খোলা চোখ

খোলা চোখ অশোক বেরা

থুবড়ি    - অশোক বেরামাত্তামশাই ও মাত্তামশাই, আপনি বললেন--রামায়ণ রচনা করেছেন আল হাদিস। কিন্তু বাড়িতে বাবা রামায়ণের গল্প ব...
26/09/2025

থুবড়ি
- অশোক বেরা

মাত্তামশাই ও মাত্তামশাই, আপনি বললেন--রামায়ণ রচনা করেছেন আল হাদিস। কিন্তু বাড়িতে বাবা রামায়ণের গল্প বলতে বলতে তো বলল- রামায়ণ লিখেছেন বাল্মিকী। মাস্টারমশাই বললেন বইটার লেখকের নাম তুমি নিজে দেখেছো? হ্যাঁ মাত্তামশাই নিজে দেখেছি। ও থুবড়ি খুবড়ি, তুমি ঠিকই বলেছো। তবে বলব কি তিনি ছিলেন একজন ঠাঁয়াড়ে ডাকাত। তাছাড়া গোটা রামায়ণ কাহিনীটা ছিল কাল্পনিক। রাম সীতা অন্যান্য চরিত্র পৃথিবীতে জন্মগ্রহণই করেননি। কারও না কারোর স্বার্থে এসব চরিত্র গল্প করার জন্য তৈরী করা হয়েছে। জানেন মাত্তামশাই আমার ঠাকুমার মাটির এক ভাঁড়ে মরচে ধরা সিঁদুর মাখানো তিন-চারটে বড় পয়সা দেখেছি। ঠাকুমা বলতো-- এই দ্যাখ, এতে রাম সীতা সিংহাসনে বসে আর হনুমানটা হাঁটু গেড়ে বসে প্রণাম করছে। ঠাকুমা আরো বলতো এইসব রাম রাজত্বের পয়সা। দেখছিস না এই যুগেও তো সব কয়েনে এমনটাই চলছে। মাস্টারমশাই বললেন সবই কাল্পনিক। ওসব তৈরীও করা যায়।

অষ্টম শ্রেণীতে পড়া এক ছাত্র বলে বসল মাস্টারমশাই, তাহলে এখনের যে পয়সায় গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, নেতাজি সুভাষ, আম্বেদকরের ছবি কয়েনে যেটা আমরা এখনো দেখছি, এখন থেকে ১ থেকে ২ হাজার বছর পর তাহলে তখনের মানুষ কি আপনার মত বলবে এইসব কাল্পনিক? এইসব মানুষ পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণই করেনি? কিন্তু স্যার আমি বলিকি আমি না দেখলেও আমার বাবা দাদুর বয়স্করা সবাই ঐ মানুষদের দেখেছে এটা তো সত্য। মাস্টারমশাই শুনে বললেন তোমার দাদু যখন দেখেছেন তোমাদের বলেছেন তাহলে থুবড়ি থুবড়ি ভুলটা হচ্ছে আমারই।

যা দেবী আমি ভূতেষু মিথ্যা রুপেন সংস্কৃতা, নমতস্মৈ নমতস্মৈ নমতস্মৈ নমঃ নমঃ। পাশেই বসে গৃহকর্তা শুনে ব্রাহ্মণকে বললেন ও ঠাকুর মশাই, চণ্ডীপাঠটা ভুল করে পাঠ করছেন কেন। এতো সবটাই অমঙ্গলের লক্ষণ। আমি আপনাকে আনলাম গৃহস্থের মঙ্গলের জন্য, আপনি কিনা আমি ভূতেষু মিথ্যা রুপেন এইসব পাঠ করছেন। হবে তো সর্ব্বভূতেষু শক্তি রূপেন। হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই বলেছ বাবা। থুবড়ি-- থুবড়ি। ভুলটা হয়েছে তো আমারই। দ্যাখনা বয়সতো হয়েছে।

মার্কসবাদ লেলিনবাদ সর্ব্বহারার মতবাদ। এই শ্লোগানের রাজপথ উত্তাল। এক ভদ্রলোক স্লোগানধারী নেতাকে বললেন মার্কস বাদ লেলিন বাদ এইসব না হয় যুগের তালে বাদই দিলাম। কিন্তু সর্ব্বহারার মতটাকেও বাদ দিলেন? মার্কস লেলিনকে আমি সম্মান করি। সবাইকে যদি বাদই দিলেন আপনারা তাহলে কাকে ধরে রাখতে চাইছেন বলুন তো? সম্বিৎ ফিরে পেয়ে হাসতে হাসতে বললেন থুবড়ি থুবড়ি। অন্য আর এক ভাবনায় ডুবে থেকে আরে ভুলটা হচ্ছেতো আমারই।

গ্রাম্য হাটের পূর্ব দিকে রাস্তার এক কর্নারে মাথায় ঝাঁকরা চুলে ভরা আলুথালু অচেনা এক ব্যক্তি পথচারীকে বলল আচ্ছা ভাই, চা দোকানটা কোথায় বলতে পারেন? পথচারী বলল সোজা এই রাস্তাটায় গিয়ে হাটের মেন রাস্তা পাবেন। এই রাস্তায় কয়েক পা এগিয়ে ডান দিকে তাকালে দেখবেন সাইনবোর্ডে লিখা সরকারের চা দোকান। আবার দোকানের সামনে রাস্তার উল্টো দিকেই দেখবেন একই লোকের সরকার হোটেল। লোকটা ভাবল মন্দ নয় তো। সরকারি পরিষেবার এতো তুলনা হয় না। সাবাস সরকার সাবাস চা দোকানে উঠে লোকটা পাউরুটি কেক দামী বিস্কুট এমন কতো কি খেল। গল্পদারদের সঙ্গে গল্পেও মাতল। তারপর ভিড়ের মধ্যে লোকটা দোকানদারকে পয়সা না দিয়ে পান চিবুতে চিবুতে কখন আবার হাওয়াও হোল।

বেলা তখন সাড়ে বারোটা। লোকটা ঢুকলো সরকার হোটেলে। সিটে বসে হলদে ইউনিফর্ম পরা হোটেল কর্মীকে অর্ডার করল ফুল প্লেট ভাত ও মটন। পোস্ত বড়া ভাপা ইলিশ থাকলে দিন। হ্যাঁ, আমের কাসুন্দি অবশ্যই দিবেন। খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে রুমালে হাত মুছতে মুছতে সরকারী হোটেল হলে যা হওয়ার কথা সরকার চা দোকানের মতোই হল এবং লোকটা রাস্তায় বেরিয়েও পড়ল।

হোটেল কর্মী হাঁক দিল-ওদাদা, খাওয়া সেরে পয়সা না দিয়ে চলে যাচ্ছেন? লোকটা বলল সরকারি হোটেলে পয়সা দেব কেন? ঐ তো সামনে সরকার চা দোকানে কতো কি খেয়ে বেরিয়ে এলাম। কেউ তো পয়সা চায়নি। যাক, এসব ছাড়ুন। আপনি ফাঁকি দিয়েছেন। এখন দুটি দোকানের বিল দিন আড়াইশো টাকা। অন্যথায় পুলিশে জানাবো। উত্তরে লোকটি বলল পদবী যে সরকার হয় এটা জানতাম না। থুবড়ি-থুবড়ি, সত্যিই তো ভুলটা হচ্ছে আমারই।

বয়স্ক গ্রামকর্তা খেয়ে হাত মুছে মৌরি চিবুতে চিবুতে বললো ওহে সরকার, সবই তো শুনলাম। আজকাল বিবেক বোধেরও যা হাল হয়েছে তাতে করে তোমাদের দুটি দোকানেরই সাইনবোর্ডকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক যা হচ্ছে এবং আরো হবে এতো পিলে চমকে দিবার মত অবস্থা দেখছি। তবে বলি তোমাদের দুটি দোকানেরই সাইনবোর্ডটা পাল্টে একটু এদিক ওদিক করা যায় কিনা একটু ভেবোতো?

মাইরি বলছি -----অশোক বেরারাত তখন বারোটা। দরজায় ধাক্কা দিয়ে কে যেন বলল -- হরিদাসবাবু আছেন ? দরজা খুলে বললাম হ্যাঁ আছি, ...
24/07/2025

মাইরি বলছি ---
--অশোক বেরা
রাত তখন বারোটা। দরজায় ধাক্কা দিয়ে কে যেন বলল -- হরিদাসবাবু আছেন ? দরজা খুলে বললাম হ্যাঁ আছি, আমিই হরিদাস পাল। রাইফেলধারী পুলিশদের মধ্যে একজন বললেন -- ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট। হরিদাস বাবু বললেন -- কি সব বলছেন বুঝলাম না। মাইরি বলছি স্যার, অভাবের তাড়নায় ইস্‌কুলে যাইনি। যা বলবেন বাংলায় বলুন। পুলিশ মশাই শোনালেন আপনি একজন অপরাধী। তাই গ্রেফতার করলাম। আপনাকে থানায় যেতে হবে। উঠুন আমাদের গাড়িতে।

গভীর রাত। এক কনস্টেবল থানার লোকআপ থেকে পৃথক একটা ঘরে নিয়ে গিয়ে চড়া মেজাজে বললেন -- নদীবাঁধ নির্মাণে আপনি লোকজন নিয়ে সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের ওপর চড়াও হয়ে অপমান করে এবং মাটিকাটার যন্ত্রাংশে আগুন লাগিয়েছেন কেন? উত্তরে হরিদাসবাবু বললেন -- মাইরি বলছি স্যার, বিষয়টা ছোটখাটো নয়। তবে নেতৃত্ব না দিয়ে হাজার হাজার কন্ঠের সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়েছি মাত্র। যা হয়েছে বাঁধভাঙ্গা বন্যার জলের তান্ডব লীলায় সর্বশ্রান্ত হওয়া মানুষের প্রতিবাদ, বলা যায় গণবিক্ষোভ। ভরা বর্ষায় একটা শক্তপোক্ত ব্রিজের উপর দিয়ে নদীটা তো পার হলেন, কিন্তু পুলিশ হয়ে আপনাদের মনেও কি প্রশ্ন জাগলো না - বন্যার মরশুমে নদীবরাবর এমন ব্রিজ তো থাকার কথা নয় ?

বেলা ১০টা। থানা থেকে স্পেশাল গাড়ী হরিদাস বাবুকে নিয়ে চলল আদালতের কক্ষে। সরকারি এক কর্মকর্তা বললেন – হরিদাসবাবু, আপনার আইনজীবী কোথায়? হরিদাস বাবু বললেন - অর্থাভাবে আমি উকিল দিতে পারিনি, তবে উকিলবাবুর কাজটা আমি সামলে নেব। ঘটনা যা এতো সাদা প্রশ্নের সাদা উত্তর।

আদালতের কাজকর্ম তখন শুরু। সরকারি আইনজীবী প্রশ্ন করলেন - অভয়াশ্বর নদীর ভাঙ্গা বাঁধ নির্মাণে দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারদের ওপর নোংরামি করে যন্ত্রাংশে আগুন লাগালেন কেন? এইসব করে আপনি অপরাধ করেছেন এটা স্বীকার করুন। বিচারকদের দিকে চেয়ে করজোড়ে হরিদাস বাবু বললেন - মাইরি বলছি হুজুর, আমি আদালতের আইন কানুন কিছুই জানিনি। আমি গরীব নিরক্ষর। স্বামী-স্ত্রীর কঠিন পরিশ্রমে তৈরি হওয়া বসবাসের ঘর টুকুও বাঁধভাঙ্গা জলের তান্ডবে কোথায় তলিয়ে গেছে জানিনি। তবে হুজুর যাবতীয় ঘটনার সত্যিটা গুছিয়ে বলতে আমাকে একটু বেশি সময় দিন।

আদালত অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করলে হরিদাসবাবু বিচারকের দিকে চেয়ে করজোড়ে বললেন - মাইরি বলছি হুজুর, বিতর্কের বিষয়টা হল হাজার হাজার, বলা যায় লক্ষ মানুষের চরম সর্বনাশটা হচ্ছে। বর্ষা মরশুমে প্রতি বছর নদী বরাবর একটা পরিকল্পনাহীন ব্রিজ এবং তাল মিলিয়ে ভাঙ্গা বাঁধ নির্মাণ এই নিয়ে সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের হাজার কণ্ঠে বলেছিলাম - যে কাজের জন্য জলের চাপে দুদিকের সরকারি নদীবাঁধ প্রতি বছর ৩-৪ জায়গায় যেভাবে ভাঙছে তার সমাধান আগে, নাকি ক্ষয়ক্ষতি না দেখে পালা করে প্রতিবছর বছর বাঁধ বাঁধা চলতেই থাকবে সেই কাজটা আগে ।

হুজুর, শুনুন তবে বলি - মহাকাশ জেলার, চন্দ্রপুর থানার মধ্যে প্রবাহিত অভয়াশ্বর নদী। নদীর দুই পাড়ে দুটি গ্রাম - একটি পাড়ে মরালদীঘি গ্রাম, ও অন্য পাড়ে কারাপুর গ্রাম। মাঝে যেহেতু নদী সেহেতু বর্ষায় নদী পারাপারের জন্য ছিল দীর্ঘদিনের নৌকা ঘাট। বর্ষা শেষে হলে যাতায়াতের সুবিধার জন্য তৈরি হতো অস্থায়ী বাঁশের ব্রিজ। কিন্তু হুজুর, আমরা বেশ কিছু বছর লক্ষ্য করছি বাঁশের ব্রিজের পরিবর্তে লোহার মোটা পাইপ আনুমানিক ৫-৬ ফুট অন্তর গোটা নদীতে মেসিন দিয়ে পুঁতে, মোটা শক্তপোক্ত কাঠের পাটাকে লোহার পাত দিয়ে এঁটে ১৫-২০ ফুট উচ্চতা রেখে ব্রিজটা এমন ভাবে তৈরি হয়েছে যেখানে বন্যার জলের ভয়ঙ্কর তান্ডব তো বটেই, এমনকি কয়েকলক্ষ কিউসেক জলের তান্ডবেও ব্রীজটা অক্ষতই থাকছে। হুজুর, বড় সমস্যাটি হল - ব্রিজের ঘন খুঁটিতে বন্যার জলে ভেসে আসা ছোট বড় গাছ বিশাল আগাছা আটক হয়ে নদীর মূল জলস্রোতকে আটকে ঐস্থানে জলটাকে প্রায় ৫-৬ ফুট উপরের দিকে ফুলিয়ে তুলছে, এরই ফলস্বরূপ দু দিকের নদী বাঁধ ৩-৪ জায়গায় ভেঙে মানুষের চরম সর্বনাশ করছে। হুজুর, বন্যার সময় উক্ত ব্রিজটা আর ব্রিজ থাকে না। হয়ে ওঠে নদী বরাবর যেন আস্ত একটা বোরোবাঁধ। সুতরাং বিশাল জল আটক হয়ে ক্ষতি যা হবার সেটা তো হচ্ছেই।


