Bashar Khola High School

Bashar Khola High School Educational

'জীবাণু ক্ষতিকর' এটা হলো কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের একটা ন্যারেটিভ। এটা বিজ্ঞান না, এটা অর্ধসত্য। গবেষণা বলছে, জীবাণুদের ম...
27/12/2025

'জীবাণু ক্ষতিকর' এটা হলো কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের একটা ন্যারেটিভ। এটা বিজ্ঞান না, এটা অর্ধসত্য।
গবেষণা বলছে, জীবাণুদের মধ্যে বন্ধুও আছে, শত্রুও আছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই বন্ধুরাই শরীরের ভেতরে শত্রু জীবাণুদের নিয়ন্ত্রণে রাখে।

মানুষের শরীর কোনো জীবাণুহীন জায়গা না। আমাদের শরীর একটা বিশাল ইকোসিস্টেম যেখানে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন জীবাণু বাস করে, যারা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, জায়গা দখল করে, খাবার ভাগ করে নেয়। এই প্রতিযোগিতার মধ্যে ক্ষতিকর জীবাণুরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। এটাকেই বলে microbial balance বা microbiome equilibrium।

আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মূলত 'সব জীবাণু মারো' নীতিতে কাজ করে না। সে চেনে কে উপকারী, কে বিপজ্জনক। উপকারী জীবাণুরা ইমিউন সিস্টেমকে শেখায় কীভাবে সঠিকভাবে রিয়েকশন দিতে হয়। শিশুকালে যদি এই শেখাটা না হয়, অর্থাৎ মাটি, প্রকৃতি, পশুপাখি, পরিবেশের জীবাণুর সঙ্গে সংস্পর্শ না হয়, তাহলে পরবর্তীতে অ্যালার্জি, হাঁপানি, অটোইমিউন রোগ বেড়ে যায়। এটাকে আজ Hygiene Hypothesis বলা হয়।

সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন আমরা অকারণে বেশি মাতব্বরি করতে যাই।
সামান্য সর্দি-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক, একটু কাটলেই এন্টিসেপটিক, ঘরে-বাইরে সর্বক্ষণ এন্টিব্যাকটেরিয়াল প্রডাক্ট, সবকিছু জীবাণুমুক্ত রাখার ভদ্দরনোকি এসব শত্রু জীবাণুর চেয়ে উল্টা বন্ধু জীবাণুদের বেশি ক্ষতি করে।
কারণ শত্রু জীবাণুরা সাধারণত বেশি শক্তিশালী ও অভিযোজনক্ষম, তারা সুযোগ পেলেই ফিরে আসে। কিন্তু উপকারী জীবাণুরা একবার ধ্বংস হলে সহজে ফিরে আসে না।

এই ভারসাম্য নষ্ট হলেই শরীর দুর্বল হয়। তখনই দেখা যায়, আগে যেসব জীবাণু ক্ষতি করতে পারত না, তারাই সুযোগ পেয়ে আক্রমণ করছে। একে বলে opportunistic infection। আমরা ভাবি জীবাণু শক্তিশালী, অথচ বাস্তবে আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গেছে।

তাই কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের ন্যারেটিভ ভুলে যান। সত্যিকারের বিজ্ঞান অনুযায়ী, আমাদের কাজ জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা না। আমাদের কাজ হলো ভুল যুদ্ধ বন্ধ করা। শরীর নিজেই জানে কাকে রাখতে হবে, কাকে ঠেকাতে হবে। আমাদের দায়িত্ব শুধু এটুকু যে, উপকারী জীবাণুদের বাঁচার পরিবেশ নষ্ট না করা, অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া, অতিরিক্ত জীবাণুভীতি না ছড়ানো, আর প্রকৃতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন না করা।

বিজ্ঞাপনের মগজধোলাই আর কান্ডজ্ঞানহীন ভদ্দরনোকির বশে আমরা যত বেশি 'সবকিছু জীবাণুমুক্ত' করতে যাবো, তত বেশি নিজেদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবো!

