Antaheen Motivation

Antaheen Motivation

Share

Inspire, Empower, Succeed

14/05/2026

রাজেশ (৪৬) আর সুমন (৪৪), হরিয়ানার পানিপথ জেলার নারা গ্রামের বাসিন্দা। বয়সে তেমন বুড়োও না, কিন্তু ঘরের ভেতরের অশান্তি তাদের আর টিকতে দেয়নি।

ছেলে আশিষ আর পুত্রবধূ স্নেহার আলাপ হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় দুই বছর প্রেম করার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই ঘরে শুরু হয় অশান্তি।

স্নেহা দিল্লির মেয়ে, আধুনিক পরিবারে বড় হয়েছে। গ্রামের পরিবেশে মিশে যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই ছিল না তার। শাশুড়ি-শ্বশুর চাইতেন সে শাড়ি বা সালোয়ার পরুক, ইনস্টাগ্রাম রিলস বানানো বন্ধ করুক। স্নেহা সেসব মানতে রাজি ছিল না। এই নিয়েই রোজ ঝগড়া, রোজ চেঁচামেচি। পরিবারের লোকজন আরও অভিযোগ করেছে যে স্নেহা সুমনকে মারধোরও করত। আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল এটাই যে, ছেলে আশিষ সবসময় বাবা-মায়ের বদলে বউয়ের পক্ষ নিত।

শনিবারের আগের দিন, মানে শুক্রবার আরেকটা বড় ঝগড়া হয়। তারপর দিল্লি থেকে স্নেহার বাপের বাড়ির লোকজন এসে রাজেশ আর সুমনের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। শনিবার বিকেলে আবার ঝামেলা বাধে, আর তারপরেই রাজেশ আর সুমন সালফাস বিষ খেয়ে নেন। পরিবার তাদের আগে একটা প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখান থেকে পানিপথ সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সুমন সেখানে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। রাজেশকে রোহতকের পিজিআইএমএসে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু রবিবার ভোরেই সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

রাজেশের ভাই রমেশের অভিযোগের ভিত্তিতে মাতলোডা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। স্নেহা, তার মা, বাবা আর বোনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারায় কেস রেজিস্টার করা হয়েছে। পোস্টমর্টেমের পর দেহ পরিবারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে।

14/05/2026

রিনা কিরার, মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুর জেলার বাসিন্দা। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়েছিল রাজস্থানের বীরু জাটের সাথে।

রিনা রিলস বানাত আর ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে আপলোড করত। বীরু তার রিলসে লাইক আর কমেন্ট করত, এইভাবেই দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। একসময় সেই বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিনা তার ছোটবেলার প্রেমিক, তারই মামাতো ভাই অরুণ প্যাটেলের সাথে মিলে বীরুকে খুন করে বলে অভিযোগ।

বীরু জাট রিনার বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া শুরু করে। এতে রিনার ছোটবেলার প্রেম অরুণ অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এরপর রিনা আর অরুণ মিলে বীরুকে খুন করার ফন্দি আঁটে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রিনা বীরুকে ডেকে পাঠায় নরসিংহপুর জেলার সাইখেদা গ্রামে তার বাড়িতে। বীরুর বাড়ি থেকে সেই জায়গাটা প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে। রিপোর্ট বলছে, বীরু ২৯ এপ্রিল রিনার বাড়িতে পৌঁছায়।
সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে বসেছিল রিনার প্রেমিক অরুণ প্যাটেল আর তার বন্ধু হরনাম কিরার।

বীরু পৌঁছানো মাত্রই তিনজন মিলে তার মাথায় বেসবল ব্যাট দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। ফলে সেখানেই বীরুর মৃত্যু হয়।

খুন করার পর তিনজন মিলে বীরুর লাশ একটা XUV700 গাড়ির ডিকিতে ভরে রায়সেন জেলায় নিয়ে যায়। তারপর সিরকারা সেতুর কাছে নাগিন মোড়ের একটা ৪০ ফুট গভীর খাদে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

