Bangaljhi Ramkrishna Ashram School Friends

Bangaljhi Ramkrishna Ashram School Friends Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bangaljhi Ramkrishna Ashram School Friends, School, Bangaljhi, Chapra.

"সাড়ে চারশো কিমি অতিক্রমের যুদ্ধে বিধ্বস্ত শিশু কাঁধে পদাতিক, "মহাভারত নির্মাণ সৈনিক"।সাংবাদিকের কলমে এটাই নাকি আজকের স...
29/03/2020

"সাড়ে চারশো কিমি অতিক্রমের যুদ্ধে বিধ্বস্ত শিশু কাঁধে পদাতিক, "মহাভারত নির্মাণ সৈনিক"।
সাংবাদিকের কলমে এটাই নাকি আজকের সেরা হৃদয় বিদারক ক্লিক!"🙏

পথে পথে এরা কি আপনার রামায়ণ মহাভারত সিরিয়ালের পদাতিক সৈনিক, হে রাজন!

যাঁরা আমার পোস্টের লিঙ্ক চান তাঁদের জন্যে লিঙ্ক আছে! মহিলা সাংবাদিকের পরিচয় ও!("আজ আমার ক্যামেরায় এটাই বুঝি সবচে হৃদয় বিদারক ক্লিক।":- ইসমত আরা)

কিন্তু দিল্লী থেকে কানপুর 450 কিমি হেঁটে যাওয়া শিশু কাঁধের মানুষটির কর্মক্ষেত্রের বা বাসা'র লিঙ্ক চাইবেন না। বাসস্থান চ্যুত শিশুটি ঘটনার আতঙ্কে শুয়ে আছে চোখ মেলে তাকাতে ও ভয়।

কেবল প্রার্থনা করুন, তার বাবার আকুতি যেন সফল হয়। কারণ, "গাঁয়ে ফিরলে তেষ্টার জল টুকু তো কেউ কেড়ে নেবে না!"

নাহ্, এই অবিরাম হেঁটে যাওয়া জেদী বাবার কারো বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র নেই!

না বচন সর্বস্ব শাসক।
না ঘাড় ধাক্কা দেয়া মালিক!

07/03/2020

"Happy Holi" লিখে দেখুন মিউজিকের সাথে রং বর্ষন করছে !!!

বাংলা ভাষার জয়গান আজ বিশ্বজুড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রক্তাক্ত রাস্তা সে পরিচিতি এনে দিয়েছে। বরকত, জব্বার, ...
22/02/2020

বাংলা ভাষার জয়গান আজ বিশ্বজুড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রক্তাক্ত রাস্তা সে পরিচিতি এনে দিয়েছে। বরকত, জব্বার, সালামদের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিও। কিন্তু এর পাশাপাশি, মাতৃভাষার জন্য মানভূমের বাঙালিদের দীর্ঘ আন্দোলন নিয়ে যে কোনও রকম আলোচনা থেকে বিরত থাকেন অনেক বাঙালি। অবহেলা না আত্মবিস্মরণ? ভুলে গেলে চলবে না, আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যতগুলো ভাষা আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্যে দীর্ঘতম ভাষা আন্দোলনও এই বাংলার মাটিতেই। না, সেটি ২১ ফেব্রুয়ারির আন্দোলন নয়। তা হল মানভূমের ভাষা আন্দোলন।

আরও পড়ুন
‘হাতির মতো বড় উৎসব’ সহরায়ের সঙ্গে মিশে সাঁওতালদের ভিটে বাঁচানোর যুদ্ধের ইতিহাস

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে, ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের নীতির বাস্তব রূপায়নের দাবিতে দেশের আঞ্চলিকতা বেড়ে উঠতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু দেশের ভাষাভিত্তিক প্রদেশ কমিশন নিয়োগ করেন। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে কমিশন মত দেয় যে, শুধুমাত্র ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠন না করে ভারতের ঐক্যবদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই, তৎকালীন বিহার সরকার ওই রাজ্যের মানুষদের ওপর হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রাথমিক স্তরে ও সরকারি অনুদান যুক্ত বিদ্যালয়ে হিন্দি মাধ্যমে পড়ানোর নির্দেশ আসে, জেলা স্কুলগুলিতে বাংলা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে শুধুমাত্র হিন্দিতে শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাঙালির মানভূমে তখন থেকেই শুরু হল এক রকম ‘হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ’। একের পরে এক বাংলা স্কুল পরিণত হল হিন্দি স্কুলে। পোস্ট অফিস-সহ সমস্ত সরকারি দফতরে হিন্দি বাধ্যতামূলক করা হল। এর বিরুদ্ধেই মানভূমের ভাষা আন্দোলন। গর্জে ওঠে লক্ষ লক্ষ বাঙালি। শিক্ষা ও প্রশাসনিক স্তরে তাদের মাতৃভাষা বাংলাকে স্বীকৃতির জন্য শুরু হয় আন্দোলন।

বিহার রাজ্য সরকার মানভূমে বাংলার ব্যবহার সীমিত করার জন্য কঠোর হতে শুরু করলে অতুলচন্দ্র ঘোষ, লাবণ্যপ্রভা ঘোষ, অরুণচন্দ্র ঘোষ, বিভূতিভূষণ দাশগুপ্ত সহ ৩৭ জন নেতা কংগ্রেসের জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করে ‘লোক সেবক সংঘ’ গঠন করেন। এই সংঘ বাংলা ভাষার মর্যাদার প্রশ্নে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করে।

