ISCS বাংলা

ISCS বাংলা আই এস সি এস, একটি পূর্ব-ভারত আধারিত গবেষণাকেন্দ্র

বাল্মীকি জয়ন্তীআজ বাল্মীকি জয়ন্তী। পুরাণ এবং ইতিহাস বিশারদদের মতে আজকের দিনে আবির্ভাব ঘটেছিল আদি কবি বাল্মীকির। যাঁর বির...
09/10/2022

বাল্মীকি জয়ন্তী
আজ বাল্মীকি জয়ন্তী। পুরাণ এবং ইতিহাস বিশারদদের মতে আজকের দিনে আবির্ভাব ঘটেছিল আদি কবি বাল্মীকির। যাঁর বিরচিত রামায়ণ ভারতীয় সংস্কৃত সাহিত্য ভাণ্ডারের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এবং যেটি আদি মহাকাব্য রূপে ভূ-ভারতের সর্বত্র প্রসিদ্ধ। রামায়ণের চব্বিশ হাজার শ্লোক, সাতটি কাণ্ড, সেই কাণ্ডে বর্ণিত উপাখ্যান প্রায় সকলেরই কম বেশি জানা থাকলেও বহুকাল থেকে আদি কবির জীবন নিয়ে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। আমাদের ভারতীয় শাস্ত্রের রীতি অনুসরণ করলে এই সৃষ্টির সময় কালকে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি, চারটি যুগে ভাগ করা হয়। ত্রেতা যুগে অবতীর্ণ বিষ্ণুর রামাবতারের কাহিনী অনুসারে রচিত হয়েছিল রামায়ণ। সেই জন্য রামায়ণের রচয়িতা মহর্ষি বাল্মীকিকেও ত্রেতা যুগেরই একজন হিসাবে মেনে নিতে আমাদের কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত বাল্মীকির বিভিন্ন উপখ্যান আমাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করে, আদতে বাল্মীকি কোনো ব্যক্তি নাকি কোনো পদ।

বাল্মীকি রামায়ণ ও আধ্যাত্ম রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে বাল্মীকি মুনি নিজেকে প্রচেতার দশম সন্তান এবং ভৃগু গোত্রোৎপন্ন বলে অভিহিত করেছেন। স্কন্দ পুরাণের অবন্তি ক্ষেত্র মাহাত্ম্যে সুমতি ও কৌশিকী নামক তাঁর মা বাবার নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই পুরাণেরই প্রভাস ক্ষেত্র মাহাত্ম্যে বাল্মীকির বাবার নাম শমীমুখ। আবার বৈশাখমাহাত্ম্যে আমরা বল্মীক নামাখ্যাত কৃণুঋষির পুত্র হিসাবে বাল্মীকি মুনি কে দেখতে পাই। এ ছাড়াও ভাগবতে, মৎস পুরাণে, দেবী ভাগবতে, বিষ্ণুপুরাণে বাল্মীকিকে ভৃগু বংশজাত বলে অভিহিত করা হয়েছে।

বাংলার কৃত্তিবাসী রামায়ণ একটি আধুনিক সংকলন। এই রামায়ণ কোনো মূল রামায়ণ উপজীব্য করেই রচিত হওয়াটা স্বাভাবিক। কৃত্তিবাসী রামায়ণে আমরা বাল্মীকি মুনির যে দস্যু রূপ দেখতে পাই সে ঘটনা নিতান্ত নিরাধার নয়। কারণ স্কন্দপুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ এবং অধ্যাত্ম রামায়ণ এই তিন জায়গাতেই তাঁর দস্যুবৃত্তির যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেলেও কৃত্তিবাসী রামায়ণে কবির কল্পনায় অনেক ঘটনা নতুন ভাবে রূপ নিয়েছে। যেমন অধ্যাত্ম রামায়ণ, ভবিষ্যপুরাণ এবং স্কন্দপুরাণের বৈশাখমাহাত্ম্য এসব জায়গায় আমরা দেখতে পাই দস্যু বাল্মীকি সপ্তর্ষিদের কৃপায় রামনাম জপ করে দস্যুবৃত্তি থেকে মুক্তি লাভ করেন। কিন্তু কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামনামের উল্লেখ থাকলেও সপ্তর্ষিদের জায়গায় ব্রহ্মা এবং নারদের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও সংশয় রয়েছে কৃত্তিবাসী রামায়ণের পিতৃপরিচয় এবং বাল্মীকি মুনির পূর্ব জীবনের নাম নিয়েও। কারণ কৃত্তিবাসী রামায়ণে কবি লিখেছেন-
"চ্যাবন মুনির পুত্র দস্যু রত্নাকর দস্যু বৃত্তি করে সে বনের ভিতর।"
এখন যদি বাল্মীকি রামায়ণ ও অধ্যাত্ম রামায়ণ ছাড়াও পুরাণের যেসব অংশে বাল্মীকি মুনিকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সে সব জায়গা খুঁজে দেখি তাহলে দেখতে পাব সেখানে কোথাও বাল্মীকি মুনিকে চ্যাবন মুনির পুত্র বা রত্নাকর বলা হয়নি। যেমন স্কন্দপুরাণের অবন্তীক্ষেত্র মাহাত্ম্যে বাল্মীকির পূর্বনাম অগ্নিশর্মা, প্রভাস ক্ষেত্র মাহাত্ম্যে বৈশাখ, নাগরখণ্ডে লোহজঙ্ঘ এবং ভবিষ্যপুরাণে মৃগব্যাধ।
এখানেই শেষ নয় বিষ্ণুপুরাণ, কুর্মপুরাণ, দেবীভাগবৎ, এমনকি বায়ুপুরাণে ২৮ জন ব্যাসের যে নামের উল্লেখ পাওয়া যায় তার মধ্যে বাল্মীকি মুনি অন্যতম।

