যে সার্থক শিক্ষার সঞ্চার করেছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর, তা নিয়ে। আশ্রমের মেয়েদের, মায়েদের, গৃহবধূদের সর্বতোভাবে শিক্ষিত, দক্ষ ও যোগ্য করে তোলার জন্য তিনি যে কত কিছুর আয়োজন করেছিলেন এবং ঘর-সংসার থেকে শুরু করে সমাজের বৃহত্তর প্রাঙ্গণ পর্য্যন্ত তাদের বৈশিষ্ট্যানুগ কর্মধারা যেন সহজেই শ্রদ্ধা-সম্ভ্রমমন্ডিত হয়ে থাকে---তাঁর এমন বৈপ্লবিক চিন্তাধারার কথাও আলোচনা করা উচিত, যাতে গৌরবময় সেই অধ্যায়গুলো মানুষ জানতে পারে। এসব আলোচনা সকলেরই, বিশেষতঃ অনেক নবীনাদের প্রেরণাস্রোত হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে।
মাতৃ সম্মেলন মানে কেবলমাত্র সঙ্গীতানুষ্ঠান নয়, আপন ঘর সংসার দায়িত্ব ফেলে ছুটে যাওয়ার নির্দেশ নয়, অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার ক্ষেত্র নয়, আপন ঐতিহ্য-কূলাচার ভূলে যাওয়া নয়, আর মাতৃ সম্মেলন কেবল এক মাসেরও নয়। শুধু মাতৃ সম্মেলন কেন---ইষ্টকেন্দ্রিক কোনো অনুষ্ঠানই এমন এমন নয়, হওয়া উচিত নয়। মায়েদের দ্বারা ও মায়েদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত পবিত্র এই সমাবেশের সাথে জড়িয়ে আছে মাতা শ্রীশ্রী মনোমোহিনী দেবী, শ্রীশ্রীবড়মা, পূজনীয়া সাধনা দেবী ও আরও অনেক প্রণম্য মাতৃবর্গের নাম। প্রাণপুরুষ হিসেবে রয়েছেন শ্রীশ্রীঠাকুর। ধরেই নি যেন, এখনও প্রতিটি মাতৃ সম্মেলনে এনাদের দিব্য উপস্থিতি ঘটে। তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা ও তৃপ্তি স্বস্তি বিধান করাই আমাদের উন্নতির সোপান।

বন্দে আর্য্যপিতৃন্ 🙏 বন্দে মাতৃবর্গান্ 🙏 বন্দেহং কৃষ্টি দৈবতান্ 🙏

🙏বন্দে পুরুষোত্তমম্ 🙏

~~তথ্যসূত্র~~
* দয়াল আমার প্রভু আমার -- অনুশ্রুতি ৩ (প্রার্থনা)
* অগ্নিহোত্র -- ধৃতি বিধায়না ১ম, ১৫ নং বাণী
* শ্রীঅনুকূল চরিতামৃত -- শ্রী ব্রজগোপাল দত্তরায়
* শ্রীমৎ আচার্য্য সতীশচন্দ্র গোস্বামী ও সৎসঙ্গ আন্দোলন -- শ্রী সচ্চিদানন্দ গোস্বামী
* সৎসঙ্গের মাতৃ-সম্মেলন -- শ্রী বাসুদেব গোস্বামী
* স্মৃতিকথা -- শ্রীমতী কমলা বিশ্বাস

এছাড়াও আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি social media-র সেইসব profile/page-এর প্রতি, যাদের তথ্যনিষ্ঠ পরিবেশনা সম্বৃদ্ধ করেছে আমাদের ।

বিগত কয়েক বৎসর যাবৎ দেখা যায় যে বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে পবিত্র রথযাত্রা , প্রভু জগন্নাথ কে নিয়ে ...
16/07/2026

বিগত কয়েক বৎসর যাবৎ দেখা যায় যে বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে পবিত্র রথযাত্রা , প্রভু জগন্নাথ কে নিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের একটি বানী কে নিয়ে বিকৃত করে ভুল ব্যাখ্যা তৎসহ সম্পূর্ণ ভুল ধারণা পরিবেশন করা হয়। যা শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাবধারার অপ প্রচার করা হয় থাকে।
সেই ধারণার পরিপূরক ব্যাখ্যা শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রপৌত্র
পূজনীয় শ্রী বৌধায়ন চক্রবর্ত্তী মহাশয় ব্যাখা করলেন যা আপনাদের সকলের সামনে উপস্থাপন করা হল।

