22/09/2025
চেরাগের নিচে অন্ধকার। এটা অস্বাভাবিক নয়। প্রত্যেক বাতির নিচে তার নিজস্ব আলো পড়ে না।
যে গ্রামে মাদ্রাসা---আবার দু-দুটো মাদ্রাসা---সে গ্রামের ছেলে সেখানে পড়ে না। মাদ্রাসার সভাপতি, সম্পাদক ও অন্যান্য পরিচালকবৃন্দের কোন ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে না। মাদ্রাসার মুদার্রিস বা আলেমের ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে না!
মসজিদের মতোয়াল্লি নামায পড়ে না।
কোন আলেমের ঘরে জালেম, হাজীর ঘরে বেনামাযী থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তার দুই অবস্থা হতে পারেঃ-
হয় আলেম সাহেব তাঁর ছত্রছায়ায় থাকা লোকজনদেরকে আলো দেননি বা দেবার চেষ্টা করেননি।
না হয় তিনি চেষ্টা তো করেছেন, কিন্তু অধীনস্থ লোকেরা তা গ্রহণ করেনি।
সুতরাং সর্বাবস্থায় শিক্ষিতদের পরিবারের লোককে অশিক্ষিত বা অসভ্য দেখে তাঁদেরকে 'চেরাগ তলে অন্ধকার' বলে কটাক্ষ করা জ্ঞানীর কাজ নয়।
অনেক মানুষের কাছে 'ঘরের কনে পোঁটা-লাগা' হতে পারে। অথবা বাইরের কোন মন্দ পরিবেশের প্রতিক্রিয়ায় ঘরের আলোকে অনীহা করে। ফলে ঘরের ওয়ায শোনে না, ঘরের বই পড়ে না। যেহেতু তারা বাইরের প্রতিভায় মুগ্ধ। সুতরাং তাদের নিকট 'ঘরকা মুরগা দাল (ডাল) বরাবর।'
কারো স্ত্রী যদি অন্ধকারে থাকে, তাহলে তার দোষ নাও থাকতে পারে। যেমন নূহ ও লূত নবী (আলাইহিমাস সালাম)এর স্ত্রীগণ প্রদীপের নিচে থেকেও অন্ধকারে ছিলেন।
নূহ নবীর এক সন্তানও চেরাগ তলে অন্ধকারে থেকে গিয়েছিলেন।
ইব্রাহীম নবীর পিতা অনুরূপ চেরাগ তলে অন্ধকারে ছিলেন।
শেষ নবীর চাচাও চেরাগ তলে অন্ধকারে ছিলেন। জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও ইসলামের আলো দেখাতে পারেননি। (স্বাল্লাল্লাহু আলাহিম অসাল্লাম।)
এ সবই সুমহান আল্লাহর ইচ্ছা। তাঁদের চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না। সুতরাং কাউকে 'আগে ঘর সামলাও, তারপর পরকে বলতে এস' বলে যুক্তি খাড়া করা প্রদীপের আলোকে এড়িয়ে চলা বৈ কিছু নয়।
পক্ষান্তরে যাঁরা ঘর-সংশোধনের কোন চেষ্টাই করেন না, তাঁদের কথা আলাদা। তাঁরা তাঁদের জবাবদিহিতার জন্য অবশ্যই প্রস্তুত থাকবেন।
মহান আল্লাহর সতর্কবাণী,
ৎوَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَঃ (২১৪) سورة الشعراء
“তোমার নিকটতম স্বজনবর্গকে তুমি সতর্ক ক'রে দাও।” (শুআ'রাঃ ২১৪)
(মানবের উপমান অমানব)
আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী