25/12/2019
আজকের দিনে শিশু-মনের ডিপ্রেশনের কারন ও তার ভয়াবহ পরিনাম নিয়ে বলছিলাম আগের দিন। আসুন এবারে দেখা যাক, কি করে সেসব ওভারকাম করা যায়। যে কোনো মানসিক ডিপ্রেশনের মূলত দুটি কারন। একাকিত্ব ও আত্মবিশ্বাসের অভাব। এখানেও তাই। ফলে এই দুটি আটকে দিতে পারলেই হলো। মা-বাবা ও বাড়ীর লোকজনকে এজন্য একটু চেঞ্জ হতে হবে।
প্রথমত, একাকিত্ব কাটানোর জন্য #বন্ধু হতে হবে মা-বাবাকে বিশেষ করে। আচ্ছা, ছেলে মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব ব্যাপারটা কেমন? বাচ্চারা বন্ধু হয়ে গেলে, পাত্তা দেবে তো? সন্মান করবে তো? কথা বললে শুনবে তো? মুখে মুখে তর্ক করবে না তো? এই প্রশ্নগুলো চলে আসে, তাই তো? হুম্ ভয় নেই। বন্ধুত্বের মানেটা ভিন্ন সম্পর্কে বিভিন্ন হয়। শিশুদের সাথে, সঠিক বন্ধুত্বে এসব ভাবার কোনো দরকারই নেই। কারন, কাউকে সন্মান না করা, কথা না শোনা, অযথা তর্ক করা, এসব বন্ধুত্বের অধিকার নয়। বলা যেতে পারে, এসব হলো পারিপার্শ্বিক সামাজিক কু-প্রভাব। বাড়ীতে #টিভি_সিরিয়াল দেখা বন্ধ করেই, এর ৮০% এর সমাধান করা যায়।
কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে গেলে, প্রথমেই আমরা যে ভুলটা করি, তা হলো নিজের সম্পর্কে একটা ইম্প্রেশন তৈরি করার চেষ্টা। আমি অমুক, আমি তমুক, বিপরীতে থাকা মানুষটির মধ্যে এরকম একটা ধারনা তৈরি হলেই, আমার প্রতি attract হবে। না, একেবারেই না, এটা আসলে বন্ধুত্ব নয়। এই ইম্প্রেশনটা আসলে নিজের একটা wrong image. বিপরীতে থাকা মানুষটির কাছে এটা ধরা পরলেই, attraction টা শেষ।
নিজের সন্তানের সাথে বন্ধুত্বেও কোনো wrong image থাকা চলবে না। এই বন্ধুত্বের ভালোবাসায়, কোনো মিথ্যে চলবে না। অফিস থেকে ফোন করে, চকোলেট আনার প্রতিশ্রুতি করলে, সেটা রাখতেই হবে। সে ছোটো বলেই, ভুলভাল বাহানা দিয়ে কাটিয়ে দেওয়া নয়। বন্ধুত্ব মানে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। মনে রাখতে হবে, এখান থেকেই সে, বন্ধুত্ব করাটাও শিখবে।
সেদিন শুরুতেই বলছিলাম, আপনাকে দেখে আপনার সন্তান, কার্টুন দেখা/গেম খেলা বন্ধ করে, বই খুলে বসে কি না? এটা ওর সম্পর্কে আপনার মনে একটা wrong image বানানোর চেষ্টা। অলরেডি আপনার/আমার থেকে বা পরিবেশ থেকে শিখে নিয়েছে। এটা একেবারেই বন্ধুত্ব নয়, সন্মান করাও নয়। একে বলে ভয় পাওয়া। এরকম ভয় দেখিয়ে কাজ, যে কেউও করিয়ে নিতে পারে। এই ইমেজটাও একবারে তৈরি করবেন না। আর হয়ে গিয়ে থাকলে, ভেঙে দিন খুব আজই। কারন, ভয়ের পরের ধাপই হলো, দুরত্ব তৈরি করা। নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। কদিন পরই, নিজেকে সরিয়ে নিতে শুরু করবে আপনার থেকে। কিছু বলবে না, সমস্যায় পরলেও। একাকী হয়ে ডিপ্রেশনে ভুগবে, কোনো সমস্যা এলেই।
