02/02/2023
তিরিশের দশকে পথ চলা শুরু। ছাত্রাবস্থা থেকেই জীবন সংগ্রাম নামক অধ্যায়ের অবতারণা। দুপুকুরিয়া গ্রামের ভাগীরথী তীরবর্তী নলিন পণ্ডিতের পাঠশালায় হাতেখড়ি। কালক্রমে শক্তিপুর হাইস্কুলে ভূজঙ্গভূষণ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের সান্নিধ্য লাভ। সেখান থেকেই বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কাজে নিজেকে উজার করে দেওয়া। ফুটবল খেলার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করা। উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমান ভাবতা। জীবনের জন্য সংগ্রামটা আরো কঠোর হয়ে ওঠে। বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে জন্ম দিলেন যাত্রী পত্রিকার। কুমারপুর ভোলানাথ মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় ও বেলডাঙ্গায় জন্ম দিয়েছেন অঞ্জলী ও বালার্ক পত্রিকার। কুমারপুর ভোলানাথ মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় তাঁর আমলেই খ্যাতির শীর্ষে পৌছয়। বিদ্যালয়ের উন্নতিকল্পে আলোচনার বসতেন কালের অন্যতম সাহিত্যিক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজের সাথে। জার্নিটা মোটেই সহজ ছিল না। তিনি যখন কুমারপুরের প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন তখন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা তিরিশের আশপাশ। আলপথে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পাড়ি জমিয়েছেন শিক্ষার্থী সংগ্রহের নিমিত্তে। ঘন্টার পর ঘন্টা অভিভাবকদের বোঝাতে হয়েছে সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালোমন্দের দিক। বিদ্যালয়ের উন্নতিকল্পে বের হয়েছেন মুষ্ঠিভিক্ষায়। তখন ভারতে ইংরেজ শাসনের অবসান হলেও স্থানীয় জোতদাররা প্রভাবশালী ছিলেন। সেদিক দিয়েও তাঁকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। হার মানেননি। কূটনীতির সঠিক প্রয়োগ ঘটিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতিসাধন করেছেন৷ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষামূলক ভ্রমণে নিয়ে যেতেন৷ ঠিক মতো খেতে না পাওয়া ছাত্রী-ছাত্রীদের মনে জেলা বা মহকুমা চ্যাম্পিয়ন হবার অনুপ্রেরণা জাগিয়ে ছিলেন। উচ্চ মাসোহারা বা উচ্চ পদের প্রলোভন কে দূরে সরিয়ে রেখে আজীবন আদর্শ শিক্ষকের মহান ব্রত পালন করেছেন৷ শিক্ষাদানের পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না বলেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর দেওয়া সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদ। তাঁর আমলের বিদ্যালয়ের ফুটবল দল জেলা চ্যাম্পিয়নের খেতাব জেতে। মহিল খো-খো দলের শিরে মহকুমা চ্যাম্পিয়নের তাজ ওঠে তাঁর আমলেই। আল ইণ্ডিয়া টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রূপে রাজ্যের বাইরে বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। রেখেছেন মূল্যবান বক্তৃতা। নেতাজির একসময়ের পার্সোন্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মহান রাজনীতিবিদ ত্রিদিব চৌধুরী মহাশয়ের স্নেহধন্য ছিলেন। রাজ্য সরকারের তত্বাবধানে নির্মিত বিখ্যাত কীর্তনীয়া নন্দকিশোর দাস মহাশয়ের চতুস্পাঠীর উপদেষ্টা মণ্ডলীর একজন সদস্য ছিলেন। All India Open Marathon Race এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সন্তরণ প্রতিযোগিতার যে হোম কমিটি তার সদস্য ছিলেন। বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর চিনসুরায় কিছুকাল সাংবাদিকতা করেছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা কবিতা, প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক প্রতিবেদন। অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত থেকেছেন অনির্বান, কৃষ্ঠিপাথর সহ আরো অন্যান্য পত্রিকার সাথে। দীর্ঘদিন ধরে লেখালিখি করছেন। কয়েক হাজার কবিতা ও বহু সংখ্যক প্রবন্ধের জন্ম দিয়েছেন। কম কথায় তাঁর বিষয়ে বলা সম্ভব নয়। এখনো লেখার অনেককিছু বাকি রইল। হেড মাস্টার মশাইদের ট্রেনিং ডাইরেক্টর বিশ্বনাথ মণ্ডল মহাশয় আজ ৮৮ বছরে পদার্পণ করলেন৷ শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দনের পাশাপাশি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। জগৎ চালিকা শক্তির কাছে তাঁর সুস্থ শরীর ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।
©®রামকৃষ্ণ বড়াল : সাটুই, মুর্শিদাবাদ।।