B𝖚𝖉𝖉𝖍𝖆 D𝖍𝖆𝖒𝖒𝖆 S𝖆𝖓𝖌𝖍𝖆

🙏🅑︎𝖚𝖉𝖉𝖍𝖆☸️ 🅓︎𝖍𝖆𝖒𝖒𝖆 ☸️🅢︎𝖆𝖓𝖌𝖍𝖆🙏 Mamun

Operating as usual

10/04/2024

বিনয়পিটক শিক্ষা কর্মসূচী (ব্যাচ ০১)
পটভূমিঃ
এদেশে বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইতিপূর্বে বেশ কিছু লেখা লিখেছিলাম। অনেকেই বিষয়টির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সত্যি বলতে কি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা একটি লম্বা প্রক্রিয়া। জায়গা সংগ্রহ, ভবন নির্মাণ, সরকারি অনুমোদন গ্রহণ, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী সংগ্রহ ইত্যাদি। বলা চলে কমপক্ষে দশ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়। আমাদের চাওয়া গতানুগতিক কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়। আমাদের চাওয়া বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়। আর এটা চাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে এদেশের গৃহী এবং ভিক্ষুরা যেন ত্রিপিটক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে।

মনে করলাম আজকেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হলো আর তাতেও আমাদের দশ বছর বা ততোধিক সময় অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অনলাইনের এই যুগে আমরা বসে থাকব কেন? বলে রাখা প্রয়োজন ইতিপূর্বে আমরা ত্রিপিটক রিসার্চ সোসাইটি পালি শিক্ষা নিকেতনের মাধ্যমে প্রায় ২০০ ক্লাসে পালি প্রথম খণ্ড, এবং ১৫০ ক্লাসে পালি দ্বিতীয় খণ্ড অনলাইনে শেখানোর কার্যক্রমে সফল হয়েছি। আর তাই বিল্ডিং তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু না হওয়া অবধি মিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। প্রথম পর্বে আমরা শুধুমাত্র ভিক্ষুদের বিনয়পিটক শিক্ষা কর্মসূচীর কার্যক্রম চালু করতে চাই। পর্যায়ক্রমে গৃহী, ভিক্ষু উভয়ের জন্য সূত্র ও অভিধর্ম পিটক শিক্ষা কর্মসূচী শুরু হবে।

ক্লাসের নিয়মাবলীঃ
১) সমগ্র বিনয়পিটককে ১৮০টি ক্লাসে ভাগ করে, ১৮০টি ভিডিও দেয়া থাকবে। বিনয় বিষয়ে অভিজ্ঞ দক্ষ শিক্ষকেরা (ভিক্ষু) এই ক্লাসগুলো দিবেন।

২) নিজের সুবিধামতো সময়ে সারাদিনের যে কোনো সময় রেকর্ড করা ভিডিও ক্লাসগুলো দেখা যাবে। প্রতিটি ভিডিও ক্লাস শেষে এক কথায় উত্তর প্রদান শীর্ষক প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে খাতায় প্রশ্নোত্তর লিখে ছবি তুলে মেসেঞ্জারে পাঠাতে হবে।

৩) নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্লাস শেষে শিক্ষকের সাথে সরাসরি অনলাইন আলোচনার সুযোগ থাকবে। যেখানে বিভিন্ন প্রশ্নাদির সরাসরি উত্তর দিবেন শিক্ষকেরা।

৪) যেসব ভিক্ষু সংঘ প্রতিদিন একটি ঘন্টা ব্যয় করতে পারবেন এই শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য এই কোর্সটি কেবলমাত্র তাদের জন্য। বেশি ব্যস্তদের এই কোর্সে অংশগ্রহণ না করার অনুরোধ থাকবে।

৫) বিনয় বুদ্ধ শাসনের আয়ু। পূর্ণাঙ্গ বিনয়পিটক অধ্যয়ন করা হলে কিংবা জানা হলে আচরণেও অনেকাংশে পরিবর্তন আসবে। আর তাতে শাসন সদ্ধর্মের প্রভূত উন্নতি সাধন হবে। এ লক্ষ্যেই এই কোর্সের আয়োজন। এ লক্ষ্যের সাথে একাত্ম হলেই কেবল অংশগ্রহণের অনুরোধ রইল অন্যথায় নয়। উল্লেখ্য, বিনয় শিক্ষার এই কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট ফেইসবুক গ্রুপে সীমাবদ্ধ থাকবে। সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে না।

কোর্স শেষে যা দেওয়া হবেঃ
১) যারা পুরো কোর্স শেষ করবে তাদেরকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান করা হবে।

২) তাদেরকে বিনয়ভানক উপাধিতে ভূষিত করা হবে।

৩) প্রাথমিকভাবে ২০ জন শিক্ষার্থী ধরে নিয়ে কোর্স শেষে জনপ্রতি ১০,০০০/- টাকা করে চতুর্প্রত্যয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য ২,০০,০০০/- লক্ষ টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হলে শিক্ষাবৃত্তির মোট টাকাকে আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেওয়া হবে। দাতা পাওয়া গেলে এই শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ বাড়তে পারে।

কোর্সের খরচাদিঃ
১) কমপক্ষে দুই লক্ষ টাকা শিক্ষাবৃত্তি, প্রতিটি ক্লাসের জন্য শিক্ষককে সম্মানী প্রদান বাবদ প্রায় দুই লক্ষ টাকা, প্রতিদিন পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন উত্তরপত্র মূল্যায়ন ইত্যাদির জন্য শিক্ষক নিয়োগ, আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ব্যয় আনুমানিক এক লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার মতো দরকার এই কোর্সটি সমাপ্ত করতে। শিক্ষার্থী বেড়ে গেলে এবং সবাইকে দশ হাজার করে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হলে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরো বাড়বে।

২) যে কোনো ব্যক্তি কমপক্ষে একজন ভান্তের শিক্ষাবৃত্তির দায়িত্ব কিংবা শিক্ষকের নির্দিষ্ট ক্লাসের সম্মানীর দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসলে এই খরচ মেটাতে তেমন বেগ পেতে হবে না। যারা খরচের দায়িত্ব নিবেন আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তাদেরকেও সম্মানিত করা হবে।

যারা ক্লাস নিবেনঃ
১) শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিয়ত্তি সেন্টারের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এদেশের বিনয় বিষয়ে অভিজ্ঞ ভিক্ষুদের দিয়ে পাঠদান করানো হবে।

২) এদেশে গৃহী অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকলেও এই কোর্সে শুধুমাত্র ভিক্ষুরাই ক্লাস নিবেন।

অতএব...
১) বিনয়পিটক শিক্ষায় আগ্রহী ভিক্ষুরা পোস্টে আপনার আগ্রহের কথা প্রকাশ করুন। এবং ইনবক্সে নাম, ঠিকানা, মোবাইল নং দিন।

২) যে সকল উৎসাহীগণ ইতিপূর্বে সাথে থাকবেন বলেছেন, সর্বাত্মক সহায়তা দিবেন বলেছেন তারাও ইনবক্সে নক দিতে পারেন ভিক্ষুদের শিক্ষাবৃত্তি কিংবা শিক্ষকদের সম্মানী প্রদানের বিষয়ে এগিয়ে আসতে পারেন।

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যেন সফল হতে পারি এই প্রার্থনা করছি।

নিবেদনে-
উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু
সভাপতি, ত্রিপিটক রিসার্চ সোসাইটি
০৬.০৪.২০২৪

19/03/2024

একটি বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় অতীব দরকার

দায়কদের নিয়ে ঘটনাক্রমঃ

১) কয়দিন আগে বিহার উন্নয়ন কমিটির এক সভায় বসলাম। একজন বলল আমাদের ভান্তেটা চালু না তাই বিহারটি এভাবে পড়ে আছে; উন্নয়ন হয় না। কথাটা শুনে বেশ খারাপ লাগল। বিহার নির্মাণ তো ভান্তের কাজ না বরং ভান্তে বিহার নিজে করলে সেখানে থাকলেও নানা আপত্তি হওয়ার ব্যাপার থাকে। পরক্ষণে ভাবলাম মন খারাপ করে কি হবে আমাদের দায়কেরা তো আসলে বিনয় কি জানেও না তাই তারা এটা আশা করছে। ২) একজন বললেন ঐ বিহারের ভান্তেটা ভালো বিহারে গেলে শ্রামণ দিয়ে পাটি বিছিয়ে দেয়, চা নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করে, বাচ্চাদের চকলেট দেয়। মনটা খারাপ হয়ে গেল কারণ এসব তো ভান্তের কাজ না। যা কাজ না তা দেখেই দায়ক কত খুশি। পরে ভাবলাম তার কি দোষ সে তো ত্রিপিটক পড়ে নাই। ৩) অমুক ভান্তে আমার স্ত্রীকে ঠিক করে দিয়েছেন। নইলে তো জানতামই না ঐ গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এমন একটা মেয়ে আছে। ভান্তের এই ঘটকালিতে দায়ক খুশি আমি খুশি হতে পারলাম না। পরে ভাবলাম তাদের কি দোষ ভান্তে যে ঘটকালি করতে পারে না তাতো তারা জানে না।

