06/06/2022
জিরাফের লম্বা গলার রহস্য !
ছোটবেলা থেকেই জিরাফের লম্বা গলা আমাদের অবাক করেছে। যদিও পরে জীবন বিজ্ঞানের বইয়ে ডারউইনের তত্ত্বে জেনেছি জিরাফের লম্বা গলা হলো "যোগ্যতমের উদ্বর্তন"। তবে এতদিন বইয়ে লম্বা গলার কারণ হিসেবে শুধু খাদ্য সংগ্রহের কথা বলা থাকলেও গবেষকদের নতুন একটি তত্ত্ব এবিষয়ে আরো আলোকপাত করেছে।
1996 সালে উত্তর চিনে প্রত্নতত্ত্ববিদরা একটি নতুন ধরনের প্রাণীর কঙ্কাল উদ্ধার করেন। তারপর বেশ কয়েক বছর ধরে তাকে গবেষকরা "strange beast" বা "guài shòu" বলে আসছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় পর এটি একটি নতুন বৈজ্ঞানিক নাম পেয়েছে - "Discokeryx xiezhi"। এটি আজ থেকে প্রায় 16.9 মিলিয়ন বছর পূর্বে বসবাস করত। গবেষকরা একেই আধুনিক জিরাফের নিকটতম পূর্বসূরি বলে মনে করছেন। এর বিশেষত্ব হলো কপালের অত্যন্ত মজবুত হাড়। মিলনের সময় এই প্রজাতির পুরুষরা অন্য পুরুষ প্রতিপক্ষ কে হারানোর জন্যই কপাল দিয়ে গুতোগুতি করে লড়াই করত। যার গলা যত লম্বা হতো সে প্রতিপক্ষকে হারাতে অ্যাডভান্টেজ পেত। ফলে আধুনিক জিরাফের লম্বা গলা শুধু খাদ্যের সন্ধানে নয়, প্রজননের স্বার্থেও লম্বা হয়ে বিবর্তিত হয়েছে বলে গবেষকদের মত।
যদিও আধুনিক পুরুষ জিরাফরা প্রতিপক্ষের সাথে কপাল দিয়ে গুতোগুতি করে না, বরং নিজের লম্বা গলা দিয়ে প্রতিপক্ষের গলায় আঘাত করে।
#জিরাফ #জীববিজ্ঞান
05/06/2022
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উদ্ভিদের খোঁজ পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক। শুধু তাই নয়, জানা গেছে এটি প্রায় 4500 বছরের পুরনো, অর্থাৎ সিন্ধু সভ্যতার সমকালীন এই উদ্ভিদটি।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে শার্ক বে (Shark Bay) তে প্রায় 180 কিমি বিস্তৃত এই সামুদ্রিক আগাছাটি; অর্থাৎ মুম্বাই থেকে পুনের দূরত্বের চেয়েও বেশি বিস্তৃত এটি। গবেষকরা সমগ্র খাঁড়ি জুড়ে আগাছার নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন এগুলির প্রধান শেকড় একটিই এবং জিন ও একই। এটির বিজ্ঞানসম্মত নাম "Posidonia australis". স্ব-পরাগমিলনের (sologamy) দ্বারা এটি নিজের জিনের গঠন বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
ইতিপূর্বে পৃথিবীর বৃহত্তম উদ্ভিদের খেতাব ধরে রেখেছিল আমেরিকার উটা প্রদেশের Aspen গাছ এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিল কলকাতার বোটানিক্যাল গার্ডেনের "The Great Banyan Tree".