কিন্তু ১৯৪৬-এর বিহার নিরাপত্তা আইনের ‘নামে’ অত্যাচার শুরু হল ভাষা আন্দোলনকারীদের উপরে। সত্যাগ্রহকে দমন করার জন্য হয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, বিচিত্র দমন-পীড়ন। শুরু হল ‘টুসু সত্যাগ্রহ’। মানভূমের লোকগান ‘টুসু’, সাধারণের স্বতোৎসারিত আবেগ মিশে থাকে। তাতেও ফুটে উঠতে লাগল বাংলা ভাষার প্রতি আবেগ। ১৯৫২ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হলেন ‘লোকসেবক সংঘে’র দুই জন প্রার্থী (ভজহরি মাহাতো ও চৈতন মাঝি)। বিধানসভায় জিতে এলেন সাতজন। মানভূমে বাংলা ভাষার আন্দোলন দৃষ্টি আকর্ষণ করল কলকাতা ও দিল্লির।

সেই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান হল –

শুন বিহারী ভাই, তোরা রাখতে লারবি ডাঙ্ দেখাই
তোরা আপন তরে ভেদ বাড়ালি, বাংলা ভাষায় দিলি ছাই
ভাইকে ভুলে করলি বড় বাংলা-বিহার বুদ্ধিটাই
বাঙালী-বিহারী সবই এক ভারতের আপন ভাই
বাঙালীকে মারলি তবু বিষ ছড়ালি — হিন্দি চাই
বাংলা ভাষার পদবীতে ভাই কোন ভেদের কথা নাই
এক ভারতের ভাইয়ে ভাইয়ে মাতৃভাষার রাজ্য চাই
(গীতিকার – ভজহরি মাহাতো)

মানভূম ভাষা আন্দোলনে নারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল অপ্রতিরোধ্য। জননেত্রী লাবণ্যপ্রভা দেবীকে পুলিশ ও রাজনৈতিক গুন্ডারা চুলের মুঠি ধরে ঘর থেকে বের করে, সঙ্গে চলে অকথ্য নির্যাতন ও সম্ভ্রমহানি। শবরনেত্রী রেবতী ভট্টাচার্যকে পিটিয়ে জঙ্গলের মধ্যে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে রেখে যায় বিহারি পুলিশ। জননেত্রী ভাবিনী মাহাতোর ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়। এই সময় বিহারের জননিরাপত্তা আইনের ধারায় লোকসেবক সংঘের কর্ণধার অতুলচন্দ্র ঘোষ, লোকসভা সদস্য ভজহরি মাহাতো, লাবণ্যপ্রভা ঘোষ, অরুণচন্দ্র ঘোষ, অশোক চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

এরই মধ্যে শুরু হয় সীমা কমিশনের কাজ। সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের তৎকালীন দুই মুখ্যমন্ত্রীর (বিধানচন্দ্র রায় ও শ্রীকৃষ্ণ সিংহ) তরফে বঙ্গ-বিহার যুক্ত প্রদেশ গঠন করার প্রস্তাব আসে। ইতিমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে ‘টুসু সত্যাগ্রহ’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মানভূমের ভাগ্যের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায়, ১৯৫৬ সালের এপ্রিলে লোক সেবক সংঘের আন্দোলনকারীরা কলকাতা অভিমুখে পদযাত্রার সিদ্ধান্ত নেন। ২০শে এপ্রিল অতুলচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে সাড়ে তিনশ’ নারীসহ হাজার দেড়েক আন্দোলনকারী দশটি বাহিনীতে ভাগ হয়ে পুঞ্চার পাকবিড়রা গ্রাম থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। ষোলো দিন পর, ৬ই মে কলকাতায় উপস্থিত হয় সেই পদযাত্রা। ২০ এপ্রিল থেকে ৬ মে টানা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছিলেন সত্যাগ্রহীরা। কণ্ঠে ছিল ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘বাংলা ভাষা প্রাণের ভাষা রে’ গান।

কলকাতাবাসীদের পক্ষ থেকে হেমন্তকুমার, জ্যোতি বসু, মোহিত মৈত্র, সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট নাগরিকগণ সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশ যেন না হতে পারে। এজন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আগে থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছিল। ফলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে পুলিশ ৯৬৫ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে। বন্দিদের পাঠানো হয় কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেল, আলিপুর সেন্ট্রাল জেল ও আলিপুর স্পেশাল জেলে। বারো দিন পর তাঁরা মুক্তি পান। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থানে প্রায় ৩,৩০০ আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়, যারা প্রধানত লোক সেবক সংঘ অথবা বাম দলগুলোর কর্মী ছিলেন।

আরও পড়ুন
জলের নিচে লুকিয়ে প্রাচীন মন্দির, উঁকি দেয় চূড়া, পুরুলিয়ার তেলাকুপির গল্প এমনই

বাধ্য হয়ে রদ করা হয় বাংলা-বিহার সংযুক্তির প্রস্তাব। বঙ্গ-বিহার ভূমি হস্তান্তর আইন পাশ হয়। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই আগষ্ট লোকসভায় ও ২৮শে আগষ্ট রাজ্যসভায় বাংলা-বিহার সীমান্ত নির্দেশ বিল পাশ হয়। ১লা সেপ্টেম্বর এতে ভারতের রাষ্ট্রপতি সই করেন।

মানভূম ভাষা আন্দোলনের চাপ তখন বাড়ছে ক্রমাগত। ১৯৫৬ সালে মানভূমকে তিন টুকরো করে, বাংলা অধ্যুষিত ১৬টি থানা অঞ্চল জুড়ে জন্ম নিল পুরুলিয়া জেলা। অন্তর্ভুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গের।

সীমা কমিশনের রিপোর্ট লোকসভা হয়ে ‘সিলেক্ট কমিটি’ ও আরও নানা স্তর পেরিয়ে ১ নভেম্বর, ১৯৫৬ ২৪০৭ বর্গ মাইল এলাকার ১১,৬৯,০৯৭ জন মানুষকে নিয়ে জন্ম নেয় আজকের পুরুলিয়া। সম্পূর্ণ ধানবাদ মহকুমা বিহার রাজ্যে রয়ে যায়। টুসু সাধিকাদের সেই ভাষা আন্দোলন আজ জনমানসে বিস্মৃতপ্রায় হলেও ইতিহাসের দলিলে তা উজ্জ্বল। মানভূমের এই ভাষা আন্দোলন কোনো স্বাধীন দেশ গড়ার আন্দোলন ছিল না, ছিল কেবল বাংলা ভাষাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার লড়াই। আজকের প্রশাসনিক পুরুলিয়া সেই লড়াইয়েরই ফসল

ভুলে গেলে চলবে না, আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যতগুলো ভাষা আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্যে দীর্ঘতম ভাষা আন্দোলনও এই বাংলার মাটি....

আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসা...
09/02/2020

আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসামীর উপর একটি পরীক্ষা করার প্রস্তাব করলেন । কয়েদীকে শোনানো হলো ফাঁসির বদলে তোমাকে বিষাক্ত কোবরা সাপ দংশন করিয়ে হত্যা করা হবে।

কয়েদীকে চেয়ারে বসিয়ে তার হাত-পা বেঁধে দেয়া হলো, তারপর তার চোখে পট্টি বেঁধে বিষাক্ত কোবরা সাপ না এনে তার বদলে দুটি সেফ্টি পিন ফুটানো হলো। ফলে কয়েক
সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েদির মৃত্যু হলো ৷ পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা গেল সাপের বিষ রয়েছে তার শরীরের মধ্যে। প্রশ্ন হলো এই বিষ কোথা থেকে এলো, যা ঐ কয়েদীর প্রাণ কেড়ে নিল।

বলা হয় সেই বিষ তার নিজের শরীর থেকেই উৎপত্তি হয়েছিল।আমাদের সংকল্প থেকে positive এবং negative এনার্জির সৃষ্টি হয়। আর সে এনার্জি আমাদের শরীরে হরমোনের উৎপত্তি করে ৷ 75% রোগের মূল কারণ হলো আমাদের negative চিন্তাধারা। মানুষ নিজের চিন্তাধারা থেকে ভস্মাসূর হয়ে নিজ প্রজাতিকে বিনাশ করছে। আপনার চিন্তাধারা সর্বদা positive রাখুন এবং খুশী থাকুন।

২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা ভাবি যে '‘মানুষ কি মনে করবে!" ৫০ বছর আমরা ভয় পাই ‘মানুষ কি ভাববেন!‘ ৫০ বছর পরে আমরা বুঝতে পারি ‘'কেউ আমার কথা চিন্তাই
করেনি৷‘' কিন্তু তখন তেমন কিছু করার থাকে না!

তাই ইচ্ছেশক্তিকে কখনোই থামতে দেয়া যাবে না। কে কি বলে তা নিয়ে না ভেবে নিজের পজিটিভ চিন্তাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সফলতা (Desired Goal) ধরা দিবে।

দেবতোষ চক্রবর্তী । ১৯৮৯ এ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে পঞ্চম, ১৯৯১ এর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে  সপ্তম, জয়েন্ট এ মেডিকেল ...
04/02/2020

দেবতোষ চক্রবর্তী । ১৯৮৯ এ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে পঞ্চম, ১৯৯১ এর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে সপ্তম, জয়েন্ট এ মেডিকেল রাঙ্ক ১৭, এরপরে ভর্তি হোলো কলকাতা এন আর এস মেডিকেল কলেজে। ১৯৯১ ব‍্যাচ ফার্স্ট ইয়ারের শেষ দিকে আমার রুমমেট হয়ে আসে দেবতোষ । স্টুডেন্ট হোস্টেলের পান্ডববর্জিত সাউথ গ্রাউন্ড ফ্লোর । ওর বাবা ছিলেন রাইটার্সের উচ্চপদস্থ অফিসার, মা সরকারি কলেজের অধ্যাপিকা। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে দেবতোষ পৈতৃক সূত্রেই ছিলো বনেদি, সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছিলো ও । কিন্তু দেবতোষের চলনে বলনে বিত্তপ্রদর্শন বা অহং এর লেশমাত্র ছিল না । পারিবারিক মূল‍্যবোধ ও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষা ওর মধ‍্যে এক পরিপূর্ণ মানুষের ভিত গড়ে দিয়েছিল ।

আমাদের ব‍্যাচের নিঃসন্দেহে সেরা প্রতিভা দেবতোষ । কবিতা লেখা, নাটক তৈরী, অভিনয়, ব‍্যাডমিন্টন - সবার আগে দেবতোষ । একেক সকালে ঘুম ভেঙে দেখতাম , বড় ক‍্যানভাসে আঁকা অপূর্ব দৃশ‍্যপট, সারারাত ছবি এঁকে ঘুমিয়ে পড়েছে দেবতোষ । ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে রংতুলি,প‍্যাস্টেল । আবার ,তুলনামূলক অল্পসময় পড়াশোনা করেই অসাধারণ রেজাল্ট করতো প্রতিটি পরীক্ষায়।

সঙ্গীত ছিল ওর প‍্যাশন, বলা ভালো দেবী সরস্বতীর মানসপুত্র ছিলো ও, সঙ্গীত এর এমন কোনো রাগ নেই যা ওর অজানা, তেমনি ঈশ্বর প্রদত্ত গলা, আর ওর চেহারা ছবি দেখে মনে হয় স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র। কি অসাধারণ কথাবার্তা, আমাদের সবাই ওর গুণে মুগ্ধ ছিলাম, কোনো গল্প শুরু হলে আমরা সবাই চাইতাম দেবতোষ যেন আরেকটু থাকে ।

