28/03/2026
দক্ষিণ চাতরা উচ্চ বিদ্যালয়ের আর্তি — এক চুপচাপ সংকটের গল্প
আজ আমরা, দক্ষিণ এটার উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবার, এক অদ্ভুত অসহায়তার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রতিদিনের মতোই সকাল হয়, বাচ্চারা স্কুলে আসে—কেউ বই নিয়ে, কেউ স্বপ্ন নিয়ে, আর অনেকেই আসে শুধু একবেলা পেট ভরে খাবারের আশায়। সেই আশার নাম—মিড ডে মিল।
সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের বিদ্যালয়ে ছয়টি গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে, যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে এই রান্নার কাজ চালিয়ে যেতে পারি। কিন্তু গত এক মাস ধরে একে একে সেই সিলিন্ডারগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন একটু একটু করে কমে যাচ্ছে আমাদের ভরসা, আমাদের নিশ্চিন্ততা।
আমরা বারবার গ্যাস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কখনো ফোনে, কখনো সরাসরি গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে বুকিং করার চেষ্টা করেছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি, তবুও আমাদের বুকিং নেওয়া হয়নি। কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই, কোনো সমাধান নেই—শুধু অপেক্ষা, আর হতাশা।
এখন আমরা এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে শেষ গ্যাস সিলিন্ডারটিও যে কোনো মুহূর্তে ফুরিয়ে যেতে পারে। আর সেই সঙ্গে থমকে যেতে পারে আমাদের মিড ডে মিলের রান্না। থমকে যেতে পারে শত শত শিশুর একবেলার নিশ্চিন্ত খাবার।
সরকারি স্তরে বারবার বলা হচ্ছে—গ্যাসের কোনো সংকট নেই, সময়মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কেন একটি বিদ্যালয়, যেখানে প্রতিদিন শিশুদের জন্য খাবার রান্না হয়, সেখানে গ্যাসের এমন অভাব? কেন আমাদের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের আর্তি কেউ শুনছে না?
আমাদের বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র আছে, যারা বাড়ি থেকে খুব সামান্য খেয়ে আসে। তাদের কাছে এই মিড ডে মিল শুধু একটি খাবার নয়, এটি তাদের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই একবেলা ভাতই তাদের শক্তি, তাদের হাসি, তাদের পড়াশোনার প্রেরণা।
আজ আমরা কোনো অভিযোগ করতে চাই না, শুধু আমাদের অসহায়তার কথাটা জানাতে চাই। আমরা চাই না কোনো শিশু খালি পেটে ক্লাস করুক, আমরা চাই না তাদের স্বপ্ন থেমে যাক একটি গ্যাস সিলিন্ডারের অভাবে।
এই নীরব সংকটের কথা আমরা তুলে ধরলাম—হয়তো কোথাও কেউ শুনবেন, হয়তো কোনো দরজা খুলবে, হয়তো আবার রান্নাঘরের আগুন জ্বলবে আগের মতোই।
আমাদের আর্তি—শুধু একটু সহায়তা, একটু মানবিকতা।