26/11/2025
Congratulations!
Bamangachhi Bholanath High School was founded by Dr Pulin Bihari Bhattyacharya in memory of his son
26/11/2025
Congratulations!
16/12/2023
শিক্ষামূলক পুরুলিয়া ভ্রমণঃ দর্শনীয় স্থানঃ জেনে রাখ
====================
অযোধ্যা পাহাড়ঃ
============
অযোধ্যা পাহাড় পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত। এটি দলমা পাহাড়ের একটি অংশ ও পূর্বঘাট পর্বতমালার একটি সম্প্রসারিত অংশ। অযোধ্যা পাহাড়ের উচ্চতম শৃঙ্গটি হল গোর্গাবুরু। বাঘমুন্ডি এই পাহাড়ের নিকটস্থ একটি শহর।
হিন্দু কিংবদন্তি অনুসারে, রাম ও সীতা বনবাসের সময় অযোধ্যা পাহাড়ে এসেছিলেন। এখানে এসে সীতা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে রাম নিজের তীরের সাহায্যে মাটি খুঁড়ে জল বের করে আনেন। সেই জায়গাটি সীতাকুণ্ড নামে পরিচিত। বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্থানীয় আদিবাসীরা এই প্রসব্রণের জল খেয়ে বন্য পশু শিকার উৎসবে যোগ দেয়।
ময়ূর পাহাড়ঃ
=========
ময়ূর পাহাড় হল অযোধ্যা পাহাড়ের একটা বর্ধিত অংশ। এই জায়গাটি একসময় ময়ূর ঘুরাঘুরির জন্য বিখ্যাত ছিল । তাই এর এই রূপ নাম হয়েছে বলে মনে করা হয়। অযোধ্যা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু টিলা এটি। মায়াবী আলোয় সূর্য ডোবে এখানে। এখানে নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো জঙ্গল ও পাহাড়ের এলাকা দেখতে পাওয়া যায়।
দশম জলপ্রপাতঃ
=============
সুবর্ণরেখা নদীর একটি উপনদী কাঞ্চি নদী জুড়ে দশম জলপ্রপাত একটি প্রাকৃতিক ক্যাসকেড । জল 44 মিটার (144 ফুট) উচ্চতা থেকে পড়ে চারিদিকে শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়। রাঁচি মালভূমির এক প্রান্তে দশম জলপ্রপাত যা এই অঞ্চলের অনেকগুলি স্কার্প জলপ্রপাতের মধ্যে একটি।
পাখি পাহাড়ঃ
==========
পাখি পাহাড় পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত একটি মনোরম পাহাড়। “পাখি পাহাড়” নামের অর্থ স্থানীয় ভাষায় “পাখির পাহাড়” এবং পাহাড়টি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত।
পাহাড়টি সবুজ বনে আচ্ছাদিত এবং আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই সুন্দর। এই এলাকাটি ময়ূর সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল, যেখান থেকে “পাখি পাহাড়” নামটি এসেছে।
তুরগা জলপ্রপাতঃ
============
তুরগা জলপ্রপাত হল একটি সুন্দর পর্যটন গন্তব্য যা পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় অযোধ্যা পার্বত্য রেঞ্জের কাছে অবস্থিত। বামনি নদীর উপর ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে পতিত এই ক্যাসকেডিং জলপ্রপাতটি সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের জীববৈচিত্র্যের একমাত্র জলপ্রপাত। স্থানটি প্রতিটি ঋতুতে একটি নতুন ধরনের সৌন্দর্য প্রদান করে।
গড় পঞ্চকোটঃ
==========
গড় পঞ্চকোট পুরুলিয়া জেলায় পঞ্চকোট পাহাড়ের কোলে অবস্থিত একটি প্রত্নস্থল। এই স্থানটি একদা ঐ অঞ্চল শাসনকারী শিখর রাজবংশের রাজধানী ছিল।
গড় পঞ্চকোটে প্রায় পাঁচ মাইল বিস্তৃত একটি দুর্গ ছিল। এই গড়ের চারিপাশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বারো বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এবং এটি পরিখা দিয়ে ঘেরা ছিল। মূল দুর্গ পাথরের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল।
গড় পঞ্চকোটের অধিকাংশ স্থাপত্য বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা অবলুপ্তির পথে। এই স্থানে বেশ কয়েকটি মন্দির রয়েছে, যেগুলি উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের "হীরক রাজার দেশে"র শুটিং হয়েছিল এই গড় পঞ্চকোটে।
কঙ্কালী মাতার মন্দিরঃ
-------------------------------
গড়ের পশ্চিমদিকে প্রস্তর নির্মিত কঙ্কালী মাতার ভগ্নপ্রায় মন্দিরের অস্তিত্ব বর্তমান। মন্দিরের সামনের অংশ অক্ষত হলেও পেছনের অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত। কঙ্কালী মাতা পঞ্চকোট রাজ্যের কুলদেবী হলেও বর্তমানে এই মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। মন্দিরের প্রবেশপথের ওপরে কোন লিপি বা মূর্তি খোদিত ছিল, যা বর্তমানে বিনষ্ট হয়েছে।
অন্যান্য স্থাপত্যঃ
----------------------