ভিক্ষুদের নিয়ে ঘটনাক্রমঃ

১) পরশুদিন উভয় নিকায়ের ভিক্ষুর উপস্থিতিতে এক সংঘদানে গিয়ে দেখলাম এক নবীন ভিক্ষু দেশনাকালীন সময়ে পাবজি গেম খেলতেছে মোবাইলে। মনটা খারাপ হয়ে গেল পরে ভাবলাম উনার কি দোষ চীবর পড়লেই তো বিনয়ের নিয়ম জানা হয়ে যায় না। উনি কি পারবেন কি পারবেন না তাতো আলাদা করে কেউ শিখায় না। ২) এক ভান্তে মাকে জড়িয়ে ধরে ফেইসবুকে ছবি দিয়েছে অন্যরা সাধুবাদ দিচ্ছে। মাকেও যে এভাবে ধরা যায় না সেটা তো তিনি জানেন না। ৩) এক রুমে দেখলাম এক ভান্তে এবং একজন মহিলা কথা বলছেন। বিষয়টা স্বাভাবিক মনে হবে আপনার। কিন্তু বিনয় বিধানে একা একটা মহিলার সাথে ৪/৫ বাক্যের অধিক কথা বলার সুযোগ নাই। তা দেখেও মন খারাপ হচ্ছে বুদ্ধের বিনয় বিধান পরিচালিত হচ্ছে না বলে। কিন্তু পরক্ষণে মনকে সান্ত্বনা দিই এই বলে যে গৃহী বলি ভিক্ষু বলি ত্রিপিটকে কেউ তো শিক্ষিত না আমরা তাই এমনটা তো চলবেই। কিন্তু কতদিন এমনটা চলবে?

কেন প্রয়োজন বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়?

ত্রিপিটক শিক্ষা না থাকলে বুদ্ধ শাসন রক্ষা হবে না। অতীতে পরম্পরা শিখতেন ভান্তেরা। এখনকার মতো মোবাইল হাতে থাকতো না। তাই কম জানলেও বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকতো। এখন একদিকে বিনয় শিক্ষার অভাব অন্যদিকে মায়া মোহ যুক্ত বিষয়াদি ফেইসবুকে দেখা সহজ। তাই এই তরুণ প্রজন্মের ভিক্ষুসংঘকে মোহময় বিষয়ের বাইরে এনে বুদ্ধের পথে রক্ষা করা কঠিন। ফলে ভিক্ষুশুন্য হওয়া শুরু করবে আমাদের বিহারগুলো। অন্যদিকে একজন ভিক্ষুর কি কি দরকার, তাকে কি কি সহায়তা দেওয়া দরকার, তার কাছে কি আবদার করা যায় কি আবদার করা যায় না তা যদি গৃহীরা না জানে তাতেও শাসন বিলুপ্ত হবে ধীরে ধীরে। ধরুন একজন ভান্তে জানেন যে, তার পক্ষে দায়কের কাছে কিছু চাওয়া শোভনীয় নয় তখন তিনি অসুস্থ হলেও দায়ককে বলবেনা আমার ঔষধ দরকার। অন্যদিকে চিকিৎসা না পেয়ে তিনি শারিরীক মানসিক কষ্টে ভুগবেন এবং ভিক্ষু জীবনের প্রতি অনীহা আনয়ন করবেন। সেক্ষেত্রে ত্রিপিটক জানা দায়ক থাকলে তিনি সময়ে সময়ে বিহারে যাবেন ভান্তের কিছু লাগবেনা কি না জানতে চাইবেন। আসার সময় বলে আসবেন ভান্তে আপনাকে ফাং করছি কিছু লাগলে অবশ্যই নিঃসঙ্কোচে আমাকে জানাবেন। এই যে ত্রিপিটকের শিক্ষা তা পেতে হলে ত্রিপিটক শিক্ষার বিকল্প নাই। আর এজন্যই বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। আপনি বলতে পারেন আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় তো আছেই। আছে সত্য সেখানে ধারাবাহিক কি পড়ানো হয় কতটুকু পড়ানো হয় তা খবর নিলেই জানতে পারবেন। বেশিরভাগ সময় সেখানে বৌদ্ধ দর্শনই পড়ানো হয়। বলতে পারেন বিহারে পড়ালেই তো হয়। হ্যাঁ হয়, কিন্তু কে পড়াবে? যিনি পড়াবেন তিনি জানেন কতটুকু?

কীভাবে শুরু করা যায়?

নূন্যতম এইচ,এস,সি পাশ করেছেন এমন বিশজন ভিক্ষু বাছাই করে মনে করলাম চট্টগ্রাম শহরের কোন বিহার কিংবা বৌদ্ধ অধ্যুষিত কোন গ্রামে তাদের রাখা হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের মতো তাদের জন্য কক্ষ থাকবে। একজন সিনিয়র ভিক্ষু তাদের তদারকি করবেন। তারা প্রতিদিন একবেলা পিণ্ডাচারণ করবেন। তারা কোন প্রকার দায়কের ফাং এ যাবেন না। তবে বন্ধের দিনে বিহারে এসে কেউ সংঘদান করলে সেখানে উপস্থিত হবেন। সপ্তাহে চারদিন তারা বিহারে ক্লাস করবেন। দিনে ৩/৪ টি ক্লাস থাকবে ৪৫ মিনিট করে। ছয় মাস পর বা বৎসর শেষে পরীক্ষা হবে।

কারা ক্লাস নিবেন?

আমাদের অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু আছেন যারা থাইল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ শিক্ষায় উন্নত শিক্ষা লাভ করেছেন অথচ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়িত নয় তাদের কাজে লাগানো যাবে। তাদের কেউ সরাসরি থাকবেন এবং কেউ কেউ অনলাইনে ক্লাস নিবেন। উদাহরণস্বরুপ বলতে পারি ১) ড. সুমনপাল মহাথের ২) ড. এফ দীপঙ্কর মহাথের ৩) ড. ধর্মরক্ষিত মহাস্থবির ৪) ড. সুমনপ্রিয় ভিক্ষু ৫) জ্যোতি রক্ষিত ভিক্ষু ৬) ড. জ্যোতি কল্যাণ ভিক্ষু ৭) অমিতানন্দ ভিক্ষু ৮) দীপানন্দ ভিক্ষু এরকম আরো অনেকে আছেন। এছাড়াও এদেশের ড. জিনবোধি ভান্তে, ড. জ্ঞানরত্ন ভান্তে, এস. লোকজিৎ ভান্তে, স্বরুপানন্দ ভান্তে, প্রিয়বংশ ভান্তে এরাও ক্লাস নিতে পারবেন সুবিধামতো সময়ে। (এই মুহুর্তে যাদের নাম মনে পড়েছে তাদের নামই লিখেছি এর বাইরে আরো অনেকে আছেন) গৃহীদের মধ্যে যোগ্য যারা তারাও সরাসরি বা অনলাইনে ক্লাস নিতে পারবেন।

সিলেবাসের রূপরেখাঃ

প্রথম সেমিস্টার : পালি শিক্ষা, বিনয় পিটকের ১টি খণ্ড, দীর্ঘ নিকায় ১টি খণ্ড, মধ্যম নিকায়ে ১টি খণ্ড

দ্বিতীয় সেমিস্টার : বিনয় পিটকের ১টি খণ্ড, দীর্ঘ নিকায় ১টি খণ্ড, মধ্যম নিকায়ে ১টি খণ্ড, সংযুক্ত নিকায়ের ১টি খণ্ড

তৃতীয় সেমিস্টার : বিনয় পিটকের ১টি খণ্ড, দীর্ঘ নিকায় ১টি খণ্ড, মধ্যম নিকায়ে ১টি খণ্ড, সংযুক্ত নিকায়ের ১টি খণ্ড

চতুর্থ সেমিস্টার : বিনয় পিটকের ১টি খণ্ড, মধ্যম নিকায়ে ১টি খণ্ড, সংযুক্ত নিকায়ের ১টি খণ্ড, অঙ্গুত্তর নিকায় ১-৫ নিপাত

পঞ্চম সেমিস্টার : বিনয় পিটকের ১টি খণ্ড, সংযুক্ত নিকায়ের ১টি খণ্ড, অঙ্গুত্তর নিকায় অবশিষ্ট নিপাত, খুদ্দক নিকায়ের নির্দিষ্ট ২টি খণ্ড

ষষ্ঠ সেমিস্টার : অঙ্গুত্তর নিকায় অবশিষ্ট নিপাত, খুদ্দক নিকায়ের নির্দিষ্ট ২টি খণ্ড, অভিধর্ম পিটকের ২টি খণ্ড

সপ্তম সেমিস্টার : খুদ্দক নিকায়ের নির্দিষ্ট ৪টি খণ্ড, অভিধর্ম পিটকের ২টি খণ্ড, বিদর্শন ভাবনা ১ম পর্ব

অষ্টম সেমিস্টার : খুদ্দক নিকায়ের নির্দিষ্ট ৪টি খণ্ড, অভিধর্ম পিটকের ২টি খণ্ড, বিদর্শন ভাবনা ২য় পর্ব
সর্বমোট চার বছর

যেজন্য অর্থায়ন দরকার হবেঃ

১) আবাসিক প্রধান যিনি সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন তার সম্মানী ২) যারা সরাসরি ও অনলাইনে ক্লাস নিবেন তাদের সম্মানী ৩) শিক্ষার্থী ভিক্ষুদের জন্য প্রতিদিনের সকালের নাস্তা, বিকালের পানীয় ৪) শিক্ষার্থী ভিক্ষুদের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো।