৭ মে বীরু জাটের পচাগলা লাশ সেখানে পাওয়া যায়। রায়সেন পুলিশ তদন্ত শুরু করে। লাশের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে পরিচয় করানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবশেষে একটি বাচ্চার হোমওয়ার্ক কপির সূত্র ধরে আসামীদের কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়।

জানা গেছে, বিয়ের পরও রিনা তার স্বামীর থেকে আলাদা থাকত। দীর্ঘদিন ধরে অরুণ পাটেলের সাথে তার সম্পর্ক ছিল, যে কিনা তার মায়ের দিকের মামাতো ভাই। আর ভাই হওয়ার কারণে তাদের বিয়ে হয় নি কিন্তু অরুণ রিনার জীবনে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারত না।

রিনা বেশ বিলাসবহুল জীবন কাটাত, আর সেই খরচ অরুণই জোগাত। XUV700 গাড়ি থেকে শুরু করে সোনার গয়না, আইফোন সব কিছুই অরুণ কিনে দিয়েছিল। আর এই কথাটি বীরু জানতে পারে।

এ নিয়ে একদিন বীরু, অরুণ আর রিনার মাঝে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় এবং বীরু ভাইয়ের সাথে রিনার এই সম্পর্কের কথা রটিয়ে দেবে বলে রিনাকে ভয় দেখায়। আর সেই ভয় থেকেই এই খুনের পরিকল্পনা।

ধরা এড়াতে অভিযুক্তরা বারবার জায়গা বদলাতে থাকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ ইতিমধ্যে খুনে ব্যবহৃত বেসবল ব্যাট, লাশ ফেলতে যাওয়া গাড়ি আর বেশ কয়েকটা মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

14/05/2026

দিল্লির পিতামপুরা আর কেশব পুরম এলাকায় কিছুদিন ধরে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল। এক রহস্যময় লোক - Mystery Man, এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে ঘুরে হামলা চালাত আর ডাকাতি করত। সেই লোকটার নাম অজয় বাগ্গা। ১৩ মে ২০২৬ তারিখে দিল্লি পুলিশ তাকে অবশেষে গ্রেফতার করে।

অজয় বাগ্গার কাজের ধরনটা ছিল একদম ঠান্ডা মাথার। সে কখনো এসি মেকানিক, কখনো বা অন্য কোনো মেরামতের লোক, আবার কখনো ডেলিভারি বয় সেজে বাড়ির দরজায় টোকা দিত।

দরজা খুললেই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করত, আর সুযোগ পেলেই লুট করত বা হামলা চালাত। সে বিশেষভাবে সেই বাড়িগুলোকে টার্গেট করত যেখানে মহিলা, বয়স্ক মানুষ বা বাচ্চারা একা থাকত।

সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হল, সে সবসময় একটা ব্যাগ নিয়ে ঘুরত। আর সেই ব্যাগের ভেতরে থাকত বঁটি আর অন্যান্য ধারালো অস্ত্র। একাধিক ঘটনায় সে ঐ অস্ত্র ব্যবহারও করেছে।

এলাকার সিসিটিভিতে বেশ কয়েকবার তাকে ধরা পড়তে দেখা গিয়েছিল, আর সেই ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর গোটা এলাকায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল ফুটেজ দেখেই পুলিশ নড়েচড়ে বসে। নর্থ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার আকাঙ্ক্ষা যাদবের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকটি টিম মাঠে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ আর টেকনিক্যাল সার্ভেইল্যান্সের সাহায্যে অজয় বাগ্গাকে ট্র্যাক করা হয় এবং শেষমেশ গ্রেফতার করা হয়।

এখন পুলিশ তাকে জেরা করছে, কারণ দিল্লির আর কতগুলো ঘটনায় সে জড়িত, সেটা এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে!

13/05/2026

পাঞ্জাবের লুধিয়ানা থেকে এমন একটা গল্প মিডিয়ায় এসেছে যা দেখে অনেকেই ইমোশনাল হয়ে গেছেন। একজন মহিলাকে তার দুই ভাই মিলে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার একটা তৈরি বাড়ি সারপ্রাইজ গিফট হিসেবে দিলেন। বোন এই খবর জানতে পেরে দুই ভাইকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কান্না করেন।

দুই ভাইয়ের নাম অমর আর দেব দেবগান। বোনের নাম মনপ্রীত কৌর বির্দি। জানা গেছে, ২০০৭ সালে মনপ্রীতদের বাবা মারা যাওয়ার পর মনপ্রীত গোটা পরিবারকে একা আগলে রেখেছিলেন। সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই দুই ভাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো প্ল্যান তৈরি হয়েছিল প্রায় পাঁচ বছর আগে। ভাইয়েরা বলেছে, এটা শুধু একটা বাড়ি নয়, এটা তাদের বোনকে আশ্বস্ত করার একরকম উপায় যে, সে চিরকাল তাদের সবসময় ভালোবাসায় ও নিরাপত্তায় থাকবে।

একটা পারিবারিক পুজো-অনুষ্ঠানের পর এই চমকটা দেওয়া হয়। ঢোলের বাদ্যি আর উৎসবের মেজাজে গোটা পরিবার মনপ্রীতকে নিয়ে যান লুধিয়ানার কোট মঙ্গল সিং এলাকায় নতুন বানানো ১৭৫ গজের একটা বাড়ির সামনে। দরজার পাশে যে নামফলক লাগানো ছিল, সেটা কাগজ দিয়ে ঢাকা ছিল। ভাইরা সেই কাগজ সরাতেই দেখা গেল মনপ্রীতের নাম লেখা। মুহূর্তের মধ্যে সবটা বুঝতে পেরে বোন কাঁদতে কাঁদতে দুই ভাইকে জড়িয়ে ধরেন।

গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে ১৩ জুন, অর্থাৎ মনপ্রীতের জন্মদিনের দিন। মূলত এই দিনটিকে আরও বিশেষ করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই হাজার হাজার মানুষ মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকে বলেছেন, চোখে জল এসে গেছে, কেউ কেউ লিখেছেন এটা পারিবারিক ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক দারুণ উদাহরণ। একজন লিখেছেন,

"প্রত্যেক বোন চাইবে এরকম ভাই।"

আরেকজন বলেছেন,

"আজকের দিনে এমন সম্পর্ক খুব কম দেখা যায়।"

13/05/2026

কেদারনাথ তীর্থযাত্রা সেরে বাড়ি ফেরার পথে দেহরাদুন-গাজিয়াবাদ নন্দা দেবী এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন সদ্য বিবাহিত এক মহিলা। কিন্তু সেই শান্তির যাত্রা হঠাৎ রহস্যে ঘেরা হয়ে যায়, কারণ তিনি ট্রেন থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যান এবং টানা ছয় দিন তার কোনো খোঁজই পাওয়া যাচ্ছিল না।

মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছে প্রজ্ঞা সিংয়ের। স্বামী মনীশের সাথে কেদারনাথ দর্শন করে ফিরছিলেন। রাত ১২ নাগাদ হঠাৎ তিনি উধাও হয়ে যান ট্রেন থেকে। এরপর শুরু হয় পুলিশের তোলপাড় তদন্ত, যেটা শেষপর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায় বিহার অবধি।

স্বামী মনীশ ভয় পেয়ে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেন। তারপর শুরু হয় স্টেশনে স্টেশনে, কামরায় কামরায় তল্লাশি। শেষে তদন্তকারীরা কয়েকশো কিলোমিটার দূরে বিহারের বেগুসরাইতে গিয়ে পৌঁছান।

