14/02/2024
আমার সন্তান সম প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা,
আজ সমারোহের সঙ্গে আমরা সকলে মিলে সরস্বতী পূজা সম্পাদন করলাম। দেবী সরস্বতী হিন্দু ধর্মে জ্ঞানের দেবী। জ্ঞান বলতে অবশ্যই এখানে শুভ ও পবিত্র জ্ঞানের কথা বলা হয় যা সমগ্র জগতের উপকার সাধন করে । জ্ঞান আহরণের প্রধান মন্ত্রটি হল "প্রশ্ন করা"। সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতি যত জ্ঞান অর্জন করেছে সবই এই "প্রশ্ন করার " মাধ্যমেই।
এস আজ আমরা দেবী সরস্বতী সম্বন্ধে এই প্রশ্নের দ্বারাই কিছু জ্ঞান আহরণের চেষ্টা করি। মূলত দেবী সরস্বতী শুভ্র বসনা এবং শেষ পদ্মে অবস্থিতা। এখানে শুভ্র বসন হলো পবিত্রতার প্রতীক এবং শেষ পদ্ম হল পবিত্র জ্ঞানের প্রতীক। এবার প্রশ্নআসে কে এই দেবী সরস্বতী? থাকেন কোথায় ?এর উত্তরে বলতেই হয় , এমন কেউ কোথাও ছিলেন না ,নেই, থাকবেনও না। হিন্দু ধর্ম হলো প্রতীক পুজোর ধর্ম । দেবী সরস্বতীর পুজো করার অর্থ নিজের মধ্যে শুদ্ধ জ্ঞান আহরণ ও তার চর্চা করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া। প্রতিবছর নিজেকে একবার করে মনে করিয়ে দেওয়া যে আমার প্রাত্যহিক দিন যাপনে যেন আমি শুদ্ধ ,পবিত্র জ্ঞান আহরণ ও চর্চা কে প্রাধান্য দিই। এই বোধ কে যদি মনে স্থান দিতে না পারি তাহলে সরস্বতী পুজো ব্যর্থ । যেহেতু আমরা প্রথমেই অমূর্তকে অনুভব করতে পারি না অর্থাৎ নিজেদের এই অন্তর্নিহিত শক্তিকে বুঝতে পারি না তাই প্রতীকের প্রয়োজন হয়। যেমন, দূর্বা নম্রতা নমনীয়তা ও সজীবতার প্রতীক। বেলপাতা শক্তির প্রতীক, ধান সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই শুভ কর্মে আমরা এগুলি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কালক্রমে মূর্তি বা প্রতীকই সব স্থান দখল করেছে । আসল উদ্দেশ্য আমরা বিস্মৃত হয়েছি।
আমার অনুরোধ তোমরা প্রতীকের আড়ালে তোমার অন্তস্থিত শক্তি কে আহবান কর। প্রশ্ন করো সবকিছুকে। ততক্ষণ প্রশ্ন করো যতক্ষণ না তোমার যুক্তিযুক্ত জবাব পাও। অনেক প্রশ্নের জবাব তুমি তোমার বুদ্ধির দ্বারাই তোমার মধ্যে খুঁজে পাবে। প্রতিদিনের শেষে ভেবে দেখো সারাদিন তুমি কতটুকু জানলে, যা জানলে তাকে তোমার যুক্তির দ্বারা বিশ্লেষণ করে দেখো তোমার জানা সঠিক কিনা। তবেই সরস্বতী পুজো সফল হবে । এই পূজা কোন ঠুনকো নিয়ম পালন নয়। এ আমাদের ঐতিহ্যের অঙ্গ। আর দৈনন্দিন জীবনে আমাদের ঐতিহ্য বহন করার দায়িত্ব আমাদের পর তো তোমাদেরই ।