"প্রভু জগন্নাথের সবচেয়ে বিখ্যাত উৎসবটি হল রথযাত্রা। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা শুরু হয়। শ্রীক্ষেত্র পুরীতে এই উৎসবের সময় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি মূল মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বের করে এনে কাঠের তৈরি তিনটি বিরাট রথে করে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে গুণ্ডিচা মায়ের মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভক্তরাই এই রথগুলি টেনে নিয়ে যান। পুরী ছাড়াও যেখানেই জগন্নাথ মন্দির আছে, সেখানেই এই বিশেষ দিনে এই ধরনের রথযাত্রা আয়োজিত হয়।

রথযাত্রা কেবল কাঠের রথ টানা নয়, এটি হলো নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার উৎসব। আমাদের শরীরটি হলো রথ। এতে পাঁচটি ইন্দ্রিয় হলো পাঁচটি ঘোড়া, আর বুদ্ধি হলো সারথি। যদি সদগুরু বা আদর্শের নির্দেশ মেনে আচরণশীল হয়ে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবেই জীবন সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়। আমাদের যেকোনো ধর্মীয় উৎসবেই সেই চিরন্তন সুগভীর অন্তর্লীন বার্তা থাকে -- "অসতো মা সদ্গময়। তমসো মা জ্যোতির্গময়। মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়।"

অনুষ্ঠানের মহড়ায় আমরা স্বভাবগত কারণে ভুলে যাই যেকোনো উৎসবের মূল উদ্দেশ্যটি। রথযাত্রাও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই যুগে যুগে পুরুষোত্তম যখন আসেন এবং ধর্মের, অনুষ্ঠানের মূল স্বরূপ দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে যান-- তখন আমরা উদ্দেশ্যটি বুঝতে পারি, এবং প্রকৃত লাভবান হতে পারি।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দৃষ্টিতে যখন প্রভু জগন্নাথকে দেখি তখন জানতে পারি যে---" ...জগন্নাথের হাত নেই। জগন্নাথ জনে জনে হাত বিলিয়ে নিজে হাতহীন হয়ে বসে আছেন। আমাদের উপর তাঁর কোনো হাত নেই। কিন্তু যেই আমরা তাঁকে আমাদের হাত দুখানি দিয়ে নিবিড়ভাবে আঁকড়ে ধরবো, অমনি আমরা তাঁর হাতে চলে যাব। তখন তাঁর ইচ্ছায় আমরা চালিত করব নিজেদের। এমনি করেই আমরা সেই মঙ্গলের অধিকারী হবো যে মঙ্গল তিনি আমাদের দিতে চান। " তাঁকে আমাদের হাত দুখানি দিয়ে আঁকড়ে ধরাটাই তো হয়না বা কেউ বলেও দেয় না। পুরোহিত বা পান্ডারা ভরসা দেন শ্রীবিগ্রহ দর্শন বা পবিত্র রথের দড়ি ধরলেও নিশ্চিত মুক্তি, কর্মফলখণ্ডন। কিন্তু কোথায় আর মেলে মুক্তি ! কর্ম নিয়ন্ত্রণ না করে আজ অবধি কারুর কর্মফলখণ্ডন হয়েছে যে এক্ষেত্রে হবে ! সারাবছর যদি নিজের বৃত্তিপূজার উপাসক হয়েই থাকি, তাহলে একদিন প্রভু জগন্নাথ দর্শন ও তাঁর পবিত্র রথযাত্রা থেকে আমরা " রথ দেখা ও কলা বেচা (সমুদ্র দেখা, চান করা)" এবং পাঁপড়ভাজা এটুকু প্রাপ্তিরই যোগ্যতা লাভ করতে পারি। আমাদের এই মানসিকতা দেখে শ্রীশ্রীঠাকুর কালীষষ্ঠীমা কে উদ্দেশ্য করে আমাদের সকলের জন্যই তিনি এক সরস ও ইঙ্গিতপূর্ণ বাণী প্রদান করেন ---"জীবননাথকে হেলায় ফেলে/ জগন্নাথকে দেখতে গেলি,/ জীবননাথই যে জগন্নাথ/ অহংকারে না দেখতে পেলি।"

এই বাণীটির অর্থ কখনোই এমন নয় যে জগন্নাথ দর্শন বা তাঁর কোনো উৎসবে যোগদান বা পালন অর্থহীন। বরং তাঁকে আরও নিবিড়ভাবে আঁকড়ে ধরার অন্তর্নিহিত তত্ত্ব লুকিয়ে আছে বাণীটিতে। গুরুত্যাগের ঘৃণ্য কথা বা ঐতিহ্য-কূলাচার-রীতিনীতির অবজ্ঞা করার কথা কখনোই পুরুষোত্তমের আচরণের মধ্যে পড়ে না। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন -- "যে আচরণ বাক্য কর্ম/ বাঁচা-বাড়ার উৎস হয়,/ তাকেই জানিস ধর্ম বলে/ নইলে ধর্ম কিছুই নয়"। বাক্য কর্ম আচরণ এসবগুলির মাধ্যমে যখন কারুর স্ব-পারিপার্শিক বাঁচা-বাড়া অক্ষুণ্ন থাকে তখনই সে জীবননাথের প্রকৃত উপাসক। এই উপাসকই জগন্নাথকে পেলে নিজের দুহাত দিয়ে আঁকড়ে ধরতেই চায়, নিজেকে সঁপে দিতে চায়। " তুমি করে দাও চাই না আমি/ তোমায় ভালোবাসি বলে,/ হৃদয় উতল ভালোবাসা/ তোমার পায়ে পড়ুক ঢলে" --- এটাই তো তাঁর হাতে চলে যাওয়া, তাঁর ইচ্ছায় নিজেকে চালিত করা; তাঁকে নিজের বৃত্তির, অহং-এর খোরাক করতে না চেয়ে, বরং তাঁর তৃপ্তি স্বস্তি পোষণের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠা; জীবননাথকেই চিনতে পারা জগন্নাথ রূপে। অনুভবে আসে তখন --- " মন্নাথ শ্রী জগন্নাথ, মদগুরু শ্রী জগৎগুরু, মদাত্মা সর্বভূতাত্মা, তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ"। কিংবা " শ্রীনাথে জানকিনাথে অভেদ পরমাত্মনি..."। বেষ্টি থেকেই না সমষ্টি, এককোষী থেকেই না বহুকোষী। তাই বিশ্বাসের সিংহাসনে ভক্তিকে বসিয়ে হৃদয়ে ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠিত করাই হলো জীবননাথের আরাধনা করা। তাতে জগন্নাথ এসেই পড়েন স্বমহিমায়।

জয় জগন্নাথ ।"

বন্দে পুরুষোত্তমম্ ।

আজ এমন একজন মানুষের জন্মদিন, সৎসঙ্গ জগতের বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি আড়ালে থেকে গেছেন।অবশ্য সে আড়াল করে রাখার ফলেও খুব ...
11/07/2026