****INTROVERT****

22/12/2025

The heart has a separate brain.Which we know as the mind.

আমাদের অজান্তেই ‘নিলাম’ হয়ে গেল দেশের ফুসফুস?১০০ মিটারের এক অলীক ফিতে দিয়েযেভাবে শেষ করা হলো আরাবল্লীকে!আচ্ছা, একটা কথা ...
22/12/2025

আমাদের অজান্তেই ‘নিলাম’ হয়ে গেল দেশের ফুসফুস?

১০০ মিটারের এক অলীক ফিতে দিয়ে

যেভাবে শেষ করা হলো আরাবল্লীকে!

আচ্ছা, একটা কথা বলুন তো।
আপনার বাড়ির ছাদটা যদি কেউ মাঝরাতে,
আপনার অজান্তেই খুলে নিয়ে যায়,
আপনি কি সঙ্গে সঙ্গে টের পাবেন?

সম্ভবত না।
কারণ তখন আপনি গভীর ঘুমে।

কিন্তু যেদিন ঘুম ভাঙবে,
সেদিন মাথার ওপরের রোদ
আপনাকে পুড়িয়ে দেওয়ার দায়
অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকবে না।

ঠিক এই ঘটনাটাই ঘটেছে আমাদের সঙ্গে।

খুব নিঃশব্দে।
আদালতের শান্ত, সংযত পরিসরে বসে,
আইনের ভাষায়,
কলমের একটিমাত্র আঁচড়ে
ভারতের প্রাচীনতম পাহারাদারের ভবিষ্যৎ
বদলে গেল।

কোন দামামা বাজেনি।

শুধু একটি সংজ্ঞার
পুনর্ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

আর সেই সংজ্ঞার সঙ্গেই নির্ধারিত হয়ে গেল
দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থানের আগামী দিনের বাস্তবতা।

ভাবতে পারেন,
আমি কি বাড়াবাড়ি করছি?
আবেগে ভেসে যাচ্ছি?

একটু সময় দিন।

আরাবল্লীর বিস্তার,
তার ভৌগোলিক ভূমিকা
এবং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের
নির্মম হিসাবগুলো জানলে,
আপনার পায়ের তলার মাটি
নিঃশব্দে সরে যাবে।

এই গল্প আজকের নয়।

এর সূচনা আজ থেকে
প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন বছর আগে,
যখন হিমালয়ের অস্তিত্বও তৈরি হয়নি,
পৃথিবী ছিল, তার একেবারে প্রারম্ভিক অধ্যায়ে।

ঠিক সেই সময়েই
ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে
মাটি ফুঁড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল
এক পাহাড়শ্রেণি,
যাকে আমরা আজ
আরাবল্লী নামে চিনি।

এ কোনো সাধারণ পাহাড় নয়।

গুজরাটের হিম্মতনগর থেকে শুরু করে
রাজস্থান, হরিয়ানা হয়ে
দিল্লির রাইসিনা হিলস পর্যন্ত,
প্রায় ৬৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ
এই পর্বতমালা
ভারতের ভূগোলের মেরুদণ্ডস্বরূপ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,
এই আরাবল্লী রাজস্থানকে প্রকৃত অর্থেই
দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

একদিকে পশ্চিম রাজস্থান,
যেখানে বিস্তৃত মরুভূমি,
মারওয়ারের কঠোর রুক্ষতা।

অন্যদিকে পূর্ব রাজস্থান,
যেখানে জনবসতি, সবুজ আর উর্বর ভূমি।

এই পাহাড় মাঝখানে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে না থাকলে
পশ্চিমের মরুভূমি বহু আগেই পূর্ব দিক গ্রাস করত।

এই কারণেই আরাবল্লীকে বলা হয়
ভারতের ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’।

