30/05/2026
শুধু টিউশন দিলেই হয় না
একজন অভিভাবক ভাবলেন, “ছেলেকে ভালো টিউশনে ভর্তি করে দিয়েছি, এবার আর কোনো চিন্তা নেই।”
প্রতিদিন ছাত্রটি টিউশনে যেত, খাতা-কলম নিয়ে ফিরত, আর সবাই ভাবত পড়াশোনা ঠিকঠাকই চলছে।
কিন্তু কয়েক মাস পর পরীক্ষার ফল বের হতেই দেখা গেল ফল আশানুরূপ নয়।
তখন অভিভাবক টিউশন শিক্ষককে দোষ দিতে শুরু করলেন। কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, একজন শিক্ষক সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা পড়ান, আর বাকি সময়টা ছাত্র কোথায়, কী করছে, সেটা দেখার দায়িত্ব কার?
টিউশনে স্যার কী পড়ালেন, খাতায় কী লিখতে দিলেন, কোন ভুলগুলো ধরিয়ে দিলেন, বাড়ির কাজ দিলেন কি না—এসব কি কখনও নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হয়েছে?
ছাত্র সত্যিই পড়তে যাচ্ছে, নাকি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে—সেটা কি দেখা হয়েছে?
অনেক সময় দেখা যায়, টিউশন থেকে ফিরে খাতা খোলারও প্রয়োজন মনে করা হয় না। স্যারের দেওয়া কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, ভুলগুলো সংশোধন করা হয় না, আর ধীরে ধীরে পড়ার প্রতি আগ্রহ কমতে থাকে।
শিক্ষক পথ দেখাতে পারেন, বুঝিয়ে দিতে পারেন, ভুল ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু সেই পথ ধরে নিয়মিত চলার জন্য দরকার ছাত্রের চেষ্টা এবং অভিভাবকের নজরদারি।
একটি গাছকে শুধু ভালো মাটি দিলেই হয় না, নিয়মিত জলও দিতে হয়। তেমনি শুধু টিউশন দিলেই ভালো ফল হয় না। বাড়িতে একটু সময় দেওয়া, খাতা দেখা, পড়ার খবর নেওয়া এবং সঠিকভাবে গাইড করা—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সফলতার পিছনে শুধু শিক্ষক নন, ছাত্র, অভিভাবক এবং শিক্ষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আসল শক্তি।