যেভাবে অর্থায়ন হবেঃ

১) ভান্তেরা যারা বিভিন্ন ফাং এ যায় তারা বিভিন্ন দানীয় তাদের ভাগ থেকে শিক্ষার্থী ভান্তেদের জন্য পাঠাবেন। ২) প্রতিদিন ত্রিপিটক শিক্ষা করছেন এমন ভান্তেদের জন্য দাতার অভাব হবে না। দেখা যাবে কেউ সকালের নাস্তা, কেউ বিকালের পানীয় বাবদ দান দিবেন। ৩) অনেকে বন্ধের দিনে একত্রে ২০জন ভান্তে পাচ্ছেন দেখে সেখানে এসে সংঘদান করবেন। ৪) ১০জন দাতা সহজেই পাওয়া যাবে যারা শিক্ষকের বেতন দিবেন। ৫) ২০ জন দাতা সহজেই পাওয়া যাবে যারা শিক্ষার্থী একজন ভান্তের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর দান দিবেন।

গৃহীরাও পারবে শিক্ষা নিতেঃ

ক্লাসগুলো বিকালবেলা হলে গৃহীরা নিজের স্বাভাবিক পড়ালেখার পাশাপাশি এই কোর্সে অংশ নিতে পারবে। অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা থাকলে ঘরে বসেও পড়তে পারবে। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সহযোগী হলে এই সার্টিফিকেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়াবে এদেশেও সরকারী অনুমোদন নেওয়া যাবে। এই যে পাঠক্রম তা দিয়েই পরিপূর্ণ বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্য্যক্রম শুরু করা যাবে বৃহত্তর পরিসরে।

খেয়াল করুন উপরের সিলেবাসে ত্রিপিটকের প্রায় সব খণ্ড পড়া হয়ে যাচ্ছে। একজন বিনয় জানা ভিক্ষু বিনয় ভঙ্গ করার আগে দশবার ভাববে। ফলে বিনয় প্রতিপালন হবে। বিনয় বুদ্ধ শাসনের আয়ু তাই শাসন রক্ষিত হবে। গৃহীরা ত্রিপিটক জানবে ভান্তেদের সার্বিক সহায়তা দেওয়া সহজ হয়ে যাবে তখন।
উল্লেখ্য, প্রথমদিকে শিক্ষার্থী পাওয়া কষ্টকর হতে পারে সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন মেটানোর খরচটা একটু বেশি দিতে হবে। একজন ভান্তে যখন দেখবে বিহারে বসে ত্রিপিটক অধ্যয়ন করতে পারছেন। গাড়ি চড়ে ফাং এ দৌড়াতে হচ্ছে না। বিহারে বসে ত্রিপিটক অধ্যয়নের পাশাপাশি সংঘদানের দানীয় এবং শিক্ষাবৃত্তিও পাচ্ছেন তবে এতে তরুণ প্রজন্মের ভিক্ষুরা আকৃষ্ট হবে। প্রথমে ২০জন দিয়ে শুরু হলেও সেটি ছড়িয়ে পড়বে। এই ত্রিপিটকে অভিজ্ঞ ভিক্ষুরা যেখানে যাবে সেখানটা আলোকিত হবে। তাদের মাধ্যমে গ্রামের বিহারগুলো আদর্শ ত্রিপিটক শিক্ষালয়ে পরিণত হবে।

বি.দ্র. শাসন দরদী ৫জন ভিক্ষু, শাসন দরদী মেধাবী ৫জন গৃহী, নামপাগল নয় এমন ১৫/২০ জন দাতা এগিয়ে এলে এটি সম্ভব। আশা করছি সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে ভাববে। বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা এরকম উদ্যোগ নিলে দাতা বা পৃষ্ঠপোষকের অভাব হবে না। আর বুদ্ধের শিক্ষায় আমরা সবাই শিক্ষিত হলে অনেক সমস্যা আপনাআপনিই দেখবেন সমাধান হয়ে যাচ্ছে। বুদ্ধের শাসন দীর্ঘজীবী হবে তখন।

লেখক:– উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, ঢাকা
১৬.০৩.২০২৪

ছবি: মহামুকুট বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড।

15/03/2024

কে হারবে? জিনবোধি ভান্তে নাকি বৌদ্ধ সমিতি?(পর্ব ০২)

এদেশে কোনো একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর এটা নিয়ে নানা বিশ্লেষন চলে। মতামত দাতার অভাব থাকে না। তাৎক্ষণিকভাবে অনেক নেতারও সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে যেই লাউ সেই কদু হয়ে যায়। অথচ ঘটনা ঘটার আগেই অনেক কিছু টের পাওয়া যায় কিন্তু তখন কেউ এগিয়ে আসে না। গত ২৮.৮.২০২২ তারিখে ’কে হারবে? জিনবোধি ভান্তে নাকি বৌদ্ধ সমিতি?’ শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। আমার লেখার উপজীব্য ছিল যেই হারুক আসলে আমাদের কারোরই জয় হবে না। জাতি হিসেবে বিবেচনায় পরাজয় আমাদেরই ঘটবে। তাই মীমাংসার আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু আমার লেখার মর্মার্থ না বুঝে উভয়পক্ষই লেখাটির সমালোচনা করেছিল।

কে জিতল এই প্রশ্নে এই মুহূর্তে একযোগে প্রায় সবাই বলবে ভান্তে জিতেছেন। যারা এই মনোভাব পোষণ করছেন তাদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে জাগে ভান্তেকে আঘাতের যে ভিডিও ভাইরাল হলো তাতে কি জাতি হিসেবে আমাদের সম্মান বাড়লো নাকি কমলো? ভান্তে নারীর শ্লীলতাহানি করছেন বলে যে ভিডিও প্রচার করা হলো তাতে কি আমাদের সম্মান বাড়লো নাকি কমলো? কয়দিন পর মামলার আসামী হিসেবে আবারো ১০/১২জন ভান্তে আদালতে হাজিরা দিতে যাবেন তাতে আমাদের মান বাড়বে নাকি কমবে? বিষয়গুলো এভাবে দুরদৃষ্টি দিয়ে চিন্তা করলে তখন জয় পরাজয়কে ছাড়িয়ে গিয়ে জাতির লজ্জা সবার উপরে চলে আসে। আমার লেখায় সমস্যার পাশাপাশি সমাধানের জন্যও কিছু মতামত দিই। আজকেও সমস্যা আর সমাধানের নিয়ে কিছু লিখতে চাই। গ্রহণ বর্জন একান্ত নিজের ব্যাপার। হয়তো বা আবারও কেউ পাল্টা আক্রমণ করবে এই লেখায়।

বিহারের মালিক কি গৃহী?

অনাথপিণ্ডিক শ্রেষ্ঠী ১৮ কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যয়ে জেতবন ক্রয়ের পর বুদ্ধ ভগবান সেখানে উপস্থিত হলে বুদ্ধকে বললেন এখন আমার করণীয় কি? বুদ্ধ বললেন, আগত-অনাগত ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে দান করুন। শ্রেষ্ঠী স্বর্ণপাত্র থেকে বুদ্ধের হাতে জল ঢেলে বুদ্ধ প্রমূখ ভিক্ষুসংঘকে দান করে দিলেন জেতবন বিহার। এবং নয় মাসব্যাপী দানোৎসবের আয়োজন করে ৫৪কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যায় করলেন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে-ই বিহারের ভূমি ক্রয় করুক না কেন যেই বিহার নির্মাণ করুক না কেন এটা ভিক্ষুকেই দান করে দিতে হয়। দাতার মালিকানা থাকে না আর।

বিহারের মালিক কি কোন নির্দিষ্ট ভিক্ষু?

জেতবন বিহারটি বুদ্ধ নিজেই দান নিতে পারতেন কিন্তু মহাজ্ঞানী বুদ্ধ একা দান নিলেন না, কোনো নির্দিষ্ট ভিক্ষুকেও দিলেন না, আগত-অনাগত সকল ভিক্ষুর উদ্দেশ্যে দান দিতে বললেন। এ থেকেই বুঝা যায় বিহার কোনো একজন নির্দিষ্ট ভিক্ষুর হতে পারে না। অধিকন্তু কোনো ভিক্ষু যেন নির্দিষ্ট বিহারে আসক্ত না হয় সেজন্য উপসম্পদা দেওয়ার সময়ই বৃক্ষতলে অবস্থানের জন্য প্রতিজ্ঞা করানো হয় বিহার বা কুটির পেলে সেটাকে উপরি পাওনা হিসেবেই বলা হয়েছে।

তবে কেন এই দ্বন্ধ?