পুলিশের অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে,

"প্রজ্ঞা জানিয়েছেন যে লক্সর রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি এসে তিনি নিজের ফোন থেকে সিম কার্ড খুলে ছুঁড়ে ফেলে দেন। গাজিয়াবাদে নেমে আরেকটা ট্রেনে উঠে সোজা পাটনায় চলে যান, সেখানে তার কিছু পরিচিতরা থাকেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তাঁর সাথে কোনো অপরাধ বা অন্যায় কিছুই হয়নি, সব কিছু তিনি নিজের ইচ্ছায় করেছেন।"

ছয় দিন পর প্রজ্ঞাকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। এখন তিনি নিজেই জানিয়েছেন কীভাবে এই ঘটনা ঘটল।

লক্সর এলাকার এসপি শেখর চন্দ্র সুয়াল জানিয়েছেন, ট্রেনে চলাকালীন দম্পতির মাঝে ঝগড়া বেঁধে যায়। সেই রাগেই প্রজ্ঞা সুযোগ বুঝে স্বামী ঘুমিয়ে পড়লে চুপচাপ ট্রেন থেকে নেমে পড়েন এবং অন্য একটা ট্রেনে উঠে বসেন।

পুলিশ বলছে, তিনি বিনা টিকিটে যাত্রা করেছিলেন এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হল, যে ট্রেনে উঠেছিলেন সেটা যে বেগুসরাই যাচ্ছে, সেটাও তিনি জানতেন না।

বিহারে পৌঁছে প্রজ্ঞা মাকে ফোন করে জানান যে তিনি ভালো আছেন, পরিবারকে চিন্তা না করতে বলেন।
পরে পুলিশ তার লোকেশন ট্র্যাক করে পরিবারকে জানায় এবং তাকে ফিরিয়ে আনে।

এই দম্পতি কেদারনাথ যাত্রা সেরে নন্দা দেবী এক্সপ্রেসে দেহরাদুন থেকে গাজিয়াবাদ ফিরছিলেন।

ঘটনাটা সামনে আসে যখন মুজাফফরনগর স্টেশনে এসে মনীশ ঘুম থেকে উঠে দেখেন প্রজ্ঞা তার সিটে নেই। প্রথমটায় ভেবেছিলেন হয়তো ওয়াশরুমে গেছেন, তাই তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু অনেকক্ষণ পরেও না ফেরায় কাছের কামরাগুলো এবং ওয়াশরুমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

কোথাও কোনো হদিশ নেই। ফোনও বন্ধ। তখন মনিষ রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে মামলাটা রুড়কি থানায় ট্রান্সফার হয় এবং নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হয়।

মনীশ আশঙ্কা করেছিলেন যে হয়তো তার সাথে কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। তিনি এও অভিযোগ করেন যে মুজাফফরনগর এবং রুড়কি রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও কাজ করছিল না।

তদন্তের সময় পুলিশ প্রজ্ঞার কল ডিটেইল রেকর্ড ঘেঁটে শেষপর্যন্ত তাকে বেগুসরাইতে ট্র্যাক করতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এখন পরিবারের সাথে ফিরে এসেছেন।

13/05/2026

অনেক অভিভাবকই জানেন না শিশু সুরক্ষার এই জরুরি আইন!

13/05/2026

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন তুঙ্গে। ইউরোপের বাজারে মাল পাঠানো বন্ধ। মাইসোর রাজ্যে গুদামের পর গুদাম চন্দন কাঠে ঠাসা, কিন্তু কোথাও পাঠানোর উপায় নেই।

মহারাজা কৃষ্ণরাজ ওয়াডিয়ার (IV) আর তাঁর দেওয়ান বিশ্বেশ্বরাইয়া বুঝলেন, এভাবে বসে থাকলে চলবে না। কাঁচামাল রপ্তানি না করে, সেটা দিয়ে নিজেদেরই কিছু একটা তৈরি করতে হবে। ব্যাঙ্গালোরে তখনই গড়ে উঠল গভর্নমেন্ট সোপ ফ্যাক্টরি, সালটা ১৯১৬।

