29/10/2024
কালীপূজার প্রাক্কালে জানাবো এক ব্যতিক্রমী পূজার কথা । দেবী মহাসরস্বতী । কালীপূজার সময় এই দেবীর পূজাকে কেন্দ্র করে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে বাঁকুড়া জেলার একটি গ্রাম কালাবতী । ইংরেজি বানান দেখে ভেবেছিলাম গ্রামটির নাম নিশ্চয়ই কলাবতী হবে । নামটা আমায় বড্ড টেনেছিল । কিন্তু ওখানে গিয়ে জানলাম ওটা কলাবতী নয়,কালাবতী । দেবী মহাসরস্বতীকে বলা যায় এই গ্রামের প্রাণ,গ্রামটির মধ্যমণি তিনিই ।
বাঁকুড়া শহর থেকে প্রায় সাত আট কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের তীরে ছোট্ট এই গ্রামটির অবস্থান । সেখানেই কালীপূজার সময় আরাধনা করা হয় একেবারে অন্যরকম এই দেবী প্রতিমার । যাঁর নাম থেকে শুরু করে রূপ,সবটাই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য । বছরের অন্য সময় গ্রামটি বেশ চুপচাপ,নির্জন থাকলেও মহাসরস্বতীর পূজার সময় তার চেহারাই বদলে যায় । জমজমাট আয়োজন হয় এসময় । শুধু এই গ্রাম নয়,পার্শ্ববর্তী একাধিক গ্রাম থেকে লোকজন এখানে দেবী দর্শনে আসেন । তাদের পাত পেড়ে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা হয় । হাজার হাজার মানুষ সেই প্রসাদ গ্রহণ করেন । মন্দিরের সামনে মঞ্চ বেঁধে চলে পালা কীর্তন ,যাত্রাপালা,অর্কেস্ট্রা ।
স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানলাম গ্রামের চৌধুরী পরিবার এই পূজার দায়িত্বে । তবে খিচুড়ি খাওয়ানোর আর্থিক বিষয়টি গ্রামের ষোলোআনা থেকে আয়োজন করা হয়ে থাকে । কালীপূজার সময় বাৎসরিক বড় পূজা হলেও প্রতি অমাবস্যায় দেবীর ভোগের ব্যবস্থা রয়েছে । দেবী প্রথম থেকে মৃন্ময়ী মূর্তিতেই পূজিতা হতেন । তবে বছর পাঁচেক আগে থেকে পাথরের স্থায়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । এছাড়া দেবীর পূজায় একাধিক পশুবলির চল থাকলেও কয়েক বছর হলো সেই প্রথাটিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে । এখন চালকুমড়ো,আখ এসব বলি হয় । স্থানীয় এক যুবক জানালেন,কালাবতী গ্রামে একটি নিয়ম প্রচলিত আছে । প্রতিদিন সন্ধ্যায় গ্রামের প্রত্যেকটি মানুষ দেবী মহাসরস্বতীর মন্দিরে এসে প্রণাম করে যান । 🙏🙏