হুজুর, আমারা বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজন চাইছি - এই খেয়াঘাটে এই প্লানহীন ব্রিজ না হয়ে সরকারি উদ্যোগে এবং প্ল্যানে তৈরি হোক পাকা ব্রিজ। সেটা সিঙ্গেল ওয়ে কিংবা ডবল ওয়ে এমন কিছু একটা হোক। হুজুর, আপনিও স্বশরীরে যদি এলাকাটা পরিদর্শন করেন তাহলে জনসমাগম দেখে আপনিও বলে বসবেন -গণপারাপার যা দেখছি সরকারি পাকা ব্রীজেরই প্রয়োজন। কিন্তু কখনোই মানুষের সর্বনাশ করে প্ল্যানহীন এই ব্রিজ নয় । হুজুর, আপনাকে আরো জানাই ব্রিজ সংলগ্ন একটি টালিভাটা তাদের ধাস ফেলে নদীকে একটা খালের রূপ দিয়েছে। আরও জানাই - প্লানহীন কাজের জন্য যাবতীয় বৃত্তান্ত গণস্বাক্ষর আকারে রাজ্য কর্তা এবং বিভাগীয় কর্তাদের জানানো হয়েছে।

হুজুর, উভয় পক্ষের সমস্ত বক্তব্য শুনে আপনার রায়ে আমি মুক্ত হলাম ঠিকই, কিন্তু ঘর-বাড়ি কৃষি পরিবহন এমন অসংখ্য চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিস্তীর্ণ এলাকার অসংখ্য মানুষজনের পক্ষ হইতে আপনার কাছে আমার সানুনয় প্রার্থনা - মরালদীঘি এবং কারাপুর খেয়া ঘাটের কর্মকাণ্ডটা নিয়ে গঠন করা হোক একটা তদন্ত কমিটি । তদন্ত শেষে কমিটির সদস্যরা যা-যা রিপোর্ট আপনাকে দিবেন এবং সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে রায়টাও আপনি যা দেবেন, আমরা বিস্তৃত এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাইরি বলছি হুজুর, সেই রায় আমরা মেনে নেব।

পুলিশ ফাইলে পুলিশ                                  -অশোক বেরাপেশায় শিক্ষক ছিলেন হীরেনবাবু। সম্প্রতি প্রায় এক বছর হোল প্র...
03/04/2025

পুলিশ ফাইলে পুলিশ
-অশোক বেরা

পেশায় শিক্ষক ছিলেন হীরেনবাবু। সম্প্রতি প্রায় এক বছর হোল প্রাইমারী শিক্ষকের চাকরি থেকে রিটায়ার্ড হয়েছেন। এক ছেলে দুই মেয়ের সংসারে হীরেনবাবু বেশ ক্লান্তই। জমিজমা কমই। বেশী বয়সে চাকরি পাওয়াটাই তাঁর শেষ সম্বল। প্রগতিশীল মানুষ তিনি। সমস্ত রকম অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা ওনার চিরকালের স্বভাব। এই তো সেদিন পনপ্রথার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে গনসচেতনতা বাড়িয়েছেন। আবার নিরবও হয়েছেন। কেননা সবটাই যেন দেখছেন আইনের ফাঁক। দুই মেয়ের বিবাহের ক্ষেত্রে প্রভিডেন্ট ফান্ডের জমানো টাকাটাই একটা বড় ভরসা।

বড় মেয়ের বিবাহের তারিখ ঠিক হয়েছে। হীরেনবাবু গিয়েছেন নিজেরই মহকুমা শহর হরিশপুর ব্যাঙ্কে। ব্যাঙ্কে টাকা তুলে দীর্ঘদিনের প্রানের বন্ধু অসীমবাবুর বাড়ীও যাবেন। দেখা করবেন, একেবারে নিমন্ত্রনটাও সেরে আসবেন। শহর থেকে মাইল পাঁচেক দূরে বাড়ী অসীমবাবুর। কথায় কথায়। বন্ধু বাড়ী থেকে উঠতে দেরীও হয়েছে। সন্ধ্যা প্রায় ছটায় মহকুমা শহরে তিনি পৌছালেন। ওখান থেকে প্রায় দশমাইল দক্ষিনে হীরেনবাবুর বাড়ী। তারপর আবার বাস থেকে নেমে পনেরো মিনিটের হাঁটা পথ। শহরে একটা বাস দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তা অবরোধ থাকায় বাড়ী যাবার শেষ সম্বল লাস্ট গাড়ীটাও ফেল করতে 'চলেছেন। শহরে কোন বন্ধু বান্ধবও নেই। মেয়ের বিয়ের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে নব্বই হাজার টাকাটা সঙ্গে থাকায় বেশ অস্থির করে তুলেছে হীরেনবাবুকে। বন্ধুবাড়ীও আর ফিরে যেতে পারছেন না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশী দুঃচিন্তায় পড়ছেন। থাকবেনই বা কোথায়। বিচক্ষন হীরেনবাবু শেষমেষ সিদ্ধান্ত নিলেন শহরের পুলিশ স্টেশনে গিয়ে ও. সি.-র শরনাপন্ন হবেন। যাবতীয় টাকাটা ও. সির মারফত থানায় জমা দিয়ে রিসিভ কপি নিয়ে রাত্রিটুকুমাত্র থানায় কাটাবেন।

