23/01/2025
অনেক স্মৃতি এই ঐতিহ্যবাহী স্কুল এর সাথে। ২০০৯ এর আগস্ট মাসে কুলেপোতা স্কুল থেকে বদলি হয়ে এখানে আসা। তৎকালীন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মাননীয় শরিফুদ্দিন সাহেব অস্থায়ী বদলিকরণের সময় বলেছিলেন অভিভাবক দের চরম চাপ এখানে স্থানীয় শিক্ষক হিসেবে আপনাকে এখানে আনতে চাই সেই চাপ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভাব মেটানোর জন্য। কথা দিয়েছিলাম চেষ্টা করবো। দীর্ঘ ১৫ বছর এখানে শিক্ষকতা জীবনে সেই অভিভাবকগণ ই ছিলেন আমার প্রধান ভরসার জায়গা। স্বাগতা দি কে প্রথম TIC হিসেবে পাওয়া এই বিদ্যালয়ে , তখন স্টাফ সংখ্যা খুবই সীমিত। ঘর ও পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু প্রচেষ্টা ছিলো সকলেরই। আমি শ্যামল দা , নীলিমা দি ছিলাম অস্থায়ী বদলি। বাকি ছিলেন স্বাগতা দি, পূরবী দি , গঙ্গা দা , অন্তরা , শ্বাশতী দি । আর পার্শ্ব শিক্ষক সুমন ভাই। আত্মিক সম্পর্ক তখন থেকেই বিদ্যালয়ের সাথে। ২০০৬ সালে প্রথম যোগদানের তিন বছর শিক্ষকতার কোন অর্থই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এখানে এসে শিক্ষকতার পূর্ণতা প্রাপ্তি। এরপর সুমন চলে গেলো স্থায়ী চাকরি পেয়ে দেবগ্রাম এর একটি স্কুলে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন মনোতোষ বাবু। দক্ষ শিক্ষক ও প্রশাসক আমার দেখা। অনেক কিছু শেখার ছিলো তার কাছে। বিদ্যালয়ের উন্নতি কল্পে পরিশ্রমী ছিলেন তিনি। তার অবসরে সংকট মুহূর্তে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে তৎকালীন প্রশাসন আমাকে দায়িত্ব দেয়। তখন ই এই বিদ্যালয়ে আমার স্থায়ীকরণ। স্থায়ীকরনে অশেষ ভূমিকা নেন তৎকালীন সভাপতি ব্রজগোপাল বণিক ( পিংকু দা) । আগেও প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন স্বাগতা দি। অনেক স্নেহ পেয়েছি দিদির কাছে। বিদ্যালয় কে একটি পরিবারের গ্রন্থিতে বেঁধে রাখতে দিদির ভূমিকা সর্বদা মনে থাকবে আমার। কিছু কাল চার্জে থাকার পর যোগদান করেন চন্দ্রা দি প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে। মনোতোষ বাবু থেকে চন্দ্রা দি এই সময় কালে যোগদান করেন তৃপ্তি দি, বন্দনা দি, সোনালী দি , কমল দা, বাদল দা, ছবি দি, মঞ্জু দি, সুজন দা । বোর্ড পরিবার সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে । সর্বশেষ এই পরিবারে অন্তর্ভুক্ত হয় বোন পিয়ালী। সুখী পরিবার , বোর্ড পরিবার হয়ে ওঠে। মাঝে চন্দ্রা দির অকাল প্রয়াণে দায়িত্ব বদল হয়। পরবর্তী সময়ে গঙ্গা দা অবসরে আবার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পরে আমার উপর। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সর্বাঙ্গীন উন্নতি কল্পে আপ্রাণ প্রচেষ্টা নেয় বোর্ড পরিবার। এই সময়কালে সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের হৃত গৌরব ফেরানোর আপ্রাণ প্রচেষ্টা নেয় সকলে। অতঃপর ২৪ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেন মুজিবর বাবু নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে। কমল দা প্রধান শিক্ষক হিসেবে বদলি নেন অন্যত্র।সকালে বিদ্যালয় শুরু হবার পর থেকে কখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল কখনো সন্ধ্যা হয়ে যেতো খেয়াল ই থাকতো না। ছুটির দিন গুলিতেও বেথুয়া থাকলে একবার স্কুল যাই নি এমন হয় নি কোনদিন। পুজোর ছুটিতে গাছ আর বাগান দেখা আর যত্ন নিতে বেশ ভালো লাগতো। প্রাক শারদীয়া অনুষ্ঠান , চতুর্থ শ্রেণীর বিদায় সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান , CCRT সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠন , শিক্ষা আলোচনা অনুষ্ঠান , সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন ১৫ বছর ধরে কি সুন্দর অনাবিল আনন্দে কেটে গেছিলো দিনগুলি।এসবের মধ্যেও কিছু নিস্তরঙ্গতা ছিলো অবশ্যই । নিজের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ ও। পাটিগণিতের হিসেবে জীবনের হিসেব কোনদিন ও মেলেনি আমার , মিলবে ও না হয়তো আগামীতে। দুই আর দুইয়ের যোগফল তিন হলেও চাকরি ইস্তফার সিদ্ধান্তে অখুশি নই , শুধু কষ্টের বলতে আমার সন্তানসম ছাত্র ছাত্রীদের ছেড়ে ও প্রিয় বিদ্যালয় পরিবার ছেড়ে যাওয়া।তবে জীবনের শেষ দিন আফশোস করার থেকে আজকের কৃচ্ছতা তুচ্ছ আমার কাছে। স্ব মূল্যায়নের সময় যখন আসবে সেদিন নিক্তিতে মেপে দেখবো , অংকের হিসেব না শিক্ষকতা তে নিজেকে প্রমাণ করার হিসেব -- কোনটা প্রয়োজনীয় ছিলো । প্রাণপ্রিয় বোর্ড স্কুল স্ব মহিমাতে তার অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যর ধারা কে অক্ষুন্ন রেখে আগামীতে স্ব কৃত্যে ভাস্বর থাকুক এই কামনা সর্বদা করি।
বিদ্যাঠাসা মগজ ব্যতিরেকে যদি মননশীল একটি মন ও তৈরি করতে পারি সেখানেই আমার সার্থকতা রইবে নতুবা নয়।জীবন ব্যাপি শিক্ষার অবিচ্ছিন্ন প্রবাহে আমি আজও ছাত্র রয়েছি আগামীতেও শুধু ছাত্র ই থাকার ইচ্ছা। হাজারো হাজারো শ্রেণীকক্ষে ই নিহিত আছে পুরো ভারতবর্ষ , সেখানে বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় আর ধরাদহ রজনীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন পার্থক্য নেই।চরৈবেতি এই মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলি -- দেখাই যাক ।
# লেট আপডেট -- প্রাণপ্রিয় বোর্ড পরিবার ছেড়ে যাবার কিছু সোনালী মুহূর্ত।