গড়ের বাম দিকে প্রস্তর নির্মিত কল্যাণীশ্বরী দেবী মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ বর্তমান। এছাড়াও দুইটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত জোড়বাংলা মন্দির এই স্থানে অবস্থিত। এছাড়া পঞ্চকোট পাহাড়ের পাদদেশে রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ ও কর্মচারীদের বাসস্থান অবস্থিত।
বড়ন্তিঃ
=====
বড়ন্তি একটি ছোট্ট সাঁওতাল উপজাতীয় গ্রামের নাম। পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর সাব ডিভিশনের সাঁতুরি ব্লকে অবস্থিত। পাহাড় ঘেরা গ্রাম বড়ন্তি। গ্রামটির পাশেই রয়েছে মুরাডি লেক। এই গ্রামটি এক দিকে পঞ্চকোট পাহাড় এবং অন্যদিকে বিহারীনাথ পর্বত দ্বারা পরিবেষ্টিত।
জয়চণ্ডী পাহাড় থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে শান্তসবুজ বড়ন্তি। পাশ দিয়ে কুলকুল বইছে বড়ন্তি নদী। লাল মাটি। বড়ন্তি পাহাড়টির চারপাশ বাঁশ, সাল, পিয়াল, আমলকী, বহরা, হরিতকী, নিম প্রভৃতি গাছে ঘেরা। গ্রামটিকে ছবির মতো সুন্দর করে তুলেছে সারি সারি খেজুর গাছ।
এছাড়া সমগ্র বড়ন্তি ঘিরে রয়েছে পলাশ বন। বসন্ত কালে পূর্ণিমার রাতে বড়ন্তি বড়ই রোমাঞ্চকর। পূর্ণিমার চাঁদের মিষ্ট অলোকে বড়ন্তির পাহাড়, জলাশয়, রাঙা পলাশের জঙ্গল এক নৈস্বর্গিক শোভা পায়। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য্য বড়ই রহস্যময়। চাঁদের অলোয় রাঙা পলাশ ফুলের রক্তিম আভা মনকে মাতাল করে তোলে। মুরাডি লেকে বড়ন্তির সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য অতি মনোরম।
চড়িদাঃ (মুখোশ গ্রাম)
পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি ব্লকে অযোধ্যা পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই গ্রামটি। বাঘমুন্ডি শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে চড়িদা গ্রাম। এই চড়িদা গ্রামে প্রায় একশো পরিবারের বাস। কয়েক প্রজন্ম ধরে যাঁরা একটাই কাজ করে থাকেন - ছৌ নাচের মুখোশ তৈরী করা। এখানে একের পর এক ছোট ছোট বাড়িতে সার দিয়ে সাজানো শুধুই রঙ বেরঙের মুখোশ।এই গ্রামটি ছৌ-নাচের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত।
16/12/2023
পুরুলিয়া ভ্রমণঃ কিছু কথা
==================
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমাদের স্কুল থেকে শিক্ষা মূলক ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। এবার গন্তব্য স্থল ছিল পুরুলিয়া। প্রধান শিক্ষক অনামী ঘোষ মহাশয়ের নেতৃত্বে, ধীমান স্যার, আঃ ওদুত মন্ডলের(বাবলুদা) সক্রিয় তত্বাবধানে ,পরিচালন সমিতির সভাপতি মনোজ হালদার, সদস্য চন্দন বিশ্বাস, আনিসুর রহমান, মিড ডে মিলের দিদিরা, সঞ্জয়দা, মর্জিনাদি, ছাত্র- ছাত্রী, অভিভাবক -অভিভাবিকা, সহকর্মী শিক্ষিকা মায়মুনাদি, বর্ণালী পাল, শিক্ষক রবিউলদা ,ভূবন মোহন মন্ডল, আঃ শরীফ(রাকেশ) ও আমি মহঃ সেলিম, এছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ; নৌরিন, তীর্থ, অহনা, তিতলি সহ ষাট জন অংশগ্রহণ করি। আমরা ৮ই ডিসেঃ রাত ১১টায় বাসে করে রওনা দিই। পরদিন সকাল সাতটায় নির্ধারিত পুরুলিয়ার পন্ডিত রঘুনাথ মূর্মূ আবাসিক বিদ্যালয় পৌছাই। এখানে সমস্ত ব্যবস্থাপনা করে রেখেছিলেন আবাসিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূর্ণেন্দু মন্ডল মহাশয়। তিনি এবং তাঁর সহকর্মীদের আতিথেয়তা আমাদের মুগ্ধ করে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম করার পর আমরা গড় পঞ্চকোট পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বের হই। বিকালে পরিদর্শন করি বড়ন্তি লেক। সন্ধায় আবাসিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।পরদিন সকালে অযোধ্যার উদ্দেশে আমরা রওনা দিই। এখানে পরিদর্শন করি তূর্গা ফলস্, মার্বেল পাহাড়, পাখি পাহাড়, ময়ূর পাহাড়, অযোধ্যা টপ হিলস্, দশম ফলস্, আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম ও চড়িদা (মুখোশ গ্রাম)। এরই মাঝে চলে ধীমান স্যারের প্রকৃতির পাঠশালায় ভূগোলের পাঠদান। নৈশ আহারের পর আমরা বাসে উঠি। ১১ ই ডিসেঃ সকাল ৮ টায় বাড়ি ফিরে আসি। তবে মনের মনি কোঠায় অক্ষয় রয়েছে এই ভ্রমণের দিনগুলি।
| Monday | 10am - 5pm |
| Tuesday | 10am - 5pm |
| Wednesday | 10am - 5pm |
| Thursday | 10am - 5pm |
| Friday | 10am - 5pm |
| Saturday | 10am - 2pm |