রাত্রি প্রায় ১০টা। থানায় ঢুকলেন হীরেনবাবু। যেমনিভাবনা, কাজও হোল তেমনি। ওসি পরিমলবাবু নব্বইহাজার টাকা জমা নিয়ে রিসিভ কপি তৎক্ষনাৎ দিলেন হীরেনবাবুকে। এবং বললেন আপনার সৌভাগ্য এজন্য যে আমাদের থানার কন্সস্টেবল নীহারবাবু দেশের বাড়ীতে গিয়েছেন। ওনার আজকে আসার কথা। এতরাতে যখন উনি আসেননি তাহলে আপনি বরং ওনার রুমটায় রাতটা কাটিয়ে দিন। রাতে এত টাকা পয়সা নিয়ে যাবেনই বা কোথায়। এত টাকার নিরাপত্তাই বা কে দিবে। রাতের খাওয়াটা হীরেনবাবু হোটেলেই সেরেছেন। সুতরাং চিন্তার আর কিছু নাই। এবার তো কাজ শুধু সকালে ওসি পরিমলবাবুর কাছে টাকা বুঝে নিয়ে বাড়ী যাওয়া।

রাত ১১টা। শীতের রাতে ক্লান্ত শরীরে শুয়ে পড়েছেন হীরেনবাবু ওসির নির্দেশীত রুমেই। হ্যাঁ তিনি এই রুমেই তো ঘুমাবেন। অন্যথায় যাবেনই বা কোথায়। থানার থেকে নিরাপদ আশ্রয় আর কোথায়ই বা হতে পারে। থাকার রুমটা বেশ নির্জন। খাটিয়ার উপর কম্পল সহ হালকা বিছানাপত্র। বেশ ছিমছামও। সারা দিনের চলাফেরা, তার উপর বিভিন্ন টেনসানের ক্লান্তিতে তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন। হঠাৎ ওসি পরিমলবাবু দরজার সামনে গিয়ে কড়াটা নেড়ে বললেন সব ঠিকঠাক আছে তো? চোখ ঘসতে ঘসতে খাটিয়ায় বসলেন হীরেনবাবু। হাল্কা উত্তর হ্যাঁ স্যার, বলে আবার শুয়ে পড়লেন। ঘুম আসাই স্বাভাবিক। কিন্তু আবার মিনিট পনেরো পর পরিমলবাবুকে আবার ডেকে খোঁজখবরে বলছেন রাত্রিটা তাহলে এখানেই কাটাচ্ছেন? সচেতন হীরেনবাবু ওসির বারবার খোঁজখবরের আসল উদ্দেশ্যটা বের করতে এতটুকু দেরী করেননি। সাদা পোষাকে একা ওসি যে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছেন সেটা জানলায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাবেই দেখলেন হীরেনবাবু। নিশ্চিত কিছু একটা যে ঘটতে যাচ্ছে এই ধারনায় তিনি দেরী না করে আন্ডারপ্যান্ট পরা অবস্থাতেই টাকার রিসিভ কপিটা নিয়ে কোয়াটারের সামনেই থাকা রাবার গাছটায় বিপদ এড়াতে কোন রকমে উঠে পড়লেন।

রাত সাড়ে এগারোটা। ছুটিতে থাকা থানারই কন্সস্টেবল নীহার বাবু দেশের বাড়ী থেকে সেই মাত্র এলেন নিজের কোয়াটারে। নিজের কোয়াটারে নিজের বেডে তিনি তো থাকবেনই। এতে কিছু ভাবনারই বা কি আছে। অফিস ইনচার্জ পরিমলবাবুর সঙ্গে দেখাও যখন করেননি, তাহলে রাতের অতিথির থাকার বিষয়টা জানবেনই বা কেমন করে। যথারীতি শীতের রাতে নাক পর্যন্ত কম্বল ঢাকা দিয়ে ঘুমিয়েই পড়েছেন নীহার বাবু।

রাত ১টা। দুই সঙ্গীকে নিয়ে ওসি পরিমলবাবু এলেন নীহারবাবুর কোয়াটারের সামনে। কিসের যেন একটা হাত নেড়ে শলাপরামর্শ। তারপর ঘরে ঢোকা এবং মুহুর্তেই গোঁয়ানির একটা কুৎসিত চিৎকারের পরেই নিস্তব্ধতা। অন্ধকারের কাজ সারতে হবে অন্ধকারেই। তাই বিন্দুমাত্র বিলম্বও নেই। রাবার গাছটার গোড়ায় খোঁড়া হোল এক গভীর গর্ব। ডেডবডি ফেলা হোল তার মধ্যে। চাপাও দেওয়া হোল পাশের মাটির সঙ্গে মিল রেখেই। আর কিসের চিন্তা পরিমালবাবুর। নব্বইহাজার টাকাতো এখন আমার। সাগরেদের জন্য হয়তো হাজার দুয়েক যাবে। তা যাক জগৎটাই তো টাকার।

