15/07/2020
ঠিক আজ থেকে 200 বছর আগে , একজন প্রবাদপ্রতিম মুক্তমনা দার্শনিক,গবেষক,বিজ্ঞান সাধক,সাংবাদিক, সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারের অগ্রগণ্য ব্যাক্তিত্ব ১৮২০ সালের ১৫ ই জুলাই বর্ধমান জেলার চুপিগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, তিনি অক্ষয় কুমার দত্ত।মননে ও জীবন চর্চায় আজীবন বিজ্ঞান চিন্তা ও নাস্তিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে গেছেন।চুপিগ্রামে তার বাস্তু বাঙালির স্মৃতির ন্যায় কবে গঙ্গার স্রোতে ভেসে গেছে।বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের পরিভাষা তৈরিতে তার ছিলো বিরাট অবদান ,যেমন অণুবীক্ষণ,চুম্বক,জ্যোতির্বিদ্যা,দাহ্য পদার্থ,জড়, তড়িৎ,পরিমিতি,আগ্নেয়গিরি,জ্বালামুখী,গ্রহণ,মাধ্যাকর্ষণ,সুমেরু,কুমেরু এইরকম কত শব্দ।
১৮৪৮ এর জানুয়ারি মাসে তত্ববোধনী পত্রিকায় তার দার্শনিক প্রবন্ধ 'বাহ্য বস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার' ধারাবাহিক ভাবে বেরিয়ে তৎকালীন বাঙালি সমাজে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিলো। আজ থেকে প্রায় ১৭০ বছর আগে অক্ষয়কুমার ওই লেখায় উল্লেখ করেন হবু দম্পতি পরস্পরের সঙ্গে আলাপ পরিচয় করে নেবে। পতি পত্নীর বয়সের বেশি ফারাক হবে না। বইটিতে বাল্য বিবাহ ও বহুবিবাহ তীব্র নিন্দা করা হয়। ১৮৫৫ সালে ১৭ জুলাই শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য নর্মাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলে বিদ্যাসাগর এর অনুরোধে প্রধান শিক্ষক এর পদ গ্রহণ করেন। উনিশ শতকে বাংলার সমাজ মানসে যুক্তিবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীর অন্যতম ধারক ১৮৮৬ র ২৮ মে জীবনাবসান হয়। তখন তার পুত্র ছন্দের জাদুকর বলে পরিচিত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এর বয়স মাত্র ৪। আজীবন আধুনিক বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ টাকে সমাজের অন্ধ সংস্কারের বিরুদ্ধে একা লড়ে যেতে হয়েছিলো।তিনি হলেন সেই সমস্থ মনীষীদের মধ্যে অগ্র গণ্য যারা ভারতীয় ঐতিহ্যের মধ্যে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতার শিকড় অনুসন্ধান করে গেছেন । আজ তার জন্মদিনে তার স্মৃতির উদ্দেশে রইলো এইটুকু স্মৃতিচারণ।