এরপরে MBBS এ অসাধারণ রেজাল্ট করবার পরে মেডিক‍্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পরেই ও হোস্টেল ও কলেজ ছেড়ে চলে যায় দিল্লীর AIMS এ MD করতে। হার্ট এর ওপর স্পেশালিস্ট MD হয়ে দেবতোষ পাড়ি দেয় মার্কিন মুলুকে হার্ট এর ওপর গবেষণা করতে, দীর্ঘ কয়েকবছর হার্ট এর ওপর গবেষণা করার পরে হটাৎ ই ও নিখোঁজ হয়ে যায়, দীর্ঘদিন কেউ ওর কোনো খোঁজ খবর পায়না । অনেক পরে খবর পাওয়া যায় যে, দেবতোষ সন্ন‍্যাস নিয়েছে। ২০০৮ - ০৯ নাগাদ কামারপুকুরে জয়ন্ত মহারাজের কাছে শুনি, দেবতোষ মহারাজ বেলুড় মঠের আরোগ‍্য ভবনের দায়িত্ব নিয়ে ফিরে এসেছেন ।

পরদিনই ছুটে যাই বেলুড়ে, প্রথম দেখাতেই আমি সম্ভিত হয়ে যাই, কাকে দেখছি... মনে হচ্ছিলো স্বয়ং বিবেকানন্দ আমার সামনে। মুন্ডিতমস্তক,গেরুয়া বসন, চারিদিকে যেন জ্যোতি বেরোচ্ছে, নিজের অজান্তেই সহপাঠী বন্ধুকে নিজের অজান্তেই পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে যেতেই একইরকম উষ্ণতা নিয়ে জড়িয়ে ধরে আমার বন্ধু দেবতোষ, না , ভুল বললাম ... আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজ ।

বিখ্যাত ডাক্তার থেকে শুরু করে খ্যাতনামা সংগীত শিল্পী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অথবা কোনো নামি অভিনেতা যা ইচ্ছা হ'তে পারতো দেবতোষ...যা ইচ্ছা। কিন্তু সব ছেড়ে ও বেছে নিল অসীমের পথ...ত্যাগ, সেবা ।

থ্রি ইডিয়টসের র‍্যাঞ্চোকে মনে পড়ছে ? দেবতোষ মহারাজ , আমার সেই র‍্যাঞ্চো ।

----- দেবতোষ মহারাজের এক বন্ধু ।

(সংগৃহীত)

আর ২৪ ঘন্টা পর ঈশ্বরের জন্মদিন ♥️
22/01/2020

আর ২৪ ঘন্টা পর ঈশ্বরের জন্মদিন ♥️

My first book WEST BENGAL AT A GLANCE   on WEST BENGAL, its Geography, Economy, History, Demography...almost everything ...
19/01/2020

My first book WEST BENGAL AT A GLANCE on WEST BENGAL, its Geography, Economy, History, Demography...almost everything within the scope of 750 pages including 24 coloured maps, coming up in next few days. It is very useful for WBCS Exam, IAS Exam and all other Govt exams including interviews/ personality tests.

Dedicated to my parents, wife ,children and teachers , friends, colleagues, many WBCS Aspirants and the publisher Kalpataru Books, without whose active support it was not possible.

Special thanks to Shubhanjan Das Sir, IAS, for guiding me on this book.

Page link https://www.facebook.com/pg/westbengalataglance/community/




Availability Enquiry at +918777076749

দিনটা ছিল ২০১১ সালের ১২ই এপ্রিল ...বাইশ বছরের একটা মেয়ে লক্ষনৌ থেকে পদ্মাবতী এক্সপ্রেসে উঠেছিল দিল্লী যাবে বলে। রাতের ট্...
19/01/2020

দিনটা ছিল ২০১১ সালের ১২ই এপ্রিল ...

বাইশ বছরের একটা মেয়ে লক্ষনৌ থেকে পদ্মাবতী এক্সপ্রেসে উঠেছিল দিল্লী যাবে বলে। রাতের ট্রেন, তাড়াহুড়োয় সে একাই চলেছে।

মনে তার চাপা আনন্দ। CISF এ চাকরিটা এবার বোধ হয় হয়েই যাবে। আর হবে নাই বা কেন? জাতীয়স্তরের ভলিবল খেলোয়াড় সে, সঙ্গে ফুটবলও খেলে মাঝেমাঝেই। স্পোর্টস কোটায় অনেকদিন আগেই তার চাকরিটা হয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল, এখনো যে হয়নি এটাই আশ্চর্যের।

মেয়েটা যখন লক্ষনৌ থেকে ট্রেনে উঠল তখন রাত প্রায় বারোটা। হঠাৎ ইন্টারভিউয়ের চিঠি আসায় তাড়াহুড়োয় রিজার্ভেশন কিছুতেই পাওয়া যায়নি, মেয়েটা কোনোরকমে জেনারেল কামরায় একটু জায়গা পেয়ে চুপ করে বসেছিল। ঘুমোলে চলবে না, সঙ্গের ব্যাগে টাকাপয়সা, রেজাল্ট, খেলার সার্টিফিকেট সবই আছে।

তবু একনাগাড়ে বসে থাকলে সবারই ঝিমুনি আসে। তার ওপর রাতের ট্রেন এমনিতেই জোরে চলে। ফলে পদ্মাবতী এক্সপ্রেস যখন চেনাতি ষ্টেশন থেকে জোরে হুইসল বাজিয়ে রওনা দিল, মেয়েটা ঘুমে প্রায় ঢুলে পড়েছে পাশের দেহাতী মহিলাটির কাঁধে। সারাদিন মাঠে প্র্যাকটিস করে এমনিতে ক্লান্ত ছিল, তার ওপর জানলা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা হাওয়া, ঘুম তো আসতে বাধ্য।

কামরার অন্য লোকেরাও ঝিমোচ্ছে। কেউ বা তখনো জেগে আছে, হাই তুলছে ঘনঘন।

মেয়েটা একটা ব্যাপার বুঝতে পারেনি, ও যেখানে বসেছিল, তার চেয়ে কয়েকহাত দূরে তিনজোড়া চোখ ওর ওপর সমানে নজর রাখছিল। একা সোমত্ত মেয়ে রাতের সাধারণ কামরায় বিরল তো বটেই, তবে তার চেয়েও বেশি যেটা ওই চোখগুলোকে আকর্ষণ করছিল, সেটা হল মেয়েটার গলায় ট্রেনের দুলুনিতে মৃদুমন্দ দুলতে থাকা খাঁটি সোনার হারটা। টি-শার্টের ফাঁক দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

