31/12/2024
দারুল হিকমাহ-র ফাজিলাহ কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ সম্পন্নকারী, কোচবিহার নিবাসী, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুল খন্দকার দারুল হিকমাহ-কেন্দ্রিক নিচের মতামতটি পাঠিয়েছেন ।
“আলহামদুলিল্লাহ,আমি গত দুই বছর ধরে দারুল হিকমার সাথে যুক্ত আছি। দারুল হিকমার একজন ছাত্র হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমার কিছু অভিমত নিম্নে উল্লেখ করছি:
বর্তমান সময়ে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে অনলাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোর্স বর্তমান সময়ে অফলাইনের তুলনায় অনলাইনেই বেশি জনপ্রিয়। এমনকি UPSC এবং NET এর মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও এখন অনলাইন মাধ্যম অন্যতম ভরসা। কেননা এতে যেমন অফলাইনে ক্লাস করতে যাওয়ার যানযট থেকে নিস্তার পাওয়া যায় ঠিক তেমনি বাড়িতে বসেই অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকের সান্নিধ্য পাওয়া সহজ হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামী অঙ্গনে এই ধরনের ভাবনা আমাদের দেশে ভাবা হয়নি বললেই চলে। "দারুল হিকমাহ"-এর এমন আধুনিক যুগোপযোগী ভাবনা ইসলামী শিক্ষা জগতে নতুন বিপ্লবের জাগরণ ঘটাবে ইনশাআল্লাহ্।
তবে অনলাইন মাধ্যমে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়, যেমন- ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা, পড়ালেখার মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি ইত্যাদি। আলহামদুলিল্লাহ, এই সীমাবদ্ধতাগুলোও দূর করেছেন দারুল হিকমার কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকগণ। শিক্ষকগণ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে প্রত্যেকটি ক্লাসে দারস দিয়ে থাকেন, এমনকি অনেক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকও একাজ করতে হিমশিম খাবেন বলে মনে হয়। কেননা এখানকার শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ নিজেরাই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, এমনকি কলেজের প্রফেসর, কেউবা MBBS ডাক্তার, কেউবা WBCS আধিকারিকসহ নানা পেশার মানুষ। তাদের পেশা যেমন আলাদা তেমনই বয়সও আলাদা। সেইসাথে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কিভাবে পড়া আদায় করতে হয় তাও খুব ভালো ভাবেই রপ্ত করেছেন "দারুল হিকমাহ"-এর শিক্ষকগণ। পড়াশোনাসহ জীবনের নানা আনুষাঙ্গিক বিষয়ে যেকোনো সমস্যায় তারা সবসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকেন। সর্বোপরি বার্ষিক পরীক্ষায় অফলাইনে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে সকলকে একত্রিত করে পরীক্ষা নেয়ার বন্দোবস্ত করে থাকেন দারুল হিকমাহ কর্তৃপক্ষ, যা এই প্রতিষ্ঠানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এতে যেমন শিক্ষার মান এবং মূল্যায়ন সম্পর্কে সংশয় দূর হয় তেমনই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের সাথে তৈরি হয় মজবুত বন্ধন। সেইসাথে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে আপনি যখন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার জোশ দেখবেন তা আপনাকে অবাক হতে বাধ্য করবে। যে বয়সে মানুষ বিভিন্ন পেশা থেকে অবসর নিয়ে নাতি নাতনির সাথে খোশগল্প আর খেলাধুলা করে সময় কাটাতে চান, সেই বয়সের একজন মানুষকে যখন খাতা কলম নিয়ে সেই স্কুল জীবনের মত পরীক্ষা দিতে দেখবেন, তখন আপনি অন্তর থেকে বলতে বাধ্য হবেন "দারুল হিকমাহ" সত্যিই সফল। রবের কাছে কামনা করি এই প্রতিষ্ঠান যেন কিয়ামত অবধি চালু রাখেন।”