থর মরুভূমির ধুলোর ঝড়কে
বুক চিতিয়ে রুখে দেওয়ার
নীরব ক্ষমতা এই পাহাড়েরই।

দিল্লি ও এনসিআরের কোটি কোটি মানুষ
আজ যে বাতাস শ্বাস হিসেবে নিচ্ছেন,
মাটির নিচ থেকে যে জল এখনও উঠে আসছে,

তার পেছনে রয়েছে এই ৬৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ
পাহাড়শ্রেণির বনভূমি ও শিলাস্তরের নীরব অবদান।

আরাবল্লী না থাকলে দিল্লি বহু আগেই সাহারা সদৃশ হয়ে উঠত।

সব কিছু প্রকৃতির নিয়মেই চলছিল।
প্রকৃতি নীরবে তার কাজ করে যাচ্ছিল।

কিন্তু সমস্যার শুরু হলো অন্য জায়গায়।

এই পাহাড়ের অন্তরে লুকিয়ে আছে
বিপুল সম্পদ, পাথর, খনিজ
আর ভবিষ্যৎ নগরায়নের সম্ভাবনা।

এখানেই আছে এমন উদ্ভিদ ও প্রাণী, যেগুলো পৃথিবীর আর কোথাও নেই যেমন Portulaca bharat নামের একটি রেয়ার টাইম ফুল যেটা ওখানে ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না । প্রচুর প্রাণীর আবাসস্থল লেপার্ড,হায়েনা , সাম্বর, নীলগাই , বিভিন্ন গিরগিটি , সাপ , পাখি ,পরিযায়ী পাখি থেকে শুরু ছোট ছোট প্রাণী পর্যন্ত ।এখান থেকেই জন্ম নেয় লুনি, সবরমতী, বানাসের মতো নদী। মহারানা প্রতাপ যে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই পাহাড়টাই আজ নিজেই বিপন্ন।

সেখানেই অর্থনৈতিক স্বার্থের দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো।

এবার আসি সাম্প্রতিক ঘটনায়।

গত নভেম্বর মাসে,
২০২৫ সালে,
মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে
একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।

এ কথা শুরুতেই বলা প্রয়োজন,
এই দেশের সংবিধান,
ও সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা অটুট।

কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তের
পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব
নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

এতদিন আরাবল্লীর প্রধান সুরক্ষা ছিল
ফরেস্ট কনজারভেশন অ্যাক্ট।

ধারণাটা ছিল স্পষ্ট, আরাবল্লী মানেই পাহাড়,
মানে বন, মানে সুরক্ষা।

কিন্তু নতুন ব্যাখ্যায় বলা হলো,

আরাবল্লী রেঞ্জের যেসব পাহাড় বা টিলার
উচ্চতা ১০০ মিটারের কম, সেগুলো আর
আইনগতভাবে ‘পাহাড়’ নয়।

একটু ভেবে দেখুন।

প্রকৃতি কি
মানুষের তৈরি ১০০ মিটারের মাপকাঠি মেনে নিজেকে গড়ে তুলেছিল?

৫০ মিটার উঁচু একটি টিলা কি জল ধরে রাখে না?
বালির গতিকে শাসন করে না?

কিন্তু আইনের চোখে যুক্তির জায়গা সীমিত।

১০০ মিটারের এক ইঞ্চি কম হলেই
পাহাড় হয়ে যায় ‘সমতল জমি’।

সরকারি সমীক্ষা বলছে,
আরাবল্লী পর্বতমালার
মাত্র ৯.২ শতাংশ অংশের উচ্চতা ১০০ মিটারের বেশি।