আমরা বুদ্ধের নির্দেশিত পথকে যথাযথ অনুসরণ করি না আর এটিই এই দ্বন্ধের মূল কারণ। খেয়াল করলে দেখবেন যারা বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য হয় তাদের ৯৯% একজন উপাসকের গুণ বা দায়িত্ব কি তা জানে না। তাছাড়া বিহার পরিচালনা শব্দটিও যথাযথ নয়। অন্যদিকে ভিক্ষুদের মধ্যে অনেককেই খুঁজে পাবেন যারা ভুলে যায় উপসম্পদাকালীন সময়ে তাদের প্রতিজ্ঞা গ্রহণের কথা। ফলে তারা বাবুদের অত্যধিক পূজা করে বিহারকে আগলে রাখতে চায়, আশ্রিত হয়ে থাকতে চায়। মনোপুত না হলে বিহার ছেড়ে বৃক্ষতলে যাব এমন মানসিকতার ভিক্ষু নিতান্তই কম। এতে হিতে বিপরীত হয়। বাবুরা ভাবে বিহার আমাদের আমরা যেভাবে চাই সেভাবে চলবে। আমাদের কথামতো না হলে ঐ ভিক্ষুকে বিহার ছাড়তে হবে। এভাবেই কর্তৃত্ব চলে বিহারে তাদের। জরিপ করলে দেখা যাবে আমাদের সিংহভাগ বিহারের এই দশা। আর এই গতানুগতিকতার বাইরে এসে যখন ভিক্ষু মাথা তুলে দাঁড়াতে চায় প্রতিবাদ করে তখনই দ্বন্ধ সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এই বিষয়গুলোই খুঁজে পাওয়া যাবে।

অতঃপর ন্যাক্কারজনক ঘটনাই ঘটলো

গত ০৮ মার্চ ন্যাক্কারজনক ঘটনাই ঘটলো যেখানে দেখতে পেলাম আমরা একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর উপরই হাত তোলা হলো। আগেই বলেছি ঘটনা ঘটার পর অনেকেই আসে নানা মন্তব্য, নানা পরামর্শ ইত্যাদি চলে। অথচ খেয়াল করুন আগেই যদি মিলন হতো যেটা আমি আমার আগের লেখাই লিখেছিলাম এবং চেয়েছিলাম তবে আজ এই নোংরা পরিস্থিতি আসতো না। ভান্তের এই ভাইরাল হওয়া ভিডিও আমাদের স্বস্তি দেয় না, বাংলাদেশী বৌদ্ধ হিসেবে আমাদের লজ্জায় ফেলে। অন্যদিকে যাদের গালে গালে জুতা মারো তালে তালে বলছি তারাও আমাদের বাইরের কেউ নয়। দেখা যাবে তারাও ঘুরেফিরে আমার আপনারই আত্মীয়। আমার এই কথাগুলোতে মনে হবে বৌদ্ধ সমিতির পক্ষে বলছি তাই অনেকেই আক্রমণ করতে আসবে কিন্তু ৮ মার্চ এর আগ পর্যন্ত দেখুন, যারা আজ সরাসরি তাদের বিরোধী অবস্থান নিয়েছে তারাও বিভিন্ন আয়োজনে বৌদ্ধ সমিতির নেতাদের সাথে বসেছেন তাদের অতিথি হিসেবে নিয়ে গেছেন, নানা সুবিধা আদায় করেছেন, তাদের সাথে আত্মীয়তা করেছেন।

দূরদর্শী নেতা নাই বৌদ্ধ সমিতিতে

বৌদ্ধ সমিতির অদূরদর্শী নেতৃত্বই ৮ মার্চ তৈরী করেছে বলে মনে করি আমি। বৌদ্ধ সমিতিতে বর্তমানে যদি দূরদর্শী নেতা থাকতো তবে অবশ্যই ভান্তের সাথে লিয়াজো করতো। এখন তারা হয়তো বলবে আমরা আগে চেষ্টা করেছি পারিনি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে নিজেদের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখন নত হয়ে হলেও সমঝোতায় যেতে হয়, শক্তি সঞ্চয় করতে হয়। বৌদ্ধ সমিতির নির্বাচন আটকা প্রায় এক যুগ ধরে। ট্রায়াল কোর্ট এবং আপীলেট কোর্ট দুটোতেই তারা হেরে বসে আছে। এখানেই তাদের বুঝা উচিত ছিল যে পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। আর তাই নিজেদের স্বার্থে ভান্তের সাথে সমঝোতায় যেতে পারতো। কিন্তু তা না করে বিভিন্ন আয়োজনে কিংবা ফেইসবুকে জিন উপাধি দিয়ে বিষোদাগার-ই করে গেছেন তাদের কতিপয় কর্তা ব্যক্তি প্রতিনিয়ত। এমনকি ভান্তে একুশে পদক পাওয়ার পরও যদি দলবেধে ভান্তেকে একটা ফুল দিয়ে ফেইসবুকে ছবি ভাইরাল করতো তবে সাধারণ মানুষের ধারণাই পাল্টে যেত। বিহারে প্রতিনিয়ত নানা আয়োজন বৌদ্ধ সমিতি করে থাকে। সেদিন জিনবোধি ভান্তে যদি প্রোগ্রাম সফলভাবে করতো তবে বিহার তার দখলে চলে যেত না। তাতে বাধা দিতে গিয়ে সাধারণ উপাসক/উপাসিকার রোষানলে পড়ে সমিতি। এরপর ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটার পর বৌদ্ধ সমিতি চাইলে সাথে সাথে একটি বিবৃত দিয়ে বলতে পারতো এই ঘটনা ব্যক্তি বিশেষের তারা স্বামী স্ত্রীর যদিও তারা আমাদের সদস্য কিন্তু এই আঘাত আমরা সমর্থন করিনা। এটার জন্য সমিতি দায়ী নয়। তবে সাধারণ মানুষের কাছে ভিন্ন বার্তা যেত। কিন্তু অদূরদর্শী নেতারা তা না করে নারীর শ্লীলতাহানি বলে চালিয়ে দিতে চাইলেন। তারা এটা ভাবলেন না, প্রকাশ্য দিবালোকে এতগুলো মানুষের সামনে ভান্তে একটা নারীর কাপড় টানছে বললে সেটা সাধারণ মানুষ কখনোই গ্রহণ করবে না। সেটাই হয়েছে তাদের এই অপপ্রচার সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে নাই। এবং পুরো দায়ভার সমিতির উপর বর্তিয়েছে। এবং আন্দোলনও পুরো সমিতির বিরুদ্ধেই গেছে।

এই ক্ষোভ কি একদিনের?

এই ক্ষোভ একদিনের নয়। সাধারণ মানুষ যারা একটু শান্তির খোঁজে বিহারে যায় তারা বিহারে এসব দেখতে যায় না; যেমনঃ ভিক্ষুর পাশে অনুষ্ঠানে দায়কেরা বসবে, দায়কেরা ঘন্টার পর ঘন্টা বক্তব্য দেবে, পানি উৎসর্গ আটকিয়ে রেখে বাবুরা মাইক নিয়ে টানা প্রোগ্রাম চালাতে থাকবে, বাবুদের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফানুস উড়াবে না এক কথায় বাবুদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে চায় না তারা। তারা চায় বুদ্ধকে মন ভরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে, ভান্তেদের দেশনা শুনবে, দু একজন বাবু স্বল্পক্ষণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘক্ষণ তারাই সব করবে এটা সাধারণ জনগণ চায় না। ফলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকে। আর সর্বশেষ যখন দেখলো ভান্তের উপর আক্রমণ তখন তারা আর মানতে পারে নি। কারণ বুদ্ধবস্ত্রকে সাধারণ জনগণ অন্যরকম শ্রদ্ধার চোখে দেখে।

আরো একটি বিপদ কি আসন্ন?

গতকালও পোস্ট দেখলাম বাবুরা আসতেছে আপনারা চলে আসুন এরকম পোস্ট। অর্থাৎ যে কোনো সময় হয়তো তারা আবার দখলে আসার চেষ্টা করতে পারে এরকম জনশ্রুতি আছে। আর তা যদি হয় তবে হয়তো এবার সংঘর্ষ আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে। যা কোন অবস্থাতেই মঙ্গলজনক হবে না।

বৌদ্ধ সমিতি এখন যা করতে পারে

তাদের জনপ্রিয়তা এখন একদম তলানীতে। তারা যদি আবার বিহার দখল নেওয়ার টার্গেট করে তবে সেটি হবে নির্বুদ্ধিতা। সাধারণ মানুষের কাছে আরো বেশি নিন্দার পাত্র হয়ে যাবে তারা। তারা চাইলে নিজেরা এখন সংগঠিত হতে পারে। সরকারী দলের চেয়ে বিরোধী দল দ্রুত সংগঠিত হতে পারে। তারা সংগঠিত হয়ে আলাদা কার্যালয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালাতে পারে। সম্ভব হলে নিজস্ব কার্যালয়ও ক্রয় করতে পারে। জনপ্রিয় এবং মেধাবী ব্যক্তিদের সামনে নিয়ে এসে বৌদ্ধদের জন্য আগে করা হয় নি এমন কার্যক্রম হাতে নিতে পারে। বৌদ্ধ সমিতিতে ধনী এবং মেধাবী উভয় শ্রেণীর ব্যক্তিই আছে। মেধার সাথে অর্থের সমন্বয় হলে অনেক কিছুই করা যায়। সর্ব সাধারণের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং যুগোপযোগী নানা আয়োজন হাতে নিলে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে অতীত ভুলবে। বৌদ্ধ সমিতির প্রয়োজনীয়তা তাদের কাছে স্পষ্ট হবে। তারা নিজেদের পায়ে দাড়িয়ে যেতে পারবে পুনরায় বিহারে আশ্রিত না থেকে। ভান্তের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা অবশ্যই তুলে নিতে হবে নতুবা ঘৃণার বিষবাষ্প আরো বাড়বে। এক্ষেত্রে তারা যদি মনে করে বিহারের মালিকানার মামলায় তারা জিতবে তবে তারা সেটি চালিয়ে নিতে পারে কিন্তু মামলার নিষ্পত্তি হবে আনুমানিক আরো দশ বছর পর ততদিনে তারা তাদের নিজেদের ভিন্ন ইমেজ তৈরী করে নিতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশন, অনোমা, বৌদ্ধ যুব পরিষদ এরকম অনেক সংস্থা আছে যারা নিজেদের কার্যালয়ে থেকে বৌদ্ধদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে কোনো বিহারে না থেকে।