আজ এমন একজন মানুষের জন্মদিন, সৎসঙ্গ জগতের বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি আড়ালে থেকে গেছেন।
অবশ্য সে আড়াল করে রাখার ফলেও খুব একটা প্রভাব হয় না।
এটাই বোধ হয় পার্থক্য হীরক ও কাঁচ পাথরের।
তিনি আর কেউ নন পরম প্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের মধ্যম আত্মজ পূজ্যপাদ ছোড় দা,(শ্রী বিবেক রঞ্জন চক্রবর্তী)।
শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁকে আদরের সঙ্গে 'মণি' নামেই ডাকতেন।
সকলের কাছে তিনি পূজনীয় ছোড়দা নামেই পরিচিত।
তাঁর এই ১১২তম পুণ্য জন্মলগ্নে সশ্রদ্ধ প্রণাম ও শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাই।
শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী নির্দেশাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করা ও অবিকৃত ভাবে তাঁর ভাবধারা কে সকলের মধ্যে প্রচার ও প্রসার করা একমাত্র লক্ষ্য ছিল।
শ্রীশ্রীঠাকুরের এই বাণী ও নির্দেশাবলী অবিকৃত ভাবে পালনের জন্য কম বঞ্চনা সহ্য করতে হয়নি।
তবুও তিনি তাঁর লোহার মতন কঠিন প্রত্যয়ে অবিচল ছিলেন। কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতিও তাঁকে টলাতে পারেনি এক মুহূর্তের জন্য।
বর্তমানে ঠাকুর-বাংলোয় মেমোরিয়া যে বিল্ডিং এ হয়েছে সেই বিল্ডিং এর দোতলায় পূজ্যপাদ ছোড়দা তাঁর পরিবার নিয়ে থাকতেন।
পরবর্তীতে "বিবেক বিতান" এ চলে আসেন।
বিবেক বিতান তৈরি হওয়ার সময় শ্রীশ্রীঠাকুর প্রায়ই আসতেন এখানে দেখতেন কাজকর্ম।
প্রতিদিন বিকেলে পূজ্যপাদ ছোড়দা রঙ্গনভিলার একটি ঘরে বসতেন, কথা বলতেন, নাট্যাভ্যাস করতেন।
জায়গাটির নাম দিয়েছিলেন " বানী মন্দির"।
শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছা পুরণার্থে পূজ্যপাদ ছোড়দা দৈনিক পত্রিকা বের করার পরিকল্পনা প্রথমে সাপ্তাহিক পত্রিকা " ধৃতিদীপা" বের করার ব্যবস্থা করেছিলেন। কলকাতা থেকে এই পত্রিকা বের হত।
পরবর্তীতে একটি যাত্রা দল তৈরি করেছিলেন তার নামও দেওয়া হয়েছিল " ধৃতিশ্রী নাট্যশিল্পম্"।
মহিলা বর্জ্জিত এই যাত্রাদল সে সময় খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।
শ্রীশ্রীঠাকুরকে কি ভাবে তৃপ্ত করা যায়, কি ভাবে সাপ্তাহিক পত্রিকা কে দৈনিকে উন্নিত করা যায় এইসব চিন্তায় তিনি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
শ্রীশ্রীঠাকুর থেকে উদ্ভূত যে সৎসঙ্গ সংগঠন তার কর্ম্মকর্ত্তাদের সে রকম একটা উৎসাহ এই পত্রিকা বা যাত্রা দল যা শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাবধারা বৃহৎ পরিবেশের মধ্যে সঞ্চারিত করার একটা মুখ্য মাধ্যম- তাকে বলিষ্ঠভাবে দাঁড় করানোর ব্যাপারে সে রকম ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি কোনও অজ্ঞাত কারণেই।
নিজের এবং নিজের পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে তাঁর অগ্রজ পূজ্যপাদ বড়দাদার প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা ও ভরসা ছিল, শ্রদ্ধা ছিল।
যে কারণে কোনও এক সময় মিথ্যা মামলায় পূজ্যপাদ বড়দাদার সাথে জোরকরে জেলে যান।
সেখানে তিনি তাঁর অগ্রজ দাদার যথেষ্ট শুশ্রূষা করেন।এরকমই তিনি ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন তাঁর অগ্রজকে।
কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাপ্রয়াণের পর সৎসঙ্গ পরিবারের পুরো ছবিটাই পাল্টে গেল।
সমবেত প্রার্থনা কেমন ভাবে করতে হবে, ইষ্টভৃতি কখন কিভাবে করতে হবে, মন্ত্র কি হবে।
কোথায় কাকে কিভাবে পাঠাতে হবে, দীক্ষা কেমন হবে? কেমন ভাবে দিতে হবে। , ঋত্বিকদের চরিত্র কেমন হবে তা শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর জীবদ্দশায় বই ছাপিয়ে প্রকাশ করে গেছেন।
তাঁর সবই লেখা আছে ছড়ায় ও গদ্যে।
শ্রীশ্রীঠাকুর যখনই তাঁর বইএর প্রকাশিত হত।
অনেককেই সই করে সেগুলি দিতেন।
পূজ্যপাদ ছোড়দাকেও এই ভাবে বই গুলি দিতেন।
শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাপ্রয়ানের পর যখন তাঁর নির্দ্দেশ গুলি নানারকম ভাবে বিকৃত করা শুরু হলো, তিনি বজ্রকণ্ঠে সেগুলোর প্রতিবাদ করা শুরু করলেন। সে কারণে তাঁকে প্রচণ্ড অপমান, নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন সপরিবার অভুক্ত অবস্থায় তাঁকে কাটাতে হয়েছে।
তবুও তিনি দমে যাননি, অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নি।
শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী গুলির সংকলিত কিছু মূল্যবান বই বা জীবনে চলার চাবিকাঠি বের করেন বই আকারে
" ইষ্টপ্রোক্ত"," দিব্য বাণী", "পথ নির্দ্দেশ" ইত্যাদি।
সৎসঙ্গ জগতের লৌহমানব যদি কেউ থাকেন তিনি আমাদের সকলের প্রিয় পূজ্যপাদ ছোড়দা, যাঁর দৌলতে শ্রীশ্রীঠাকুরের অবিকৃত ধারার তৃপ্তির স্বাদ আস্বাদন করে চলেছি আমরা।
তথ্য সূত্র :-"বিবেক জ্যোতি"।

