14/11/2024
উত্তর কলকাতার বাগবাজার ও কচুরিনামা
উত্তর কলকাতা কচুরির জন্যে বেশ বিখ্যাত। আর বাগবাজার এলাকার আনাচে-কানাচে মেলে এমন সব কচুরির সম্ভার। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় মাছের কচুরির জন্যে জনপ্রিয় হলেও, মাছের কচুরি ছাড়াও নির্ভেজাল ডালের পুর ভরা কচুরিও এখানে মেলে। সত্যি বলতে, গরম গরম হিঙের কচুরির সাথে খোসাওয়ালা আলুর তরকারী না হলে কচুরি কি আর জমে? আমার আবার মিষ্টি মিষ্টি ছোলার ডালও কচুরির সাথে বেশ পছন্দের। এক কথায় কচুরির প্রতি আজীবন মনে একটা নির্ভেজাল ভালোবাসা রয়েছে
আজকের পোস্টে রইল বাগবাজার এলাকার কিছু জনপ্রিয় কচুরির খোঁজ
✅ গৌরাঙ্গ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ✅
বাগবাজার বাটার কাছে এই দোকান প্রায় ৬০ বছরের পুরনো। গরম গরম হিঙের কচুরি মেলে সারাদিন। তবে সকাল বা বিকেলে খোসা-ওয়ালা আলুর ঝাল মিষ্টি তরকারীর সাথে কচুরি যতটা জমে যায়, সেটা দিনের অন্যসময় ঠিক হয় না। কচুরি ছাড়া এখানে অমৃতি, মালপোয়া, সরভাজা, ক্ষীরের চপ, লবঙ্গ লতিকা বেশ বিখ্যাত। সকাল ৭ টায় দোকান খুলে যায়, আর খোলা থাকে রাত ১০ টা পর্যন্ত।
✅ পটলার কচুরি ✅
দোকানদারের মুখে হাসি না থাকলেও, এই কচুরি খেয়ে আপনার মুখে হাসি ফুটবেই। বিকেলে মোটা ডালের পুর ভরা লাল করে ভাঁজা কচুরি ও টক মিষ্টি আলুর দম মেলে এখানে। সকালে আবার কচুরির সাথে আলুর দম না আলুর তরকারী পাওয়া যায়। দোকানটা বাগবাজারে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ব্রাঞ্চের একেবারে বিপরীতে অবস্থিত। কচুরির দামটা বেশি হলেও খেয়ে মনেও শান্তি, পেটেও শান্তি।
✅ পাল কেবিন ✅
বাগবাজার পোস্ট অফিসের পাশের গলি দিয়ে একটু ঢুকলেই সোজাসুজি একটা ছোট দোকান আছে। নাম পাল কেবিন। এলাকায় বেশ কয়েকটি মাছের কচুরির দোকান আছে, তাদের মধ্যে এটি পাড়ার ভিতরে হওয়ায় একটু কম জনপ্রিয়। কচুরির সাইজ একটু ছোট। কিন্তু স্বাদ দারুণ। সাথে আলুর দমটায় অল্প চিলি চিকেনের গ্রেভি মেশানো হয়, তাই খেতে বেশ লাগে। বিকেলে গিয়ে দাঁড়িয়ে গরম গরম ৫-৬ পিস আরাম সে উড়িয়ে দেওয়া যায়। কচুরির ভিতরে মাছের পুর খুব বেশী না হলেও বেশ ভালো করে ময়ান দিয়ে মাখা। বেশ খাস্তা আর সাথে ঝাল ঝাল আলুর দমটার সাথে ফাটাফাটি লাগে।
✅ গনেশদার দোকান (পাল ইটিং হাউস) ✅
পাল কেবিনের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। নন্দলাল বোস লেনে এটি আলাদা স্বতন্ত্র দোকান। কয়েক বছর আগে যখন প্রথম এই দোকানে মাছের কচুরি খেয়েছিলাম তখন দাম ছিল ৭ টাকা প্রতি পিস। স্বাদও ছিল বেশ ভালো। বর্তমানে দাম বেড়েছে তবে স্বাদ সম্পর্কে কিছু না বলাই ভালো। কচুরির সাইজ ছোট হয়েছে। ভিতরে পোনা মাছের পুর দেওয়া হলেও সেইভাবে মাছের কোনও গন্ধ নেই। সাথে আলুর দমটা যে দেওয়া হয় সেটাও বেশ খারাপই খেতে। এই বছরের শুরুর দিকে খেয়ে একেবারেই ভালো লাগেনি।
স্বাদে এই কচুরি আগে রমত না থাকলেও, দোকানের সামনে ভিড় দেখলে অবাকই লাগে। কথা টা ঠিকই। উত্তরের মানুষ একবার কিছুতে আসক্ত হলে সেটা থেকে বেরোতে অনেক সময় লাগে।
✅ নীলাচল রেস্টুরেন্ট ✅
উত্তর কলকাতার অলি গলিতে লুকিয়ে থাকা সুস্বাদু খাবারের দোকানগুলির মধ্যে অন্যতম, নীলাচল। বাগবাজার এলাকায় এক নামে সবাই চেনে এই ছোট দোকানটিকে। ভিতরে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। বাইরে বেঞ্চ পাতা থাকে। বিকেলের দিকে গেলে স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের থেকে শুরু করে অফিস ফেরত মানুষজনকে ওই বেঞ্চে বসে, কচুরি, মোগলাই, ফিস ফ্রাই খেতে দেখা যায়। এখানে গেলে অবশ্যই খাবেন এনাদের মাছের কচুরি ও তরকারি। এক প্লেটে দুটো বড় সাইজের কচুরি থাকে। কচুরির সাইজ এলাকার অন্য দোকানগুলির কচুরির তুলনায় বড়। ভিতরে মাছের লাল পুর থাকে। এনারা, ভোলা-ভেটকির সাথে চিংড়ি ও আরও অন্যান্য মশলার সাথে মিশিয়ে মাছের পুরটা বানান। খেতে বেশ ভালো। সাথে আলুর তরকারিটা বেশ সাধারণ।
✅মণি রেস্তোরাঁ✅
বাগবাজার রোডে ক্ষুদিরামের মূর্তির উলটো দিকেই ছোট একটি খাবারের দোকান রয়েছে। নাম মণি রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্ট নাম কেন আমিও জানি না, তবে এখানে বিকেলে বেশ ভিড় করেই এলাকার লোকজন কচুরি, ভাজাভুজি খেয়ে থাকেন।
কাতলা মাছের পুর ভরা কচুরি গুলো গরম গরম ভালোই লাগে, তবে সাথে আলুর তরকারী টা ঠিক জমে না। আরও অনেক রকমারি খাবার রয়েছে এখানে। বিকেল ৫ টার পর দোকান খোলে। দেখতে দেখেতেই ভিড় উপচে পরে। ৭.৩০-৮.০০ টায় সব শেষ। তাই গেলে চেষ্টা করবেন, তাড়াতাড়ি যেতে।
এলাকার আর কোনও ভালো কচুরির সন্ধান থাকলে নিশ্চয়ই কমেন্টে জানাবেন।
Via Kolkata Food Walks