14/02/2021
এ যুগে সবচাইতে শক্তিশালী কালী মার মন্ত্র হলো ভবা পাগলা প্রদত্ত কালী মন্ত্র । শ্রী শ্রী ঠাকুর ভবা পাগলা এই মন্ত্র স্বয়ং মা কালীর কাছ থেকে পায়েছিলেন । স্বয়ং মা কালী এসে ওনাকে এই মন্ত্র প্রদান করেছিলেন । এই মন্ত্র এতই পাওয়ারফুল যে একবার জপ করলেই ভুত পালায় । এত পাওয়ার্ফুল মন্ত্র আর খুঁজে পাবে না । আমি যখন খারাপ স্বপ্ন দেখি তখন স্বপ্নের মধ্যে এই মন্ত্রের মাত্র প্রথম দুটি শব্দ মনে করার সাথে সাথে ওই ভুত পালায় । এই মন্ত্র জপ করলে শরীরে খুব শক্তি এবং সাহসের সঞ্চার হয়, পড়াশুনো এবং কাজে খুব মন লাগে । মনে আনন্দ হয় । এই মন্ত্র পেতে আপনাকে আসতে হবে ভবা পাগলার আশ্রমে । ওনার মূল মন্দির তথা বাড়ি হলো কালনা য় । ওখান থেকে মন্ত্র দীক্ষা নিতে পারেন । আর একটি আশ্রম আছে যেটা বাদকুল্লা স্টেশনের 5 কিলোমিটার দূরে বাপুজিনগর নামক জায়গায় অবস্থিত । ভবার পূর্ণ নন্দ আশ্রম । এই আশ্রমের বর্তমান সাধু হলো স্বামী বিজয়া নন্দ গিরি মহারাজ । এই আশ্রমে স্বয়ং ভবা পাগলা বেশ কয়েক বার এসেছিলেন এবং আশ্রমের বাৎসরিক অনুষ্ঠান চলাকালীন উনি অবস্থান করেছিলেন । উনি দয়ার ঠাকুর ছিলেন । পুজোর সময় বেদীতে উনি কুমড়ো, লাউ, শসা রেখে তাই বলি দেওয়াতেন । কোনো পশু বলি দিতেন না । বর্তমান শিষ্য গণ সেই প্রথাই মেনে আসছে । মা কালীর সামনে ত কিছু উৎসর্গ করা উচিত তাই কোনো নিরীহ জীবকে জোর করে বলি না দিয়ে তিনি কুমড়ো, লাউ, শসা, চালকুমড়া ইত্যাদি বলি দেওয়া শিখিয়েছিলেন । সব শিষ্যরা তাই অনুসরণ করে থাকেন । আপনি যদি বাদকুল্লার কাছে বাপুজিনগরে অবস্থিত ভাবাপাগলার আশ্রমে আসতে চান তাহলে আপনি যে দিক থেকেই আসুন না কেন আপনাকে নামতে হবে বদকুল্লা রেলওয়ে স্টেশনে । বাদ কুল্লা স্টেশন শিয়ালদাহ কৃষ্ণনগর লাইনে পরে । আপনি যদি সিয়ালদাহা থেকে লোকাল ট্রেন ধরে আসতে চান তাহলে আপনাকে ধরতে হবে কৃষ্ণনগর লোকাল ট্রেন । শিয়ালদাহা থেকে প্রায় 90 কিলোমিটার দূরে বাদকুলা স্টেশন । 2 ঘণ্টা 45 মিনিট সময় লাগে । প্রথমে রানাঘাট আসবে তারপর কলিনারায়ন পুর, বিরনগর, তাহেরপুর তারপর বাদকুল্য । এখানে নেমে অটো ধরে বা ট্রেকার করে যেতে হবে বাপুজীনগর মোড় । মোড়ে নেমে একটু হেঁটে পৌঁছতে হবে বাপুজিনাগর বাজার । বাজারের কোনায় পীযূষের দর্জির দোকান আছে । পিযুষকে জিজ্ঞেস করতে হবে ভবা পাগলার আশ্রম কোথায় ? ও রাস্তা দেখিয়ে দেবে । একটু হেটে যেতে হবে । গাড়ি থাকলে যাওয়ার রাস্তা আছে । বাপুজিনাগার মোড়ে একটি মিষ্টির দোকান আছে, একটি মুদিখানার দোকান আছে । ওখানে অটো পাওয়া যায় । লাইনের অটো । এই অটো গুলো বাদকুললা থেকে হাসখালি পর্যন্ত চলে । ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় বাপুজীনাগর । মূল আশ্রম প্রথমে চূর্ণী নদীর তীরে অবস্থিত ছিল । এখনো অনেকটা অবশিষ্ট আছে । চূর্ণী নদীর ভাঙনের ফলে কিছুটা দূরে মূল রাস্তার পাশে পাকা মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে । বর্তমান পাকা মন্দির পর্যন্ত চূর্ণী নদীর ভাঙন আসতে আরও একশো বছর লাগবে । বাপূজিনগর উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাজার চূর্ণী নদীর তীরে অবস্থিত আর এই স্থানে চূর্ণী নদীর ভাঙন বেশি হয় । বাপুজিনাগরের স্থাপিত স্বর্গীয় উপেন্দ্রনাথ মিত্রের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং প্রচেষ্টায় এবং