অর্থাৎ, প্রায় ৯১ শতাংশ পাহাড় এই ব্যাখ্যার বাইরে চলে গেল এক ধাক্কায়।

একটি ব্যাখ্যার মাধ্যমেই
আরাবল্লীর ৯১ শতাংশ এলাকাতার আইনি সুরক্ষা হারাল।

পাহাড় না থাকলে বন সংরক্ষণ আইনও কার্যকর থাকে না।

এর অর্থ, এই বিশাল অংশে
খনি, বি*স্ফো*র*ণ ও নির্মাণ
এখন আইনত সম্ভব।

তাহলে, এই জমি কার জন্য উন্মুক্ত হলো?
সেই প্রশ্নটাই সবচেয়ে অস্বস্তিকর।

নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষের জন্য নয়।

এখানেই উঠে আসে বৃহৎ কর্পোরেট স্বার্থ,
খনি শিল্প, সিমেন্ট শিল্প ও রিয়েল এস্টেটের প্রসঙ্গ।

রায়ে নাম না থাকলেও,
অর্থনৈতিক প্রবণতা স্পষ্ট।

আরাবল্লীর পাথর, নির্মাণ শিল্পের জন্য অমূল্য।

হাইওয়ে, বিমানবন্দর,
শহরের ভিত, সব কিছুর ভিত
গড়ে ওঠে এই পাথর গুঁড়িয়ে।

তার ধুলো ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে, ঢুকে পড়ে মানুষের ফুসফুসে।

সাফারি পার্কের মতো প্রকল্পের আড়ালেবনভূমি হস্তান্তরের প্রশ্নও উঠছে।

রিসোর্ট, হোটেল, নগরায়নের সম্ভাবনা
পাহাড়ের বুকেচাপ সৃষ্টি করছে।

গ্রামের সাধারণ জমি ধীরে ধীরে
ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রূপ নিচ্ছে।

এর পরিণতি কোনো কল্পকাহিনি নয়।

এটা আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের বাস্তব।

৬৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ যে প্রাকৃতিক প্রাচীর
মরুভূমিকে আটকে রেখেছিল,
তা ভেঙে গেলে বালির ঝড় আর থামবে না।

দিল্লির আকাশ নীল থাকবে না।
শ্বাস মানে হবে ধুলো।

পাহাড় কংক্রিটে ঢাকলে জল আর
মাটির নিচে নামবে না।

গুরুগ্রাম, জয়পুর, দিল্লি!
জলের সংকটে শুকিয়ে যাবে।

দামি ফ্ল্যাট থাকবে, কিন্তু
পানীয় জল থাকবে না।

আমরা উন্নয়ন চেয়েছিলাম, ঠিকই।

কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে উন্নয়ন কার জন্য?

এই লেখা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়।

এই লেখা প্রকৃতির পক্ষে।

কারণ প্রকৃতি নীরব থাকে,
কিন্তু প্রতিশোধ নিতে ভোলে না।

যেদিন শেষ পাহাড়টি ভেঙে পড়বে,
সেদিন ১০০ মিটারের আইনি কাগজ দিয়ে
বালির ঝড় আটকানো যাবে না।

এই রায় কোনো পাহাড়ের শেষ নয়।

এ আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে
এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন।

জেগে উঠুন।

সময়
এখনও ফুরোয়নি।

মানুষকে জানান। ছড়িয়ে দিন এই তথ্যটি।

কারণ পাহাড় হারালে,
আগামী প্রজন্ম জানবেও না,
তাদের শ্বাসরোধ করে মা*র*ল কে?

12/08/2025

এটি প্রাণী জগতের সবচেয়ে বড় ধোকা। এটি আমাদের মানব জীবনেও ঘটতে পারে। হতে পারে সেটি আপনার সঙ্গী/সঙ্গীনির ইচ্ছাকৃত অথবা অজান্তে।

বিষয়টি অত্যন্ত ঘৃণ্য, তাই ব্যাখ্যা করিনি। আপনি যদি এর ব্যাখ্যা বুঝতে না পারেন, ক্ষমা করবেন।

19/04/2025

ইঞ্জিনিয়ারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

22/05/2024
18/05/2024

Sadness is best kept secret.