ভিক্ষুরা যা করতে পারে

কোন কিছু অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। হঠাৎ করে যদিও অনেক ভিক্ষুর টনক নড়েছে তবে এই একতা কতদিন ধরে রাখা যাবে তা সময়ে বলে দেবে। আমি বর্তমানে পাঁচ ধরণের ভিক্ষু দেখতে পাই ১. জিনবোধি ভান্তেকে পছন্দ করে এবং আন্দোলনে শতভাগ অন্তপ্রাণ ২. জিনবোধি ভান্তেকে পছন্দ করে না কিন্তু আন্দোলন চায় ৩. আন্দোলন চায় না কিন্তু তারা দালাল উপাধি পাবে বলে আপাতত একাত্মতা দেখাচ্ছে ভিতরে ভিতরে তারা বাবুদের সাথে এক ৪. সরাসরি বাবুদের পক্ষ ৫. কোন পক্ষে জড়াতে চায় না নিরপেক্ষ ভাব দেখাতে চায়। ভান্তেদের উচিত বারংবার নিজেদেরকে মনে করিয়ে দেওয়া কোন বাবুকে পূজা করে বিহারে থাকার জন্য আমরা ভিক্ষু হই নাই। তাই আমাদের লক্ষ্য কি আমাদের জানতে হবে। ভিক্ষু মহাসভাকে আরো শক্তিশালী করা। কোন পক্ষপাতী হয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। সভাপতি হিসেবে প্রবীণ ভান্তেদের না এনে অভিজ্ঞ মেধাবী ভিক্ষুকে আনা যেন যে কোন বিষয় মেধা ও মনন দিয়ে বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এবং সবচেয়ে বড় যেটা করা দরকার সেটা হচ্ছে তেলবাজী বন্ধ করা। অনেক ভিক্ষু পাওয়া যাবে যারা সংঘদানে গেলে বাবুর প্রশংসা করতে করতে ১৫/২০ মিনিট ফেলে দেয়। মিথ্যা প্রশংসা বাদ দেওয়া, বাবুদের বড় দান পাওয়ার আশা ত্যাগ করা, বাবুদের বড় আয়োজন দেখলেই ফাং ছাড়া দৌড় না দেওয়া সর্বোপরি বাবু পূজা বন্ধ করে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে অবস্থান করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার সময় নিজের বিনয়ভাব প্রদর্শনও জরুরী। কারণ আপনার কটু ভাষার প্রতিবাদকে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয় না। গালাগালি না করেও প্রতিবাদ করা যায়।

পরিশেষ

আমার লেখাটিকে একেকপক্ষ একেকভাবে নিতে পারে। আসলে আমার মতের সাথে আরেকজনের মতের মিল হবে এমন নয়। প্রত্যেকের নিজস্ব চিন্তা ধারা আছে। তবে এটুকু বলতে চাই আমাদের মাঝে যেন আস্থার সংকট সৃষ্টি না হয়। ভিক্ষু সমাজ ও গৃহী সমাজের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থানই বৌদ্ধ সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এদেশে যে পরিমাণ ডায়াবেটিস রোগী আছে সে পরিমাণও বৌদ্ধ নাই। আমাদের কোন্দল আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। তাই আসুন সংযত হই, সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে এগিয়ে যাই জাতির বৃহত্তর কল্যাণে। নতুবা হারবো আমরা সবাই।

উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু
ঢাকা
১৫.০৩.২০২৪@

13/03/2024

চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার নিয়ে বৌদ্ধ সমিতির কালো অধ্যায়
===============================
লেখকঃ সুমনোপ্রিয় বড়ুয়া

"সমিতি প্রতিষ্ঠিত"
****************
বিগত ১৮৮৭ সালে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ সমিতি প্রতিষ্ঠা হয়, তখন রেয়াজউদ্দিন বাজার তামাকুণ্ডি লেইনে বাবু কৃষ্ণ নাজির চৌধুরীর বাসার ঠিকানায় ড্রইং রুমে সমিতির মিটিং বা কার্যক্রম চলতো ।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হওয়ায় তখন পাকিস্তান সমিতি নামকরণ হয়। সমিতি গঠন হওয়ার পর রেয়াজউদ্দিন বাজার তামাকুণ্ডি লেইনে বাবু কৃষ্ণ নাজির বাসার ঠিকানা ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচলানা করতো।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি নামে আত্মপ্রকাশ করে।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি একটি সমাজিক সংগঠন। জাতি, ধম্ম ও সমাজের উন্নয়ন মুলক কাজে সার্বিক ভাবে সহযোগীতা করবে এই হচ্ছে নিয়ম বা নীতি ।

"চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা"
*****************************
চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৯৭ সালে। কবলা তারিখ ১৪/১/১৮৯৭ খ্রিঃ কবলা নং ৫৭০। ডাঃ ভগীরত চন্দ্র বড়ুয়া চট্টগ্রামে বসবাসরত বিশেষ করে মোগলটুলী এলাকার বৌদ্ধদের ধর্মচর্চার জন্য চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার স্থাপন করারর জন্য জায়গা দান করেন। ঐ বিহারে ধর্মবংশ মহাথের মহোদয় বিহারাধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর দীপঙ্কর নামক এক শ্রামণকে বিহারে নিয়ে আসেন। তিনি পরবর্তী সময়ে ভিক্ষু হয়ে ঐ বিহারের বিহারাধ্যক্ষের পদে আসীন হন।

ভারতবর্ষ এই ভূখণ্ড তখন বিভাগ হয়নি, ত্রিপুরা রাজ্যের মানিক্য চন্দ্র স্ত্রী রাণীমাতা, তাঁর পাচক বড়ুয়া বাবু কাছে পূজনীয় ধর্মবংশ ভান্তের শীলগুণ কর্মক্রিয়া শুনে, ভান্তের প্রতি শ্রদ্ধাবনত: হয়ে অসুস্থ রাজার আয়ু সংস্কার, রাজ পরিবারের মঙ্গল কামনায় ফাং করে ত্রিপুরা রাজদরবারে নিয়ে যান, ত্রিপুরা রাজা মানিক্য চন্দ্র স্ত্রী রাণীমাতা খাদ্যভোজ্য দিয়ে আহার পিণ্ডদান পর সূত্রপাঠে মুগ্ধ হয়ে সোনাদানা দিয়ে ঝুড়ি ভরে দান-দক্ষিনা দিয়েছেন, তখন পূজনীয় ধর্মবংশ ভান্তে সোনাদানা নিতে অনিহা প্রকাশ করলেন, তখন রাণী কারণ জিজ্ঞাসা করেন কি সমস্যা, পূজনীয় ভান্তে বলেন সোনাদানা টাকাকড়ি স্পর্শ করা নিষেধ আছে ভান্তেদের। ভান্তে বলেন আমার বিহার ঘরের অভাব বোধ ও বাঁশের ঘরের বসবাস করছি, যদি পারেন সোনাদানা পরিবর্তে নিজ উদ্যোগে নতুন পাকা দালান তৈরি করে দেন।
ভান্তের কথা শুনে আগ্রহ ভরে রাণী তাতে খুশী হয়ে। সেই দালান নির্মাণের মাধ্যমে বিহারের পূর্ণতা পায় আর অবদান পূজনীয় ভান্তের আর ত্রিপুরা রাণী মাতার দানে । এখানে সমিতির কি অবদান ছিল ? ১৮৯৮খ্রিষ্ঠাব্দে তিন কামরা বিশিষ্ট একতলা বিহার নির্মাণ করে এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনে এই বিহার বিভিন্ন নির্মাণ শৈলিতে আজো আছে। আর. এস খতিয়ান শ্রদ্ধেয় ধর্মবংশ ভান্তে নামে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার।

"চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে অাশ্রিত অবৈধ সমিতি"
****************************************
যখন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ সমিতি অফিস রেয়াজউদ্দিন বাজার হতে, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে, পূজনীয় ধর্মবংশ ভান্তের অনুমতি নিয়ে নীচতলা পূর্ব প্রকোষ্ঠ অস্থায়ী ভাবে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিল, তখন সমিতির সভাপতি, সেক্রেটারি, সদস্য ভিক্ষুসংঘ ছিলবেশি।
দেখুন, তখনকার সমিতির গঠনতন্ত্র ১২ অনুচ্ছেদ পরবর্তী সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ২২ অনুচ্ছেদ তা উল্লেখ আছে, বিহারাধ্যক্ষ অনুমতি নিয়ে অস্থায়ী অফিস বিহারে পূর্ব প্রকোষ্ঠ থাকবে, স্থায়ী অফিস নির্মাণের পর সমিতির অস্থায়ী অফিস বৌদ্ধ বিহার হতে নিয়ে চলে যাবেন এই শর্তাদি ছিল। ১৯৩৯ সালে শ্রদ্ধেয় ধর্মবংশ ভান্তে পরলোকগমন করেন।
তাঁর মৃত্যুর পর শ্রদ্ধেয় দীপংকর শ্রীজ্ঞান ভান্তেকে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ করা হয়।