লোকতিনটে আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল। যখন বুঝল মেয়েটা অকাতরে ঘুমোচ্ছে, ক্লান্ত চোখদুটো একদম বোজা, নিঃশ্বাস পড়ছে একলয়ে, তখন একজন আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল।

মেয়েটা বসেছিল লোয়ার বার্থের একদম কোণায়। লোকটা কিছুই হয়নি এমন ভাব করে বাথরুম যেতে যেতে একটুও না ঝুঁকে অভিজ্ঞ হাতটা রাখল মেয়েটার গলায়।

কয়েক মাইক্রোসেকেন্ড। তারপরেই টান মেরে ছিঁড়ে নিল হারটা।

পরিকল্পনাটা ছিল, লোকটা হারটা ছিনিয়ে নিয়েই বাথরুমের দিকে চলে যাবে, আর সেটা মেয়েটা বা অন্য কেউ দেখে ফেলার আগেই বাকি দুজন গিয়ে পরিস্থিতি বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে।

কিন্তু প্ল্যানমাফিক ব্যাপারটা এগোল না। মেয়েটার গলা থেকে হারটা ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার ঘুম ভেঙে গেল, মুহূর্তে কি হচ্ছে বুঝতে পেরে হাত দিয়ে লোকোটার কাছ থেকে হারটা টানতে শুরু করল মেয়েটা।

মুশকো লোকটা পরিস্তিহিত বেগতিক দেখে সেই অবস্থাতেই টানতে টানতে বাথরুমের দিকে চলল। বাকি দুজন লোকও এগিয়ে আসতে লাগল। মেয়েটাও ছাড়ার বান্দা নয়, এই হারটা তার সর্বস্ব, সে হ্যাচড়াতে হ্যাচড়ড়াতে লোকটার সঙ্গে যেতে লাগল, সঙ্গে মুখে চিৎকার করতে লাগল, “চোর! চোর! বচাইয়ে মুঝে!”

অদ্ভুত ব্যাপার! মেয়েটার তারস্বরে চিৎকারে যারা জেগেছিল তারা তো সচকিত হয়ে উঠলই, কামরায় যারা ঘুমোচ্ছিল, তারাও ধড়মড়িয়ে উঠল। কিন্তু তিনটে লোকের সঙ্গে একটা মেয়ে একা লড়ে যাচ্ছে দেখেও তাদের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। তারা শুধু নিজেদের চোখগুল দিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে দৃশ্যটা গিলতে লাগল।

একজনও এগিয়ে এল না।

ওদিকে মেয়েটা লোকতিনটের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে করতে বাথরুমের আগের ফাঁকা জায়গাটায় এসে পড়েছে। ট্রেন ততক্ষণে বেরিলির কাছাকাছি এসে গেছে, হু হু করে হাওয়া ঢুকছে খোলা দরজা দিয়ে।

মেয়েটার হাতদুটো মুচড়ে ধরেছিল একটা লোক, সেই অবস্থাতেই একটা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সে প্রাণপণে ঘুষি চালাল লোকটার মুখে। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় লোকটা ওর পেটে প্রচণ্ড জোরে হাত দিয়ে আঘাত করল। আঘাতের তীব্রতায় মেয়েটার নাকমুখ কুঁচকে গেলেও সে ততক্ষণে দাঁত বসিয়ে রক্তাক্ত করে দিয়েছে তৃতীয় লোকটার হাত, চামড়া ছিঁড়ে মাংস দেখা যাচ্ছে সেখানে।

মিনিটতিনেকের মধ্যেই লোকগুলো প্রমাদ গুণল। বেরিলি ষ্টেশন আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢুকবে ট্রেন, এই মেয়ে তো সহজে ছাড়ার বান্দা নয়! এত কিল-চড়-ঘুসিতেও ঠাণ্ডা হচ্ছে না!

লোকতিনটে একঝলক নিজেদের মধ্যে চোখাচোখি করল, তারপর চোখ বুলিয়ে কামরার ভেতরের দিকে। সেখানে তখনো অন্তত তিরিশজোড়া চোখ এদিকে উৎসুক নয়নে চেয়ে আছে, কিন্তু কারুর কোন বক্তব্য নেই। নাহ, এদের নিয়ে চাপ নেই।

যে লোকটা হারটা প্রথম ছিঁড়তে গিয়েছিল, সে নিজের ঠোঁটটা চেটে নিল একবার, মেয়েটার দুটো হাতই পেছন দিকে চেপে ধরা আছে, তবু সে পা দিয়ে লাথি কষিয়ে যাচ্ছে।

প্রথম লোকটা ইশারা করতেই প্রায় আলোর গতিতে লোক তিনটে গিয়ে গেল দরজার দিকে, তারপর হু হু গতিতে ছুটতে থাকা ট্রেন থেকে পোড়া সিগারেটের টুকরো ফেলার মত ছুঁড়ে ফেলে দিল বাইশ বছরের জাতীয় স্তরে ভলিবল খেলা মেয়েটাকে।

মুহূর্তে একরাশ কালো শূন্যতা। অন্ধকার হয়ে গেল একটা সোনালী ভবিষ্যৎ। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল অনেক স্বপ্ন।

মেয়েটা ছিটকে পড়ল পাশের রেললাইনের ট্র্যাকে। আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নিয়তির টানে সেই লাইনে ছুটে এল আরেকটা ট্রেন। ওর বাঁ পা’টা ট্রেন থেকে পড়ে আগেই ভেঙে গিয়েছিল, এবার তার ওপর ট্রেন ছুটে গিয়ে বড় থেকে ছোট, সবরকম হাড়গুলোকে ধুলোর মত গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিল। তলপেটে আগে থেকেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল, এখন প্রচণ্ড আঘাতে চিড় ধরল তলপেটের নীচের হাড়গুলোতেও। কোমরের প্রধান হাড়টাও মড়মড়িয়ে ভেঙে গেল।

অমানুষিক কষ্ট সহ্য করতে করতে মেয়েটা জ্ঞান হারাল।

কি ভাবছেন? কষ্টে মুচড়ে উঠছে মন? রাগ হচ্ছে কামরার নীরব দর্শকগুলোর প্রতি?