11/05/2024

Do you prefer job or business?

02/05/2024

INTROVERT

14/04/2024

Lost can be won.

01/07/2023

*নিষ্ঠুর মানবিকতা*
Introvert

পৃথিবীতে জীবিতদের একত্রে বলা হয় জীব। জীব দুই প্রকার, ১) উদ্ভিদ ২) প্রাণী
• উদ্ভিদ: এরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে না। কিন্তু ধীরে ধীরে বড় হয় ও বংশবিস্তার করে। এছাড়াও খাদ্য গ্রহণ ও রেচন ত্যাগ করে।
• প্রাণী: এরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। বাদবাকি উদ্ভিদের প্রায় সমস্ত বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।
*জীব ও জ্বরের সমন্বয়ে গঠিত সমগ্র জগতকে একত্রে বলা হয় প্রকৃতি। প্রকৃতি সৃষ্টিকর্তার এক নিখুঁত শিল্প। আধুনিক বিজ্ঞান এই প্রাকৃতিক শক্তিকেই ঈশ্বরের শক্তি বলে মনে করে।

আমরা মানুষ হলাম এক প্রকার প্রাণী। এছাড়াও আমাদের চারপাশে এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে এমন সমস্ত কিছুই প্রাণী। যেমন- গরু, ছাগল, কুকুর, বিড়াল, পাখি, প্রজাপতি, বিভিন্ন পতঙ্গ ইত্যাদি।
আমরা মানুষ হলাম পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান। আমরা বুদ্ধির জোরে প্রতিনিয়ত বাকি সমস্ত জীবকে নিজের আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে চলেছি। নিজেদের খাদ্যের প্রয়োজন মেটাতে, জীবন যাপনকে সহজ ও আরামদায়ক করার জন্য বাকি জীবদের নির্মমভাবে হত্যা করে চলেছি। আসলে সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে বাকি জীবের উপর নির্ভরশীল করে বানিয়েছেন। কিন্তু বাকি জীব আমাদের উপর নির্ভরশীল নয়। পৃথিবী থেকে সমগ্র মানব জাতি মুছে গেলেও বাকি জীবের কোন অসুবিধা হবে না। বাকি জীব বরঞ্চ আরো স্বাচ্ছন্দে ভালোভাবে বাঁচতে পারবে। আমরা মানুষ নিজেদের যতই শক্তিশালী মনে করি না কেন, প্রাকৃতিক শক্তির কাছে আমরা নেহাত শিশু। ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত, সুনামি, ভূমিকম্প, উল্কাপিন্ড ও গ্রহাণুর আঘাত এই সব কিছুই প্রাকৃতিক শক্তি। প্রকৃতি আমাদেরকে শুধু দিতে জানে আমাদের থেকে নিতে জানে না। তবুও আমরা প্রকৃতির উপর নিষ্ঠুর হয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নিচ্ছি। এতে আমরা মনে করছি প্রকৃতি আমাদের কিছুই করতে পারবে না। প্রকৃতি ক্রুদ্ধ হলে আমাদের ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়ে থাকি। তাতে প্রচুর জীবন বিনষ্ট হয়। এইগুলো হচ্ছে প্রকৃতির প্রতিশোধ। প্রকৃতি মানুষের কতই যে উপকার করে ও মানুষ প্রকৃতির ওপর কতই না অত্যাচার করে তা বলে শেষ করা যাবে না। প্রকৃতিকে আমরা প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে চলেছি। এইভাবে চলতে থাকলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হবে। প্রকৃতির বুক থেকে প্রতিনিয়ত কোন না কোন জীব পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি এক সময় ডাইনোসর পুরো পৃথিবীর ওপর রাজত্ব করেছে। সেই সময় ডাইনোসররা ছিল পৃথিবীর বুকে সর্বশক্তিমান। কিন্তু তাদেরও শেষ রক্ষা হয়নি। আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি পৃথিবীতে ডাইনোসরের আবির্ভাব হয়েছিল প্রায় 25 কোটি বছর আগে। প্রায় 14 কোটি বছর তারা পৃথিবীতে সর্বশক্তিমান হিসেবে রাজত্ব করেছিল। শেষমেষ প্রায় ৬ কোটি বছর আগে মাত্র 20 কিলোমিটার ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট একটি গ্রহানুর আঘাতে সমগ্র ডাইনোসর জাতি পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। প্রকৃতি সেদিন তার বুকে রাজত্ব করা সর্বশক্তিমানের উপর উপর প্রতিশোধ নিয়েছিল।