মহারাজাকে একবার কেউ উপহার পাঠিয়েছিলেন, একটা বিশেষ সাবানের বাক্স। চন্দন তেল দিয়ে তৈরি। সেটা হাতে নিয়েই মাথায় এলো, এরকম জিনিস তো আমরাও বানাতে পারি, কারণ চন্দন তেল আমাদের কাছেই আছে।

বিশ্বেশ্বরাইয়া বম্বে থেকে বিশেষজ্ঞদের ডেকে আনলেন। কিন্তু আসল কাজটা করলেন এক তরুণ রসায়নবিদ, এস জি শাস্ত্রী। তিনি চন্দনের সুগন্ধের ফর্মুলা তৈরি করলেন, আর ১৯১৮ সালে বাজারে এলো প্রথম Mysore Sandal Soap!

শাস্ত্রী শুধু সাবান বানিয়েই থামেননি। প্যাকেজিংটাও তাঁর নিজের ভাবনা। গয়নার বাক্সের মতো করে সাজানো, ভেতরে সাদা কাগজে মোড়া সাবান, বাইরে ফুলের ছাপ। ব্যাপারটা সস্তা নয়, সাধারণ জনগণকে এটা বোঝানোটাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিটা বাক্সে লেখা থাকত 'শ্রীগন্ধদ তাভারিনিন্দা', কন্নড়ে যার অর্থ 'চন্দনের আঁতুড়ঘর থেকে'।শহরে শহরে নিয়ন আলোর সাইনবোর্ড। ট্রামের টিকিটে ছাপানো সাবানের ছবি। এমনকি করাচিতে উটের মিছিল করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। দেশের বাইরে বিদেশি রাজপরিবারও তখন অর্ডার পাঠাতে শুরু করল।

১৯৮০ সালে সরকার সব কারখানা এক ছাদের তলায় এনে তৈরি করল কর্ণাটক সোপস অ্যান্ড ডিটারজেন্টস লিমিটেড, সংক্ষেপে কেএসডিএল (KSDL)। কোম্পানির লোগো হলো শরভ, পুরাণের এক প্রাণী যার শরীর সিংহের, মাথা হাতির।

২০০৬ সালে মিলল জিআই ট্যাগ (GI)। অর্থাৎ চন্দনের সাবান যে কেউ বানাতে পারবে, কিন্তু 'মাইসোর স্যান্ডেল' নামটা শুধু কেএসডিএলের। অনেকটা দার্জিলিং চায়ের মতো।

নব্বইয়ের দশক ছিল তাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং। কারণ লাক্স, সান্টুরের মতো বড় বড় বহুজাতিক ব্র্যান্ড তখন বাজার দখল করতে শুরু করে। কেএসডিএল সেই চাপ সামলাতে পারছিল না, ক্ষতির বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছিল। শেষমেশ সরকারি পুনর্গঠন প্যাকেজের সাহায্যে কোম্পানি আবার মাথা তুলে দাঁড়াল, আর ২০০৩ সালের মধ্যে সমস্ত দেনা শোধ করে সফলভাবে বেরিয়ে এলো।

এই সাবানের গল্পটা আসলে একটা জেদের গল্প। যুদ্ধের ধাক্কা থেকে জন্ম, বহুজাতিক প্রতিযোগিতায় টলমল করেও টিকে থাকা। আজ একশো বছর পরও, পৃথিবীতে এমন একটিও সাবান আবিষ্কার হয় নি, যেটা ১০০% খাঁটি চন্দন তেল দিয়ে তৈরি, শুধু এটা ছাড়া।

আর কর্ণাটকের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আজ যে নামে পরিচিত, সেটা হলো 'স্যান্ডেলউড'। এর থেকে প্রমাণ হয়, চন্দনের সেই সুবাস বা সুগন্ধ শুধু একটা সাবানে আটকে নেই, গোটা একটা সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে!