#উদ্ভিদ #সামুদ্রিক_ঘাস
04/06/2022
সম্প্রতি পুরতত্ববিদেরা ইরাকে টাইগ্রিস নদীর তীরে কেমুনে (Kemune) অঞ্চলে 3400 বছরের পুরনো একটি লুপ্ত শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন। ইরাকে বর্তমানে প্রচন্ড খরা চলায় নদীর জলস্তর নিচে নেমে গেছে, ফলে স্থানীয় মসুল বাঁধের জলস্তরও কমে যাওয়ায় এই হারিয়ে যাওয়া শহরটির কিছু অংশ ভেসে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হারিয়ে যাওয়া যাখিকু (Zakhiku) শহর, যা মিত্তানি সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। এই সাম্রাজ্য 1550-1350 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দ নাগাদ উত্তর মেসোপটেমিয়া এবং সিরিয়ায় শাসন করত। ব্রোঞ্জ যুগের এই শহরটি 1350 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে ভূমিকম্পের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পরবর্তীকালে টাইগ্রিস নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এটি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা এখান থেকে 100 টিরও বেশি কিউনিফর্ম লিপির ফলক উদ্ধার করেছেন যা গবেষণার কাজকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে তাদের মত।
#লুপ্ত_শহর
05/12/2021
পাঁচ বছর আগে হরিয়ানার যমুনানগর জেলার অখ্যাত কুর্দবন গ্রামের সম্পর্কে বলার মতন বিশেষ কিছুই ছিল না। গ্রামে জলের দুর্ভোগ, প্রাথমিক স্কুলে ছিল না শৌচাগারের মতন সাধারণ সুবিধাটুকুও।
2016 সালে যুবরাজ শর্মা নামে গ্রামের এক যুবক সিদ্ধান্ত নেন পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়াবেন। ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতকোত্তর (এমটেক) এই 27 বছর বয়সী যুবক তাঁর সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অ্যাসিস্টান্ট প্রফেসরের চাকরি ছেড়ে ভোটে দাঁড়ান। গ্রামের মানুষ সানন্দে এই তরুণকে জিতিয়ে প্রধান (সরপঞ্চ) নির্বাচিত করেন।
তারপর পাঁচ বছরেই পুরো ভোল পাল্টে দিয়েছেন গ্রামের প্রাথমিক স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির। গ্রামের দুই একর জমিতে বানিয়েছেন মনোরম বাগান, বানিয়েছেন গোছানো কমিউনিটি হল, ফিটনেস সেন্টার। গ্রামের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়িয়েছেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন। তাঁর গ্রাম 2017 এবং 2019 সালে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রাম সশক্তিকরণ পুরস্কার পেয়েছে। সম্মান পেয়েছেন রাজ্য সরকারের কাছ থেকেও।
কিন্তু দুই মেয়ের বাবা যুবরাজ শর্মার কাছে 60000 টাকার সরকারি চাকরি ছেড়ে 3000 টাকার সাম্মানিক নেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু গ্রামে পরিবর্তন আনার জন্য সব কষ্ট সহ্য করেও সরপঞ্চ হিসেবে নিরলস কাজ করেছেন তিনি।
আমরা জীবনে অনেক "rags to riches" এর গল্প শুনেছি, কিন্তু যুবরাজ শর্মার মতন এরকম "riches to rags" ও আছেন, যাঁরা প্রচারের বাইরে থেকে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু আইএএস হলেই সমাজে পরিবর্তন আনতে পারা যায়, এই ধারণা ভুল।
#হরিয়ানা
16/09/2021
🐋তিমির মৃতদেহ - Ticking flesh bomb⚠️
#তিমি
পৃথিবীর ইতিহাসে সবথেকে বড়ো প্রাণীর তালিকায় নীল তিমির আকারের প্রাণী খুব কমই আছে। এই বৃহদাকার স্তন্যপায়ীটি ছাড়াও পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৯০ প্রকারের তিমি প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়, তবে এগুলির সবাই বৃহদাকার নয়।
সামুদ্রিক দূষণ জনিত কারনে সমুদ্রতীরে তিমির মৃতদেহ ভেসে আসা আজকাল একটি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়দিনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমুদ্রতটে তিমির একক বা একঝাঁক মৃতদেহ ভেসে আসার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, মৃত তিমির দেহ 🐋অনেকসময় বোমার মতই ফাটতে পারে! এক একটি তিমি মাঝারি থেকে বিশালাকার হয়ে থাকে, নীল তিমির ওজন প্রায় ২০০ টনের মত হয়। এদের মৃত্যুর পর দেহের ভেতর জমে থাকা ফ্যাট পচতে শুরু করে এবং মিথেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মতন গ্যাসগুলো তিমির পেটের ভেতর জমতে শুরু করে। সমুদ্রতটে মৃত তিমি ভেসে আসার পর তার পেশীগুলো শক্ত হয়ে পড়ে, তাই তিমির মুখ বন্ধ হয়ে যায় ফলে পেটের ভেতর সৃষ্টি হওয়া গাসগুলি বের হতে পারে না। এভাবে একটি বড়ো প্রাকৃতিক গ্যাস সিলিন্ডার হয়ে পড়ে তিমিটি।
