26/08/2022
#শিক্ষনীয়_গল্প
বনের ভেতর এক হরিনীর সময় হলো সন্তান জন্ম দেয়ার।
তাই সে বনের ধারে যেয়ে নদীর পাশে ঘাস জমিতে সুন্দর একটি জায়গা খুজে বের করে
নিলো সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য।
সময় কিছু পার হলো, তার প্রসব যন্ত্রনা সুরু হোলো। কিন্তু বিধি বাম। এসময় হরিনীটির চারপাশে দেখা দিলো নানা বিপদ।
হরিনীটি যখন উপরে তাকালো, দেখলো দূর্যগের
মেঘে আকাশ ছেয়ে আছে। সে তখন জংগলের দিকে তাকালো, দেখলো ঘন জংগলে হঠাৎ দাবানল শুরু হয়েছে। এর মাঝে সে টের পেলো তার
সামনে এক ক্ষুধার্ত সিংহ তার দিকে এগিয়ে আসছে।
আর পেছনে ফিরে দেখলো এক শিকারী তার
দিকে তীর নিশানা করে আছে। নদীটাও ভিষণ ক্ষরোস্রতা।
এখন সে কি করবে?
দিশেহারা সময়টিতে দাবানল, নদীর স্রোত, ক্ষুধার্থ
সিংহ আর নির্দয় শিকারী দিয়ে চারদিক দিয়ে ঘিরে আছে।
হরিনীটি তাই চুপচাপ কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে সৃষ্টিকর্তা কে স্বরণ করলো। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসারেখে সে সিদ্ধান্ত নিলো সন্তান জন্ম দেবার।
বিপদ আপদ যদি ঘটে ঘটুক। সে
বিশ্বাসী মনে চোখ বুজে সৃষ্ঠিকর্তার হাতে
ছেড়ে দিলো।
সে অটুট রইলো নিজের দ্বাইত্বের উপর।
সাথে সাথে কিছু মিরাকল ঘটলোঃ
- কালো মেঘে ঢাকা আকাশে তুমুল ঝড় বৃস্টি শুরু হলো। সেই সাথে প্রচন্ড বজ্রপাতে শিকারীর
চোখ অন্ধ হয়ে গেলো।
- অন্ধ শিকারী তীর ছুড়ে দিলো। সেই তীর হরিনীর পাশ কেটে সিংহের মাথায় আঘাত করলো।
- তুমুল বৃস্টির জলে জংগলের আগুন নিভে শান্ত হয়ে গেলো।
- হরিনীটি একটি সুস্থ ও সুন্দর শাবকের জন্ম দিলো।
আমাদের জীবনেও এরকম কিছু সময় আসে।চারদিক থেকে বিপদ, নিন্দা, হতাশা আর অসহযোগিতা
চেপে ধরে আমাদের। কখনো কখনো এই খারাপ সময় এত শক্তিশালী মনে হয় যে আমরা
পরিস্থিতির কাছে হার মেনে যাই।
আত্নহত্যার কথাও চিন্তা করি।
অথচ এটি ভুল। আর সেটা আমরা এই হরিনের গল্প
থেকেই শিখে নিতে পারি।
যখন হরিনীটির চারপাশে এত বিপদ ছিলো, তবু জীবন মৃত্যু যাই আসুক, সে বিপদের আশংকায়
নিজের লক্ষ্য থেকে একবিন্দু সরে যায়নি। সে তার কাজ, অর্থাৎ সন্তান জন্ম দেয়াতেই নিজের সব
মনযোগ দিয়েছে। আর তখন বাকী সব বিপদ
আপদ সৃষ্টিকর্তার নিজে সমাধান করে দিয়েছেন।
যখন হতাশা গ্রাস করে, নিজের উপর বিশ্বাস উঠে যায়, তখনো সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখবেন।
জীবনের লক্ষ্যে স্থির থাকবেন।
আর কখনো লক্ষ্য থেকে একবিন্দু পিছপা হবেন না।
মনে রাখবেন, আপনি যত বড় ঝড়ের মাঝেই থাকুন,
যত নিঃসঙ্গই আপনি নিজেকে ভাবুন না কেন,সৃষ্টিকর্তা কখনো আপনাকে ছেড়ে যাননি।
তিনি সর্বদা আপনার কাছেই আছেন।
মনে রাখবেন, সৃষ্টিকর্তা কখনো ঘুমান না এবং
কোন তন্দ্রাও তাকে কখনো স্পর্শ করেনা।
সব সময় তিনি আপনাকে দেখছেন এবং আপনার নেক যে কোন প্রার্থনা
তিনি অপূর্ণ রাখবেন না।