13/02/2025
সংবাদদাতা, পতিরাম: নেই বইয়ের বোঝা, নেই মানসিক চাপ। বিষয়ভিত্তিক প্রথাগত শিক্ষার খানিকটা বাইরে বেরিয়ে এসে বাস্তব ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষাদান করছে
বালুরঘাটের ফার্স্ট স্টেপ পাব্লিক
স্কুল (প্লে অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুল)। খেলাধূলার ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আধুনিক ও উন্নতমানের শিক্ষাদান করছে এই স্কুল। শুধু তাই নয়, শিশুদের মনোযোগ বাড়াতে অডিও ভিজুয়াল ক্লাসের মাধ্যমেও পাঠদান দিচ্ছেন এই স্কুলের শিক্ষিকারা। বালুরঘাট শহরের মিলন সংঘ ক্লাবের নিকট অবস্থিত এই স্কুল বর্তমানে শিশুদের সেকেন্ড হোমে পরিণত হয়েছে। আধুনিক পড়াশোনা তো বটেই, নৈতিক শিক্ষাদানের ক্ষেত্রেও এই স্কুল অগ্রনি ভূমিকা নিয়েছে শহরে।
কী নেই এই স্কুলে? খেলাধূলার মাঠ থেকে শুরু খেলার সরঞ্জাম, স্মার্ট ক্লাস সহ নানা পরিকাঠামো রয়েছে। শিশুদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের লক্ষ্যেই সমাজ গড়ার কাজ করছে বালুরঘাটের এই ফার্স্ট স্টেপ পাব্লিক
স্কুল (প্লে অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুল)।
স্কুল সূত্রে খবর, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এই ফার্স্ট স্টেপ স্কুল। বর্তমানে এই স্কুলে আড়াই বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা পঠনপাঠন করতে পারে। একেবারে প্লে গ্রুপ, নার্সারি, এলকেজি, আপার কেজি এবং ক্লাস ওয়ান থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত শিশুরা পঠনপাঠন করছে পারছে। আইসিএসসি বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এই স্কুলে পঠনপাঠন চলে বলে জানা গিয়েছে। পঠনরত শিশুদের এই স্কুলে মেলে নানা ধরনের সুবিধা। শিশুদের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, নানা ধরনের বইয়ের সম্ভার নিয়ে লাইব্রেরি। অডিও ভিডিও ক্লাসে শিক্ষামূলক সিনেমা ও ভিডিওর মাধ্যমে চলে পড়াশোনা। এমনকি নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরাও রয়েছে। এদিকে সারাবছরই চলে নানা ধরনের সৃজনশীল কর্মসূচি। শিশুদের হাতের শিক্ষা, ভারতীয় মশলা ও খাদ্যাভাসের উপরে নানা শিক্ষাপ্রদান করা হয়। ছোট্ট শিশুদের মধ্যে গুড টাচ, ব্যাড টাচের উপরে চলে নানারকম শিক্ষামূলক কর্মসূচি। এছাড়াও কবিতা, আবৃতি, নাচ গান ও নানা পাঠদান দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলিও এই স্কুলে শিশুদের নিয়ে পালন করা হয়। এদিকে স্কুল প্রাঙ্গনেই রয়েছে খেলার মাঠ, যেখানে খেলাধূলা থেকে শুরু করে যোগা, ব্যাম সহ নানা কর্মসূচি করে শিশুরা। এদিকে ওই স্কুলের শিশুদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলকারেরও ব্যবস্থা রয়েছে৷ শুধু শিশুরাই নয়, বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের নিয়েও চলে নানা আয়োজন।
এবিষয়ে ওই স্কুলের পরিচালন কমিটির অন্যতম সদস্য কিসুন মাহাতো বলে, শিশুদের পাঠদান দিতে উন্নতমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। স্কুল পরিচালন কমিটির তরফে পরিকাঠামো আরো উন্নতমানের পাঠদানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দেবান্বিতা সাহা বলেন, স্কুলের শিশুদের গল্প ও ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে শিক্ষাদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষার বাইরে বেরিয়ে শিশুদের নানাভাবে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।
এই স্কুলে শিশুদের পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত অভিভাবকরাও। এবিষয়ে শিশুদের মা
ঝুনঝুন দাস ও স্নিগ্ধা গুহ বলেন, স্কুলের পাঠদানের প্রক্রিয়া খুব ভালো। এই স্কুলকে সেকেন্ড হোম বলেই মনে করে আমাদের শিশুরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব ভালো। তাই আমরা নিশ্চিন্তে থাকি।
***