ভোর চারটে। তখনও যেন সারা শহরটা ঘুমিয়ে আছে। দূরপাল্লার গাড়ী ধরার যাত্রীদের চা-এর জন্য হয়তো খুলেছে দু-একটা চা দোকান। পরিস্থিতি সবদিক দেখেশুনে গাছ থেকে দ্রুত নেমে হীরেনবাবু দৌড়ে চলে গিয়েছেন রাস্তারই একটি চা দোকানে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় ঘর্মাক্ত হীরেনবাবু চা দোকান থেকেই ঠিকানা নিয়ে চলে গিয়েছেন পৌর প্রধানের বাড়ী। কারন তিনি স্বয়ং যে কালা ঘটনার দর্শক। পৌরপ্রধানকে সাক্ষী রেখেই এবার তিনি আসল কাজটা সারবেন।

সকাল ৬টা। পৌরপ্রধানকে সঙ্গে নিয়ে থানায় চলে গেছেন হীরেনবাবু। থানার পরিবেশটা কেমন যেন থমথমই লাগছিল। হ্যাঁ ঐ তো পরিমলবাবু। নিজের স্পেশাল চেয়ারেই বসে আছেন। চোখে মুখে হাবভাবের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন নাই। পরিবর্তন হবেই বা কেন। ওনারা ঐ পরিবর্তনের মধ্যেই তো খুনী, চোর ধরেন। কাল বিলম্ব আর না করে হীরেনবাবু নব্বই হাজার টাকার রিসিভ কপিটা ওসি পরিমলবাবুর সামনে দেখিয়ে বললেন-স্যার, আমার জমা রাখা টাকাটা এবার দিন।

কে আপনি? কিসের রিসিভ? হকচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে উঠেছেন হরীশপুরের থানার ওসি পরিমলবাবু। স্বপ্ন দেখছেন না তো? রুমালে চোখ মুছে চশমাটা পরে জেরক্স কপিটা না দেখে এবার আসল রিসিভ কাগজটা চাইলেন। পৌর প্রধানের সামনে কাগজটা লোপাটও করতে পারছেন না। মানসিক উদ্‌ভ্রান্ত হয়ে এঘর সেঘরে আরম্ভ করলেন পায়চারী। কখনও বলে ফেলছেন আপনি যে হীরেনবাবু তার প্রমান কি? কখনও বলছেন রিসিভটা কে দিল আপনাকে? কিন্তু অন্ধকারের নায়কদের এরকমই যে হয় পরিমলবাবু! শুধু আইনের শাসন বই পড়ে সমাজ রক্ষক হওয়া যায় না। বা সামাজিক পূর্ণতা আসে না। "অর্থ অনর্থের মূল" "যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে ফেলিবে নীচে", এই সব নীতি বোধের বইগুলির উপর নজর দেওয়ার সময়, যে জরুরী হয়ে পরিমলবাবু!-

থানায় ক্রমশ জনসমাগম বাড়ছে। এবার আসল রহস্যটা প্রত্যক্ষদর্শী হীরেনবাবু পৌরপ্রধানকে অবগত করালেন। মুহুর্তেই এস. পি. র সাহায্য চাইলেন পৌরপ্রধান মহাশয়। থানা চত্বর তখন জেলা পুলিশে ছয়লাপ। গর্তের মাটি সরাতে বেরিয়ে এল এক ক্ষত বিক্ষত যুবকের ডেডবডি। বডিটা যে এই থানারই কন্সস্টেবল নীহারবাবুর এটা চিনতে কারও দেরী হোল না। এস. পি. সমস্ত বৃত্তান্তটা তৎক্ষনাৎ বুঝেও নিয়েছেন। অর্ডার দিয়ে দিলেন হরীশপুর থানার ওসি পরিমলবিশ্বাস আণ্ডার অ্যারেষ্ট। সমস্ত ঘটনায় এস. পি. বিস্মৃত স্তম্ভিত। নববই হাজার টাকার মালিক হীরেনবাবুকে তাঁর টাকা ফেরত দিলেন এবং তার সচেতনতা সাহাসিকতার জন্য ধন্যবাদ জানালেন। কন্সটেবল নীহারবাবুর মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত। তাঁর পরিবারে সমবেদনা জানালেন। এস. পি. থানা চত্ত্বর থেকে চলে গেলেও সাহসী বিচক্ষন হীরেনবাবু জিন্দাবাদ। এস. পি. সাহেব গৌর প্রধান জিন্দাবাদ, নীহার বাবু অমর রহে, পরিমলবাবুর সমগোত্রীয় ওসিরা নিপাত যাক। হরীশপুরের আকাশ বাতাসে জনতার মিছিলের এই স্লোগান তখনও কিন্তু হাল্কা হয়নি।

ভাইরাসঅশোক বেরাসম্ভবত সালটা ২০১৯-২০২০। ব্যাধি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল বেশ কয়েকটি দেশ। জাতীয় অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে বি...
15/02/2025