পৃথিবীটা শুধুমাত্র আমাদের মানবজাতির একার না।
পৃথিবীটা বাকি জীবেরও বাসস্থান। তাদেরও তো বাঁচার অধিকার আছে, আমরা তাদের অধিকার ছিন্ন করতে পারিনা।
আমরা মানুষ প্রকৃতির কাছে অতি তুচ্ছ। প্রকৃতির উপর আমাদের অত্যাচার যদি বন্ধ না করি। প্রকৃতি কিন্তু আমাদেরও ছেড়ে দেবে না। প্রকৃতি তার উপর করা আমাদের অত্যাচারের প্রতিশোধ অবশ্যই নেবে। আমরা কি পারিনা? প্রকৃতিকে ধ্বংস না করে রক্ষা করতে। আমরা যদি প্রকৃতিকে ভালবাসতে পারি তাহলে তার প্রতিদানে প্রকৃতি নিশ্চয়ই ভালো কিছু উপহার দেবে।

প্রকৃতিকে রক্ষা করা বড়ই দুষ্কর ও কঠিন একটা কাজ। কেননা এতে মানুষের দ্বারা তৈরি করা স্থাপনা গুলো ভেঙে সমতল ভূমিতে রূপান্তর করতে হবে। যেটা মানুষের মেনে নিতে খুবই কষ্ট হবে। কেননা মানুষ অনেক কষ্টের ফলে এগুলো তৈরি করেছে।

আধুনিক বিজ্ঞান ও বলছে যে পৃথিবী একদিন না একদিন ধ্বংস হবে। সেই ধ্বংসটা যদি মানুষ নিজের হাতে করে এবং চারিপাশ সবুজ গাছপালা দ্বারা পরিপূর্ণ করতে পারে তাহলে আমাদের পৃথিবীর আয়ু অবশ্যই বেড়ে যাবে।

এবার কল্পবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে যদি দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে যেমন মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। তেমনি মানুষেরও একদিন বিলুপ্তি হবে। তখন পৃথিবীর বুকে রাজত্ব করবে মানুষের থেকেও বুদ্ধিমান নয়তো বলবান কোন জীব।

ডাইনোসর আর মানুষকে নিয়ে যদি বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা হয় বিলুপ্তির কারণ কি?সেখানে একটা কথাই উঠে আসে দুজনেরই প্রকৃতি বিরোধী কাজকর্ম।

কেননা ডাইনোসর দুই প্রজাতির ছিল, তৃণভোজী ও মাংসাশী। তারাও প্রকৃতির উপর নিজের বলবান শরীরকে কাজে লাগিয়ে অনেক প্রকৃতির বিরুদ্ধ কাজ করেছে। আমরা মানুষও বুদ্ধির জোরে অনেক প্রকৃতি বিরুদ্ধ কাজকর্ম করে চলেছি।

আমাদের প্রকৃতি বিরোধী না হয়ে প্রকৃতি বান্ধব হওয়া উচিত।

Address

DEBAGRAM TO KATWA Road
Debagram
741137

Opening Hours

Monday 10am - 4am
Tuesday 10am - 4am
Wednesday 10am - 4am
Thursday 10am - 4am
Friday 10am - 4am
Saturday 10am - 4am

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bashar Khola High School posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category