গল্প এখনো শেষ হয়নি ....

২০১১ থেকে এবার সোজা চলে আসুন ২০১৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি।
হ্যাঁ হ্যাঁ, সেই মেয়েটাই অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ 'মাউন্ট ভিনসন' জয় করেছে। বিশ্বের প্রথম মহিলা অ্যাম্পিউইটি হিসেবে।

হ্যাঁ বন্ধুরা, এই ভারতকন্যার নাম অরুনিমা সিনহা।

অরুণিমা ২০১৩ সালেই মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে ফেলেছে, তার একটা পা প্রোস্থেটিক, অর্থাৎ অ্যাম্পিউট করা। আর বাকি শরীরটা অজস্র জায়গায় ভাঙা।

একটা রাতের মধ্যে সে যখন জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় থেকে প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয়েছিল, আশপাশের মানুষগুলর চোখে ফুটে উঠেছিল বেদনা, হতাশা।

আহা! এমন মেয়েটা শেষ হয়ে গেল!

সেই করুণা অরুণিমা নিতে পারেনি। সে কারুর করুণার পাত্রী নয়। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর মাসকয়েক হাসপাতালে থেকে সে যখন ছাড়া পেয়েছিল, তারপর থেকেই শুরু করে দিয়েছিল বিরামহীন ট্রেনিং। মাত্র দুইবছরের মধ্যে প্রথম মহিলা অ্যাম্পিউটি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে সে চমকে দিয়েছিল সবাইকে।

সঙ্গে সে শুরু করেছে নিজের সংস্থা অরুণিমা ফাউন্ডেশন যারা দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলায় প্রেরণা জোগায়, সাহায্য করে। ২০১৫ সালে সে পেয়েছে পদ্মশ্রী, সংবর্ধিত হয়েছে দেশেবিদেশে।

গতকাল অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট ভিনসন জয় করার পর সে জানিয়েছে পৃথিবীর সব উঁচু শৃঙ্গগুলো সে জয় করতে চায়। চূড়ায় উঠে সে বলতে চায়, “দ্যাখো আই এম অন দ্য টপ!"

ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায় হতাশা, অসম্ভব, শেষের মত শব্দগুলোকে। পাল্টে দিতে চায় সেই মানুষগুলোর ধারণাকে যারা ভেবেছিলেন ও চিরকালের মত শেষ হয়ে গেছে।

আসুন মন থেকে শুভেচ্ছা জানাই, গর্বিত হই এই ভারতীয়ের জন্য।

এই জয় সে উৎসর্গ করেছে তার সবচেয়ে শ্রদ্ধার ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দকে।

দীপিকা পাড়ুকোন বা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সামান্য মুচমুচে খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি, কিন্তু এই ধরণের সত্যিকারের হিরোদের আমরা কজন চিনি? কজন জানি?

অরুণিমা-র মত হিরো আরো উঠে আসুক, সমস্ত নেগেটিভিটিকে হেলায় ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে জয় করুক তারা স্বপ্ন, এমনই আশা রইল।

যারা প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামে, পরীক্ষায়, বা সামাজিক সমস্যায় হতাশ হয়ে পড়েন, তাঁদের মনেও কিন্তু কোন এককোণে অরুণিমা সিনহা লুকিয়ে রয়েছে।

দরকার শুধু তাকে মন থেকে বের করে আনার!

Today
15/01/2020

Today

বাঙালি মহিলা বিজ্ঞানী বিভা চৌধুরীর নামে একটি নক্ষত্রের নামকরণ করল প্যারিসের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন। পৃ...
06/01/2020

বাঙালি মহিলা বিজ্ঞানী বিভা চৌধুরীর নামে একটি নক্ষত্রের নামকরণ করল প্যারিসের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন।

পৃথিবী থেকে ৩৪০ আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে বিভা নামক ক্ষুদ্র হলদে সাদা তারাটি।

ভারতীয় আধুনিক বিজ্ঞান সাধনার অন্যতম অগ্রদূত বিভা চৌধুরী ১৯৪৯ সালে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে প্রথম মহিলা হিসেবে যোগ দেন।

বিভা চৌধুরী দার্জিলিং-এ বসে তাঁর মেন্টর ডিএম বোসের সঙ্গে একটি নতুন সাবঅটোমিক পার্টিকল আবিষ্কার করেন। তাঁর আবিষ্কারের কথা নেচার পত্রিকায় প্রকাশও করেন তিনি। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তীকালে একই বিষয়ে গবেষণা করে অন্য একজন নোবেল (C.F. Powell)পেয়ে যান।

এ ছাড়াও বিভা নামের এই তারাটির যে গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট-এর কাছে আছে তার নাম রাখা হয়েছে সংস্কৃত শব্দ 'সান্তামাসা', যার অর্থ মেঘে ঢাকা।
আমাদের সৌরজগতের বাইরে যে কোনও গ্রহকেই এক্সোপ্ল্যানেট বলা হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বক্তৃতা======[নোবেল বিজয়ীর তালিকায় তিনি শুধু প্রথম বাঙালি বা প্রথম ভারতীয়ই নন, তিনি প্রথম এশীয়...
05/01/2020