২০০৪ সালে তাইওয়ানের 🇹🇼 দক্ষিন উপকূলে একটি ৬০ টন ওজনের স্পার্ম তিমি ভেসে আসে, যেটিকে একটি বড়ো ট্রাকে করে নিকটবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সেটি ফেটে যায় এবং রাস্তার আশপাশের সমস্ত দোকানপাট রক্তাচ্ছন্ন হয়ে যায়। এছাড়াও আমেরিকার ওরেগন রাজ্যেও এরকম একটি ঘটনার সম্পর্কে জানা যায়। বর্তমানে তিমির মৃতদেহ সমুদ্রতীরে ভেসে এলে উদ্ধারকারীরা সর্বপ্রথম তিমির পেট চিরে দেন, যাতে গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
#জিওগ্রাফি
06/07/2021
#একাকীত্ব
এই লকডাউনে অনেকেই বুঝতে পেরেছেন, একাকীত্বের অন্ধকারে থাকা কতটা কঠিন। কিন্তু বাড়িতে সোফায় বসে "missing my buddies" ক্যাপশন দিয়ে পুরোনো ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হতাশ হয়ে পড়লে আপনার রীতা আক্কার (তামিল শব্দ আক্কা'র অর্থ বড়দিদি) মতন হাজারো ভারতীয়ের দিকে তাকানো উচিত।
42 বছর বয়সী বাক্ এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী এই বিধবা মহিলা, রীতা আক্কা চেন্নাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এর কত্তুরপুরাম অঞ্চলের এক সাধারণ চুক্তিভিত্তিক সাফাই কর্মী। সকালে উঠেই টানা ভ্যান নিয়ে শহরের রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কার করেন। লিকলিকে শরীরে সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর বাড়িতে ফেরেন। পরিবারে কেউ না থাকলেও তার জন্য রাস্তায় সারি করে অপেক্ষায় থাকে অজস্র বেওয়ারিশ পথকুকুর এবং বেড়াল। বাড়ি ফেরার সময় প্রতিদিন রীতা আক্কা তাদের জন্য বিস্কুটের প্যাকেট কেনেন। তাঁর মাসিক আট হাজার টাকা বেতনের অনেকটাই যায় তাদের খাওয়াতে। নিজে বোবা হওয়ায় তিনি হয়ত এইসব অবলা প্রাণীদের মনের ভাব ভালো করে বুঝতে পারেন। কুকুর বেড়ালরাও তার প্রতি ভালবাসায় কোনো খামতি রাখে না। তখন রীতা আক্কার মুখের দিকে তাকালে জীবনের সব দুঃখ যেন ভুলে থাকা যায়। সামাজিক ভূগোলের social well being theory তাঁর সামনে ফেল করে যায়।
হারুকি মুরাকামির "kafka on the shore" এর বৃদ্ধ নাকাতার সঙ্গে রীতা আক্কার কাহিনী হুবহু মিলে যায়। একাকীত্বের শিকার এক কাল্পনিক এবং এক বাস্তব চরিত্রের জীবে প্রেমের ব্রত তাদের জীবনে বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে।
তথ্য - People's Archive of Rural India
লেখা - Geographical Intelligence Centre
#চেন্নাই
02/07/2021
#ডেস্টিনেশন_ক্রোয়েশিয়া
অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলের বিখ্যাত কার্স্ট অঞ্চলের কথা আমরা সকলেই কমবেশি জানি। বসনিয়া–হার্জেগোভিনার রক্তাত্ব ইতিহাস থেকে 2018 সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার পরাজয় – যুগোস্লোভিয়ার এই উত্তরসূরীরা (স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, সার্বিয়া, মন্টেনিগ্রো, কোসোভো ও নর্থ ম্যাসেডোনিয়া) অনেক ট্র্যাজিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এই দেশগুলিতে কোনো খামতি নেই। পূর্বতন যুগোস্লোভিয়ার থেকে সৃষ্ট ক্রোয়েশিয়ার কিছু অদ্ভুতরকমের সুন্দর ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে আজকে কথা বলবো...❤️🐟
(নিচের ছবিগুলিতে ক্লিক করুন)
12/06/2021
#রাজস্থান
সম্প্রতি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ "Geoglyph" এর নিদর্শন আবিষ্কৃত হলো রাজস্থানের থর মরুভূমিতে। জয়সলমির শহর থেকে ৫০ কিমি উত্তরে বোহা নামের একটি গ্রামের পাশে মরু অঞ্চলে এইসব "Geoglyph" দেখা গেছে।
⚠️"Geoglyph" কি?