ভাইরাস

অশোক বেরা

সম্ভবত সালটা ২০১৯-২০২০। ব্যাধি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল বেশ কয়েকটি দেশ। জাতীয় অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে বিরাট অংকের প্রানহানির সংখ্যাটাও কম নয়। অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রীতিমতো টেরও পেয়েছে মানুষ। একটি ভাইরাসে একটি রোগ এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভাইরাস এলই বা কোথা থেকে। উৎপত্তি নিয়ে তোলপাড়ও হয়েছিল। চায়না গবেষণাগারের নামটি সামনে এলেও প্রমানা ভাবে বিতর্কও অনেক।

এতো না হয় গেল মারণব্যাধি করোনা এবং তার ভাইরাস নিয়ে দু-চার কথা। কিন্তু বর্তমানে মহাদেশে তথা সারা পৃথিবীতে অন্য আর এক অজানা ভাইরাস শুধু বছর নয়, প্রতিনিয়তই উৎপাত করে মানসিক যন্ত্রণা দিচ্ছে। টেনশন বাড়িয়ে আরো রোগ সৃষ্টি করছে, এই ভাইরাসটার নাম কি,
কে কারাই বা বহনকারী, এইসব খবর টবর রাখছি কি? কি জানি কি মানসিকতায় এক চা দোকানে এক চাপিপাসু প্রসঙ্গক্রমে বলেই-ফেললেন বিষাক্ত এই ভাইরাস তৈরি হচ্ছে কিছু কিছু শিক্ষায়তনে। ফুলের মত শিশুমনে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে এই ভাইরাস। আবার এটাও সত্য-যে যারা শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক, তাঁরাও কিছু কেমন এই ভাইরাসে আগে থেকেই আক্রান্ত। এই প্রসঙ্গে আর এক চাপিপাসু বললেন--
আত্মহত্যাকারী মন যদি একটা রোগ হয়, তাহলে এমন কোন একটা ভাইরাসে রোগগ্রস্ত একটা মানুষ অনেক আত্মহত্যাকারী মন সংক্রামিত করতে কি পারে না? সুতরাং সময় এসেছে সংকীর্ণবাদীদের রোগটা কি তা নির্ণয়ের। অজানা ভাইরাসে আক্রান্তই বা কে কারা। আসছেই বা কোথা থেকে।

গ্রামের স্কুলে প্রাইজ রেখে প্রশ্ন-উত্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল এক সভা। সঞ্চালকের-নির্দেশ মতো একজন প্রশ্ন করলেন-জাতির জনক কে? উত্তর দাতা বললেন-মহাত্মা গান্ধী। উপস্থিত সকলে বললেন-ঠিক-ঠিক। এর পরের প্রশ্ন-ব্যাংক রাষ্ট্রীয়করণ কোন প্রধানমন্ত্রী করেন? উত্তর এলো ইন্দিরা গান্ধী। এক বাক্যে সবাই বললেন-রাইট রাইট। আবার কেউ কেউ বললেন-উত্তর দাতার নামটা লিখে রাখো পরে দেখা যাবে। এর পরের প্রশ্ন ভারতীয় বিজ্ঞানাগার ইসরোর কোন বিজ্ঞানী পোখরানে পরমাণু পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়েছিলেন? উত্তর দাতা বললেন-এ.পি.জে আব্দুল কালাম। সবাই হৈ-হৈ সহকারে আওয়াজ তুলল-সাবাস-সাবাস-সাবাস। এর পরের প্রশ্ন-কালামকে কোন প্রধানমন্ত্রী উক্ত পরীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছিলেন? উত্তর দাতা বললেন-অটল বিহারী বাজপেয়ী। সঠিক উত্তরে এই নামটা বলা মাত্রই বেশ কিছু লোক হইহই করে চিৎকার করে বলে উঠল-উশালাকে নামা, ধর-ধর মার-মার, ওশালা নিশ্চয়ই আমাদের বিরোধী পার্টি করে। চিৎকার চেঁচামেচিতে সভাটাই পন্ড হোল এবং পরদিন উত্তরদাতা মার খেয়ে আহত হয়ে হসপিটালে ভর্তিও হোল।

প্রশ্ন হোল-ধর শালাকে মার-মার মনের মনিকোঠায় তৈরি হওয়া এই আওয়াজ এবং মানুষটিকে মার দিয়ে যে কষ্ট দেয়া হোল এই ইচ্ছা শক্তিটা কি একটা রোগ? যদি ইচ্ছা রোগই হয় তাহলে সেই ভাইরাসের নামই বা কি। উৎপত্তিই বা কোথা থেকে এবং কোন্ পক্রিয়ায়। এই ইচ্ছারোগ ভাইরাসের বাহকই কে বা কারা।

পারিবারিক হিংসা সমাজ রাষ্ট্র এমনকি সারা পৃথিবী এই ইচ্ছারোগে আক্রান্ত হয়ে মহামারী করোনার মত রোগ প্রাণ কাড়ছে অসংখ্য মানুষের। এই রোগগ্রস্থরা চিৎকার করে বলছে- দখল ছিল, দখল চাই। তার জন্য চাই মগজ ধোলাই, অস্ত্র চালনা শিক্ষা, কুটিল ফন্দি এবং মারপিটের প্র্যাকটিস। তবেই তো হবে এসব স-ব হবে আমার দখলে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান শিক্ষা, এইসব উচ্ছ্বন্নে যাক, চাই শুধু দখল আর ভোগ। এই ইচ্ছারোগ নিয়েই চলছে বিশ্ব সমাজ এবং বিশ্ব রাজনীতি।

