16/02/2024
আমাদের স্কুল এর নাম ছিল
পেষ্টারঝার উচ্চ বিদ্যালয়
স্কুল জীবন,ছেলেবেলা, গ্রামের রাস্তা সে যে এক স্বপ্নপুরি গো। আহ!!কি যে মধুর ছিল সে দিনগুলো.....
ছোটবেলায় সবার মতো আমারও ইচ্ছে হতো, কেন যে বড়ো হচ্ছি না ? ভাবতাম যে, বড় হলে নিজের ইচ্ছেমতো সব করতে পারবো। তাই, ছেলেবেলাটা অবহেলা করতাম। আর আজ বড়ো হয়ে মনে হচ্ছে, "ইসস!!!কেন যে বড় হলাম।" ছোটবেলায় ভালো ছিল। জীবন নিয়ে চিন্তা ছিল না। 'আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে'— এ গানটার মতো জীবন ছিল। এখন ভীষণ মিস করি। ব্যাস্ততার তাগিদে আর উন্নত জীবনের আশায় শহরে জীবন আকৃষ্ট করে ঠিকই কিন্তু সে দিনগুলাই ভালো ছিল।
অনেক ভেবে চিন্তে দেখলাম স্কুল জীবনের কথা বলতে গেলে যেন শেষই হবে না। তখনকার প্রতিটি দিনই যেন সোনালী দিন ছিল। আর এখন ভীষণ মিস করি এ দিনিগুলা। জীবনের সেরা সময় ছিলো স্কুল জীবন টা ।। কত বন্ধু বান্ধব, আমাদের একটা গ্রুপ ছিল, মজার ব্যাপার হলো মাঝে মাঝে সবাই প্ল্যান করে চার টা ক্লাস করে স্কুল থেকে পালাতাম🙂 প্রাইভেট পড়া যেনো মিস না হয়।। তবে শিক্ষকদের স্নেহ সুলভ শাসন টা একটু বেশিই মিস করি এখন ।।
স্কুল জীবন আসলে গাছের সবুজ পাতার মতো। গাছের পাতাকে কচি কুড়ি লালচে রং থেকে সবুজ রঙে পরিণত হতে রোদ,বৃষ্টি,শীত,কুয়াশা এরকম কত ঘটনারই না সাক্ষী হতে হয়। কিন্তু এত শত এর পরেও পাতা একসময় শুকিয়ে যায় এবং একদিন গাছকে ফাঁকি দিয়ে অজান্তেই পরে যায় । রেখে যায় শূনস্থান।
স্কুল জীবনও ঠিক তেমনি কিছু ছােট ছােট মুহূর্ত যা আমরা যত্ন করে রাখি বুকের ভেতর । বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া , ভাগ করে টিফিন খাওয়া, সব স্যারদেরকেই একটা করে নিক নেম দেওয়া, যা কেবল আমরাই জানতাম ।পড়া না পারলে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা।
প্রার্থনার লাইনে ইচ্ছে করেই হাত খুলে রাখা ।জাতীয় সংগীত না বলেই স্যার ও ম্যাডামদের চোখে চোখ পড়লে মুখ বীর বীর করা। নতুন বছরে হ্যাপি নিউ ইয়ার এর কার্ড দেওয়া প্রিয়জন দের ।
অসংখ্য কথার ভিড়েও দিনের শেষে থেকে যেত কত না বলা কথা । স্কুল এ যাওয়া ও আসার পথে হঠাৎ নামা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি সারাটা দিন বৃষ্টি ভেজা শরীরে রোমান্স খোঁজার আপ্রাণ চেষ্টা , ফেরার পথে কাদা প্যাচপ্যাচে রাস্তা সাদা জুতােয় ইচ্ছে করেই লাগানাে কালাে জলের ছােপ , বকুনি ছিল শাসন ছিল ভয় ছিল, ঢের প্রতিযােগিতা ছিল ছিল নাচ গান আনন্দ । তার মাঝেই ছিল কাওকে ভালােবাসা, বন্ধু কে আগলে রাখা । সাথে সম্মান ছিল, শ্রদ্ধা ছিল, তার মাঝেই ছিল দুষ্টুমিতে ভরা মন, সকল বাধা তুচ্ছ করে স্কুল টা বড় বেশি আপন ছিল । হাজার জটিলতা দুঃখের মাঝেও সরলতা আর আনন্দ ছিল অফুরান, আজ সে সব কেবলই স্মৃতি মনের আঙিনা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কিছু দৃশ্যপট, অতীতের ঘরে হারিয়ে যাওয়া কিছু ঘটনা।
স্কুল জীবন প্রতিটি মানুষের জীবনে আসা এক অমুর্ত স্মৃতি ছবি স্বরূপ , যা আনন্দ দেয় । আবার করে দেয় মানুষকে বেদনাময় । তেল মেখে স্নান করে গরম ভাত খাওয়া, বইয়ের ব্যাগ নিয়ে রোজ স্কুলে যাওয়া।
যদিও শেষের বেঞ্চ টাই বেশি পছন্দের ছিল 🙂, তবে কিছু কিছু স্যার এর পড়া যেনো তেনো প্রকারে মুখস্ত করে যেতেই হতো ।।
আমরা যে কি জিনিস (দুষ্টামি) ছিলাম তা স্কুল এর প্রায় সকলেই জানত । স্কুলের প্রেয়ার ছিল জন-গণ-মন মানে না জেনেই গেয়েছিলাম, বুঝিনি তখনো।
দূরে কোথাও স্কুলে যখন প্রেয়ারের ঘণ্টা পড়ে, ছোট্ট বেলার স্কুল বাড়িটা বড্ড মনে পড়ে। ক্লাস রুমের দেওয়াল জুড়ে উপপাদ্য লেখা, দেওয়াল জুড়ে নিউটন আর সিন্ধু সভ্যতা, আর ছিল ইঁচড়ে পাকা কিছু অসভ্যতা। স্কুলে সেই দেওয়াল আজ হয়তো আর আগের মতো নেই 😔।। তবে স্মৃতি ও স্কুল এর খেলাধুলোর মাঠ টা ঠিক যেনো আগের মতোই আছে ।। আমরাই নেই শুধু সেই স্কুল এর কাছে। আজও কোনও স্কুল বাড়ির দেওয়াল লিখন পড়ে, ছোট্ট বেলার স্কুল বাড়িটা বড্ড মনে পড়ে।
প্রতি বছর স্কুলে হত বানী বন্দনা সেই দিনের স্মৃতিটাও ছিল মন্দ না। স্কুল ড্রেস ছেড়ে সেদিন রঙিন পোশাক পড়া, স্কুল বাড়িটা হাসি-খুশিতে ছিল সেদিন ভরা। চলত ছোট বেলার প্রেম ও গুলতি দিয়ে খেলা ।। পুজোর শেষে পাল্লা দিয়ে চলত খিচুড়ি খাওয়া,
আজও, সরস্বতী পুজো যখন হয় চারিদিকে,
ছোট্ট বেলার স্কুল বাড়িটা বড্ড মনে পড়ে।
পরীক্ষার আগে ছিল রিভিশনের ধুম, পরীক্ষার সময় তাই সব কিছু ভুলে, সারা দিন পড়াশোনা বই খাতা খুলে। কেউ কেউ টুকলিতে ছিল হাত পাকা, পকেট ভর্তি জ্ঞান, মাথা ছিল ফাঁকা 😄। সিঁড়ি আর বাথরুমে টুকলিরা পেত ঠায়।
সেদিনের স্মৃতি গুলো কি আর ভোলা যায়? আজও কোনও স্কুলে গিয়ে টুকলি যখন চোখে পড়ে,
ছোট্ট বেলার স্কুল বাড়ি তোমায় বড্ড মনে পড়ে।
এক মাইল পায়ে হেঁটে যেতে হত স্কুলে, সাইকেল ছিলনা তখন তবুও মন খারাপের বালাই ছিলোনা ।
আজও, একই আছে সে স্কুল, যদিও আগের থেকে এখন স্কুল বিল্ডিং বানিয়ে বড়ো করা হয়েছে ।আর একই আছে পথের ধুলো রাস্তার রেল লাইন, তবে অনেক কাঁচা বাড়ি পাকা হয়ে গিয়েছে ।।
একই আছে সেই উচ্ছ্বাস, শুধু বদলে গেছে সে মুখ গুলো।
আজও যদি সে পথ দিয়ে যেতে সেই স্কুল চোখে পড়ে,
ছোট্ট বেলার স্কুল বাড়িটা তোমায় বড্ড মনে পড়ে 😔 ।।
সুরজিৎ দাস
ছবি : সরস্বতী পূজা ২০২৪
29/12/2019
28/10/2019
11/05/2019
23/11/2018
11/08/2018
14/07/2018