সি পি এম সরকারের এম এল এ র চেষ্টায় এই স্থানে চূর্ণী নদী পাথর এবং ইট দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল । প্রথমে নদীর তীর সেলান্ট করে মাটি চেছে ফেলা হয়েছিল । তারপর নদীর তীরে যেখানে জল স্পর্শ করে সেখানে নদীর তীর বরাবর খুব চাওড়া গর্ত করে সেখানে মোটা তারের জাল বেঁধে সেই জালের মধ্যে বড়ো বড়ো পাথর ঢেলে সেই পাথরকে জাল দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে দেওয়া হয় । এই ভাবে পুরো এলাকা কতেক সো লোরি পাথর দিয়ে জালের সাহায্যে নদীর কিনারায় রাখা হয় । তারপর নদীর তীরে যেখানে মাটি সেলাঁট করে কাটা হয়েছিল সেখানে ইটের বুনুনি দিয়ে পাড় বাঁধা হয় । কতেক সারি ইট দেওয়া হয় । মাঝে মাঝে ইট গুলোকে ধরে রাখার জন্য কংক্রিট বাধা দেয়াল বানানো হয় । সবাই খুব খুশি হয় কিন্তু বন্যার সময় সেই ইটের আবরণ ভেঙ্গে মাটির নিচে ডেবে যায় । পাথর সমেত সেই মোটা তারের বেস্তনি মাটির নীচে ডেবে যায় । সরকার আবার সেই ভাঙ্গা জায়গা মেরামত করে দেয় । কিন্তু ভাঙন চলতেই থাকে । ভাঙন আর ঠেকানো যাচ্ছে না । ওখানকার স্থানীয় লোকের দাবি যদি নদীর পাড় পুরো কংক্রিট করে বেঁধে দেওয়া হতো তাহলে নদীর তীর আর ভাঙতো না কিন্তু সরকার এই একটি স্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে এত খরচ কেনো করবে । প্রথমে এই জায়গা বেধেছিল সি পি এম বিধায়ক কিন্তু ওখানকার স্থানীয় লোক অধিকাংশ সি পি এম বিরোধী । বাপূজীনগর উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাজার একদম চূর্ণী নদীর তীরে অবস্থিত । পূর্বের ভাঙনে অনেক দোকান এবং জায়গা চূর্ণী নদীর গর্ভে চলে গেছে । তৎকালীন সি পি এম বিধায়াক সুকুমার মণ্ডল মহাশয় বাপুজিনগরের মরলদের মানে মাতব্বরদের বলেছিলেন যে আপনারা টাকা নিন এবং অনেক দূরে ফাকা জমি কিনে সেখানে নতুন করে ইস্কুল বানিয়ে নিন তাহলে ভাঙনের ভয় থাকবে না কিন্তু বৈশ্য কাপালি গোষ্ঠীর মাতব্বররা ওই নদীর ভাঙন ছাড়তে কিছুতেই রাজি হয় নি । নদীর অনেক দূরে, 1 কিলোমিটার বা 2 কিলোমিটার দূরে একটা ডীপ টিউব ওয়েল আছে । সেখানে প্রচুর ফাকা জমি । ওই জায়গায় জমি কিনে যদি ওখানে নতুন করে ইস্কুল এবং টিচার্স কোয়ার্টার এবং হোস্টেল বানানো হয় তাহলে চূর্ণী নদীর ভাঙন ওই পর্যন্ত কোনোদিন যেতে পারবে না । এই ডীপ টিউব ওয়েল জীবানন্দ সরকারের বাড়ির দিকে । জীবানন্দ সরকারি গরুর ডাক্তার ।
এই এলাকায় কয়েক বছর পর পর বন্যা হয় । চূর্ণী নদীর জল ধারণ ক্ষমতা নেই, তাই দুকূল ছাপিয়ে বন্যা হয় । বন্যার জল প্রায় একমাস থাকে, তারপর আবার নতুন ছন্দে জীবন চলে । এখানকার জমিগুলো খুব উর্বর । এত ধান, পাট, সরষে, ছোলা, মুসুরী, মুগ হয় যে এমনটি আর কোথাও হয় না । লোকে বাড়ীতে আম গাছ, পিয়ারা গাছ, লেবু গাছ, পেঁপে গাছ, নারিকেল গাছ, কাঠাল গাছ লাগিয়েছে । অনেকে বাঁশ গাছ লাগিয়েছে । বাঁশ বিক্রি করে অনেক টাকা জমা হয় । অনেকে কুল গাছ লাগায়, অনেক কুল হয়, তাল, বেল, সাজনের ডাটা গাছ আছে । অনেকে জমিতে আখ চাষ করে । সেই আখে কি সুন্দর মিষ্টি রস । একবার অধীর তাদের ক্ষেতের আখ আমাকে খাইয়েছিল । সেই আখ কি সুন্দর মিষ্টি আখ ছিল আমি আজও ভুলিনি । পেঁয়ারা গাছে কি সুন্দর পিয়াড়া হয়, কি সুন্দর ডাসা পেআরা । আম গাছের ছায়া কি সুন্দর শীতল ঠন্ডা । কত আম হয় । কি মিষ্টি আম, কি সুন্দর গন্ধ ।