18/09/2026
রাজ্যের ছাত্রশূন্য ৪ হাজারের বেশি স্কুলের সম্পত্তি বিক্রি ও সেগুলিকে পিপিপি মডেলের আওতায় আনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এআইডিএসও রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় এক বিবৃতিতে বলেন —
" সংবাদে প্রকাশ রাজ্যের চার হাজারের বেশি ছাত্রশূন্য স্কুলের সম্পত্তি বিক্রি করবে রাজ্য সরকার এবং সেগুলিকে পিপিপি'র আওতায় নিয়ে আসবেন। সেই মর্মে ইতিমধ্যে জেলা শাসককে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছি। রাজ্যের জেলাগুলিতে সরকারি স্কুলগুলো ধারাবাহিক সরকারি অবহেলায় দীর্ঘদিন থেকেই পরিকাঠামোহীন অবস্থায়, শিক্ষক সংকটে রয়েছে। যার পরিনতিতে স্কুলগুলোর ছাত্র সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে কমেছে। এই স্কুলগুলির পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটিয়ে, সমস্ত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করে পঠন পাঠনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য বারবার দাবি জানিয়েছি। অথচ স্কুলগুলোতে ছাত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসার কোনও উদ্যোগ না করে গত তৃণমূল সরকার ৮২০৭ টি সরকারি স্কুলকে তুলে দিয়ে পিপিপি মডেলের আওতায় আনার কথা ঘোষনা করেছিল। আজ সেই পথেই বর্তমান বিজেপি সরকার আরও চার হাজারের বেশি স্কুল তুলে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। আজ যখন রাজ্যের স্কুলগুলোয় বিজ্ঞান বিভাগে ৫৭% ও অঙ্কের ২৭% শিক্ষকপদ শূন্য,, যখন রাজ্যের প্রায় দু লক্ষ্যের বেশি শিক্ষক- শিক্ষাকর্মী পদ শূন্য , তখন সেই শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ না করে সরকারি স্কুলের সম্পত্তি বিক্রি করতে চাইছে সরকার! আসলে এই প্রক্রিয়ায় 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০' কেই শিক্ষার সরকারি ক্ষেত্রে চালু করে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণ করতে চাইছে । সে কারনেই একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আরএসএস পরিচালিত এক হাজার স্কুল চালুর কথা ঘোষণা করা হচ্ছে , আর একদিকে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ও সরকারি সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা সরকারি স্কুল বন্ধ করে পিপিপি মডেলের আওতায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হাতে সেগুলোকে ব্যবসার জন্য তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে বিজেপি পরিচালিত বর্তমান রাজ্য সরকার একদিকে শিক্ষার দায়িত্বকে অস্বীকার করে শিক্ষার বেসরকারিকরণ করছে ; যেখানে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্জন করবে। আর একদিকে সাধারণ ঘরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য মহান মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নবজাগরণের শিক্ষাচিন্তার প্রসার বন্ধ করে হিন্দুত্ববাদী শিক্ষার আয়োজন করছে। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছি এবং অবিলম্বে রাজ্যে চিহ্নিত চারহাজার সরকারি স্কুল সহ সমস্ত স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নতির দাবি জানাচ্ছি। সমস্ত বন্ধ স্কুলের তালা খুলে, ড্রপ আউট ছাত্রদের স্কুলে ফিরিয়ে, সমস্ত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ করে স্কুলগুলির পরিকাঠামো মানের উন্নয়নের জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণকে সোচ্চার হওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।