04/08/2026
তিন মাস বা ৯০ দিন— ক্যালেন্ডারের পাতায় সময়টা বড্ড দ্রুত কাটলেও রাজপথের ধর্নামঞ্চে বসে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য যেন প্রতিটি সেকেন্ড একেকটি যুগের সমান।
মে মাসের শুরুতে যখন 'পরিবর্তনের ওপর নতুন পরিবর্তন' এলো, তখন চা-দোকানের রাজনৈতিক পন্ডিত থেকে শুরু করে যোগ্য চাকরিপ্রার্থী— সবার মনেই এক চিলতে প্রত্যাশার আলো ফুটে উঠেছিল। ভাবনাটা ছিল এমন: সরকার বদলেছে, এবার বুঝি রাজপথের তাবুগুলো উঠে গিয়ে এক লহমায় হাতে হাতে চাকরি চলে আসবে!
কিন্তু তিন মাসের মাথায় দাঁড়িয়ে বাস্তবতার চিত্রটা বেশ চমকপ্রদ:
আশ্বাসের নিত্যনতুন পদ: সরকারের তরফ থেকে রোজ নতুন নতুন "পর্যালোচনা বৈঠক", "কমিটি গঠন" আর "আইনি জটিলতা খতিয়ে দেখার" একের পর এক স্বাদালো রেসিপি পরিবেশন করা হচ্ছে। তবে এই রেসিপিতে সব উপাদান থাকলেও শুধু "চাকরি" নামক আসল খাবারটাই নিখোঁজ।
ফাইল চলাচলের অলিম্পিক: সচিবালয়ে নাকি ইদানীং ফাইল চলাচলের গতি গতিশীল। তবে সমস্যা হলো, সেই গতিটা কেবল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘোরার গতি; বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পোর্টালে পৌঁছানোর কোনো নামগন্ধ নেই।
ডিজিটাল বনাম এনালগ ধৈর্য: চাকরিপ্রার্থীরা ভাবেন প্রতি মুহূর্তে ফোনে কখন নোটিফিকেশন আসবে, আর প্রশাসন ব্যস্ত "চিন্তাভাবনা প্রক্রিয়া" কতটা সূক্ষ্ম ও নিখুঁত করা যায় সেই গবেষণায়।
আগের জমানায় উত্তর মিলত "বিষয়টি বিচারাধীন", আর বর্তমান জমানায় মিলছে "আমরা আইনি পথ সুগম করছি"। চেয়ার বদলেছে, কর্তাদের টেবিলের ফুলের টব বদলেছে, এমনকি চা খাওয়ার কাপের ডিজাইনও বদলেছে; বদলায়নি কেবল চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ।
সব মিলিয়ে, তিন মাসের এই যাত্রায় নতুন সরকার প্রমাণ করে দিল যে— "আশ্বাস" দেয়ার শিল্পে রাজনৈতিক দল যা-ই হোক না কেন, প্রশাসনিক কচ্ছপগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সবাই সমান দক্ষ!