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বক্তৃতা
======
[নোবেল বিজয়ীর তালিকায় তিনি শুধু প্রথম বাঙালি বা প্রথম ভারতীয়ই নন, তিনি প্রথম এশীয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিকবিতাগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’ প্রকাশ হয় ১৯১০ সালে। বছর দুয়েক পর, এই বইয়ের বেশ কিছু কবিতা এবং এর বাইরেরও অনেকগুলি কবিতার অনুবাদ নিয়ে প্রকাশিত হয় ইংরেজি গ্রন্থ ‘সং অফারিংস’ (Song Offerings)। এই বইয়ের জন্যই ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পান রবীন্দ্রনাথ। ওই বছর ১০ ডিসেম্বর স্টকহলমের নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। টেলিগ্রামে লিখে পাঠানো তাঁর বার্তা সেখানে পাঠ করা হয়। তিনি লিখেছিলেন— “সুইডিশ অ্যাকাডেমির অনুভবের কাছে আমি আমার কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করছি। তাঁরা দূরকে নিকট করেছেন এবং এক অপরিচিতকে ভ্রাতৃত্বে বরণ করে নিয়েছেন।” ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ সুইডেন যান। ২৬ মে স্টকহলমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমিতে নোবেল সম্মানকে স্মরণ এবং গ্রহণ করে তিনি দীর্ঘ বক্তৃতা দেন। সেই বক্তৃতার একাংশের অনুবাদ এখানে প্রকাশ করা হল]

অবশেষে আপনাদের দেশে আসতে পেরে আমি খুশি আর এই অবকাশেই আমার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আমাকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে সম্মানিত করার জন্য আমি আমার কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করতে চাইছি।

মনে পড়ছে সেই বিকেলবেলার কথা, যে দিন আমি আমার ইংল্যান্ডের প্রকাশকের তরফ থেকে তারবার্তা মারফত এই পুরস্কার প্রাপ্তির খবরটা পাই। আমি তখন আমার বিদ্যালয় শান্তিনিকেতনে রয়েছি। আমার মনে হয়, এই বিদ্যালয়টির বিষয়ে আপনারা জ্ঞাত রয়েছেন।

সেই মুহূর্তে আমি একটি দল নিয়ে কাছাকাছি এক জঙ্গলে বেড়াতে যাচ্ছি। ডাক ও তার অফিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে এক জন দৌড়তে দৌড়তে এসে আমার হাতে সেই তারবার্তাটি দিয়ে যায়। আমার সঙ্গে গাড়িতে সেই সময়ে এক জন ইংরেজ পর্যটকও ছিলেন। তারবার্তাটি যে খুব গুরুত্বপূর্ণ, এমনটা সেই মুহূর্তে মনে হয়নি। আমি সেটিকে পকেটে পুরে রাখি। গন্তব্যে পৌঁছে সেটি পড়ব, এমনটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু আমার অতিথি সম্ভবত বিষয়টি জানতেন এবং তিনি আমাকে অনুরোধ করেন সেটি পড়ে ফেলতে, বলেন— এতে গুরুত্বপূর্ণ কোনও বার্তা রয়েছে। আমি তাঁর অনুরোধেই খাম খুলে বার্তাটি পড়ি।

প্রথমে নিজেরই বিশ্বাস হয়নি। মনে হয়েছিল, টেলিগ্রাফের ভাষায় কোনও গন্ডগোল রয়েছে, নয়তো আমিই সেটিকে পড়তে ভুল করছি, ভুল মানে বুঝছি। যাই হোক, ক্রমে ধাতস্থ হই, বুঝি আমি ঠিকই পড়েছি। আপনারা অনুমান করতে পারেন, আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে এই খবর কতটা আনন্দবাহী। আমাকে যা সব থেকে বেশি অভিভূত করে তা হল, এই যে এই ছেলেরা আমাকে ভালবাসে এবং তাদেরকেও আমি গভীর ভাবে ভালবাসি। এই সম্পর্ককে এই পুরস্কার এক অনন্য সম্মানে ভূষিত করল। আমার দেশবাসীর সঙ্গেও আমি এই সম্মান ভাগ করে নিতে চাই।

সে দিন বাকি বিকেলটাও এই ভাবেই যায়। রাতে আমি ছাদে একা বসে নিজেকেই প্রশ্ন করি, পশ্চিমে আমার এই গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্মানের কী কারণ থাকতে পারে? আমি সাত সমুদ্র তেরো নদী পারের এক ভিন্‌জাতের মানুষ। পশ্চিমের সন্তানদের থেকে সর্ব অর্থেই আলাদা। আমার এই প্রশ্ন কোনও উচ্চমনস্কতা থেকে জাত নয়, তা প্রকৃতই আমার হৃদয়ের গহীন থেকে উঠে আসা। সেই মুহূর্তে নিজেকে খুবই তুচ্ছ বলে মনে হয়েছিল।

মনে পড়ছিল, আমার লেখালিখির শুরুর সেই দিনগুলির কথা। আমি তখন নেহাতই তরুণ। আমার তখন ২৫ বছর বয়স। বাংলার এক অখ্যাত গ্রামে গঙ্গাবক্ষে এক নৌকায় প্রায় নির্জনবাস করি। শরতে হিমালয় থেকে উড়ে আসা পরিযায়ী বুনো হাঁসরাই আমার একমাত্র জীবন্তসঙ্গী। সেই নির্জনতায় আমি মুক্ত দিগন্তকে অফুরান রৌদ্র-সুধার মতো পান করেছি, নদীর ছলোচ্ছল ধ্বনি আমার কানে কানে যেন প্রকৃতির নিগূঢ় রহস্যের কথা বলে গিয়েছে। এক নিরবচ্ছিন্ন নির্জন স্বপ্নে আমার দিন যায়, আমি সেই স্বপ্নকে কবিতায় রূপ দিতে থাকি।

কলকাতার মানুষজন সেই সব লেখা পত্র-পত্রিকা মারফত পড়েন। বুঝতেই পারছেন, সেই জীবন পশ্চিমের চাইতে একেবারেই আলাদা। আমার জানা নেই, আপনাদের সভ্যতার কোনও কবি তাঁর জীবনের তরুণ দিনগুলির একটা বড় অংশ এমন বিচ্ছিন্নতার মধ্যে কাটিয়েছেন কি না। আমার বিশ্বাস, পশ্চিমি বিশ্বে এ হেন বিচ্ছিন্নতার কোনও স্থানই নেই।

