22/10/2025
মানবতার নবজাগরণে দুই আলোকবর্তিকা – বাহাই ধর্মের যুগল জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধা ও উদযাপন
বিশ্ব ইতিহাসের আধ্যাত্মিক নবযুগের সূচনা হয়েছিল উনিশ শতকের মধ্যভাগে, যখন পারস্য ভূমিতে উদিত হয়েছিলেন দুই মহান অবতার- বাব ও হযরত বাহাউল্লাহ। মানবতার ঐক্য, শান্তি, ন্যায় ও ভালোবাসার বার্তাবাহী এই দুই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের জন্মদিন প্রতিবছর পরপর দুই দিনে পালিত হয়, যা বাহাই ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরিচিত "যুগল জন্মদিন" (Twin Holy Birthdays) নামে।
বাহাই ধর্মে এই দুই দিবসকে সবচেয়ে পবিত্র উৎসব হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ, বাব ও বাহাউল্লাহর আবির্ভাব মানবজাতির আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বাহাই বিশ্বাস অনুযায়ী, তাঁদের আগমন ছিল ঈশ্বরের ধারাবাহিক প্রকাশের অংশ-যা অতীতের সব নবী ও দ্যূতদের বাণীর ধারাবাহিকতাই বহন করে।
এই যুগল জন্মোৎসব বাহাই সম্প্রদায়ের কাছে কেবল আনন্দ ও ভক্তির উৎসব নয়, বরং এক আত্মিক জাগরণের আহ্বান। এটি মানুষকে স্মরণ করায় যে, পৃথিবীর সকল জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতি একক মানব পরিবারের অংশ-যেখানে বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যই মূল লক্ষ্য।
বাব
সাইয়্যিদ আলি মুহাম্মদ (১৮১৯-১৮৫০) ১৮৪৪ সালে তাঁর ঐশী আহ্বান ঘোষণা করেন। "বাব" অর্থ “দ্বার” – অর্থাৎ ঈশ্বরীয় সত্যের নতুন দ্বার উন্মোচনকারী। তিনি ঘোষণা করেন, একটি বৃহত্তর প্রকাশ আসন্ন-যিনি মানবতার জন্য ঈশ্বরের পরবর্তী বার্তা আনবেন।
তাঁর শিক্ষা ছিল মানুষকে আধ্যাত্মিকভাবে প্রস্তুত করা, আত্মাকে শুদ্ধ করা, এবং সমাজে ন্যায় ও করুণার চেতনা জাগ্রত করা।
তাঁর বিপ্লবী আহ্বান সমাজে এক নতুন চিন্তার সঞ্চার ঘটায় এবং পারস্যে সংস্কারের পথ খুলে দেয়।
বাহাউল্লাহ
মির্জা হুসেইন আলি (১৮১৭-১৮৯২) বাবের ঘোষিত সেই প্রতিশ্রুত ব্যক্তিত্ব, যিনি নিজেকে ঈশ্বরের নতুন প্রকাশ হিসেবে ঘোষণা করেন। তাঁকে বাহাই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সম্মান করা হয়।
তাঁর শিক্ষা-"পৃথিবী এক দেশ, মানবজাতি তার নাগরিক"।
বাহাউল্লাহ মানবজাতির ঐক্য, নারী-পুরুষের সমতা, ধর্মের একতা, বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় সামঞ্জস্য, ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা এবং বিশ্বশান্তির আদর্শ ঘোষণা করেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থসমূহ যেমন কিতাবে আকদাস, কিতাবে ইকান এবং অসংখ্য ট্যাবলেট আজও বিশ্বের শতাধিক ভাষায় অনূদিত ও অধ্যয়ন করা হয়।
বাব ও বাহাউল্লাহর আবির্ভাব মানবজাতির আত্মিক অগ্রগতি ও সভ্যতার নবজাগরণের সূচনা করার জন্য। তাঁরা এসেছিলেন