05/09/2022
(ছোটবেলায়) যখন প্রাথমিক ইস্কুলে পড়তাম তখন একজন জ্ঞান–অভিজ্ঞতার শিক্ষক ছিলেন।তাঁর ক্লাসের বেশিরভাগটাই ছিল হাতে কলমে।এঁটেল,দোঁয়াশ কি বেলে;পত্ররন্ধ্র কি শাখামূল;একপত্রী কি বহূপত্রী;যতটা হাতেকলমে দেখানোর আওতায় থাকতো সবটাই এভাবেই শেখাতেন।আর তার সাথে শেখাতেন নৈতিক জ্ঞান, শৃঙ্খলা বোধ(এখন বুঝি,তখন কি আর বুঝতে পারতাম!)এর জ্ঞান।আমরা আনন্দ করে সব শিখতাম।মাটি,পাতা,ফুল, বীজ সব সংগ্রহ করে আনতাম।সে বন্ধুদের মধ্যে এক ভীষণ প্রতিযোগিতা। যাই হোক যখন তিনি পাতার খাবার সঞ্চয়ের ব্যাপারে মুড়ির উদাহরণ দিতেন সেটা বেশ মনে আছে।এখনকার মতো তখন এতো খাবারের বৈচিত্র্য ছিল না,না ছিল গ্যাস ওভেন,ইলেকট্রনিক ওভেন। মাটির উনুনই ছিল বেশিরভাগ পরিবারের ভরসা। তাই বর্ষাকালে যখন টানা ৪–৫ দিন বৃষ্টি হত তখন সেই মুড়িই ভরসা।তো মাস্টারমশাই গাছের খাদ্য সঞ্চয়ের বিষয়টি বোঝাবার জন্য মুড়ি ভেজে রাখার ব্যাপারটি বর্ণনা করতেন।
এখনও বৃষ্টি হলে মুড়ি খেতে গেলেই সেই ক্লাসরুমটি মনে পড়ে। একজন প্রবীণ শিক্ষক আর কয়েকটি উৎসুক ছেলে-মেয়ে। মুহূর্তে মনে মনে সগর্বে বলে উঠি“কুচিয়াকোল ইন্দ্রনায়ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এর নাম। যে বিদ্যালয়ে তিন বছর পড়বার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার।
এখন জ্ঞান–অভিজ্ঞতার সেই মাস্টারমশাই তুষারবাবু আর নেই। বহূবছর হলো তিনি জ্ঞান অণ্বেষণের অনন্তলোকে যাত্রা করেছেন। ভালো থাকবেন মাস্টারমশাই। আপনার অনুপ্রেরণা এখনও আমাদের উৎসাহিত করে চলেছে। শিক্ষকদিবসের প্রণাম নেবেন মাস্টারমশাই।
🙏🙏সাথে সাথে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান সমস্ত শিক্ষক– শিক্ষিকা মণ্ডলীকে প্রনাম জানাই। শুভ শিক্ষক দিবস 🙏🙏