Bagula Purba Para High School

Bagula Purba Para High School Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bagula Purba Para High School, School, Purbapara, Purbapara, Bagula.

বাংলা ভাষার জয়গান আজ বিশ্বজুড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রক্তাক্ত রাস্তা সে পরিচিতি এনে দিয়েছে। বরকত, জব্বার, ...
22/02/2020

বাংলা ভাষার জয়গান আজ বিশ্বজুড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রক্তাক্ত রাস্তা সে পরিচিতি এনে দিয়েছে। বরকত, জব্বার, সালামদের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিও। কিন্তু এর পাশাপাশি, মাতৃভাষার জন্য মানভূমের বাঙালিদের দীর্ঘ আন্দোলন নিয়ে যে কোনও রকম আলোচনা থেকে বিরত থাকেন অনেক বাঙালি। অবহেলা না আত্মবিস্মরণ? ভুলে গেলে চলবে না, আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যতগুলো ভাষা আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্যে দীর্ঘতম ভাষা আন্দোলনও এই বাংলার মাটিতেই। না, সেটি ২১ ফেব্রুয়ারির আন্দোলন নয়। তা হল মানভূমের ভাষা আন্দোলন।

আরও পড়ুন
‘হাতির মতো বড় উৎসব’ সহরায়ের সঙ্গে মিশে সাঁওতালদের ভিটে বাঁচানোর যুদ্ধের ইতিহাস

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে, ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের নীতির বাস্তব রূপায়নের দাবিতে দেশের আঞ্চলিকতা বেড়ে উঠতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু দেশের ভাষাভিত্তিক প্রদেশ কমিশন নিয়োগ করেন। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে কমিশন মত দেয় যে, শুধুমাত্র ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠন না করে ভারতের ঐক্যবদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই, তৎকালীন বিহার সরকার ওই রাজ্যের মানুষদের ওপর হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রাথমিক স্তরে ও সরকারি অনুদান যুক্ত বিদ্যালয়ে হিন্দি মাধ্যমে পড়ানোর নির্দেশ আসে, জেলা স্কুলগুলিতে বাংলা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে শুধুমাত্র হিন্দিতে শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাঙালির মানভূমে তখন থেকেই শুরু হল এক রকম ‘হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ’। একের পরে এক বাংলা স্কুল পরিণত হল হিন্দি স্কুলে। পোস্ট অফিস-সহ সমস্ত সরকারি দফতরে হিন্দি বাধ্যতামূলক করা হল। এর বিরুদ্ধেই মানভূমের ভাষা আন্দোলন। গর্জে ওঠে লক্ষ লক্ষ বাঙালি। শিক্ষা ও প্রশাসনিক স্তরে তাদের মাতৃভাষা বাংলাকে স্বীকৃতির জন্য শুরু হয় আন্দোলন।

বিহার রাজ্য সরকার মানভূমে বাংলার ব্যবহার সীমিত করার জন্য কঠোর হতে শুরু করলে অতুলচন্দ্র ঘোষ, লাবণ্যপ্রভা ঘোষ, অরুণচন্দ্র ঘোষ, বিভূতিভূষণ দাশগুপ্ত সহ ৩৭ জন নেতা কংগ্রেসের জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করে ‘লোক সেবক সংঘ’ গঠন করেন। এই সংঘ বাংলা ভাষার মর্যাদার প্রশ্নে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করে।

কিন্তু ১৯৪৬-এর বিহার নিরাপত্তা আইনের ‘নামে’ অত্যাচার শুরু হল ভাষা আন্দোলনকারীদের উপরে। সত্যাগ্রহকে দমন করার জন্য হয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, বিচিত্র দমন-পীড়ন। শুরু হল ‘টুসু সত্যাগ্রহ’। মানভূমের লোকগান ‘টুসু’, সাধারণের স্বতোৎসারিত আবেগ মিশে থাকে। তাতেও ফুটে উঠতে লাগল বাংলা ভাষার প্রতি আবেগ। ১৯৫২ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হলেন ‘লোকসেবক সংঘে’র দুই জন প্রার্থী (ভজহরি মাহাতো ও চৈতন মাঝি)। বিধানসভায় জিতে এলেন সাতজন। মানভূমে বাংলা ভাষার আন্দোলন দৃষ্টি আকর্ষণ করল কলকাতা ও দিল্লির।

সেই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান হল –

শুন বিহারী ভাই, তোরা রাখতে লারবি ডাঙ্ দেখাই
তোরা আপন তরে ভেদ বাড়ালি, বাংলা ভাষায় দিলি ছাই
ভাইকে ভুলে করলি বড় বাংলা-বিহার বুদ্ধিটাই
বাঙালী-বিহারী সবই এক ভারতের আপন ভাই
বাঙালীকে মারলি তবু বিষ ছড়ালি — হিন্দি চাই
বাংলা ভাষার পদবীতে ভাই কোন ভেদের কথা নাই
এক ভারতের ভাইয়ে ভাইয়ে মাতৃভাষার রাজ্য চাই
(গীতিকার – ভজহরি মাহাতো)

মানভূম ভাষা আন্দোলনে নারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল অপ্রতিরোধ্য। জননেত্রী লাবণ্যপ্রভা দেবীকে পুলিশ ও রাজনৈতিক গুন্ডারা চুলের মুঠি ধরে ঘর থেকে বের করে, সঙ্গে চলে অকথ্য নির্যাতন ও সম্ভ্রমহানি। শবরনেত্রী রেবতী ভট্টাচার্যকে পিটিয়ে জঙ্গলের মধ্যে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে রেখে যায় বিহারি পুলিশ। জননেত্রী ভাবিনী মাহাতোর ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়। এই সময় বিহারের জননিরাপত্তা আইনের ধারায় লোকসেবক সংঘের কর্ণধার অতুলচন্দ্র ঘোষ, লোকসভা সদস্য ভজহরি মাহাতো, লাবণ্যপ্রভা ঘোষ, অরুণচন্দ্র ঘোষ, অশোক চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

এরই মধ্যে শুরু হয় সীমা কমিশনের কাজ। সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের তৎকালীন দুই মুখ্যমন্ত্রীর (বিধানচন্দ্র রায় ও শ্রীকৃষ্ণ সিংহ) তরফে বঙ্গ-বিহার যুক্ত প্রদেশ গঠন করার প্রস্তাব আসে। ইতিমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে ‘টুসু সত্যাগ্রহ’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মানভূমের ভাগ্যের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায়, ১৯৫৬ সালের এপ্রিলে লোক সেবক সংঘের আন্দোলনকারীরা কলকাতা অভিমুখে পদযাত্রার সিদ্ধান্ত নেন। ২০শে এপ্রিল অতুলচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে সাড়ে তিনশ’ নারীসহ হাজার দেড়েক আন্দোলনকারী দশটি বাহিনীতে ভাগ হয়ে পুঞ্চার পাকবিড়রা গ্রাম থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। ষোলো দিন পর, ৬ই মে কলকাতায় উপস্থিত হয় সেই পদযাত্রা। ২০ এপ্রিল থেকে ৬ মে টানা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছিলেন সত্যাগ্রহীরা। কণ্ঠে ছিল ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘বাংলা ভাষা প্রাণের ভাষা রে’ গান।

কলকাতাবাসীদের পক্ষ থেকে হেমন্তকুমার, জ্যোতি বসু, মোহিত মৈত্র, সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট নাগরিকগণ সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশ যেন না হতে পারে। এজন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আগে থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছিল। ফলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে পুলিশ ৯৬৫ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে। বন্দিদের পাঠানো হয় কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেল, আলিপুর সেন্ট্রাল জেল ও আলিপুর স্পেশাল জেলে। বারো দিন পর তাঁরা মুক্তি পান। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থানে প্রায় ৩,৩০০ আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়, যারা প্রধানত লোক সেবক সংঘ অথবা বাম দলগুলোর কর্মী ছিলেন।

আরও পড়ুন
জলের নিচে লুকিয়ে প্রাচীন মন্দির, উঁকি দেয় চূড়া, পুরুলিয়ার তেলাকুপির গল্প এমনই

বাধ্য হয়ে রদ করা হয় বাংলা-বিহার সংযুক্তির প্রস্তাব। বঙ্গ-বিহার ভূমি হস্তান্তর আইন পাশ হয়। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই আগষ্ট লোকসভায় ও ২৮শে আগষ্ট রাজ্যসভায় বাংলা-বিহার সীমান্ত নির্দেশ বিল পাশ হয়। ১লা সেপ্টেম্বর এতে ভারতের রাষ্ট্রপতি সই করেন।

মানভূম ভাষা আন্দোলনের চাপ তখন বাড়ছে ক্রমাগত। ১৯৫৬ সালে মানভূমকে তিন টুকরো করে, বাংলা অধ্যুষিত ১৬টি থানা অঞ্চল জুড়ে জন্ম নিল পুরুলিয়া জেলা। অন্তর্ভুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গের।

সীমা কমিশনের রিপোর্ট লোকসভা হয়ে ‘সিলেক্ট কমিটি’ ও আরও নানা স্তর পেরিয়ে ১ নভেম্বর, ১৯৫৬ ২৪০৭ বর্গ মাইল এলাকার ১১,৬৯,০৯৭ জন মানুষকে নিয়ে জন্ম নেয় আজকের পুরুলিয়া। সম্পূর্ণ ধানবাদ মহকুমা বিহার রাজ্যে রয়ে যায়। টুসু সাধিকাদের সেই ভাষা আন্দোলন আজ জনমানসে বিস্মৃতপ্রায় হলেও ইতিহাসের দলিলে তা উজ্জ্বল। মানভূমের এই ভাষা আন্দোলন কোনো স্বাধীন দেশ গড়ার আন্দোলন ছিল না, ছিল কেবল বাংলা ভাষাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার লড়াই। আজকের প্রশাসনিক পুরুলিয়া সেই লড়াইয়েরই ফসল

ভুলে গেলে চলবে না, আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যতগুলো ভাষা আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্যে দীর্ঘতম ভাষা আন্দোলনও এই বাংলার মাটি....

14/02/2020
আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসা...
09/02/2020

আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসামীর উপর একটি পরীক্ষা করার প্রস্তাব করলেন । কয়েদীকে শোনানো হলো ফাঁসির বদলে তোমাকে বিষাক্ত কোবরা সাপ দংশন করিয়ে হত্যা করা হবে।

কয়েদীকে চেয়ারে বসিয়ে তার হাত-পা বেঁধে দেয়া হলো, তারপর তার চোখে পট্টি বেঁধে বিষাক্ত কোবরা সাপ না এনে তার বদলে দুটি সেফ্টি পিন ফুটানো হলো। ফলে কয়েক
সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েদির মৃত্যু হলো ৷ পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা গেল সাপের বিষ রয়েছে তার শরীরের মধ্যে। প্রশ্ন হলো এই বিষ কোথা থেকে এলো, যা ঐ কয়েদীর প্রাণ কেড়ে নিল।

বলা হয় সেই বিষ তার নিজের শরীর থেকেই উৎপত্তি হয়েছিল।আমাদের সংকল্প থেকে positive এবং negative এনার্জির সৃষ্টি হয়। আর সে এনার্জি আমাদের শরীরে হরমোনের উৎপত্তি করে ৷ 75% রোগের মূল কারণ হলো আমাদের negative চিন্তাধারা। মানুষ নিজের চিন্তাধারা থেকে ভস্মাসূর হয়ে নিজ প্রজাতিকে বিনাশ করছে। আপনার চিন্তাধারা সর্বদা positive রাখুন এবং খুশী থাকুন।

২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা ভাবি যে '‘মানুষ কি মনে করবে!" ৫০ বছর আমরা ভয় পাই ‘মানুষ কি ভাববেন!‘ ৫০ বছর পরে আমরা বুঝতে পারি ‘'কেউ আমার কথা চিন্তাই
করেনি৷‘' কিন্তু তখন তেমন কিছু করার থাকে না!

তাই ইচ্ছেশক্তিকে কখনোই থামতে দেয়া যাবে না। কে কি বলে তা নিয়ে না ভেবে নিজের পজিটিভ চিন্তাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সফলতা (Desired Goal) ধরা দিবে।

১৯৩০, ২৮ জুন, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। বিচারে যাবজ্জীবন। ১৯৩৭ সালের শেষদিকে অনশন করার পরে আন্দামান থেকে বাংলা...
25/01/2020

১৯৩০, ২৮ জুন, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। বিচারে যাবজ্জীবন। ১৯৩৭ সালের শেষদিকে অনশন করার পরে আন্দামান থেকে বাংলার আলিপুর জেলে আসেন চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক অনন্তলাল সিংহ। দমদম ও আলিপুর জেলে তখন কমকরে ৫০/৬০ জন বিপ্লবী রাজবন্দী হয়ে আছেন। অনন্ত সিংহ যখন আলিপুর জেলে তখন সুভাষচন্দ্র বসু আসেন দেখা করতে, এই নিয়ে চতুর্থবার দেখা সাক্ষাৎ হয় তাঁদের। প্রত্যেকের সাথে দেখা করে সুভাষচন্দ্র বসু এক জোড়াল বক্তৃতা দিয়ে বিপ্লবীদের মানসিক জোড় বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৩৮, সেইসময় একদিকে কংগ্রেসের সভাপতি সুভাষচন্দ্র বসু অন্যদিকে বাংলায় তখন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনে ফজলুক হক-সুরাবর্দীর শাসনভার চলছে। পরিবেশ সম্পূর্ণ পক্ষে - এই চিন্তা করে অনন্ত সিংহ সহ রাজবন্দীরা মুক্তির জন্য আন্দোলন রূপে অনশন করে ইংরেজ সরকারের উপর চাপ বাড়াবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। খবর গেল গান্ধীজীর কাছে। সুভাষচন্দ্র বসু ও গান্ধীজী রাজবন্দীদের সাথে দেখা করতে আসেন, যদিও বিপ্লবী বন্দীদের সাথে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয় শুধু গান্ধীকে।

জেলের ভেতরে রাজবন্দীদের সাথে কথা বলে, রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যবস্থা করতে গান্ধীজী এক বছরের জন্য সময় চান। রাজবন্দীরা প্রথমে রাজি না হলেও পরে এই প্রস্তাব মেনে নেন। কিন্তু দিন যায়, মাস যায় রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপই নেওয়া হয় না; এইভাবে প্রায় একবছর কেটে যায়। হতাশ রাজবন্দী বিপ্লবীরা মুক্তির জন্য আবার অনশন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিপ্লবীরা সরকারকে চরম পত্র দিলেন, সেইসঙ্গে জানানো হ'ল গান্ধীকেও। ১৯৩৯ সাল, এইসময় দেশের রাজনীতিতে একরকম বেইমান ও ধোঁকাবাজির রাজ শুরু হচ্ছে। বিপ্লবীদের চরম পত্রের পরেও, না ব্রিটিশ সরকার, না গান্ধী - কারো কোনও হোলদোল নেই, ফলে শুরু হ'ল অনশন।

বিপ্লবীদের অনশনের খবর চারিদিক ছড়িয়ে পড়লো, এবার গান্ধী তাঁর দূত পাঠালেন বিপ্লবীদের কাছে। গান্ধীর সেক্রেটারী মহাদেব দেশাই, বিধান রায় ও সুরেন্দ্র মোহন ঘোষ জেলে এসে অনন্ত সিংহ'দের সাথে দেখা করে জানান, গান্ধীজী অনশন বন্ধ করতে বলেছেন। কিন্তু মুক্তির ব্যাপারে কোনও আশ্বাস নেই, তাই এবারে বিপ্লবীরা গান্ধীর দূতদের সরাসরি 'না' বলে দিলেন, জানালেন গান্ধীজীর কথামত অনশন বন্ধ হবে না। তাঁর নির্দেশ অমান্য করেছে! তাই গান্ধী অনন্ত সিংহ সহ বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে খবরের কাগজে এক মারাত্মক ক্ষতিকর বিবৃতি দিয়েদিলেন। এইঘটনায় বিপ্লবীরা মানসিকভাবে ভেঁঙে পড়লেও অনশন চলতে থাকল।

বেশ কিছুদিন অনশন চলার পরে অনেক বিপ্লবীই অসুস্থ হয়ে পড়তে লাগলেন। এই খবর পেয়ে বসে থাকতে পাড়লেন না শুধু দুজন। সেই সময় সুভাষচন্দ্র বসু শারীরিকভাবে বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকতেন এবং রাজনৈতিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে। তবু তিনি ও মেজদা শরৎচন্দ্র বসু ছুটে এলেন দমদম ও আলিপুর জেলে। সুভাষচন্দ্রের সাথে অনন্ত সিংহের সেখানে দেখা হয় পঞ্চমবার; প্রথমবার দেখা হয় ১৯২৮ সালে কলকাতা কংগ্রেসে, ১৯২৯ সালে দুবার চট্টগ্রামে, এবং ১৯৩৭ সালে চতুর্থবার আলিপুর জেলেই। অনন্ত সিংহের কথায়, সুভাষবাবু খুব উৎকন্ঠা নিয়ে হাতজোড়ে বারে বারে আমাদের'কে বলেছিলেন, "হয়তো এখনই ইংরেজ সরকার আপনাদের মুক্তি দেবে না, তবে মুক্তি খুব তাড়াতাড়ি একদিন হবেই। আমরা স্বাধীনতার খুব কাছে এসে দাঁড়িয়ে, এবারে এক চরম আন্দোলন শুরু হবে। আপনারা অনশনের সিদ্ধান্ত নেবেন না, ভারত মায়ের পরবর্তী মুক্তি আন্দোলনে আপনাদের সকলকে দেশের প্রয়োজন"...

সুভাষচন্দ্র বসু তখন কোনও প্রতিশ্রুতি বিপ্লবীদের দিতে পারেননি, তিনি রাজনৈতিক ভাবে কোনও পদে নেই, প্রতিশ্রুতি দেবার মতো সেই পরিস্থিতিও ছিল না। তবু অনন্ত সিংহ সহ সকল বিপ্লবীরাই অনশন তুলে নিলেন। কেন তাঁরা অনশন বন্ধ করলেন? - অনন্ত সিংহ বলেছেন, "সে এক দুর্বার আকর্ষণ, অসুস্থ দুর্বল শরীরেও এক অমিত শক্তিশালী ক্ষমতা, শ্রদ্ধায় মাথা নত হয় এমনি। তাঁর সম্মোহন শক্তি এড়াবে কার সাধ্যি!"

শেষপর্যন্ত অনন্ত সিংহ ব্রিটিশ জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন ১৯৪৬ সালে। এরপর কিছু বছর তাঁর একটু অন্যরকম ভাবে কাটে, টাকা রোজগারে তিনি জড়িয়ে পড়েন সিনেমার প্রযোজনার কাজে। এইসময় ১৯৪৬ সালেই চট্টগ্রাম বিদ্রোহের অন্যতম এই বিপ্লবীর সাথে আর একজনের আলাপ হয়েছিল, তিনি ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আদর্শ, কর্মকাণ্ড গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে, সখ্যতা গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে। অনন্ত সিংহ পরে তাঁর বেশ কয়েকটি ছবি প্রযোজনাও করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’, ‘সখের চোর’, ‘নতুন প্রভাত’, ‘শেষ পরিচয়’ ইত্যাদি। এর মধ্যে কয়েকটি ছবিতে শুধুমাত্র অনন্ত সিংহের সম্মানে বিনা পারিশ্রমিকেও কাজ করে দিয়েছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। অনন্ত সিংহ নিজেও অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন ভানুর সম্পর্কে, বলতেন - ‘ছায়াছবির মাধ্যমে সামাজিক দুষ্কর্ম, সরকারের অক্ষমতা ও তথাকথিত নেতাদের প্রবঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর শ্লেষপূর্ণ ও বিদ্রুপাত্মক অভিনয় যাঁরা দেখেছেন তাঁরা বলবেন, ভানুবাবুর অন্তরে দেশপ্রেমের আগুন প্রজ্জ্বলিত আছে।’