সদ্য প্রকাশিত হওয়া  বিশেষ পুস্তক "যাজক - সাথী" সম্পর্কে পূজ্যপাদ শ্রী বিদ্যুৎরঞ্জন চক্রবর্ত্তী মহোদয়ের বিশেষ বার্তা"শ্...
19/04/2026

সদ্য প্রকাশিত হওয়া বিশেষ পুস্তক "যাজক - সাথী" সম্পর্কে
পূজ্যপাদ শ্রী বিদ্যুৎরঞ্জন চক্রবর্ত্তী মহোদয়ের বিশেষ বার্তা

"শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাঁর অনূভূত ও অনুসৃত ধৰ্ম্মাদর্শকে বৃহত্তর পরিবেশে সঞ্চারিত করে মানুষের সব্বাঙ্গীন বিকাশ ও কল্যাণের জন্য যাজক- অধ্বর্য্যু এবং ঋত্বিকের পদ সৃষ্টি করেছেন। নামে পৃথক হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলি সাধারণতঃ একটা জীবনেরই ক্রম পরিণতি- ইষ্টানুগ উৎকর্ষতার দিকে। ইষ্টনিষ্ঠ যাজক-অধ্বর্য্যু অচ্যুত ইষ্টানুরাগ-উচ্ছল সাধনশীল সেবাপ্রাণ ইষ্টপ্রতিষ্ঠ কর্মময় প্রেমী-জীবনের দৃঢ় ভিত্তির উপরই শ্রীশ্রীঠাকুর-আকাঙ্ক্ষিত ঋত্বিকতার স্বর্ণসৌধ গড়ে ওঠা সম্ভব। কারণ, সৎসঞ্চারণার যা-কিছুই করা যাক না কেন তার জন্য লাগে চরিত্র। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন-চরিত্রই চারায়।

এই সংকলনে শ্রীশ্রীঠাকুরের ছড়াবাণীর বই অনুশ্রুতি ১ম খন্ড থেকে যাজক, অধ্বর্য্যু ও কর্মীর সংজ্ঞা নির্ধারক কটি বাণী সংকলিত হয়েছে।

অবশিষ্ট সবই শ্রী প্রফুল্ল কুমার দাস সংকলিত আলোচনা প্রসঙ্গে-র প্রথম খন্ড থেকে দশম খন্ড পর্যন্ত থেকে যাজক- অধ্বর্য্যুদের প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুরের বলা নানা নীতিনিৰ্দ্দেশ সংকলিত হয়েছে। অন্য প্রসঙ্গে বলা যাজক-অধ্বর্য্যর জীবন-চলনার উপযোগী শ্রীশ্রীঠাকুরের অনেক নীতিনিৰ্দ্দেশও সঙ্কলিত হয়েছে। প্রসঙ্গ যাজক- অধ্বর্য্যু হলেও ঋত্বিক-প্রসঙ্গও এতে কিছু কিছু এসে গেছে।

"যাজক-সাথী" শ্রীশ্রীঠাকুরের সর্ব্বসমস্যা সমাধানী অমিয় ভাবধারার সঞ্চারক যাজক-অধ্বর্য্যর শ্রীশ্রীঠাকুর-ঈপ্সিত ইষ্টময় চরিত্র নির্মাণে কিছুমাত্র সহায়ক হলে এই সঙ্কলন সার্থক হবে।"

18/04/2026

Address

Bibek Path
Deoghar
814116

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Chhayapoth - Milkyway posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category