Geoglyph বলতে ভূপৃষ্ঠের ওপর মনুষ্যসৃষ্ট বিস্তীর্ণ লেখনী বা জ্যামিতিক আকৃতিকে বোঝায় যা আকাশ থেকে দৃশ্যমান। এটি "Geo" তথা পৃথিবী এবং মিশরের চিত্রলিপি তথা হায়ারোগফিক লিপির সম্মেলনে সৃষ্ট।
এখনও অবধি বিশ্বের বৃহত্তম Geoglyph এর নিদর্শন ছিল দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমে পেরুর উপকূলে নাজকা মরুভূমিতে "নাজকা লাইনস", যা ৪৮ কিমি দীর্ঘ এবং ৮০০ টি ছোটবড় লাইনের সমাবেশ। প্রায় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বে নির্মিত এই দাগগুলো প্রাচীন উপজাতি সমাজের কোনো রীতি বলে মনে করা হয়। ১৯২৭ সালে এগুলি আবিষ্কৃত হয়।
থর মরুভূমিতে পাওয়া Geoglyph গুলির আবিষ্কার করেছেন ফরাসি বাবা ছেলের জুটি Carlo এবং Yohann Oetheimer. তারা প্রথমে গুগল স্যাটেলাইট ম্যাপের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সন্ধান পান, পরে ভারতে এসে ড্রোনের মাধ্যমে এগুলির বিশ্লেষণ করেন। তারা স্যাটেলাইটে মোট ৮ টি সম্ভাব্য স্থানের খোঁজ পেলেও বাস্তবে ২ টি কেই Geoglyph হিসেবে খুঁজে পান। Geoglyph গুলির বিস্তার প্রায় 100000 বর্গমিটার।
এই দাগগুলো র পাশে ১৫০ বছর পুরনো স্মৃতিসৌধ রয়েছে যা আঞ্চলিক প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতির অঙ্গ ছিল। এজন্য তারা এগুলিকে সম্ভাব্য ১৫০ বছরের পুরনো বলছেন, তবে কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে এগুলির ইতিহাস আরো ভালোভাবে জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
https://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-9616319/Huge-spiral-Indian-desert-largest-drawing-experts-say.html
https://www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S2352226721000362
ছবি: রাজস্থানে আবিষ্কৃত Geoglyph এর স্যাটেলাইট ইমেজ।
06/06/2021
সম্প্রতি ইফকো ( ইন্ডিয়ান ফার্মারস ফার্টিলাইজার কো অপারেটিভ লিমিটেড) তাদের 50 তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বিশ্বের প্রথম লিকুইড ইউরিয়ার বাণিজ্যিকীকরণের কথা ঘোষণা করেছে। জুলাই মাস থেকেই দেশের সব বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে লিকুইড ন্যানো ইউরিয়া ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছে বিশ্বের বৃহত্তম কো অপারেটিভ সংস্থাটি।
কৃষিক্ষেত্রে এই ন্যানো ইউরিয়া বিপ্লব আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি 45 কেজির ব্যাগের বদলে মাত্র 500 ml এর এই বোতল অনেক বেশি কার্যকরী। যেখানে সাধারণ গুড়ো ইউরিয়া জমিতে 30-40% নাইট্রোজেন ডেলিভারি করতে পারে, সেখানে এই লিকুইড ইউরিয়ার কার্যকারিতা 80%, এমনটাই জানিয়েছেন ইফকো এর গবেষক রমেশ রালিয়া। সারাদেশের 11000 কৃষক তাদের জমিতে এটির প্রয়োগ করে সুফল পেয়েছেন। 94 টি ভিন্ন ভিন্ন ফসলের ওপর এটি প্রয়োগ করা হয়েছে। সবক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সফলতা পেয়েছে এটি।
উল্লেখ্য 2019-20 সালে ভারত 91.99 লক্ষ মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করেছিলো, এই লিকুইড ইউরিয়া আমদানির পরিমাণ কমানোর জন্য যথেষ্টই কার্যকরী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
https://indianexpress.com/article/india/iffco-launches-worlds-first-nano-liquid-urea-7338821/
https://m.economictimes.com/opinion/et-editorial/kudos-iffco-nano-revolution-mega-yield/articleshow/83214200.cms
#ভূগোল
#ইফকো
30/05/2021
তাঁর দেশের কোনো নাগরিক প্রত্যক্ষভাবে গণহত্যায় সামিল হয়নি, তিনি নিজে গণহত্যাকে সমর্থন করেননি কিংবা তিনি রাজনৈতিক দুর্দিনে পড়েননি, তা সত্ত্বেও রোয়ান্ডার গণহত্যায় পূর্বসূরীদের পরোক্ষ ভূমিকার জন্যে ক্ষমাভিক্ষা চাইছেন – তিনি Emmanuel Macron.