সকল পৌরাণিক গ্রন্থে বাল্মীকির পূর্বনাম, পিতৃপরিচয় এবং তাঁদের দ্বারা রামায়ণ রচিত হওয়ার যে উল্লেখ রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে এই নির্ণয়ে আসতে পারি রামায়ণের রচয়িতা বল্মীকি যেমন একজন নয় তেমন মহাকাব্য রাময়ণও একটি নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের দ্বারা রচিত হয়েছে রামায়ণ। এবং যিনিই এই মহাকাব্য রচনা করেছেন তাঁকেই বলা হয়েছে বাল্মীকি।

বর্তমানে আমরা যে রামায়ণটি পাই সেটি ভৃগুগোত্রোত্পন্ন প্রচেতার পুত্র প্রাচেতস্ বাল্মীকির রচিত রামায়ণ। অগ্নিপুরাণে, পদ্মপুরাণে বর্ণিত রামায়ণ প্রসঙ্গে বাল্মীকি মুনির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বারবার । বাল্মীকি মুনির প্রভাব এতই সূদুর প্রসারী এবং তাঁর কাব্যের মহিমা এতটাই সুমহান যে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস থেকে কালিদাস ভবভূতি এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁদের রচনার মাধ্যমে বাল্মীকি মুনিকে স্মরণ করেছেন বার বার ।

"কলকাতায় ঢাকেশ্বরী মূর্তির কাহিনী" সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুনhttps://youtu.be/z16UU16fx_I
05/10/2022

"কলকাতায় ঢাকেশ্বরী মূর্তির কাহিনী" সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন
https://youtu.be/z16UU16fx_I

01/10/2022

নীলরতন সরকার

চিকিৎসা জগতে তিনি ছিলেন ধন্বন্তরি। কিন্তু এই ধন্বন্তরি হয়ে ওঠার পিছনে ছিল একটি বেদনাদায়ক ঘটনা, তাঁর মা থাকোমণি দেবীর মৃত্যু। ১৪ বছরের নীলরতন যে দিন টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় তাঁর মাকে মৃত্যুবরণ করতে দেখেছিলেন। সেদিনই তিনি মনস্থির করেছিলেন পরবর্তিকালে ডাক্তার হয়ে দুঃস্থদের চিকিৎসা করবেন। পূর্ণও হয়েছিল তাঁর মনের ইচ্ছা। ১৮৮৮ সালে এমডি পাশ করার পর তিনি ৬১ নম্বর হ্যারিসন রোডে নিজের বাড়িতেই একটি চিকিৎসালয় খুলে নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিলেন দুঃস্থদের মধ্যে।

১৮৬১ সালের ১লা অক্টোবর নীলরতন সরকার ডায়মন্ড হারবারের নেত্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু কোনো এক প্রাকৃতিক কারণে তাঁদের সেই বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেলে, তাঁরা জয়নগরে তাঁদের মামারবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ১৮৭৬ সালে তিনি সেখান থেকে এন্ট্রান্স পাশ করার পর “ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুল” থেকে ডাক্তারি পাশ করেন। ১৯১৬ সালে তিনি রাধাগোবিন্দ কর ও সুরেশপ্রসাদ সর্বাধিকারীর সঙ্গে “বেলগাছিয়া মেডিক্যাল কলেজ” প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যেটি বর্তমানে “আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল” নামে পরিচিত। তিনি “চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল” এবং “ক্যালকাটা আ্যাসোসিয়েশন”, “ইণ্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন” এই রকম বহু খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন। এছাড়াও “কুমুদশঙ্কর রায় যক্ষা হাসপাতাল”, “বেঙ্গল টেকনিক্যাল স্কুল”, “যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ” প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। ১৯১৯ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। চিকিৎসাজীবনে তাঁর অন্যতম গবেষণা “সিরোসিস অফ লিভার ইন চিল্ড্রেন” যা চিকিৎসা জগতে বিরাট সাড়া ফেলেছিল।

১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি জাতীয় কংগ্রেসে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেস ত্যাগের মাধ্যমে তিনি সরে আসেন প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন তথা স্বদেশী দ্রব্যের উৎপাদনের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ন্যাশনাল ট্যানারি, সোপ ফ্যাক্টারি এবং রাঙা মাটি চা কোম্পানি নামক তিনটি কারখানা।

রবীন্দ্রনাথের পরম বন্ধু ছিলেন নীলরতন সরকার। তিনি তাঁর সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থ নীলরতন সরকারের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন। ১৯৫০ সালে “ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল কলেজ” এর অন্যতম প্রাক্তনী নীলরতন সরকারের নাম অনুসারে “ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল কলেজ” এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল”। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ এই তিন প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন অনুপ্ররণা স্বরূপ । আজ ১লা অক্টোবর এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জন্মদিনে আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রইলো আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।

গোপেশ্বর পাল : এক মৃৎশিল্পকারের কাহিনী সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন 👇👇👇https://youtu.be/4FVn5kyCTak
01/10/2022

গোপেশ্বর পাল : এক মৃৎশিল্পকারের কাহিনী সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন 👇👇👇
https://youtu.be/4FVn5kyCTak

27/09/2022

বিশ্ব পর্যটন দিবস

প্রাচীনকাল থেকে মানুষ জীবিকার তাগিদে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পর্যটন করে আসছে। কিন্তু বর্তমান পর্যটনের সাথে প্রাচীন কালের পর্যটনের অনেক পার্থক্য রয়েছে। তখন মানুষ শুধুই জীবিকার তাগিদে একস্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করত। আর সেই জীবিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতো এক একটি নগরিক সভ্যতা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে পাল্টেছে সমাজ ব্যবস্থা। পাল্টেছে আধুনিক পর্যটনের সঙ্গা।

বাংলা অভিধানে পর্যটন শব্দের অর্থ বিনোদন বা অভিজ্ঞতা লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ। হিব্রু শব্দ টোরাহ (Torah) কথার অর্থ অধ্যয়ন অথবা অনুসন্ধান। মনে করা হয় এই হিব্রু শব্দ টোরাহ (Torah) থেকে ইংরাজি শব্দ ট্যুর (Tour) এর উত্পত্তি। বর্তমানে আমরা যে পর্যটন দেখতে পাই সেগুলি সাধারণত হয়ে থাকে বিনোদন, শিক্ষা, চিকিত্সা, রাজনীতি, বাণিজ্য, ধর্ম ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে।

মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম তীর্থযাত্রীদের মধ্যে ধর্মপ্রচারের জন্য পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। আনুমানিক ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ ভারতবর্ষে আসেন। তাঁর আগমন চৈনিক এবং ভারতীয় বৌদ্ধধর্মের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর বিররণ থেকে আমরা তত্কালীন ভারতর্ষ তথা বাংলার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারি। এছাড়াও মধ্যযুগীয় বাংলায় বাণিজ্যিক পর্যটনে গন্ধবণিকদের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য।

সপ্তদশ শতাব্দীতে মূলত ইউরোপে আধুনিক পর্যটনের উদ্ভব হয়। এই সময় পশ্চিম এবং উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলির তরুণ অভিজাতরা ইউরোপীয় ইতিহাস, শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং গ্রিসের মধ্যে একটি বৃহৎ পর্যটন শুরু করে। এই পর্যটন মূলত শিক্ষামূলক সফর বলে বিবেচিত হয়েছিল। অষ্টাদশ শতকের মধ্যে এই পর্যটন মূলক ভাবনাটি সমাজের ধনী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং এটি আমেরিকার মতো বিশ্বের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যে শিল্প বিপ্লবের সূচনা ঘটে, সেটি সমাজে অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত একটি পরিবর্তন ঘটায়। যা বিশ্বের বাকি অংশগুলিকেও প্রভাবিত করে। এই পরির্তনের ফলে গ্রাম থেকে মানুষ শহরে আসে কাজের তাগিদে। রেল পথের মাধ্যমে ইউরোপের সাথে অন্যান্য দেশের সংযোগ গড়ে উঠতে থাকে। পরিবহন ব্যবস্থাতেও উন্নতি দেখা যায়।

উনবিংশ শতকে প্রথম পরিবহন সংস্থার সূচনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন “থমাস কুক অ্যান্ড সন”, যে সংস্থাটি সর্বপ্রথম গোষ্ঠিবদ্ধ ভ্রমণের পরিকল্পনা করে। যার মধ্যে পরিবহন, বাসস্থান এবং খাবারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে আমরা ভ্রমণের সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা বা Package holidays বলতে যা বুঝি তার সূত্রপাত এখান থেকেই।

বর্তমানে পর্যটন দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য প্রকৃতিক, সমাজিক, সংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক একটি মেলবন্ধন গড়ে তোলা। এই সকল উদ্দেশ্যগুলিকে মাথায় রেখে জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ১৯৮০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ২৭শে সেপ্টেম্বর তারিখটিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস হিসাবে পালন করে আসছে।

26/09/2022

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
“বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে।
করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,
দীন যে, দীনের বন্ধু!”
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পর্কে এই কবিতা লিখেছিলেন স্বয়ং মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই নামটি বাংলার ইতিহাসে এমন একটি অধ্যায়। যে অধ্যায়ের সূচনা ঘটে ছিল আজ থেকে ২০২ বছর আগে বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে এক সময় যা ছিল হুগলি জেলায়। তাঁর আবির্ভাবে বাংলার মাটিতে সূচনা হয়েছিল এক নতুন যুগের, আর বাংলার নবজাগরণ পেয়েছিলো তার অন্যতম এক কাণ্ডারীকে।
১৮২৮ সালে গ্রামের পাঠশালার পাঠ শেষ করে ঈশ্বরচন্দ্র এলেন কলকাতায়। ১৮২৯ সালের ১লা জুন উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য কলকাতায় এসে তিনি ভর্তি হলেন সংস্কৃত কলেজে। সেখানে তিনি অধ্যয়ন করেছিলেন ব্যাকরণ, বেদান্ত, সাহিত্য, অংলকার, স্মৃতি, ইংরাজি। ১৮৪১ সালে শিক্ষা জীবনের ইতিতে শুরু হল তাঁর কর্মজীবন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে মাসিক ৫০ টাকা বেতনে তিনি বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে নিযুক্ত হলেন। এর পর ১৮৪৬ সালের ৬ই এপ্রিল তিনি সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদকের ভার গ্রহণ করেন। ১৮৪৭ সালে তিনি গড়ে তুললেন সংস্কৃত প্রেসডিপো নামক একটি বই এর দোকান এবং বন্ধু মদনমোহনের অংশিদারিত্বে সংস্কৃত যন্ত্র নামক একটি ছাপাখানা। এখান থেকেই প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি। ১৮৫১ সালে তিনি সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হন। ১৮৫৫ সালের ১৩ই এপ্রিল সর্ব সাধারণের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে তিনি প্রকাশ করলেন বর্ণপরিচয়।
শিক্ষার প্রসার তথা স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিলো অনস্বীকার্য। স্ত্রীশিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি ১৮৫৭ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে চারটি জেলায় মোট ৩৫টি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়াও ১৮৫৬ সালের ২৬শে জানুয়ারি তাঁর বিশেষ উদ্যোগে এবং তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির সহায়তায় বিধবা বিবাহ আইন পাশ হলে বিধবারা নতুন জীবন লাভ করে। এছাড়াও বহুবিবাহ রদ করার জন্য তিনি “বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিৎ কি না” এই শিরোনামে দুটি বই লেখেন। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও তিনি বহুবিবাহ রদ করতে অকৃতকার্য হয়েছিলেন।
পিতামহ প্রদত্ত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অসামান্য মেধাবী এই মানুষটি যখন ১৮৩৯ সালের ২২শে এপ্রিল ল কমিটির পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হলেন তখন তাঁকে ভূষিত করা হয়েছিল বিদ্যাসাগর উপাধিতে; যে উপাধির গরিমায় সর্বত্র তিনি সমাদৃত। আজ এই সুমহান ব্যক্তিত্বের জন্মদিনে আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রইলো আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।

25/09/2022

যোগেশ চন্দ্র ঘোষ
১৯৭১ এর মুক্তি যুদ্ধে শহিদ হওয়া এই মানুষটি চিকিত্সা শাস্ত্রে রেখে গিয়েছিলেন এক অবিস্মরণীয় অবদান। কিন্তু আজ একবিংশ শতাব্দীতে বাঙালী অনেকাংশেই ভুলেছে তাঁর সেই অবদানের কথা।

সালটা ১৮৮৭। আয়ুর্বেদ জগতে প্রাণসঞ্চার করতে অবিভক্ত বাংলার শরিয়তপুর জেলার গোঁসায়েরহাট উপজেলার জলছত্র গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন যোগেশ চন্দ্র ঘোষ। ১৯০৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে এমএ পাশ করার পর তিনি ভাগলপুর কলেজে অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। কিন্তু এর কয়েক বছর পর ১৯১২ সালে তিনি ঢাকায় ফিরে এসে সেখানকার জগন্নাথ কলেজে রসায়ন বিভাগে নিযুক্ত হন। বাংলায় তখন স্বদেশী যুগ। স্বদেশী দ্রব্যের উত্পাদন, আমদানি ও রপ্তানিকে কেন্দ্র করে তখন চারদিকে গড়ে উঠছে বেঙ্গল ওয়াটারপ্রুফ, বেঙ্গল পটারি, বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলস্ নামক একের পর এক স্বদেশী প্রতিষ্ঠান। এই সব প্রতিষ্ঠান গুলির মধ্যেই ১৯১৪ সালে ঢাকার বুকে আত্মপ্রকাশ করে যোগেশ চন্দ্র রায়ের সাধনা ঔষধালয়।

অবিভক্ত বাংলার বুকে প্রথম আয়ুর্বেদিক ওষধ তৈরির কারখানা রূপে সাধনা ঔষধালয়ের আত্মপ্রকাশ ছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। তাঁর এই সুবিশাল কর্মকাণ্ডে তিনি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের শিক্ষাকে পাথেয় করেছিলেন। তাঁর অশেষ প্রচেষ্টার ফলে ভারতীয় আয়ুর্বেদিক ওষুধ পৌঁছে গিয়েছিল সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, ইরাক, ইরান ও চীনের বাজারে। যোগেশ চন্দ্রের সাধনা বিশ্বের বাজারে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাকে সেদিন যেন এক অন্য দিশাদেখিয়ে ছিল। একসময় সমগ্র ভারতবর্ষে প্রায় ১৩০টির মত দোকান ছিলো সাধনা ঔষধালয়ের। এখানকার ওষুধগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল সারিবাদি সালসা, মৃতসঞ্জীবনী সুরা, কূটজারিষ্ট, চ্যবনপ্রাশ, মকরধ্বজ, মহাদ্রাক্ষারিষ্ট।

চিকিত্সায় নিবেদিত প্রাণ যোগেশ চন্দ্র ঘোষ তাঁর জীবনের দীর্ঘ ছয়টি দশক কাটিয়ে ছিলেন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র চর্চায়। তাঁর আয়ুর্বেদ চর্চার ফল স্বরূপ তিনি রচনা করেছিলেন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ যেমন, অগ্নিমন্দ্য ও কোষ্ঠবদ্ধতা, আরোগ্যের পথ, গৃহচিকিৎসা, চর্ম ও সাধারণ স্বাস্থ্য বিধি, চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা ও মুখরোগ চিকিৎসা, আমরা কোন পথে, আয়ুর্বেদ ইতিহাস ইত্যাদি। আজ বিশ্ব ফার্মাসিষ্ট দিবসে এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি রইলো আমাদের অশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।

মহালয়ার তাৎপর্য জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন https://youtu.be/QDFJlobCPeo
25/09/2022

মহালয়ার তাৎপর্য জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন https://youtu.be/QDFJlobCPeo

Address

Calcutta

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ISCS বাংলা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to ISCS বাংলা:

Shortcuts

Share