08/08/2026
❝ তুমি নেই—তবু আছো ❞
✍️ ড. এ. কালাম
২২শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ০৮/০৮/২০২৬
আজ ২২শে শ্রাবণ—আকাশজুড়ে মেঘের বিষণ্ণতা, বাতাসে যেন অদৃশ্য শোকের সুর; মনে হয়, বাংলার আকাশ আজও খুঁজে ফেরে তার প্রিয় কবির কণ্ঠস্বর।
সেদিন তুমি চলে গিয়েছিলে নশ্বর শরীরের সীমানা পেরিয়ে অসীমের পথে; কিন্তু তোমার আলো নিভে যায়নি, তোমার গান থামেনি, তোমার স্বপ্নও হারিয়ে যায়নি।
তুমি নেই—তবু আছো।
আছো বাংলার মাটির গন্ধে, বর্ষার বৃষ্টিতে, শিশুর নির্মল হাসিতে, কৃষকের ঘামে, শ্রমিকের ক্লান্ত হাতে এবং মানুষের জন্য মানুষের হৃদয়ে জেগে থাকা ভালোবাসায়।
আজ যখন ধর্মের নামে মানুষ মানুষকে ভুলে যায়, বিশ্বাসের আড়ালে বিভেদের দেয়াল উঠে যায়, তখন তোমার কণ্ঠ আজও আমাদের বিবেককে জাগিয়ে বলে—
“ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে
অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে।”
তোমার কাছে ধর্ম ছিল না বিভেদের প্রাচীর; ছিল সত্য, জ্ঞান ও ভালোবাসার পথে মানুষের যাত্রা। শ্রদ্ধার সঙ্গে জ্বলে উঠুক বিবেকের আলো, আর বিশ্বাসের সঙ্গে থাকুক মানবিকতার স্পর্শ—এই ছিল তোমার ধর্মবোধের গভীর শিক্ষা।
তাই ঈশ্বরকে তুমি খুঁজেছিলে মন্দিরের নিভৃত অন্ধকারে নয়, কৃষকের মাটিভাঙা হাতে, শ্রমিকের ঘামে, জীবনের কর্মময় প্রান্তরে—
“রৌদ্রে জলে আছেন সবার সাথে,
ধুলা তাঁহার লেগেছে দুই হাতে।”
আর যে মানুষটি সমাজের প্রান্তে, যে সব হারিয়েও মানুষের ভিড়ে অদৃশ্য, তার মধ্যেই তুমি দেখেছিলে ঈশ্বরের সান্নিধ্য—
“সবার পিছে, সবার নীচে,
সব-হারাদের মাঝে।”
কী গভীর তোমার মানবধর্ম—ভজনের চেয়ে বড় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আচারের চেয়ে বড় সেবা, পরিচয়ের চেয়ে বড় ভালোবাসা; যেখানে মানুষকে ভালোবাসার মধ্যেই ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায়।
আজ পৃথিবী প্রযুক্তিতে কাছে এসেছে, অথচ হৃদয়ে দূরে সরে গেছে। মানুষের হাতে অসংখ্য সংযোগ, অথচ মানুষের কান্না শোনার সময় কমে গেছে। তাই এই বিভক্ত সময়ে তোমার সাহিত্য শুধু সৌন্দর্যের সাধনা নয়—একটি জাগ্রত বিবেক।