" অবৈধ সমিতির কালোধ্যায় শুরু"
*************************************
যে সমিতির প্রতিষ্ঠা কাল হতে প্রায় একশত বছর পযর্ন্ত ভিক্ষু ছিলেন সভাপতি। তৎকালীন বিহারাধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় দীপংকর শ্রীজ্ঞান ভান্তের বার্ধক্যের সুযোগে গ্রহণ করে তাঁর কাছ থেকে সভাপতির পদ কেড়ে নিয়ে গৃহীদেরকে সভাপতি বানিয়ে পূজানীয় ভিক্ষুদের আসন চ্যুত করান।
শ্রদ্ধেয় দীপংকর ভান্তে যখন অসুস্থ তখন উপাধ্যক্ষ ছিলেন অধ্যাপক শীলাচার শাস্ত্রী এম. এ মহোদয়। সে সময় তাঁকে কি সভাপতি করা যেত না। তাঁর কি যোগ্যতার অভাব ছিল। কূটবুদ্ধি সম্পন্ন বৌদ্ধ সমিতির তৎকালীন নেতৃবৃন্দ কেন ভিক্ষুকে বাদ দিয়ে গৃহীকে সভাপতি করার কূটচাল ষড়যন্ত্রে লিপ্তছিল। কেন ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করে শ্রদ্ধেয় ভান্তে জীবিত অবস্থায় বিহারে জায়গা শ্রদ্ধেয় ধর্মবংশ ভান্তের নামে আর. এস খতিয়ান এবং পি.এস. খতিয়ানে দীপংকর শ্রীজ্ঞান ভান্তের নাম চড়ান্ত ভাবে লিপিবদ্ধ আছে। তাদের দুইজনের নাম বাদ দিয়ে গোপনে অাশ্রিত সমিতি, বি. এস জরিপে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি নামে খতিয়ান করে। এভাবে তারা জলিয়তী করে তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করে এবং বিহার দখল করে, সে বিহার পরিচলানা থেকে শুরু করে অবস্থানরত ভিক্ষুদেরও পরিচালনা করে আসছে।
এক সময় নির্বাচন নিয়ে হেমেন্দ্র বাবুকে বৌদ্ধ বিহার থেকে বৌদ্ধ সমিতির নেতারা মেরে পিটে গায়ের সাদা পাঞ্জাবি ছিড়ে উলঙ্গ ছবি তুলে পরের দিন আজাদী পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনাম করেছিল। মরার আগে গণ পিটুনী আর মরার পর কি হয়েছে একমাত্র তিনি নিজেই জানেন। পাপ বাপকে কখনও ছাড়ে না। আর ময়লার কীট না হলে কেউ বৌদ্ধ ভিক্ষুর উপড় আক্রমন করতে পারে না। যাদেরকে আমরা শিক্ষিত বিবেকবান মানুষ বলে চিন্তা করি তারা এ সমিতির নেতার পিছনে ঘুরে এবং তাদের আচার- ব্যবহার দেখলে তখন দুঃখ লাগে । বৌদ্ধ সমিতি ও কৃষ্টিপ্রচারে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সদ্ধর্মে রাখতে পারিনি তারা আবার জাতীয় নেতা, তারা আবার বৌদ্ধ সমাজে নেতৃত্ব দেয়, কী লজ্জা সমাজের অমুক বাবুর ছেলে অথবা মেয়ে ধর্মান্তর হয়ে গেছে। তাছাড়াও আরও কোন ভিক্ষু যদি ভিক্ষুত্ব ত্যাগ করে তাকে নাকি লোতোক বলে, তো আমি বলি তারপরও ভালো তিনি ধর্মান্তর হয়নি। তার পারমি যতদিন ছিল ততদিন শাসন সদ্ধর্মের জীবন যাপন করেছিল, সারা জীবন ভিক্ষু থাকতে হবে ত্রি-পিটক কোথায় সে কথা উল্লেখ নাই। আপনি সমাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিন্তু পরিবারের সদস্যদের ধর্মান্তরিত হওয়ার থেকে রোধ করতে পারেননি কিভাবে আবার সমাজে বক্তব্য দেন ছিঃ লজ্জা করে না আপনার, আমার ছেলে বা মেয়ে তো ধর্মান্তরিত কিভাবে আমি সমাজ সংস্কারের জন্য বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছি। এ সমস্ত মানুষই আবার সমাজকে নেতৃত্ব দেন।

"সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার দুই ভিক্ষু কারাবন্দী"
**************************************
বঙ্গীয় বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে কয়েজন প্রজ্ঞাবান ভিক্ষুকে কারাবন্দী করার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে এই অবৈধ বৌদ্ধ সমিতি। যে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সমিতি নামক সংগঠনের অবৈধ দখল নিয়ে আজ বৌদ্ধ সম্প্রদায় সোচ্চার সেই বিহারে একসময় কার্যালয় ছিলো উপমহাদেশে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও প্রসারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার।
সে সময় চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার নন্দিত ছিলো ভিক্ষু মহাসভার পরম পূজ্য ভিক্ষু সংঘের পদচারণায়। তৎকালীন বৌদ্ধ সমিতি ও ভিক্ষু মহাসভা যৌথভাবে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় কার্যাবলী পরিচালনা করতেন। সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার পক্ষে পূজনীয় প্রজ্ঞাবংশ মহাথের, অরুণজ্যোতি ভিক্ষু এবং এস. জ্ঞানপ্রিয় ভিক্ষুও ছিলেন বৌদ্ধ সমিতির সদস্য।

" অবৈধ সমিতির দখলদারি চরিত্র"
*********************************
ধীরে ধীরে দখলদারি চরিত্র ফুটে উঠে বৌদ্ধ সমিতির আচরণে। বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও আচার আচরণে তাদের মধ্যে ভিক্ষু সংঘের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষণ ফুটে উঠে। তারা ভিক্ষু সংঘকে মিসগাইড করে বিহারের দখল নিতে চায়। দানবক্স, চীবর দান, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দায়কদের প্রদত্ত শ্রদ্ধাদান, সরকারি ও বৈদেশিক অনুদান পকেটস্থ করতে শুরু করে এবং এসবের কোনো হিসাব দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।
কিন্তু এসমস্ত অধর্মী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যখন ভিক্ষু মহাসভা সোচ্চার হয়ে উঠে তখন বৌদ্ধ সমিতি, সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভাকে বিহার থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র রচনা করতে শুরু করে। অবশেষে ১৯৮৯ সালে তারা ভিক্ষু মহাসভার কার্যালয়ে তালা মেরে দেয়। এতে বাঁধা দিতে গেলে তৎকালীন বিহার অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞাবংশ মহাথের মহোদয় সমিতির পক্ষ নিয়ে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করায় তৎকালীন অরুণজ্যোতি ভিক্ষু এবং এস. জ্ঞানপ্রিয় ভিক্ষুকে, কোতোয়ালী থানায় এই মামলা হয় । তখন বৌদ্ধ সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন হেমেন্দ্রলাল বড়ুয়া ও রাখাল চঁন্দ্র বড়ুয়া গং।
ইতোমধ্যে বিহার থেকে লুটপাটকৃত অর্থ দিয়ে তারা তৎকালীন থানা, আদালতকে প্রভাবিত করে। এদিকে অসহায় সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নিতে না পারায় কারামুক্ত হতে পারেননি, কারাবরণ কারী অরুণজ্যোতি ভিক্ষু এবং এস. জ্ঞানপ্রিয় ভিক্ষু।
যখন জেষ্ঠ্যপুরার একজন গৃহী ভবতোষ বড়ুয়া দেখতে পান যে শ্রদ্ধাবান ভিক্ষু বিনা অপরাধে কারাদন্ডে ভুগছেন তখন তিনি উদ্যোগ নেন।‌ ছয়দিন কারাভোগের পর অবশেষে আদালত অরুণজ্যোতি ভিক্ষু এবং এস. জ্ঞানপ্রিয় ভিক্ষুকে কোনো অপরাধ না পাওয়ায় ভবতোষ বড়ুয়ার শক্ত অবস্থানের কারণে ভিক্ষুদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

"সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার কার্যালয় দখল"
*****************************************
মুক্তির পর বিহারে ফিরে গিয়ে দেখতে পান যে এতো যুগ যাবৎ যে কক্ষটি সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার কার্যালয় ছিলো তা দখলে নিয়ে বৌদ্ধ সমিতি একে রাতারাতি মহিলা সমিতি নামক সংগঠনের কার্যালয় বানিয়ে দিয়েছে।
এভাবেই চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার থেকে বিতাড়িত হোন আমাদের পরম পূজ্য ভিক্ষু সংঘের সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা এবং চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার পরিণত হয় বৌদ্ধ সমিতির ক্লাবে। ধর্ম স্থান ত্যাগ করার সাথে সাথে প্রিয় এই বিহারটি পরিণত হয় ধান্দার স্থান। পরবর্তীতে যে ভিক্ষু সমিতির পক্ষে মামলা করেছিল সে মামলা মিটমাট হলে নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন করে সে ভিক্ষুকেও চট্টগ্রাম বিহার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

"সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা কার্যালয় বিহীন"
************************************-**-
সেই বৌদ্ধ সমিতি আজও চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার দখল করে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা কার্যালয় বিহীন হয়ে আছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ হিসাবে শ্রদ্ধেয় ড. জিনবোধি ভিক্ষুকে সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার মাধ্যমে মনোনিত করেন। প্রথমে তাঁর সাথে সম্পর্ক ভালো ছিল সমিতির। পরবর্তীতে ড. ভান্তে উপলব্ধি করল যে, বৌদ্ধ সমিতি ভিক্ষুকে কারাবন্দী করা থেকে শুরু করে প্রতি বছর পবিত্র কঠিন চীবর দানের নামে লুটপাটের আয়োজন করে যাতে ভিক্ষু সংঘের পরিধেয় পবিত্র চীবর নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় ও বাইরে তা নিয়ে বাণিজ্য করে। বিহার থেকে ভিক্ষু বিতাড়িত করা সেই বৌদ্ধ সমিতির ভন্ডরা সীবলি পূজার নামে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ জাতির ধর্মীয় চেতনাকে পুঁজি করে উত্তোলিত দানের অর্থ ভাগ বাটোয়ারা করে।

"শ্রদ্ধেয় ড. জিনবোধি ভান্তের সাথে বিবাদ"
*********************-*****************
এগুলোর প্রতিবাদ করায় ২০১২ সাল থেকেই এ বিবাদ আরম্ভ হয় শ্রদ্ধেয় ড. জিনবোধি ভান্তেকে নিয়ে। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষের পদবী এবং বিহার থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। কারণ তিনি সমিতির সংবিধান মানে না, তাদের গঠনতন্ত্রের এটাই উল্লেখ আছে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে থাকতে হলে গঠনতন্ত্র মানতে হবেই। কিন্তু ড. ভান্তে তা মানতে রাজি নয়। ড. ভান্তে বলেন আমার কাছে বুদ্ধের সংবিধান ত্রি-পিটক বা সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার গঠনতন্ত্রই আসল সংবিধান। একজন ভিক্ষুকে গৃহীপ্রণিয়ত সংবিধান চাপিয়ে দেয়া কতটুকু যুক্তিযোক্ত। অনেকই এ বিষয় গুলো জানেন না, সেজন্য এখানে উল্লেখ করছি।

"ড. জিনবোধি কে বিতাড়ন"
***************************
ইতোমধ্যে ড. ভান্তেকে ৩০ দিনের মধ্যে বিহার ত্যাগ করার জন্য তৎকালীন উপ- সংঘরাজ শ্রদ্ধেয় ড. জ্ঞানশ্রী ভান্তেকে ব্যবহার করে নোটিস প্রদান করে সমিতির নেতৃবৃন্দ। গ্রামে -গ্রামে গিয়ে জিনকে যাতে ৩০ দিনের মধ্যে বাহির করে দিতে পারি সেজন্য ভিক্ষুসংঘের কাছে আর্শীবাদ প্রাথর্না করেছিল। তার আরো বলতো ড. জিনবোধি ভান্তে কে কোন অনুষ্ঠান ফাং না করার জন্য নিষেধও করত। সমিতির নেতৃবৃন্দর বক্তিব্য হচ্ছে জিনকে ফাং করলে আমরা যাব না এবং কোন সহযোগীতাই করব না।
ড. জিনবোধি ভিক্ষু আমাদের নিয়োগ প্রাপ্ত, আমরা তাকে বহিস্কার করছি। এভাবে চলতে চলতে ৩০দিন অতিবাহিত হল সমাজ কল্যাণ থেকে সমিতিকে অবৈধ ঘোষনা করলো আর ড. জিনবোধি ভান্তেও চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে রয়ে গেলো। তাছাড়াও আগে বেশ কয়েকজন ভিক্ষুকে নাযাহাল করে বিতাড়িত করেছিল এ সমিতির নেতৃবৃন্দ, তবে দুঃখের বিষয়ঃ হচ্ছে সেই বিতাড়িত ভিক্ষুরাই দেশ-বিদেশ থেকে তাদের পক্ষে কথা বলে।

"অবৈধ বৌদ্ধ সমিতি এখন বিতাড়িত হওয়ার পথে"
********************************************
সমিতির নেতৃবৃন্দ মনে করেছিল অতীতে যাদেরকে বিতাড়িত করেছিল তাদের মত শ্রদ্ধেয় ড. জিনবোধিকেও বিতাড়িত করতে পারবে। কিন্তু তাদের ভাষায় বলতে হয় "জিনকে বিতাড়িত করতে গিয়ে জিনে এখন সমিতির নেতৃবৃন্দকে ধরে ফেলছে।" ড. জিনবোধি সমিতির নেতৃবৃন্দকে বিতাড়িত করতে এবং মামলায় জড়াতেও তিনি চাইনি। বরঞ্চ তাকে যে বিতাড়িত করার যে ষড়যন্ত্র সেটাকে রুখে দেয়ার জন্য ঘুরে দাড়ানোর মুল উদ্দেশ্য। ড. জিনবোধি কে বিতাড়ন করতে গিয়ে অবৈধ বৌদ্ধ সমিতি এখন বিতাড়িত হওয়ার পথে--
তারা প্রতিটা মামলা হেরে যাচ্ছে, আরো আগে অবৈধ সমিতি নেতৃবৃন্দ কে লেজগুটিয়ে চলে যেতে হতো যদি ভিক্ষুসংঘ ঐক্যবন্ধ থাকতো কিন্তু দুঃখের বিষয়ঃ হচ্ছে ভিক্ষুসংঘরা বিভক্ত। এ বিভক্তকে কাজে লাগিয়ে সমিতির নেতৃবৃন্দ অনেক সুবিধা নিয়েছে। এ সুবিধাভোগী ভিক্ষুদের কারণে অতীতে তেমন অগ্রসর হতে পারেনি বতর্মান সময়েও তাদের জন্য কিছু বেগপেতে হচ্ছে।
অবৈধ সমিতির দৃইটি শক্তির উৎসহ, ১. ভিক্ষুসংঘের বিভক্ত ২. সর্বসাধারণের দানবক্সের টাকা। এখন ভিক্ষুসংঘ বিভক্তিকরণ নিয়ে তেমন সমস্যা নাই, তবে দানবক্সটা যদি জব্দ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় তাহলে তাদের আয়ে উৎস কমে যাবে। এতদিন যে মামলা চালিয়েছে সেটা সমিতির নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত কারো পকেটের টাকা নয়। সেটা সর্বসাধারণ সে দানবক্সের টাকা। কৈয়ার তৈল দিয়ে কৈয়া ভাজি করে খেয়েছে। এ কৈয়ার তৈলের উৎস বন্ধ হলে তাদের পকেটের টাকা দিয়ে বৈতরণী পাড় হওয়া প্রচেষ্টা হয়তো করবে না।

"জবরদখল কারীরা বেশি দিন টিকে না"
**************************************
এই সব জারিজুরি আর বেশিদিন টিকবে না। অধর্মী, বেআইনি, অবৈধ দখলকারীরা অর্থ, ক্ষমতার জোরে বেশিদিন টিকতে পারে না ইতিহাস সাক্ষী। ইতোমধ্যে আদালতে সমস্ত মামলায় তারা পরাজিত হয়েছে এখন উচ্চ আদালতের মুখাপেক্ষী হয়ে রয়েছে। তাদের দূর্নীতির অর্থ যেখানে তাদের নিম্ন আদালতে রক্ষা করতে পারেনি সেখানে উচ্চ আদালতে পারবে এটা নেহায়েত দিবাস্বপ্ন। তাদের মিথ্যা বানোয়াট খতিয়ান জালিয়াতি আদালতে প্রমাণিত। তবুও এরপরেও তাদের জোর কি জানেন? তাদের‌ প্রতি কতিপয় বৌদ্ধদের গদগদ ভাব এবং এটাকে পুঁজি করেই তারা এখনো টিকে আছে।

"সমাজকল্যাণ হতে অবৈধ ঘোষনা'
************************************
শর্তাধীন গঠনতন্ত্র জমা দিয়ে, সমাজকল্যাণ অধিদফতর হতে রেজিষ্ট্রেশন নিয়েছেন। যা সমাজ কল্যাণ অধিদফতর আদালতে লিখিত জবাব বলে দিয়েছেন। পরবর্তিতে সমিতি গঠনতন্ত্রে সংশোধন সমাজ কল্যাণ দফতরে জমা দেয় নাই, অনুমোদন নেন নাই। সমাজ কল্যাণ অফিসে অস্থায়ী ভাবে বিহারাধ্যক্ষ অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহারের অনুমতি রেজিষ্ট্রেশন আছে। মহামান্য হাইকোর্ট নির্দেশিত মতে তাই সমাজকল্যাণ অধিদফতর সমিতির নির্বাচিত কমিটি ২৬/২/১৩ ইংরেজি তে আদালতের আদেশ অমান্য করায়, মাহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারী ঘোষণা ও গায়ের মুখের জোরে অস্বীকার করছেন এখনো । কিসের অহংকার, শক্তি ??? তাসেরঘর, মিথ্যা বাহাদুরি।

"রাষ্ট্রীয় টাকা বিহারকে দিয়েছে সমিতিকে নয়"
*******************************************
সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ দানকৃত সম্পত্তিও সমিতির মর্মে মিথ্যা দাবী করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক, জবাব দিয়ে, সাক্ষ্য দিয়ে বলছেন, আমরা চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারকে দিয়েছি, সমিতিকে দিই নাই। তারপর ও মিথ্যা দাবী করছেন, তা সমিতির !!! ভিত্তি কি? কিসের জোরে? খোঁদ সরকার দাতা, সরকার পক্ষ আদালতে শপথ করে সাক্ষ্য দিয়ে জেলাপ্রশাসক বলছেন, পুরো বৌদ্ধ মন্দির ভিক্ষু সংঘের। কিন্তু দুঃভার্গ্য তাও অস্বীকার করার মত গোয়াঁতুমি করছেন। কিসের ভিত্তিতে, দালিলিক প্রমাণ ছাড়া।

