01/11/2025
অলৌকিক সিরিজ : ©বৃত্তের ইতিকথা
মনের গহীনে –
পর্ব ১ : ছায়ার ফিরে আসা
🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹
কলমে: #বৃত্তেরইতিকথা
আয়নায় নিজেকে দেখছিল নীহারিকা।
লাল বেনারসি, সোনার গয়না, কপালে টিপ, চোখে হালকা কাজল।
সবাই বলছে, “কনে আজ কত সুন্দর লাগছে!”
কিন্তু নিজের ভেতরে এক অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করছে ও।
আজ তার বিয়ে।
সব সাজসজ্জা, আলো, ফুল, গান— সবকিছু ঠিকঠাক, তবুও মনে হচ্ছে কিছু যেন হারিয়ে গেছে।
হয়তো সেই মানুষটা, যার নাম এখনও ওর বুকের গভীরে কাঁপে— ঋভ।
@বৃত্তের ইতিকথা
দুই বছর আগেও ওরা একে অপরকে ভালোবাসত প্রাণের মতো।
একসঙ্গে সিনেমা দেখা, কফির কাপ ভাগাভাগি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা—
সবকিছুই ছিল একদম সিনেমার মতো।
তারপর একদিন ঋভ হারিয়ে গেল।
কোনো চিঠি নয়, কোনো ব্যাখ্যা নয়।
ফোন অফ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লক।
এক মাস পর নীহারিকা জানতে পারল—
ঋভ নাকি বিদেশে গেছে, আর যোগাযোগ রাখতে চায় না।
তখন মনে হয়েছিল, ঋভ তাকে ধোঁকা দিয়েছে।
রাগে, অভিমানে, অপমানে সে চুপ করে গিয়েছিল।
আজ, সেই চুপ করা নীহারিকা বিয়ে করতে চলেছে অর্ণবকে—শান্ত, ভদ্র, সংযত একজন মানুষ। @বৃত্তের ইতিকথা
সবাই বলে, “ঋভের থেকে অর্ণব অনেক ভালো ছেলে।”
কিন্তু নীহারিকার মন জানে— ভালো আর শান্ত সবসময় একই জিনিস না।
ঠিক তখনই, ফোনটা হালকা কাঁপল।
স্ক্রিনে একটাই নাম ভেসে উঠল—
Riv : “একবার দেখা করো, খুব দরকার।”
নীহারিকার বুকের ভেতর কাঁপুনি।
“এতদিন পর? এখন?”
সে হাত কাঁপতে কাঁপতে টাইপ করল—
“এখন কিছুই বলার নেই, ঋভ। সব শেষ।”
বার্তাটা পাঠিয়ে দেওয়ার পরই ঘরে হালকা ঠান্ডা বাতাস বইল।
জানালাটা নিজের থেকেই খুলে গেল।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে।
আয়নার দিকে তাকাতেই নীহারিকার চোখ স্থির হয়ে গেল।
কাচের মধ্যে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে— এক পুরুষের ছায়া।
সে ধীরে বলল,
“ঋভ…”
আয়নার প্রতিফলনে এখন ঋভ দাঁড়িয়ে আছে।
চোখে অদ্ভুত শান্তি, মুখে এক টুকরো হাসি—
যেন সে অনেক দূর থেকে এসেছে, শুধু একটা কথার জন্য।
“তুমি এখন কোথায়? আমাকে কেন ফেলে গেলে?”
নীহারিকার গলা কাঁপছে।
ঋভের কণ্ঠ নরম, ভারী—
“আমি কখনও তোমাকে ফেলে যাইনি, নীহারিকা…
কিন্তু কেউ আমাদের আলাদা করে দিয়েছে।”
“কে?”
#বৃত্তেরইতিকথা
ঋভ ধীরে বলল,
“সেই রাতে একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল… আমি ফিরে আসতে পারিনি।
আমি সব বলবো তোমাকে , সব সত্যি।
কেউ তোমাকে মিথ্যে বলেছে, খুব বড় মিথ্যে। তুমি চেনো তাকে...” @বৃত্তের ইতিকথা
ঠিক তখনই দরজাটা জোরে কেঁপে উঠল।
বাইরে থেকে অর্নবের গলা—
“নীহারিকা? দরজা খোলো! সবাই ডাকছে!”
নীহারিকা ঘুরে তাকাল।
মুহূর্তের মধ্যে আয়নায় ঋভের ছায়া মিলিয়ে গেল।
ঘরে নিস্তব্ধতা, বাতাসে শীতল গন্ধ।
দরজা খুলতেই অর্ণব ভেতরে ঢুকল।
হাসি মুখে, কিন্তু চোখে অদ্ভুত এক দৃষ্টি।
“সব ঠিক আছে তো?”
নীহারিকা কোনো উত্তর দিল না।
অর্ণবের মুখের হাসিটা তখনও ঝুলছে,
আর নীহারিকার মনে অসংখ্য প্রশ্নের ঝড় তার মনের ভিতরটা তোলপাড় করে দিচ্ছে।
বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে।
আকাশ কালো, বাতাসে অদ্ভুত ভার।
নীহারিকা ধীরে জানালার দিকে তাকাল।
দূরে মেঘের গর্জন— যেন কেউ ফিসফিস করে বলছে,
“সবকিছু এখনও শেষ হয়নি…”
তার চোখ নিজের অজান্তে আবার ঘুরে গেল আয়নার দিকে।
আয়নায় কুয়াশার ভেতর হালকা করে ফুটে উঠছে তিনটা শব্দ—
“বিশ্বাস কোরো না…”
(চলবে)
কলমে : বৃত্তের ইতিকথা.
---_________________---
🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀
পরবর্তী পর্ব
পর্ব – ২ : রক্ত বাসর
রাতের বৃষ্টি, নীহারিকার ফোন আবার বেজে ওঠে....
আয়নায় লেখা নতুন বার্তা,
আর এক শীতল সত্য—
কি সেটা?
ঋভ মৃত! কিন্তু কিভাবে?
---
সবকিছু জানবেন পরবর্তী পর্বে কাল ঠিক এই সময়।
আর সব জানতে হলে,পেজটি ফলো করে রাখুন।
আর হ্যাঁ , অবশ্যই কমেন্টে জানান কেমন লাগলো, তাহলে লিখতে আরো উৎসাহ পাব।
কলমে: ©বৃত্তের ইতিবৃত্ত