12/05/2026

একজন অবসরপ্রাপ্ত টাটা স্টিল কর্মী তার স্ত্রী, গর্ভবতী মেয়ে আর ছেলেকে কুড়ুল আর হাতুড়ি দিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোরবেলা, ঝাড়খণ্ডের আগ্রিকো এলাকায় তাদের কোয়ার্টারে। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

অভিযুক্তের নাম রবিন্দর প্রসাদ সিং, বয়স ৬১। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছিল।

নিহত স্ত্রীর নাম সরিতা, বয়স ৫৫। মেয়ে সুপ্রিয়ার বয়স ছিল ৩১, গত নভেম্বর ২০২৫-এ বিয়ে হয়েছিল, তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল সে। ছেলে রবিশেক কুমার সিং, বয়স ৩০, একটা বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করত।

এএসপি ঋষভ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে যা উঠে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত প্রথমে রান্নাঘরে গিয়ে তার স্ত্রীকে খুন করে, যখন সে সকালের কাজকর্ম করছিল। সিধগোড়া থানার অন্তর্গত ২ নম্বর রোডে এল৫/১৩ নম্বর কোয়ার্টারে এই ঘটনা ঘটেছে। তারপর মেয়ে আর ছেলে যখন ঘুমাচ্ছিল, তখন তাদের নিজের নিজের ঘরে গিয়ে আক্রমণ করে।

তিনি আরও বলেন যে অভিযুক্ত নিজেই ১০০-এ ফোন করে ঘটনার কথা জানিয়েছে। পুলিশ পৌঁছে দেখে অভিযুক্ত মেঝেতে বসে আছে, চারদিকে রক্তমাখা তিনটে দেহ পড়ে। অভিযুক্তের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস আছে কিনা এবং এই খুনের পেছনে কী কারণ সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইস্ট সিংভূমের এসএসপি পীযূষ পান্ডে জানিয়েছেন, পারিবারিক বিবাদের আসল কারণ এবং এই ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ছিল সেটা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে অবসর নেওয়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সিংয়ের ঝামেলা চলছিল।

প্রতিবেশীরা পুলিশকে বলেছে, দিল্লিতে থাকা সিংয়ের ছোট মেয়ের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা বাড়িতে ঢুকতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু অভিযুক্ত তাদের তাড়িয়ে দেয়।

এএসপি জানান, মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য এমজিএমএমসিএইচে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেছে। তবে অভিযুক্ত জিজ্ঞাসাবাদে মোটেই সহযোগিতা করছে না। সে বারবার একটাই কথা বলছে যে তার মাথার ঠিক নেই, তাকে একা ছেড়ে দেওয়া হোক।

12/05/2026

ঘটনাটি আসামের অন্তর্গত কাছাড় জেলার একটি স্কুলের। হোলি ফ্লাওয়ার্স হাই স্কুলে গত বৃহস্পতিবার ক্লাস চলাকালীন একটি ৪ বছরের বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া বাচ্চাটির নাম সাকিব আলম, সে ঐ স্কুলে KG-1 এ পড়ত। গঙ্গানগর এলাকার হারিস উদ্দিনের একমাত্র ছেলে সে। জানা গেছে, বাকি বাচ্চারা যখন টিফিন খাচ্ছিল, সেই সময় তার গলায় কিছু একটা আটকে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ক্লাসরুমের মধ্যেই পড়ে যায়। পরে তাকে কটিগোড়া মডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনা আরও ভয়াবহ মোড় নেয় যখন ক্লাসরুমের cctv ফুটেজ সামনে আসে। পরিবারের লোকজন আর এলাকাবাসী যারা সেই ফুটেজ দেখেছেন, তারা বলছেন ডিউটিতে থাকা শিক্ষকরা তখন গল্পে মশগুল, বাচ্চাটা যে কষ্ট পাচ্ছে সেটা তারা খেয়ালই করে নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ছেলেটি একটি বেঞ্চের নিচে অনেকক্ষণ পড়ে ছিল, কিন্তু কেউ তখন এগিয়ে আসেনি। অথচ তার সহপাঠী বাচ্চারা নাকি বারবার শিক্ষকদের মনোযোগ টানার চেষ্টা করছিল।

