25/07/2025
"আতঙ্ক নয়, অংশগ্রহণই হোক আমাদের উত্তর"
বৈধ ভোটার/নাগরিকদের জন্য কোনো অসুবিধা নেই। সমস্যায় পড়বেন শুধুমাত্র তারাই, যারা অবৈধভাবে ভোটার হয়েছেন।
আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্সকে এখন আর এককভাবে গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন নতুন ভোটার নিবন্ধন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে যেসব ১১টি নথি প্রয়োজনীয় বলে তালিকাভুক্ত করেছে, তার একটিও না থাকা ব্যক্তি বা নাগরিক খুঁজে পাওয়া একজন প্রকৃত ভারতীয়, বিশেষত বাঙালির জন্য বিরল।
নির্বাচন কমিশন যে ১১টি নথিকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার প্রায় সবগুলোই সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের, বিশেষত আমাদের মতো বাঙালিদের ঘরে রয়েছে। নেই কেবল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের।
এছাড়াও নির্বাচন কমিশন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রেখেছে, যাতে হিন্দু হোন বা মুসলমান—সাধারণ বাঙালিদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সেটা হলো:
২০০৩ সালের আগে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এবং তাঁদের সন্তানদেরও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
তবে, যদি কারও কাছে এই ১১টি প্রমাণপত্রের কোনোটিই না থাকে, তাহলেও চিন্তার কিছু নেই—ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক (ERO) প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে সত্যতা যাচাই করবেন। উপরন্তু, নিজেকে বৈধ প্রমাণ করার জন্য আদালতের দ্বারও সর্বদা খোলা রয়েছে।
অতএব, যারা এই বাস্তব ও পরিষ্কার তথ্যগুলো উপেক্ষা করে আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, মনে রাখবেন—তারা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে হুমকির মুখে ফেলতে চায়। কারণ, তাদের কাছে বৈধ ভারতীয়ের চেয়ে অবৈধ ভোটারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত ১১টি বৈধ প্রমাণপত্র:
১. পৌরসভা, পঞ্চায়েত বা অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত জন্ম সনদ।
২. পররাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা পাসপোর্ট।
৩. স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইস্যুকৃত মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক/উচ্চশিক্ষার শংসাপত্র।
৪. সরকার (কেন্দ্র/রাজ্য/PSU) কর্তৃক জারি করা পরিচয়পত্র বা পেনশন আদেশ।
৫. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অনুরূপ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত স্থায়ী বাসস্থান (ডোমিসাইল) শংসাপত্র।
৬. বন অধিকার আইনের অধীনে জারি করা বন-অধিকার শংসাপত্র।
৭. যোগ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা জাতিগত শংসাপত্র (SC/ST/OBC)।
৮. NRC সংক্রান্ত নথি (যেখানে প্রযোজ্য)।
৯. স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার জারি করা পারিবারিক নিবন্ধনপত্র।
১০. সরকারি অফিস থেকে জারি করা জমি বা গৃহ বরাদ্দ সংক্রান্ত শংসাপত্র।
১১. ১৯৮৭ সালের পূর্বে সরকার বা PSU-এর জারি করা পরিচয়পত্র।
👉 উল্লেখ্য: আধার, প্যান এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স এখন আর এককভাবে প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
👉 যাঁরা ২০০৩ সালের পূর্বে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁদের সন্তানরা—তাঁদের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই।