Independent Students' Voice - BU

Independent Students' Voice - BU বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন ঐক্?

স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক স্টুডেন্টস কাউন্সিল সহ আরো কয়েক দফা দাবী নিয়ে লড়াই করছে R.G. Kar মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। ছা...
10/10/2021

স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক স্টুডেন্টস কাউন্সিল সহ আরো কয়েক দফা দাবী নিয়ে লড়াই করছে R.G. Kar মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রছাত্রীদের তরফ থেকে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উপায় খোঁজার প্রচেষ্টা থাকলেও, তাতে জল ঢেলেছে R.G. Kar মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। উল্টে লড়াই-আন্দোলনে সামিল ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।

শেষ পর্যন্ত নিজেদের হকের দাবী ছিনিয়ে নিতে অনশনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে R.G. Kar মেডিক্যাল কলেজের বন্ধুরা। অনশনের ১৫০ ঘন্টা অতিক্রম হয়ে গেছে। একাধিক অনশনরত বন্ধুর শরীর ভাঙছে বটে, কিন্তু তারপরেও বন্ধুরা নিজেদের দমে কোনো পার্টি-নেতা-মন্ত্রী ছাড়াই এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। যতক্ষন না দাবী আদায় হচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে-- এটাই তাদের মনোভাব।

স্বচ্ছ এবং উন্নত স্টুডেন্টস কাউন্সিল, হাউসস্টাফ নিয়োগে স্বচ্ছতা, যথাযথ হোস্টেল কমিটি গঠনের দাবীতে R.G. Kar মেডিক্যাল কলেজের আন্দোলনরত বন্ধুদের হকের দাবী আদায়ের লড়াইকে আমরা, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা সংহতি জানাচ্ছি। সাথে সাথে, রাজ্যের সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক এবং সচেতন নাগরিকবৃন্দের কাছে আগামীর ডাক্তারদের এই লড়াইয়ের সাথে থাকার আহ্বান রাখছি।

একটা " ডানপিটে মেয়ের" গল্প বলি ।ডানপিটে বলছি কারন যে সমাজ চায় মেয়েরা চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী থাকুক,পরিবার - পরিজন ক...
27/07/2021

একটা " ডানপিটে মেয়ের" গল্প বলি ।ডানপিটে বলছি কারন যে সমাজ চায় মেয়েরা চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী থাকুক,পরিবার - পরিজন কে ভালো রাখাই মেয়েদের একমাত্র স্বপ্ন হওয়া উচিত,সেই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে দাঁড়িয়েই মেয়েটি অসম্ভব কে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখেছিল।মেয়েটির নাম কল্পনা দত্ত।নিজের মা, বাবা,পরিবার এসবের বাইরেও যে নিজের একখান দেশ আছে সেই দেশকে,দেশের মানুষকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখেছিল সে। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টায় নিজের গোটা জীবনটাই দিয়ে দিয়েছিল সে।

কী সাহস মেয়ের!মাত্র ষোলো বছর বয়সেই সে বিপ্লবী রাজনীতিতে যোগদান করলো। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের এক অন্যতম মুখ হয়ে উঠলো সে।
তার লড়াইয়ের সাথী,তার বিপ্লবী বন্ধুরা যখন জেলে বন্দী ছিল,তখন পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশে তাদের সাথে দেখা করতে যেত সেই মেয়ে।কী অসম্ভব সাহস!পুলিশের হাতে ধরা পড়ার বিন্দুমাত্র ভয় নেই।

যখন পুলিশ তাকে এবং তার বিপ্লবী কার্যক্রমকে আটকানোর জন্য তাকে গৃহবন্দি করে রাখত,তখনও সে পুরুষের ছদ্মবেশে চলে যেত বিপ্লবীদের কাছে।এই রকম এক সময়ে সে ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। দুমাস জেলে থাকতে হয় তাকে।
দেশকে স্বাধীন করার কী প্রবল ইচ্ছা,পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরেও সে মেয়ে থামেনি। সত্যিই কী ' ডানপিটে মেয়ে '।জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সে শিখে নেয় বোমা বানানোর পদ্ধতি।
শত বাধা সত্ত্বেও সে নিজের স্বপ্ন থেকে পিছপা হয়নি।নিজের স্বপ্ন কে আঁকড়ে ধরে ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করে গেছে সে।
আরো একবার ব্রিটিশ পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয় কল্পনা এবং তার সাথীরা।ছয় বছর জেলে কাটিয়ে মুক্তি পায় সে।জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কল্পনা দত্তকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।
“তোমার ‌চি‌ঠিখা‌নি পে‌য়ে খু‌শি হলুম। অনেক‌দিন প‌রে মু‌ক্তিলাভ ক‌রেছ—এখন দি‌নে দি‌নে শা‌ন্তি ও শ‌ক্তিলাভ ক‌রো, এই কামনা ক‌রি। দে‌শে অনেক কাজ আছে, যা অচঞ্চল ও সমা‌হিত চি‌ত্তে সাধন করবার যোগ্য । দুঃখ‌ভো‌গের অভিজ্ঞতা তোমার জীব‌নে পূর্ণতা দান করুক, এই আমি আশীর্বাদ ক‌রি।”
আমৃত্যু দেশের জন্য লড়ে গেছে এই মেয়ে - কল্পনা দত্ত।
আজকে স্বাধীনতার এত বছর পরেও যখন কিছু মানুষ দেশের মানুষ কে পরাধীনতার অন্ধকারে ঠেলে দিতে চাইছে,দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের দেখলে কল্পনা দত্ত কী করতেন কি জানি!
হয়তো ওদের দিকে তেড়ে যেতেন,তারপর চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন কল্পনাদের থামানো যায় না,কল্পনা দত্তরা হার মানতে শেখেনি।হার মানতে জানেনা।

১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ই জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনে, ভাগলপুরে জন্মগ্রহণ করেন এক মেঘপুঞ্জ,একজন কাদম্বিনী। ভারতের প্রথম প্র্যা...
18/07/2021

১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ই জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনে, ভাগলপুরে জন্মগ্রহণ করেন এক মেঘপুঞ্জ,একজন কাদম্বিনী। ভারতের প্রথম প্র্যাক্টিসিং মহিলা ডাক্তার। কথাটা যত সহজে লিখে ফেললাম, তার ডাক্তারী পড়ার পথ টা যে অতটা সহজ ছিলো না তা আমরা সবাই অনুমান করতে পারি তৎকালীন সমাজচিত্রের দিকে তাকিয়ে।
পিতৃতান্ত্রিক সমাজ এর বুকের উপর দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি ছুটিয়ে রোগী দেখতে যাবে এক মেয়ে মানুষ, আর সেটা দেখে বাহবায় ফেটে পড়বে তথাকথিত ' ভদ্দরলোকের সমাজ ' তা তো হয়না। তাই যথারীতি নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে তারা কাদম্বিনীকে আটকানোর চেষ্টা করলেন,ভেঙে গুড়িয়ে দিতে চাইলেন তার ডাক্তারী পড়ার স্বপ্নকে। কিন্তু যার নাম কাদম্বিনী,যার এত জেদ, এত নিষ্ঠা নিজের স্বপ্নপূরণের তাকে কি এত সহজে আটকানো যায়?
কাদম্বিনীর এই অসম্ভব কে সম্ভব করার লড়াইয়ে তিনি পাশে পেয়েছিলেন দ্বারকানাথ কে। ক্রমশ এগিয়ে চলে কাদম্বিনী দেবীর লেখা পড়া। বেথুন কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অবশেষে কলকাতা মেডিকেল কলেজে(১৮৮৪) শিক্ষা লাভ করে ভাগলপুর থেকে কলকাতায় আসা সেই সাধারণ কাদম্বিনী হয়ে উঠলেন প্রথম প্র্যাক্টিসিং মহিলা ডাক্তার। লেডি ডাফরিন উইমেন্স হসপিটালে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি বুঝতে পারেন যে তাকে নেটিভ হিসেবে যথেষ্ট হীন দৃষ্টিতে দেখা হয়। এরপর তিনি এডিনবার্গ যাত্রা করেন (১৮৯৩) কৃপণ এডিনবার্গ কলেজ অফ মেডিসিন ফর উইমেন থেকে LRCP, গ্লাসগও থেকে LRCS এবং ডাবলিন থেকে GFPS লাইসেন্স অর্জন করেন এবং ট্রিপল ডিপ্লোমা লাভ করেন।
এডিনবার্গ থেকে ফিরে এসে তিনি মহিলাদের অধিকারের জন্য ক্যাম্পেইনিং করেন, তাকে বঙ্গবাসী পত্রিকায় পরোক্ষভাবে পতিতা অভিহিত করা হয়। দ্বারকানাথ কোর্টে কেস করেন এবং জেতেন ফলে পত্রিকার এডিটরের 6 মাসের জেল হয়।
অবশেষে ৩রা অক্টোবর ১৯২৩ কাদম্বিনী দেবী না ফেরার দেশে পাড়ি দেন।
তার জীবন কালে তিনি যে অসাধ্য সাধন করে গেছেন তো অবিস্মরনীয়। কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় এর নাম ভারতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

06/07/2021
সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীন আন্দোলনের জয়। নানা গড়িমসির পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গ নোটিস বের করতে বাধ্য হলো বর্ধমান রাজ কলেজ ক...
05/07/2021

সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীন আন্দোলনের জয়। নানা গড়িমসির পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গ নোটিস বের করতে বাধ্য হলো বর্ধমান রাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ।

Long Live Student Struggle
✊🏾❤️

04/07/2021

সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন যে কি পরিমান ক্ষমতা রাখে তার আরো একবার প্রমান দিল বর্ধমান রাজ কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। প্রথম থেকে গড়িমসি করেও অবশেষে করোনা অতিমারিতে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হলো রাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ। ৫০০ টাকার বেশি এক পয়সা নেওয়া যাবেনা। যাদের থেকে ইতিমধ্যেই বেশি ফি নেওয়া হয়েছে তাদের টাকা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে বর্ধমান উইমেন্স কলেজ এবং বিবেকানন্দ কলেজও সাধাইন ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের চাপে একই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

আমাদের বারবার এই কথাটা মনে করিয়ে দেওয়ার আছে যে, ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের জন্য ছাত্রছাত্রীরা নয়।

সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন দীর্ঘজীবী হোক...✊🏾❤️

বর্ধমান। দ্রুত ত্বরণে বাড়তে থাকা শহর। শহর বাড়লে, দৌড়লে, না-শহরকে গ্রাস করতে হয় আর যা কিছু বাড়তি, ফালতু জিনিস তা ছেঁটে ফে...
05/06/2021

