04/11/2025
২০১২ সাল। বগুলায় তখনও সরকারী বা বেসরকারি উদ্যোগে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে মন্টেসরি বা কিন্ডারগার্টেন প্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়নি। অথচ এ ধরণের শিক্ষা ছিল ভীষণ প্রয়োজনীয়।
ঠিক সেই সময়, মাত্র তিনজন শিশুকে নিয়ে ভাড়া করা একটি ছোট ঘরে নীরবে শুরু হয় বগুলার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার যাত্রা। নাম দেওয়া হলো – “কিডস একাডেমী”।
শিশুদের আড়াই বছর বয়স থেকেই নিয়মিত শিক্ষালয়ে নিয়ে আসার যে উদ্যোগ, তার প্রথম উদাহরণ ছিল কিডস একাডেমী। এখানকার শিক্ষিকারা অনেকেই ছিলেন সম্পূর্ণ মন্টেসরি প্রশিক্ষিত। যদিও মহামারীর পরে স্থানস্বল্পতার কারণে প্লে-গ্রুপে ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু শুরুটা ইতিহাস তৈরি করে দেয়।
সময় এগোল…
২০১৫ সালে অভিভাবকদের অনুরোধে কিডস একাডেমী শুরু করল প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম অনুসরণ করার জন্য কিডস একাডেমী কৃষ্ণনগর একাডেমির তৎকালীন ও বর্তমান অধ্যক্ষর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। তিনি যেমন একজন দক্ষ শিক্ষাবিদ, তেমনই শিক্ষানুরাগী। তাঁর সদয় সহযোগিতায় কিডস একাডেমীর ছাত্রছাত্রীরা বগুলাতে থেকেই ICSE বোর্ডের বই নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে।
২০১৭ সালে কিডস একাডেমী পেল নিজস্ব ঠিকানা— চটকাতলা বাজার, বগুলায়। ২০১৮ সালে অর্জন করল সরকারী মান্যতা এবং প্রাপ্ত হলো সরকারি UDISE Code.
প্রথম থেকেই কিডস একাডেমীর মূল লক্ষ্য ছিল সংখ্যায় নয়, বরং গুণমানে ছাত্র তৈরি করা। কারণ, শিক্ষার্থীদের মান যদি সম্মানজনক না হয়, তবে বড় স্কুলে তাদের ভর্তির দায়িত্বও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
ফলাফলও আসতে শুরু করল—
২০১২ সালে মাত্র তিনজন শিশুকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল।
সেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই আজ, ২০২৫ সালের ICSE বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষায়, তারা অর্জন করেছে গড়ে ৯৩ শতাংশের অসাধারণ ফলাফল! তাদের এই সফলতা আমাদের সকলের গর্ব ও অনুপ্রেরণার উৎস।
শুধু তাই নয়, কিডস একাডেমীর শিক্ষার্থীরা আজ আন্তর্জাতিক স্তরেও সম্মান অর্জন করছে।
কিডস একাডেমী বিশ্বাস করে— প্রতিটি শিশু অনন্য, প্রতিটি প্রতিভাই মূল্যবান। তাই আমাদের অঙ্গীকার, তাদের সেরাটা গড়ে তোলা।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ Bagula KidsAcademy - এই সংক্ষিপ্ত তথ্য আগ্রহের সাথে পড়ার জন্য।
বিনম্র আবেদন - আসুন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত ও সঠিক পথে গড়ে তুলি।