'৭০ দশকে অনন্ত সিংহ আগে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ব্যাঙ্ক ডাকাতির কারণে গ্রেপ্তার হন। ১৯৬০ সালে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে ঘটে যাওয়া এক ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনার প্রায় দশ বছর পরে ১৯৭০ সালের ১০ জানুয়ারি গড়িয়া'য় সম্পর্কে তাঁর কাকাবাবুর বাড়ী থেকে গ্রাপ্তার হয়েছিলেন অনন্ত সিংহ ও তাঁর বেশ কিছু অনুগামী। তাঁর মতো বিপ্লবীর এহেন কাজ অনেককেই ব্যথিত করেছিল। সেসময় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এক সাংবাদিক অনন্ত সিংহকে ডাকাত বললে তিনি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে গালাগাল দিয়ে সেই সাংবাদিককে বাড়ী থেকে বের করে দেন। বিপ্লবী অনন্ত সিংহ ডাকাতি কাণ্ডে জেল খেটেছিলেন - এটা ইতিহাস সত্য। কিন্তু কেন তিনি এই কাজ করেছিলেন - তা অনেকেই বোঝার চেষ্টা করেন না। ১৯৫৯ সালে খাদ্য-আন্দোলনে অসংখ্য অসহায় মানুষদের সাহায্যার্থে অনন্ত সিংহ সংগঠন গড়ে দরিদ্র দেশের মানুষের সেবা করার কাজ শুরু করেছিলেন। এই কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজে একপ্রকার নিঃস্ব হয়ে গেছিলেন। তিনি দেখলেন দেশে একদলের কাছে শুধু টাকা আর টাকা, অন্যদিকে একদল প্রায় খেতেই পায়না, অথচ স্বাধীন দেশের সরকার কোনও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্বাধীন দেশেই অসহায় মানুষ শুধু না খেতে পেয়ে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে - এই স্বাধীনতা তাঁরা চাননি বলেই অনন্ত সিংহের মনে হয়েছিল। কিন্তু সময় তখন অনেক দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। নতুন ভাবে সংগঠন তৈরি করে দরিদ্র মানুষের দুঃখ দূর করার সঙ্কল্প নিয়েই তিনি ব্যাঙ্ক ডাকাতির রাস্তায় যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি নিজে সশরীরে সরাসরি ডাকাতিতে যুক্ত ছিলেন না, পরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছিলেন। ইতিহাস যাঁরা জানেন কিন্তু অন্তর দিয়ে বোঝেন না, তাঁরা অনন্ত সিংহের এই কাজের জন্য শ্রদ্ধা জানান না, আজও জানান না। কিন্তু যাঁরা সরকারি তথ্যটুকু না পড়ে আর একটু বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করেন, অন্তর দিয়ে, তাঁরা আগেও সম্মান জানিয়েছেন, আজও জানান। অনন্ত সিংহের নিজের কথায়, 'তবু অপরাধ তো অপরাধই হয়, সে যে জন্যেই হোক, কারণটা কেউই বুঝবে না।' ডাকাতির অপরাধে অনন্ত সিংহ তখন স্বাধীন দেশের আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি। সেইসময় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়ে বাসবী দেবীর বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। মেয়ের বিয়ের খাবারভোজ নিজের হাতে জেলবন্দি অনন্ত সিংহের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় ভানু।

প্রায় আট বছর মামলা চলেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সরকার প্রমাণ করতে পারেনি যে অনন্ত সিংহ ডাকাতি করেছেন। সরকার তাই এই মামলা বন্ধ করে দেয়। ১৯৭৯ সালের ২৫ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন স্বাধীনতার পরেও প্রকৃত সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখা বিপ্লবী রণক্লান্ত অনন্ত সিংহ।
জয় হিন্দ্
-সোমনাথ.সিংহ@s.sinha
তথ্যসূত্র: অনন্ত সিংহের দুটি বই - 'ক্ষণিকের সান্নিধ্য' ও 'কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত'।

আর ২৪ ঘন্টা পর ঈশ্বরের জন্মদিন ♥️
22/01/2020

আর ২৪ ঘন্টা পর ঈশ্বরের জন্মদিন ♥️

🙏 রাসবিহারী বসু🙏আবির্ভাব:২৫শে মে,১৮৮৬তিরোধান: ২১শে জানুয়ারি ১৯৪৫রাজবিহারী বসু ছিলেন ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন...
21/01/2020

🙏 রাসবিহারী বসু🙏
আবির্ভাব:২৫শে মে,১৮৮৬
তিরোধান: ২১শে জানুয়ারি ১৯৪৫
রাজবিহারী বসু ছিলেন ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন বিপ্লবী নেতা এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সংগঠক।
প্রাথমিক জীবন সম্পাদনা।
রাসবিহারী বসুর জন্ম বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান জেলার সুবলদহ গ্রামে। পিতা বিনোদ বিহারী বসু। তিনি ভারতের বাইরে সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। দিল্লিতে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় হার্ডিঞ্জএর এক বোমা হামলার নেতৃত্বে দানের কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। তিনি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা নজর এড়াতে সক্ষম হন এবং ১৯১৫ সালে জাপানি পালিয়ে যান।
তিরোধান দিবস ওনাকে জানাই শতকোটি প্রণাম 🙏🙏🙏

Address

Purbapara, Purbapara
Bagula
741502

Telephone

9775144140

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bagula Purba Para High School posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category