কি করতে হবে তাহলে? #ওপেন_রিলেশনশিপ বলে একটা কথা খুব চলছে আজকাল। সেটাই করতে হবে। মানে ওয়ান-ওয়ে নয়, টু-ওয়ে রিলেশনশিপ। শুধু আপনি বলবেন না, বেশী বলতে দিন ওকেই। পরাশুনার মাঝে এরকম জিজ্ঞেস করবেন না "হোমওয়ার্ক হয়ে গেছে?" তাহলে উত্তরটা "হ্যাঁ/না" হবে। বরঞ্চ জিজ্ঞেস করুন, "আজকের হোমওয়ার্কটা কি ছিলো?" খাওয়া হয়েছে কি না জিজ্ঞেস করলে, উত্তরটা "হ্যাঁ/না" আসবে। পারলে জিজ্ঞেস করুন কি খেয়েছে? খাবারের টেষ্ট কেমন ছিলো? স্কুলের কিছু বন্ধুর নাম জেনে নিন। নাম উল্লেখ করে জিজ্ঞেস করুন, কে কি করেছে আজ স্কুলে? কেবল পরাশুনা নয়। দুষ্টুমি-বাঁদরামি'র কথাও জানতে চান। তবে ভুল করেও, সেই মোমেন্টে বকতে যাবেন না। তাহলে পরদিন কিন্তু এই সুন্দর করে স্কিপ করে যাবে। আপনি ধরতেও পারবেন না। অন্যভাবে বুঝিয়ে বলুন পরে। গল্প করতে করতে বা খেলতে খেলতে।
শিশুমনে প্রচুর প্রশ্ন আসে। শুরুতে কিন্তু আপনাকেই জিজ্ঞেস করবে। আপনি জবাব না দিলে বা avoid করলে, ওর প্রশ্ন করা কমে যাবে আস্তে আস্তে। বলা ভালো, ওর চিন্তাভাবনা'র ক্ষমতা কমে যাবে। আপনি কি চান, সেটা হোক? তাহলে জবাব তো দিতেই হবে। তাই চেষ্টা করুন জবাব দিতে, না পারলে বলুন সেটা আপনার অজানা। জেনে নিয়ে পরে বলবেন। ভুলেও এরকম wrong image তৈরি করবেন না, যে আপনি সবই জানেন, প্রশ্ন অবান্তর জন্য, আপনি জবাব দিচ্ছেন না। আর হ্যাঁ, ভুলে যাবেন না, জেনে নিয়ে পরে অবশ্যই বলুন। আর, প্রশ্ন শোনার সময় না থাকলে? তখন বলুন, প্রশ্নগুলো লিখে রাখতে। পরে সেগুলো দেখে জবাব দিন। "পরে প্রশ্ন কোরো" এই approach একেবারে নয়। কারন, এত প্রশ্নের ভীড়ে, এখন মনে হওয়া প্রশ্নটা ওর মনে নাও থাকতে পারে। ও ধরে নিতেই পারে, avoid করছেন ওকে।
এভাবে একটু একটু করে প্রায়োরিটি দিতে থাকলে, একাকিত্ব যেমন কমে যাবে, তেমনি আত্মবিশ্বাসও গড়ে উঠবে। আজকের কঠিন/জটিল জীবনে এরপরেও আত্মবিশ্বাসের অভাব হয়। তাই মাঝে মাঝেই ওর নিজের achievement এর কথাগুলো মনে করিয়ে দিন। আলোচনা করুন মাঝে মাঝে সেগুলো। sports এ মেডেল পেয়েছিলো, বা ভালো খেলেছিলো, বা নিতান্তই সেদিন স্কুলের হোমওয়ার্ক খাতায় "ভেরি-গুড" পেয়েছিলো। কিছু সোসাল-ইমোশনাল ভালো গুনের কথাও রাখুন আলোচনায়। এই যেমন ধরুন রাস্তায় কুকুরকে বিস্কুট খাইয়েছিলো। কোনো রাস্তার বাচ্চাকে নিজের একটা খেলনা দিতে বলুন, আর সেটাই বলুন। শেয়ারিং টেন্ডেন্সিও বাড়বে এতে। মাঝে মাঝে আপনাদের নিজেদের ছোটোবেলার গল্প বলুন। তারসাথে ওর এখনকার সিমিলারিটি গুলো ধরিয়ে দিন। দেখবেন কি দারুন ফলো করতে শুরু করবে।