বর্ধমান। দ্রুত ত্বরণে বাড়তে থাকা শহর। শহর বাড়লে, দৌড়লে, না-শহরকে গ্রাস করতে হয় আর যা কিছু বাড়তি, ফালতু জিনিস তা ছেঁটে ফেলতে হয়। নাহলে মেট্রো-শহরের গতি রূদ্ধ হয়। উন্নয়নের বুলেট ট্রেন হর্ন বাজায়। তাই, বর্ধমান শহর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র পুকুর আর নেই। পুকুর, জলাজমি, প্রাকৃতিক নালা নিয়ে গড়ে ওঠা বর্ধমানের বাস্তুতন্ত্র ভোগে গেছে। বিশাল জলা বুজিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ততোধিক বিশালাকার বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। জিটি রোড সম্প্রসারণের জন্য রাস্তার দু’ধারের যাবতীয় ছোট, বড়ো, মাঝারী গাছ-লতা কেটে ফেলা হয়েছে। সঙ্গে বিদেয় হয়েছে সেসব উদ্ভিন্ন গুল্মে আশ্রয় নেওয়া প্রাণেরা। ধুলোয় ধুলোয় জিটি রোডে চলাচল করা যায় না। গা-জ্বালা গরমে ছায়ায় দাঁড়ানোর উপায় নেই।
ওদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির চক্রটারই নাকি দফারফা হয়ে গেছে। হঠাত হঠাত ঝড় হচ্ছে। ধুলোর ঝড়। বৃষ্টি হলে বাড়ির দেওয়ালে, ছাদে ক্ষয়াটে, হলুদ আস্তরণ দেখা যাচ্ছে। স্বস্তির বৃষ্টি পরিণত হচ্ছে অ্যাসিড বৃষ্টিতে। শুধু বর্ধমান নয়, জলাভূমি বোজানো, পুকুর ভরাট, গাছকাটার ঘটনা চারদিকেই ঘটছে। যশোর রোড, লাটাগুড়ি, টাকি, ঝাড়গ্রাম, সেবক থেকে রংপো সড়ক কি রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হচ্ছে। নির্বিচারে গাছ কেটে জঙ্গল উচ্ছেদ চলছে। তুতিকোরিণ, ভাবাদিঘী, ভাঙ্গর, কুদানকুলাম, নিয়মগিরি, অরুণাচল, নর্মদা, রামপাল, ডাকোটা, ফুকুশিমা, চের্নোবিল, ভোপাল...। সঙ্কটে খাল-বিল-নদী-সমুদ্র-পাহাড়। সঙ্কটে কোরাল রীফ-সীল মাছ-ডাব-মরু ভল্লুক-শকুন-বাদুড়-বাঘরোল-ধান-দেওয়ালী পোকা সব্বাই। গ’লে যাচ্ছে বরফের ভেতরের স্তর। ভূ-স্তরের ফাটল বাড়ছে। বাড়ছে ভূমিকম্পের প্রবণতা। হঠাত ধ্বস, দাবানল, আগ্নেয়গিরি, জলোচ্ছ্বাস উজাড় করছে ‘প্রথম বিশ্বের’ ‘আধুনিকতম’ নগর-গ্রামকেও। নগরায়ণই যদি সমস্যা হয় তবে বিচিত্র বুনোট জঙ্গলের সাম্রাজ্য সাফ করে গ্রামায়ণও তো সেই সমস্যার একরকমের উৎসমুখ নয় কি? জলবায়ু বদলে যাচ্ছে দ্রুত। বদলে যাচ্ছে ঋতুচক্র। এসব ধ্বংসের কারণ কি আমাদের প্রয়োজন-ভোগ নাকি লোভ? যে প্রাকৃতিক বিন্যাস নির্মানে মানুষের ভূমিকা নগণ্য, সেই বিন্যাসকে অযাচিতভাবে বিকৃত পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া মানুষের সংবেদের প্রকাশ কি?

বরং, একটা গল্প শোনা যাক।
কম্পানি ঠিক করল আলুর চিপ্‌স্‌ বানাবে। কম্পানির নাম? টাটা বা ফাটা কিছু একটা ধরে নেওয়া যাক। আলুর চিপ্‌স্‌ বানাতে গেলে আলু লাগবে। প্রত্যেকটা আলু নিটোল, গোল, পাতলা খোসার হতে হবে। আলুর মধ্যে জল কম থাকবে অর্থাৎ শুকনো হতে হবে। এমন আলুর প্রজাতি স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়না। তাহলে ফাটা কম্পানি কি করবে? ফাটা, একদল বিজ্ঞানীকে ভাড়া করবে। জীনের বদল ঘটিয়ে যেমন চাই তেমন আলুর বীজ বানাতে ‘ফাটা এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইন্স্‌টিটিউট’ খুলবে। ছাত্রছাত্রীরা বাপের জমি ফাটার কোনও এক তুতো ভাইয়ের কাছে বন্ধক রেখে গুচ্ছ টাকা সেমেস্টার ফিজ দিয়ে সেখানে ভর্তি হবে। সেই টাকায় ‘রিসার্চ’ হবে। গবেষণায় তৈরী হবে কাঠখোট্টা, নিটোল, গোল, পাতলা খোসার, জল-কম আলুর বীজ। আলুর বীজ হল। এবার তা ফলাতে হবে। রিসার্চ ইন্স্‌টিটিউটে যারা পড়ায় বা যারা পড়ে তারা তো চাষ জানেনা। ফলত ফাটাকে আলুচাষীদের কাছে যেতে হবে। এদিকে আলুচাষে নিরাপত্তা নেই। হঠাত কোনও বছর ৫০০ টাকা বস্তা পাওয়া গেল তো অন্য বছরগুলোয় ১৫০ টাকা বস্তা। ফাটা বস্তাপিছু ২৫০ টাকা বাঁধা দামের কথা দেবে চাষীদের। ফাটার কেনা নেতা এসে সেচের জন্যে ৪/৫ টা নদী সংযুক্ত করে দেবে। চাষীদের মনে হল এতে লাভ, অনিশ্চয়তা নেই। নদীর মরণে দুঃখ পেলেও, তারা চাষ করতে রাজি হল। কিন্তু এ ধরণের আলু চাষ করতে বেশি বেশি নির্দিষ্ট ধরণের কীটনাশক, রাসায়নিক সার লাগে। এই কীটনাশক, রাসায়নিক কোথা থেকে আসবে? ফাটা কীটনাশক, কেমিক্‌ল সারের কারখানা খুলবে। কিভাবে খুলবে? খুলতে তো জমি চাই। ফাটা বলল কেমিক্‌ল হাব বানাবে। এলাকার উন্নয়ন হবে। জমি দাও, জঙ্গল দাও। না দিলে গুলি খাও। ফাটা সরকারের কাছে SEZ (স্পেশাল ইকোনমিক জোন) চাইবে; বিনামূল্যে জল, ইলেক্ট্রিক, ফ্রেট করিডোর নানা কিছুর বায়না করবে। আমাদের একবারও না জিগ্যেস ক’রে আমাদের ট্যাক্সের পয়সায় সরকার-পার্টি সেসব বানিয়ে ফাটার হাতে তুলে দেবে। চিরতরে জঙ্গল হারিয়ে যাবে। সেখানকার বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে ঢুকে কিছুদিন খাবারদাবার জোগাড়ের চেষ্টা ক’রে, বিউটিফিকেশন আর আলোকসজ্জার ধাক্কায় জলাশয় থেকে খাবার জলটুকুও না পেয়ে, শেষে গুলি কি বল্লমের খোঁচায় মরবে। ফাটার পয়সায় চলা এনজিও ‘বন্যপ্রাণী ম্যানেজমেন্ট কেন্দ্র’ খুলে আদিবাসী মানুষদের ‘প্রকৃতিপ্রেম’ শেখাতে যাবে। এভাবে কেমিক্‌ল হাব হবে। হাবে অ্যালুম্যুনিয়ামও বানাতে ফাটা পাহাড়ের পর পাহাড় কিনে বক্সাইট তুলবে। পাহাড়বাসীদের তাড়িয়ে দেবে, পাহাড় ধ্বংস করবে। হাব থেকে বেশি লাভের জন্য ফাটা কম পারিশ্রমিকে শ্রমিকদের ১৪ ঘন্টা ক’রে খাটাবে। মজুরী চাইলে ছাঁটাই করবে। মজুরদের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ ছড়িয়ে কিছু শ্রমিককে মেরেই ফেলবে, ফাটা রাষ্ট্রীয় শুয়োর-সেবক মঞ্চ্‌। কারখানার দোহাই দিয়ে মাটির তলার জল তুলে নেবে গ্যালন গ্যালন, সেই জলের একটা অংশ দিয়ে একটাকায় কোকাকোলা বানিয়ে ১৫ টাকায় তা আমাদের বিক্রি করবে। আর সেই কেমিক্‌ল হাব ভয়ঙ্কর কার্বন দূষণ ছড়াবে চারপাশের নদী-পুকুর-বাতাসে। জল-হাওয়ায় মানুষের আর্সেনিক হবে, চর্মরোগ হবে। মানুষ ক্ষেপে গেলে গ্রামের একটা মেয়েকে রেপ ক’রে থেঁতলে মেরে ফেলবে ফাটার লোকেরা। ফাটার মিডিয়া কম্পানি সেই সুযোগে পরমাণু বিদ্যুতের পক্ষে প্রচার করলে, ফাটার মাইনিং কম্পানি মাটির তলা থেকে ইউরেনিয়াম তোলার জন্যে খনি খুঁড়বে। খনি শ্রমিকের ঘরে বিকলাঙ্গ সন্তান জন্মাবে। স্পঞ্জ আয়রনের ধুলোয়-ভরা গাছের পাতা দেখে সেই সন্তানেরা জানবে গাছের পাতার রঙ – কালো। আর শহরের কিছু ছেলেমেয়ে সেই ধর্ষিত-গ্রামের মেয়েদের মধ্যে ‘কম’ পয়সায় ফাটার তৈরী স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে উৎসাহিত ক’রে ট্যাবু ভাঙতে যাবে। এভাবে ফাটা রাসায়নিক সার, কীটনাশক তৈরি করবে। ফাটার থেকে আলুচাষি, অন্য চাষিরা সেসব কিনবে। সেই রাসায়নিক সার ধোয়া জল গড়িয়ে গিয়ে পুকুরের জলে মিশে পুকুরের বাস্তুতন্ত্র, জৈব চক্রকে বদলে দেবে। এই কীটনাশকই মাটিতে মিশে মাটির অম্লতা বাড়িয়ে প্রাকৃতিক রাসায়নিক চক্রগুলিকেও নষ্ট করবে। মারা পড়বে অসংখ্য কেঁচো, মেঠো ইঁদুর, সাপ, অনুজীবরা। এত ধরণের ধ্বংসের পরে আলু চাষ হলে আলু তোলা হল। পচা আলুর অজুহাত দেখিয়ে চাষির থেকে ফাটা এতোটুকুই আলু কিনবে যাতে চাষি মহাজনের ধার শোধ করতে ফাটাকেই নিজের জমি বেচে দিতে বাধ্য হয়। সেই জমি আর জলা বুজিয়ে ফাটা রিয়েল এস্টেট, শপিং মল, হোটেল, ইকো ট্যুরিজ্‌ম পার্ক খুলবে কাঠ বেচে লাভ করা যায় এমন একই ধরণের গাছের নকল জঙ্গল বানিয়ে। (সেসব বানাতে আমাদেরই ব্যাঙ্কে রাখা টাকা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে জীবনেও ফেরত দেবে না ফাটা)। সেসব জায়গার বিজ্ঞাপন করবে অভিনেতা থেকে ক্রিকেট খেলোয়াড়। কিন্তু চাষ-করানো আলু থাকবে কোথায়? তার জন্য কোল্ডস্টোরেজ চাই। ফাটা কোল্ডস্টোরেজও খুলবে। চাষিদের লাভের লোভ দেখিয়ে আবার জমি হাতাবে। কোল্ডস্টোরেজে চাষীদের চাষ করা ৫০০০ ট্রাক আলু জমা হবে। কিন্তু ফাটার চিপ্‌স্‌ বানাতে লাগবে মাত্র ৫০০ ট্রাক আলু। কোল্ডস্টোরেজে তখনো ৪৫০০ ট্রাক আলু পড়ে রইল। এদিকে বাজারে অন্য আলু আর নেই। কারণ অন্য আলু চাষ করাই হয়নি। ৫০০০ ট্রাক আলুর ঘাটতি নেহাত কম নয়। দাম আগুনসীমা ছাড়িয়েছে। চাষীদের বাড়িতেও আলুভাতে-ভাতের মেনু নুনভাতে নেমেছে। এমন অবস্থায় খোলা বাজারে চড়া দামে ৪৫০০ ট্রাক আলু বেচে দিল ফাটা। সেই আলু ঢুকে গেল আমাদের রান্নাঘরে। কিন্তু এ তো সাধারণ আলু নয়। এতো ফাটা-420। তবে ফাটার পেট্রোলিয়াম বেচার ইউনিট হাজার হাজার কোটি টাকার টার্নওভার বাড়ালো রান্নার গ্যাস বিক্রি করে। কেন? চিপ্‌সের ব্যবসার জন্য কাঠখোট্টা, নিটোল, শুকনো আলু রান্না করতে দুগুণ তিনগুণ সময় লাগল, ফাটার তৈরী প্রেশার কুকার কিনতে হল। অতিরিক্ত জ্বালানি পুড়ল। ফলত গ্যাসের খরচাও বাড়ল। এই অতিরিক্ত গ্যাস টাটা বা ফাটা কোম্পানি থেকেই বেশী দাম দিয়ে কিনতে হলো আমাদের। ততদিনে সরকার গ্যাসের ওপর ভর্তুকীও তুলে দিয়েছে ফাটার তুতোভাই ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের পরামর্শ মোতাবেক। তারপর সেই জিনে-ধরা আলুপোস্ত, আলুর দম খেয়ে গণহারে অসুস্থ হতে থাকলাম আমরা। ফাটার তো ওষুধের কোম্পানিও খোলা আছে। সেই ওষুধের বিক্রি বাড়লো জোর ধাক্কায়। ফাটার নার্সিং হোম ২৪x৭ ‘হাউস ফুল’ থাকলো। জেনেটিক্যালি মডিফায়েড আলু খাওয়ার অভ্যেসে আমাদের ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়লো। ফাটা খুললো নতুন ‘দোকান’। ফাটা ক্যান্সার রিসার্চ ইন্স্‌টিটিউট। একদল অঙ্কোলজিস্ট, বিজ্ঞানীদের ভাড়া করা হল। আমরাই রাতজাগা পড়াশোনা করে সেই যোগ্যতা অর্জন করেছি। ফাটার নার্সিং হোম, ফাটার অ্যাম্বুলেন্সের পর বাজারে ফাটা কম্পানির ‘নিশ্চয় যান’ও আছে -- যা আমাদের শ্মশান বা কবরস্থান পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। ফাটা এখন কাফনও বিক্রি করে, শ্মশানের ইলেক্ট্রিক চুল্লীটাও ফাটার R ‘n D-র দান। শ্মশানে গিয়ে আমরা ফাটা চিপ্‌স-ফাটা কোলা দিয়ে ফাটার রাম খাব।

তাহলে?

রাস্তা হবে না? কম্পিউটার ব্যবহার করবো না? সেলফি তুলতে অ্যানড্রয়েড ব্যবহার করব না? পরমাণু গবেষণা হবেনা? রকেট যাবে না মঙ্গলে বা শনিতে? জঙ্গলে ফিরে যাব? কাঁচা মাংস খাব? ন্যাংটো হয়ে ঘুরবো? ঘরবাড়ি বলে কিছু থাকবে না?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কেউ বলেন ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লহ এ নগর’। পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া, প্রকৃতিকে ভোগের সামগ্রী হিসেবে নস্যাৎ না ক’রে কৃচ্ছ্বসাধনের কথা আদতে মানুষের থেকে পরিবেশকে বিচ্ছিন্ন ভাবতেই শেখায়। আরও একদল মানুষ আছেন, যারা পরিবেশ রক্ষায় জৈববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দাওয়াই দেন। কিন্তু, সংরক্ষিত অরণ্য বা চিড়িয়াখানা দিয়ে যে বনের প্রাণ রক্ষা হয়না তা আমাদের কাছে স্পষ্ট। ঠিক যেভাবে, ক্যারাটে শিখিয়ে আসিফাদের বাঁচানো যায়না। ঠিক যেভাবে আম্বেদকরের জন্মদিন পালন করলেই রোহিত ভেমুলাকে বাঁচিয়ে তোলা যায়না, ঠিক তেমন।

আবার রাস্তা-কম্পিউটার-সেলফি-অ্যানড্রয়েড-পরমাণু গবেষণা-রকেট-স্যাটেলাইট-মঙ্গলযান-চিকেন সসেজ-স্ট্রেচেবল জিনস-ফ্ল্যাট-বাংলো উৎসর্গ করে কাঁচা মাংস-ন্যাংটো আদিম শরীর-গুহার আশ্রয়-পাথরের হাতিয়ার নিয়ে বাঁচতে যাওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব।

কোকিল-ময়ূর-পলাশফুল-কাঞ্চনজঙ্ঘা-মেরিনা বিচ-জলদাপাড়া দেখতে দেখতেও আমাদের এক ঢোঁক কোকাকোলা বা এক কামড় মিও-আমোরে লাগে। আমরা স্কুলে-কলেজে জল-মাটি-বায়ু দূষণ নিয়ে প্রবন্ধ লিখতেই পারি, ইভিএস-এর অ্যাসাইনমেন্টে ‘বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ’ কপচাতেই পারি, ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’ গলায় ঝুলিয়ে ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল...’ গাইতেই পারি। কিন্তু এই যে ‘আরও চাই, আরও চাই’ মনগুলো ট্যাঙ্কে পেট্রোল (পালে হাওয়া নয়) পেয়ে যায় যে ধাঁধার সামনে প’ড়ে, সেই ধাঁধার উত্তর খুঁজবো কোন রাস্তায়? যে রাস্তা তৈরিতে গাছ কাটা পড়বে না। যে রাস্তা তৈরির কারখানা থেকে বিষাক্ত জল-বিষাক্ত ধোঁয়া বেরোবেনা। যে রাস্তায় চলা যানবাহন এক সিন্থেটিক পৃথিবীর বিজ্ঞাপন করবে না। যে মন নিয়ে আমরা এই ধাঁধার উত্তরের রাস্তা খোঁজার চেষ্টায় আছি, সেই মনও কিন্তু চিঁড়েচ্যাপ্টা হয়ে আছে ‘আরও চাই’-এর জাঁতাকলেই। আমরা প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করতে পারি, তাই আমরা নিয়ন্ত্রনও করতে পারি – এই ভাবনা মনে থেকেই যায় আমাদের; মানুষের বিজ্ঞানের, মানুষের প্রযুক্তির। মানুষের, মুনাফার অভিঘাত স্থায়ী বিকৃতি ঘটাচ্ছে নিসর্গের। মানুষের তৈরী অঙ্কগুলোও নিরন্তর মেপে চলে সমস্তকিছু। ‘পরিমাপ’-এর এই মনষ্কতা যে অর্থনীতির কথা বলে তা জঙ্গলকে মাপে সেন্টিগ্রেড (উষ্ণতা), সিসি (বৃষ্টিপাত), গ্যালন (অক্সিজেন), বর্গমিটার (ছায়া), কিলোগ্রাম (ফল), ইঞ্চি (কাঠ)-র হিসেবে। এ হিসেব ধ্বংসাত্বক। অর্থনীতি, অর্থনীতির ভাষা বাতিল করতে হবে। খুঁজতে হবে নতুন ভাবে। খুঁজতে গেলে জানতে হবে। জানলে দায় বর্তায় জানানোর। দায় বর্তায় কিছু করার। তারপরেও পড়ে থাকে নানা তর্ক, প্রশ্ন, খোঁজ, কাজ, ভাবনা।

গতবছর দেখেছি আম্ফান সুন্দরবনকে কিভাবে  তছনছ করে দিয়েছে, মনে করা হয়েছিল যে এটি বর্তমান দশকের একটি অভিশাপ। কিন্তু এ বছর প...
24/05/2021

গতবছর দেখেছি আম্ফান সুন্দরবনকে কিভাবে তছনছ করে দিয়েছে, মনে করা হয়েছিল যে এটি বর্তমান দশকের একটি অভিশাপ। কিন্তু এ বছর প্রায় একই সময়ে যশের পুনরাবৃত্তি দেখে মনে হচ্ছে যে এগুলো কোন 10 বছরের একটি অভিশাপ নয়, বছর বছরের অভিশাপ। মনে প্রশ্ন উঠেই যায় " প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ শুধুই কি প্রকৃতির খেলা?" । এই নিয়ে কালকের Virtual Meet। সন্ধ্যে ৭ঃ৩০ টা -৯ঃ০০ টা।

Meet Link: https://meet.google.com/pwo-cfau-bgb

আয়োজনে: Education for all . সবার সাথে সবার শিক্ষা

‘ভেসে-চলার দল …ভাসার স্রোতকেই মানে। যিনি উজিয়ে নিয়ে তরীকে ঘাটে পৌঁছিয়ে দিবেন, তাঁর দুঃখের অন্ত নেই, স্রোতের সঙ্গে প্রতিক...
22/05/2021

‘ভেসে-চলার দল …ভাসার স্রোতকেই মানে। যিনি উজিয়ে নিয়ে তরীকে ঘাটে পৌঁছিয়ে দিবেন, তাঁর দুঃখের অন্ত নেই, স্রোতের সঙ্গে প্রতিকূলতা তাঁর প্রত্যেক পদেই।’- রামমোহন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ

যুক্তিবাদী,প্রগতিশীল ও সংস্কারমুক্ত আধুনিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী বাংলার সন্তান ছিলেন রামমোহন। ধর্মীয়,সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারক হিসাবে তিনি ছিলেন নিরলস সংগ্রামী। রাজা রামমোহন রায় নিরাকার ব্রক্ষ্মের উপাসনা ও একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। মূর্তিপূজার ঘোর বিরোধী রামমোহন তাঁর যুক্তিবাদী মন নিয়ে ধর্মীয় কুসংস্কার, অযৌক্তিক গোঁড়ামী ও তৎকালীন হিন্দু সমাজের জাত-পাত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। নানাধরণের কুসংস্কার যেমন সতীদাহ, সন্তান গঙ্গাসাগরে বিসর্জন, বাল্যবিবাহ,বহুবিবাহ,অস্পৃশ্যতা সেই সময় বাঙালীর জীবনকে পরতে পরতে আবৃত করে ফেলেছিল। এই রক্ষণশীল হিন্দুসমাজ ও ঔপনিবেশিক শাসনতান্ত্রিক পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেও রামমোহন দেশকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতির অবস্থান নেওয়ার ফলে সামাজিক কুৎসা, জীবনের উপর আক্রমণ সবকিছুই সইতে হয়েছে তাঁকে। তাও বিপ্লবী মনোভাবাপন্ন রামমোহনের জীবনের নিরন্তর লড়াই ও দুঃসাহসিকতাকে দমানো যায়নি। তাঁর সহযোগিতাতেই ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিং আইন করে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি অনুভব করেছিলেন সমাজে নারীদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো, তাদের শিক্ষার প্রসার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। রামমোহন মনে করতেন পাশ্চাত্য শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই নতুন ভারত গড়ে তোলা সম্ভব এবং দেশকে শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসতে না পারলে সমাজের প্রগতি ও সভ্যতার উন্নতি রুদ্ধ হয়ে যাবে। এই উদ্দেশ্যে তিনি অন্যের সহযোগিতা ও বহুক্ষেত্রে নিজ ব্যয়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। এছাড়াও জমিদারদের অত্যাচার, উচ্চহারে খাজনা আদায়, উচ্চবিত্তদের উৎপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে রামমোহন রুখে দাঁড়ান। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ‘স্বাধীনতার শত্রুরা ও স্বৈরতন্ত্রের বন্ধুরা কখনও সাফল্যমন্ডিত হয়নি এবং কখনও হবেও না’। রাজা রামমোহন রায় খ্রীষ্টধর্মের কুসংস্কারগুলিকেও সমালোচনা করতে ছাড়েননি। উনবিংশ শতাব্দীতে রামমোহন যে মুক্ত চিন্তাচেতনার আলো জ্বেলে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই আলোতেই ভারতে নব-জাগরণের পথটি ত্বরান্বিত হয়েছিল। তিনি ১৮১৫ সালে আত্মীয়সভা এবং ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন নিজের ধর্মভাবনা সঞ্চারের উদ্দেশ্যে। যেখানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলে উপাসনায় যোগ দিতে পারতো। সেই সংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দু সমাজে সাংস্কৃতিক নবজাগরণ, সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভাবধারার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্মের কাছে রামমোহন হলেন অগ্রদূতস্বরূপ। তাই ইতালির রেনেসাঁসের সেই পেত্রার্ক ও বোকাচ্চিওর মতো রামমোহন ছিলেন ভারতের নবজাগরণের অগ্রদূত।

এই বার্তা পৌঁছাতেই রামমোহনের উদ্দ্যেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে লিখেছিলেন
"দেশকালের সংকীর্ণতা ছাড়িয়ে যায়, তারই আলোকে হিন্দু মুসলমান এবং খৃস্টান তার চিত্তে এসে মিলিত হয়েছিল। অসাধারণ দূরদৃষ্টির সঙ্গে সার্বভৌমিক নীতি এবং সংস্কৃতিকে তিনি গ্রহণ করেছিলেন। শুধু ধর্ম এবং আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে নয়, কর্মের ক্ষেত্রেও তার বুদ্ধি ছিল সর্বগ। এ দেশে রাষ্ট্রবুদ্ধির তিনিই প্রথম পরিচয় দিয়েছেন। আর, নারীজাতির প্রতি তার বেদনাবোধের কথা কারো অবিদিত নেই । সতীদাহের মতো নিষ্ঠুর প্রথার নামে ধর্মের অবমাননা তার কাছে দুঃসহভাবে অশ্রদ্ধেয় হয়েছিল । সেদিন এই দুনীতিকে আঘাত করতে যে পৌরুষের প্রয়োজন ছিল আজ তা আমরা সুস্পষ্টভাবে ধারণা করতে পারি নে।
রামমোহন রায়ের চিত্তভূমিতে বিভিন্ন সম্প্রদায় এসে মিলিত হতে পেরেছিল এর প্রধান কারণ— ভারতীয় সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ উপদেশকে তিনি গ্রহণ করতে পেরেছিলেন। ভারতীয় বিদ্যা এবং ধর্মের মধ্যে যেখানে সবাই মিলতে পারে সেখানে ছিল তার সাধনার ক্ষেত্র, সেখান থেকেই তিনি বাণী সংগ্ৰহ করেছিলেন । সেই ছিল তার পাথেয়। ভারতের ঋষি যে আলো দেখেছিলেন অন্ধকারের পরপার হতে, সেই আলোই তিনি আপন জীবনযাত্রাপথের জন্ত গ্রহণ করেছিলেন । ভাবলেও বিস্ময় জন্মে যে, সেই সময়ে কী করে আমাদের দেশে তার অভ্যাগম সম্ভবপর হয়েছে । তখন দেশে একটা দল ইংরেজি শিক্ষার অত্যন্ত বিরুদ্ধে ছিলেন, ম্লেচ্ছবিদ্যাতে অভিভূত।"

বলা ভালো, ওনার এই আলোয় সমাজ আলোকিত হলেও এখনো অনেকটা পথ চলা বাকি। আজও এ দেশে প্রতিদিন ধর্মের এবং জাতের নামে মানুষ খুন হয়, লাঞ্ছিত হয়। গ্রাম ছাড়া হতে হয়। আজও সেই দলিত মেয়েটিকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। কুসংস্কার আজো আঁকড়ে ধরে আছে। আমাদের থামলে চলবে না, আমরা আমাদের ভাবনায় সেই ঝড়ের হাওয়া লাগিয়ে হেঁটে যাবো এক অলীক ভোরের খোঁজে। এই সমাজেই তুচ্ছতা, হিংসা হেরে যাবে একদিন; ভালোবাসা জিতবেই। এই সমাজেই, রামমোহন-দের হাত ধরে একদিন আসিফা-রা স্কুল যাবে এক ব্যাগ রোদ্দুর নিয়ে।

আমরা, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা দাবী তুলেছিলাম যে, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সহযোগিতায়, রাজ্য সরকারের ...
22/05/2021

আমরা, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা দাবী তুলেছিলাম যে, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সহযোগিতায়, রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সেফ হোম গড়ে তোলা হোক। দুদিনে প্রায় হাজারের ওপর ইমেল জমা পড়েছে VC-র কাছে। আমাদের দাবির সংহতিতে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদেরও পাশে পেয়েছি। এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টাল স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে থেকেও সেফ হোম খোলার দাবী উঠছে। প্রশাসনিক পক্ষের তরফে প্রথমিক প্রতিক্রিয়াও মিলেছে। আমরা আশা রাখি দ্রুত সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবীকে মান্যতা দিয়ে সেফ হোম চালু করা হবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে।

যারা এখনও পর্যন্ত সই করেননি, তাঁরা অবিলম্বে নীচের অনলাইন পিটিশনটিতে সই করে সেফ হোমের দাবির সাথে থাকুন...

পিটিশন― http://chng.it/pcMCLtKZ

ছবি: আনন্দবাজার, ২২/০৫/২০২১

কোভিড সেফ হোমের দাবীতে সহমত হয়েও এখনও অবধি যারা নীচের এই পিটিশনে সই করেননি, আপনারা অবিলম্বে সই করুন। বন্ধুদেরও বলুন সহমত...
20/05/2021

কোভিড সেফ হোমের দাবীতে সহমত হয়েও এখনও অবধি যারা নীচের এই পিটিশনে সই করেননি, আপনারা অবিলম্বে সই করুন। বন্ধুদেরও বলুন সহমত হলে পিটিশনটি সই করতে। শেয়ার করে পরিচিত মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে।

http://chng.it/pcMCLtKZ

সেফ হোমের দাবিতে গতকাল থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০-র বেশি ইমেল পৌঁছেছে VC-র কাছে।

আমরা আশা করছি সকলে সমান ভাবে উদ্যোগী হলে দ্রুততার সাথেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে অক্সিজেন যুক্ত সেফ হোম গড়ে উঠবে।

কোভিড পরিস্থিতি গণস্বাস্থ্যের দিকটি চিন্তা করে আমাদের  বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাতে অবিলম্বে কমপক্ষে ২০০ বেড ...
19/05/2021

কোভিড পরিস্থিতি গণস্বাস্থ্যের দিকটি চিন্তা করে আমাদের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাতে অবিলম্বে কমপক্ষে ২০০ বেড বিশিষ্ট অক্সিজেন সাপোর্টেড সেফ হোম গড়ে তোলা হয়, তার জন্য আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা VC স্যারের কাছে ই-মেল মারফত আমাদের দাবী জানিয়েছি।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের কাছে আমাদের আবেদন যে বর্তমান কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আপনারাও এই গণ-ইমেল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন।

To:
1) [email protected]

CC:
1) [email protected]
2) [email protected]
3) [email protected]

#বর্তমান_ছাত্রছাত্রীদের_জন্য_মেল_বডি:

মাননীয় মহাশয়,
আমরা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। বর্তমানে কোভিড অতিমারীর মধ্যে আমাদের রাজ্য তথা দেশের অবস্থা সংকটজনক। রাজ্যের সর্বত্রই সরকারি হাসপাতালের বেডগুলি প্রায় ভর্তির মুখে। পূর্ব বর্ধমান জেলার অবস্থাও তার থেকে বিশেষ কিছু ভালো নয়। হুগলী, বাঁকুড়া, বীরভূম, মেদিনীপুর, পুরুলিয়ার মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষজনের কাছে ভরসার জায়গা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ। কিন্তু এই কোভিড পরিস্থিতিতে তা প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে। আমরা দেখেছি পূর্ব বর্ধমানের কৃষি ভবনে কোভিড পেশেন্টদের জন্য অক্সিজেন সাপোর্টেড যে ২০০ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল তা কয়েকদিনের মধ্যে ভরে গেছে। এমন অবস্থায় জেলা থেকে আগত কোভিড পেশেন্টদের জীবনহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আমরা মনে করছি আমাদের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে, তাতে কমপক্ষে ২০০টি বেড বিশিষ্ট অক্সিজেন সহযোগী সেফ হোম গড়ে তোলা কঠিন কোনো কাজ নয়। আমরা দেখেছি আমাদের রাজ্যের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই ব্যাপারে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। আমরা চাই আমাদের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও সেই তালিকায় সংযোজিত হোক।

আমাদের দাবী অবিলম্বে গণস্বাস্থ্যের দিকটি চিন্তা করে, রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২০০ বেড বিশিষ্ট অক্সিজেন সাপোর্টেড সেফ হোম গড়ে তোলা হোক।

মহাশয়, আমরা আশা রাখি গণস্বাস্থ্যের দিকটি চিন্তা করে আপনি দ্রুত এ বিষয়ে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ধন্যবাদান্তে
(নিজের নাম)

#প্রাক্তন_ছাত্রছাত্রীদের_জন্য_মেল_বডি

মাননীয় মহাশয়,

আমরা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। বর্তমানে কোভিড অতিমারীর মধ্যে আমাদের রাজ্য তথা দেশের অবস্থা সংকটজনক। রাজ্যের সর্বত্রই সরকারি হাসপাতালের বেডগুলি প্রায় ভর্তির মুখে। পূর্ব বর্ধমান জেলার অবস্থাও তার থেকে বিশেষ কিছু ভালো নয়। হুগলী, বাঁকুড়া, বীরভূম, মেদিনীপুর, পুরুলিয়ার মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষজনের কাছে ভরসার জায়গা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ। কিন্তু এই কোভিড পরিস্থিতিতে তা প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে। আমরা দেখেছি পূর্ব বর্ধমানের কৃষি ভবনে কোভিড পেশেন্টদের জন্য অক্সিজেন সাপোর্টেড যে ২০০ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল তা কয়েকদিনের মধ্যে ভরে গেছে। এমন অবস্থায় জেলা থেকে আগত কোভিড পেশেন্টদের জীবনহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আমরা জানতে পেরেছি আমাদের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০০ বেড বিশিষ্ট সেফ হোম গড়ে তোলার জন্য বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা ইমেল মারফত দাবী জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী হিসেবে আমরাও চাই এই সময় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এই দাবীটির মান্যতা দিক এবং রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে অবিলম্বে ২০০টি বেড বিশিষ্ট অক্সিজেন সহযোগী সেফ হোম গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করুক।

মহাশয়, আমরা আশা রাখি গণস্বাস্থ্যের দিকটি চিন্তা করে আপনি দ্রুত এ বিষয়ে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ধন্যবাদান্তে
(নিজের নাম)

Address

Golapbag
Burdwan
713104

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Independent Students' Voice - BU posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category