হোলি ফ্লাওয়ার্স হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল চুমকি দাস সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন যে এই দুর্ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ 'আংশিকভাবে দায়ী।'

তবে তিনি স্কুলের খাওয়াদাওয়ার নিয়মের কথাও তুললেন। বললেন, স্কুলের ভেতরে জাঙ্ক ফুড পুরোপুরি বন্ধ এবং সম্প্রতি একটি অভিভাবক বৈঠকেও এই কথা নাকি আবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফুটেজে নাকি কয়েকজন বাচ্চার হাতে ফাস্ট ফুড দেখা গেছে।

সাকিবের মৃত্যুর পর স্কুল ক্যাম্পাসেই শুরু হয় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ। রাগে ফুঁসতে থাকা অভিভাবক আর এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে জবাব চান। প্রাইভেট স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর জরুরি পরিস্থিতিতে কী করা হয় সেটা নিয়েও তারা গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। আন্দোলনকারীরা চাইছেন cctv ফুটেজ ভালো করে খতিয়ে দেখা হোক এবং নজরদারিতে যে গাফিলতি হয়েছে তার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করে দিয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেছেন,

"ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে তবেই মৃত্যুর আসল কারণ আরও পরিষ্কার হবে। গাফিলতির যে অভিযোগ উঠেছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।"

12/05/2026

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি গার্হস্থ্য হিংসার মামলায় অভিযুক্ত স্বামীর অগ্রিম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি পিবি ভারালের বেঞ্চ শুনানি চলাকালীন সরাসরি বলেছে যে স্ত্রীকে পশুর মতো ব্যবহার করা চলবে না, প্রতিটি মহিলারই মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর উপর হামলা চালায়। নালিশে বলা হয়েছে যে সে তার স্ত্রীকে মাটিতে ধাক্কা দেয়, তার মাথা ইটের সাথে ঠুকে দেয় এবং পরে লাঠি দিয়ে মারধর করে। শুনানির সময় অভিযুক্ত দাবি করে যে অভিযোগকারী আসলে তার স্ত্রী-ই নয়, যদিও জানা গেছে সে তিনবার বিয়ে করেছে।

আদালত জানিয়ে দেয় যে এই মামলার অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। বিচারপতিরা স্পষ্ট বলেন, বিবাহের সম্পর্ক কোনোভাবেই স্বামীকে স্ত্রীর উপর নিষ্ঠুর আচরণ করার বা তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অধিকার দেয় না। বিয়ে মানে এই নয় যে একজন সঙ্গীর উপর অন্যজনের সীমাহীন কর্তৃত্ব থাকবে। প্রতিটি নারীর অধিকার আছে ঘরের মধ্যে সম্মান আর মর্যাদার সাথে থাকার।

পাটনা হাইকোর্ট আগেই এই আবেদন নাকচ করে দেওয়ার পর অভিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টে যায়। সুপ্রিম কোর্ট এই পর্যায়ে সাক্ষ্যপ্রমাণের খুঁটিনাটিতে না গিয়ে অভিযুক্তকে অগ্রিম জামিনের বদলে সাধারণ জামিনের আবেদন করার পরামর্শ দেয়। সেইসাথে সতর্ক করে দেয় যে নারীর উপর ক্রমাগত হিংসা পারিবারিক সম্পর্ক আর জীবন দুটোই ধ্বংস করে দিতে পারে। আদালত আরও বলে যে অনেক গার্হস্থ্য হিংসার মামলায় একটা সাধারণ প্রবণতা দেখা যায়, মহিলারা পুলিশকে বলেন যে স্বামী মদ খাক, তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মদ খাওয়ার পর যে মারধর শুরু হয়, সেটাই তাদের সহ্য হয় না।

12/05/2026

প্রতিটি নারীর জানা উচিত! 💯🔥

Want your school to be the top-listed School/college in Delhi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


New Delhi
Delhi