আমার জীবন এমন ভাবেই কেটেছে। সেই সময়ে আমি আমার দেশবাসীর কাছেও অপরিচিত বলা যায়। আমার প্রদেশের বাইরে আমার নাম কেউ শুনেছেন বলেও মনে হয় না। সেই অপরিচয় নিয়ে কিন্তু আমি বেশ সুখীই ছিলাম। এই অপরিচয় আমাকে জনারণ্যের কৌতূহল থেকে রক্ষা করেছে। এবং এক সময়ে এই নির্জনতার কুহর থেকে বেরিয়ে আসার এক তাগিদ আমি অনুভব করতে শুরু করি। মনে হতে থাকে, আমার সহ-মানবদের জন্য কিছু কাজ করা প্রয়োজন। তা শুধুমাত্র আমার স্বপ্নগুলিকে সাকার করার প্রয়াস নিয়ে নয়, বরং আমার ভাবনাগুলিকে নিয়ত কিছু কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করে, আমার সহযাত্রীদের কাজে আসে এমন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সবার আগে আমার মাথায় এসেছিল ছোটদের পড়ানোর কথা। তার মানে এই নয় যে, আমি এই কাজে বিশেষ দক্ষতার অধিকারী। বরং এ কথা বলা যেতে পারে যে, আমি নিজে নিয়মিত শিক্ষালাভের পূর্ণ সুফলগুলি পাইনি। সেই কারণে আমি প্রথমে এই কাজ নিজের হাতে নিতে দ্বিধাগ্রস্তও ছিলাম। কিন্তু এ কথাও অনুভব করি যে, প্রকৃতির প্রতি আমার এক অকৃত্রিম ভালবাসা রয়েছে, শিশুদের প্রতিও রয়েছে। আমি এমন এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম, যেখানে মানবশিশুরা প্রকৃতির কোলে মুক্তির আনন্দ, জীবনের আনন্দ খুঁজে পায়। অল্প বয়সে আমি নিজে স্কুলে বেশ কিছু অন্তরায়ের সম্মুখীন হয়েছি। আমি জানি, বেশির ভাগ শিশুকেই এই বাধাগুলির মুখোমুখি হতে হয়। আমাকেও শিক্ষা-যন্ত্রের সেই যন্ত্রণাকে সহ্য করতে হয়েছে, যেখানে আমার মুক্তি আর জীবনের আনন্দ পেষাই হয়ে চুরমার হয়ে গিয়েছিল।

আমি জানি, এই আনন্দের জন্য শিশুরা সর্বদা তৃষ্ণার্ত থাকে। আমার উদ্দেশ্য ছিল, মানব সন্তানদের কাছে এই মুক্তি আর আনন্দকে পৌঁছে দেওয়া। আমার চারপাশের কিছু বালককে আমি পড়িয়েছি, তাদের আনন্দ দিতে চেয়েছি। আমি তাদের খেলার সাথী ছিলাম। তাদের সঙ্গে আমি জীবন ভাগ করে নিয়েছি। আমি অনুভব করেছি, আমি তাদেরই এক জন, তাদের দলের সব থেকে বড় শিশু। খোলা হাওয়ায় আমি তাদের সঙ্গেই বেড়ে উঠি। শিশুদের অন্তরের আনন্দস্রোত, তাদের গান-গল্পে মেতে থাকা আকাশ-বাতাসে মুক্তির সুধারসকে আমি প্রতি দিন পান করি। প্রতি দিন সূর্যাস্তের সময়ে আমি একা বসে পথের দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছেদের লক্ষ করি। সন্ধ্যার নৈঃশব্দ্যের মধ্যেও আমি শিশুদের কলতান স্পষ্ট শুনতে পাই। মনে হয় সেই আনন্দগান, সেই কলধ্বনি যেন গাছেদেরও। তারা যেন মাটির বুক থেকে উঠে আসা জীবন-ঝরনা, অনন্ত আকাশের দিকে মাথা তুলে আনন্দগান গেয়ে চলেছে।

একে প্রতীক হিসেবে দেখে আমি বুঝতে পারি, মানব জীবনের যাবতীয় আনন্দের অভিব্যক্তি, মানবাত্মার হৃদয়ের উৎসস্থল থেকে উঠে আসা আশার বাণী সেই অনন্ত আকাশের দিকেই ধাবিত। আমি যেন স্পষ্ট তা দেখতে পাই। বুঝতে পারি, আমরাও আসলে বড় হয়ে যাওয়া শিশু, আমাদের কলতানকে অনন্তের দিকে পাঠিয়ে চলেছি। আমি এই অনুভূতি হৃদয়ের উৎসস্থল থেকে বুঝি। এই পরিবেশ আর পরিস্থিতিই আমাকে ‘গীতাঞ্জলি’র কবিতাগুলি রচনা করতে প্রাণিত করেছে। উজ্জ্বল তারায় তারায় খচিত ভারতের আকাশের নীচে বসে মধ্যরাতে আমি তাদের গাই। এবং খুব ভোরে, এমনকি গোধূলিতেও আমি এই গানগুলি লিখি। এই গানের দল বয়ে চলে পরের দিনটির দিকে। আরও এক বার এই মহাপৃথিবীর হৃদয়দ্বারে প্রবেশের প্রেরণা লাভ করি।

(ছবি- ১৯২১ সালে স্টকহমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

আনন্দবাজার লিঙ্ক - https://www.anandabazar.com/editorial/nobel-prize-acceptance-speech-of-rabindranath-tagore-dgtl-1.1080976?fbclid=IwAR2OjzHVXw1xEQe6Dhr0VdOQaAjBCDCxNBpx_osgBm8GXQkgBwlxhsJKJzc

Address

Bangaljhi
Chapra
741123

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangaljhi Ramkrishna Ashram School Friends posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category