1994 সালের 6 ই এপ্রিল আফ্রিকার দুটি ছোট্ট দেশ রোয়ান্ডা এবং বুরুন্ডির রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী একটি বিমান রানওয়েতে নামার সময় অজ্ঞাতপরিচয় কেউ গুলি চালিয়ে প্লেন ক্রাশ করায়। তাতে দুই রাষ্ট্রনেতাই মারা যান।
রোয়ান্ডার সংখ্যালঘু টুৎসি গোষ্ঠীর ওপর সংখ্যাগুরু হুটু রা খুনের দায় চাপায়। এরপর প্রায় একশো দিন ধরে প্রায় ৮ লক্ষ নিরীহ মানুষের পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ গণহত্যা, অগুনতি ধর্ষণ ও লুণ্ঠন চলতে থাকে। নিহত রাষ্ট্রপতি ফ্রান্সের অত্যন্ত অনুগত ছিলেন এবং গণহত্যার বিষয়টিকে তৎকালীন ফ্রান্স সরকার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাই অনেক টুৎসি নেতারা ফ্রান্সের পরোক্ষ হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেন। কিন্তু ২৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক ফ্রান্স সরকার তাদের সব অভিযোগকে খারিজ করে এসেছিল।
কিন্তু সত্য কখনো চাপা থাকে না, ২৭ বছর পর গণতান্ত্রিক ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপতি Emmanuel Macron গণহত্যার পেছনে ফ্রান্সের পরোক্ষ ভূমিকা স্বীকার করেছেন।
অনেকে ভাবতে পারেন কি আর এসে যায় এতে, যারা মারা গেছেন তারা তো আর ফিরে আসবেন না। ...১৯৭১ এর বাংলাদেশ গণহত্যায় ৩০ লক্ষ নিরীহ মানুষ পরিকল্পিত ভাবে খুন হয়েছিল। অথচ ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশই একে গণহত্যা বলে মানেই না আজ অবধি! তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন প্রত্যক্ষভাবে পাকিস্তানি রাষ্ট্রপ্রধান ইয়াহিয়া খানকে আর্থিক ও সামরিক সাহায্য করেছিলেন, তাই হয়ত। এভাবেই ১৮৪৩ সালের চার্চিলের পরিকল্পিত বাংলার দুর্ভিক্ষ, ব্রিটিশ শোষণের দায় নেওয়ার সৎসাহস সেদেশের কোনো গণতান্ত্রিক নেতা বা নেত্রীর নেই। এখানেই মাক্রোর মহানুভবতা– আমার চোখে দেখা সেরা বিদেশি রাষ্ট্রনেতা।
..ক্ষমা চাইলে কেউ ছোট হয়না।
https://www.aljazeera.com/news/2021/5/27/macron-recognises-french-responsibility-in-rwanda-genocide
https://www.ndtv.com/world-news/french-president-emmanuel-macron-apologises-for-1994-rwandan-genocide-says-give-us-the-gift-of-forgiveness-2450424