"দানীয় সম্পত্ত কি অবশ্যই বোঝেন"
*************************************
দানীয় সম্পদ কি তা অবশ্যই বুঝেন । দানীয় বস্তু সম্পদ অদিন্নদানা করা পাপ তাও বুঝেন, নিজেরা ঘরে অনেক অনেক দান ধর্ম করেন। তাহলে কেন জেদ করছেন, দানের বস্তু দানীয় সম্পদ সংঘকে ছেড়ে দিলে এতে সম্মান হানি হবে কেন, উদারতা, বড় মন হবে, এ বড় মন নিয়ে এগিয়ে আসুন। ভিক্ষুকে প্রতিনিয়ত বন্দনা করার সময় তিন তিন বার অপরাধ ক্ষমা করুন প্রার্থনা করি বলি তো। নিত্যকার প্রার্থনা এটা। তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা না করলে প্রার্থনা হবে না, ভুল হবে, দান শীল ভাবনা শুরুই হবে না। তাতে লজ্জা থাকে কি উচিৎ ???
বিজ্ঞ আদালত আপনাদের সকল কথা, দালিলিক সাক্ষ্য মৌখিক সাক্ষ্য সব দেখেছেন পড়েছেন, বক্তব্য শুনেছেন, একই ভাবে বুদ্ধের ধর্মের সংঘের কথা পড়েছেন দেখেছেন শুনেছেন, সরকারের জবাব দালিলিক সাক্ষ্য দিয়েছেন , সমাজকল্যাণ অধিদফতর জবাব বক্তব্য দালিলিক সাক্ষ্য পড়েছেন, দেখেছেন শুনেছেন।

"বিজ্ঞ আদালত রায়"
************************
বিজ্ঞ আদালত সকল কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে রায়ডিক্রী প্রদান করেছেন ভিক্ষু সংঘের সম্পত্তি চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার।
একটু চিন্তা করুন ভাবুন, আপাতদৃষ্ট আপনাদের প্রতিপক্ষ একজন মাত্র, প্রফেসর শ্রদ্ধেয় ড. জিনবোধি ভিক্ষু কিন্তু সরকার, জেলা প্রশাসক ? সমাজকল্যাণ অধিদফতর ? বিজ্ঞ আদালত ? এরা তো কারও পক্ষ নন । তাঁদের কোন স্বার্থ নেই। তিন পক্ষই নিরপেক্ষ সরকারী দফতর ও স্বাধীন বিচার বিভাগ , তাঁদের মতামত চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার সংঘের, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এর মালিক । প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু একজন সংঘের প্রতিনিধি মাত্র তিনি সংঘ নন। সমগ্র ভিক্ষুগণ মিলে সংঘ, সম্পত্তি সংঘ সম্পত্তি ঘোষণা কারও একার নয় ।

"উপসংহার বা সর্বশেষ "
*****************************
এখন আমাদের বৌদ্ধ জাতিকে নির্ধারণ করতে হবে যে আমরা কি লুটপাটকারী সমিতির বেআইনি, অবৈধ কার্যক্রমকে শুধুমাত্র এই কারণেই সমর্থন করবো যে সেসব ধর্মের বেশভূষা ধারণকারী নাকি সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার বা ড. জিনবোধি ভান্তে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের হাতকে শক্তিশালী করবো।
অবশেষে প্রফেসর ড. ভান্তের রায়ডিক্রী কথা স্বীকার করে জেলাজজ আদালতে গত ১৪/৯/২২ ইং অপর আপীল নম্বর ৪২২/ ২০২২ ইংরেজি দায়ের করেন । বিজ্ঞ জেলাজজ বিজ্ঞ আদালতে দ্রুত আগামী ৬/১০/২০২২ ইংরেজি তারিখে আপীল শুনানির দিন ধার্য্য করেন । সমিতির ইচ্ছে ছিল দীর্ঘদিন মামলা ঘুরানো ঝুলানো স্বাধ এতে ভেস্তে গেল ।
অবৈধ বৌদ্ধ সমিতি তাদের আপীল মেমোতে, অবৈধ বৌদ্ধ সমিতি এতদিনের মালিক দাবীদার চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার মালিক নয়, কোন সদস্য সদস্যা দাবী করে না মর্মে অঙ্গীকার করেছে । এই স্বীকারোক্তি, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার, সমিতি দাবী করে না তাদের নয় এই বক্তব্য স্বীকার করার জন্য আজ দীর্ঘ ৪০ বছরের সংগ্রাম আন্দোলন ফলদায়ক হয়েছে ।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার, আমরাই ভিক্ষু নিয়োগ দিয়ে থাকি, আপীলের আরজিতে এ শব্দ গুলো কোথায় গেলো। তাছাড়াও আরো উল্লেখ করছে বৌদ্ধ সমিতির কোন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার সমিতি বলে দাবি করে নাই। তাহলে এতদিন ধরে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার সাইনবোর্ড দিয়ে ভিক্ষু-শ্রামণের উপর কতৃর্ত্ত কাটিয়ে জাতিকে ধোকা দিয়েছেন নয় কি? আগামীতে কড়গন্ডায় এগুলো হিসাব দিতে হবে।
যাহোক সমিতির নেতৃবৃন্দর সুবোধ উৎপন্ন হলো মনে হয়।
সত্যের জয় হোক, জগতের সকল প্রাণী সুখি হোক,
বুদ্ধের শাসনচির স্থায়ী হোক।

ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা।

তারিখঃ ২০২২- ০৯- ২২

Want your school to be the top-listed School/college in Bangalore?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Videos (show all)

বৌদ্ধ ধম্ম হল বাস্তববাদী ও অদ্বিতীয়ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু২০১৪ সালের ১৯ শে ডিসেম্বর ভারতে ‘PK’ নামে একটি হিন্দি চলচিত্র বা স...
বুদ্ধমূর্তি কে দেওরা বাবা বলে পূজা করছে।
#Mamun Barua
🙏🙏🙏
বুদ্ধ ও ব্রাহ্মণ
অষ্ট অক্ষণ দীপন গাথাশ্রুতিমধুর কন্ঠে আদিবংশ ভিক্খু
ফানুস🙏🙏🙏
ভীমরাও আম্বেদকর
ব্রাহ্মণেরা কি  জগন্যরকমের  বর্বর ছিল  দেখুন???
ঘন্টা ---যাঁরা অরণ্যে থাকতো বুদ্ধের  সময়কালে তখন তারা প্রয়োজন কালে ঘন্টা বাজাতো আর সবাই একত্র হত।   অনেকে মেডিটেশনে ও ব্...

Location

Category

Website

Address


Bangalore
4351
Other Religious Schools in Bangalore (show all)
TRUTH of IPC TRUTH of IPC
#92, Street BED Layout
Bangalore, 560034

Spread the truth about IPC and its leaders.

Ancient Civilization Sanatan Ancient Civilization Sanatan
Bangalore

India old history is to discuss the rich culture and diverse history of India. Our goal is to celebrate, educate, and preserve the beauty and traditions of the ancestors of mother India for future generations to come.

The Biblical Think Tank The Biblical Think Tank
Bangalore, 560022

The Believer's Think Tank is a collection of articles and videos which are committed with the goal to equip the mind and engage the intellect. Our aim to: (1) Equip the Believer (2) Expose Falsehood

QuranDesk QuranDesk
Bangalore, 560064

QuranDesk is an online platform to learn and memorize Quran from certified Quran Teachers. Here people can find teachers of their own choice, budget and can select their convenient time to learn.

jain siksha #niyam rule jainism jain siksha #niyam rule jainism
Bangalore, 560009

general knowledge about jain dharam

Islamthesalvation.its Islamthesalvation.its
Bangalore, 560002

❝ And Remind, for indeed, the Reminder benefits the Believers ❞ [Surah Dhariyat | 51:55] Follow

Pariyatti Dhamma Pariyatti Dhamma
Bangalore

Namo Buddhaya Welcome to Pariyatti Dhamma Our Main Goal is to propagate the Buddha's Teachings

Nabi e kareem s.a.w ki hadis e mubaarak Nabi e kareem s.a.w ki hadis e mubaarak
Bangalore, 560029

hadis e mubaarak

Al Hidaayah Academy Al Hidaayah Academy
24, 3rd Cross , Kenchappa Road, Near East Ground , Fraser Town
Bangalore, 560005

AL-HIDAAYAH ACADEMY for women and children is an Islamic institution which provides comprehensive Islamic education according to The Qur'an & Sunnah.

Zikr-e-Qalbi (Remembrance of Allah by Heart) Zikr-e-Qalbi (Remembrance of Allah by Heart)
Bangalore

Remembrance of ALLAH by Heart

Quran For All Quran For All
#65, 1st Main, S. R. K. Garden, Jayanagar
Bangalore, 560041

http://www.quranforall.in/about-us/

Ishavaasyam Centre of Vedic Excellence Ishavaasyam Centre of Vedic Excellence
Flat G2, Laa Paradise Apartments, Puttappa Layout, New Thippasandra
Bangalore, 560075

ISHAVAASYAM - Taken from Ishavasya Upanishad "Isha Vaasyam Idam Sarvam" meaning "Lord resides everyw