সারা পৃথিবীতে যত ধর্মমত আছে, ঠিক ততই ধর্মাবতার অর্থাৎ ধর্মের মূল কর্তাও আছেন। আমরা বিলক্ষণ মানি-- প্রত্যেকেরই আসল বাণী-- সত্যকে সহজ করে মেনে নিয়ে সুখশান্তি বিবেক বা মানবতাবোধকে সমৃদ্ধ করে বেঁচে থাকা। মানুষটা প্রকৃত একটা মানুষ কি করে হবে, সেই বাণী পরামর্শ আমাদের দিয়েছেন। কিন্তু ধর্মাবতারদের অনুগত কিছু ধর্মঅনুরাগী ধর্মগুরু সেজে তাদের স্ব স্ব সম্প্রদায়ের বৃদ্ধির জন্য যা করছেন এবং বলছেন সেটা তো অন্যায় বা মানবতা বিরোধী। নিজের ধর্মাবতারের কথার নিজেই বিরোধী হওয়াটা কি একটা রোগ? যদি তাই হয় তাহলে রোগ সারাতে ঔষধের ল্যাবটারীই বা কোথায়। ভ্যাকসিনই বা কি।

সময় এসেছে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে এর ধর্মরোগের এই ভাইরাসটা নিয়ে বিশেষ একটা সমীক্ষার। সম্মেলনে একটি কমিটি করে দেখা হোক কে কারা ধর্মাবতারদের আসল বাণী উপদেশ বিকৃত করে অশিক্ষা কুশিক্ষা ছড়িয়ে সারা মানবজাতিকে হিংসায় উন্মত্ত করেছেন। ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না তথাকথিত এমন বিদ্বানদের বোঝা উচিত, ধর্ম মূল্যবোধযুক্ত একটা মানুষ তৈরি করে। তাদের এটাও বুঝা উচিৎ, ধর্ম খারাপ নয় খারাপ হয়েছে ধার্মিক। যা কিছুর লক্ষ্য পূরণে অমানুষ থাকলে হবেটা কি। তাই যে যারা ধর্মের অপব্যবহার করছেন তাদের বিশ্বধর্ম সম্মেলনে তাদের বয়কটের ব্যবস্থা থাকুক। বিশ্ববাসীকেও মনে করতে হবে প্রাণত্ব+বিবেক=যে মানুষ, এই জ্ঞান লাভে যারা অক্ষম, বিষাক্ত ভাইরাসটা ছড়াচ্ছে তারাই। অশিক্ষিত গোবেট বোকাদের আসল ধর্ম শিক্ষা না দিয়ে আমি হলাম তোমাদের পরিত্রাতা, এই মানসিকতা সমূলে বিনাশ করতে হবে। আমার জাতি বর্ণ সম্প্রদায়ের মানুষ কর্তৃত্ব করে ভালো থাকবে অন্যেরা খারাপ থাকবে এই ভাবনাতেও সেই একই ভাইরাস। মানব জাতির পক্ষে যা চরম ক্ষতিকর। এই ভাইরাস আক্রান্ত ধার্মিকদের চাই সামাজিক নৈতিক শিক্ষা। সেই সঙ্গে চাই আত্মসমালোচনা মূল্যবোধ। আর এই শিক্ষাটাই হবে ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ নিরাময়ের বিজ্ঞানসম্মত ভ্যাকসিন এবং মনোরোগ তথা শরীর রোগে সুস্থ থেকে মুক্তমণ তৈরীর ক্ষেত্রে উপযুক্ত মহৌষধ।

দেবলোকে ধর্মাবতারঅশোক বেরাধর্মাবতার তখন দেবরাজ ইন্দ্রের দরবারে। ধর্মাবতারকে দেখে দেবরাজ ইন্দ্র বলে উঠলেন-নমস্তে ধর্মরাজ।...
05/02/2025

দেবলোকে ধর্মাবতার

অশোক বেরা

ধর্মাবতার তখন দেবরাজ ইন্দ্রের দরবারে। ধর্মাবতারকে দেখে দেবরাজ ইন্দ্র বলে উঠলেন-নমস্তে ধর্মরাজ। বেশ কিছুদিন আপনার অপেক্ষায় ছিলাম। মাঝেমধ্যেই মর্তের দেবদেবীরা আসেন এবং অভাব অভিযোগ সমস্যা কিছু থাকলে বলেন ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। ওনাদের কাছেই শুনলাম মর্তে নাকি ধর্মকর্ম নিয়ে অশান্তি চলছে। এবং এক ধর্মের লোকজন অন্য ধর্মের মানুষদের ওপর অত্যাচার অনাচার চালাচ্ছে। আর এই নিয়ে সুযোগ সন্ধানীদের তর্কবিতর্ক দীর্ঘ হচ্ছে। এইসব শুনে দেবরাজ বললেন-আমি আপনাকে বলি কি- এসবে যারা মত্ত, আর যাই হোক তারা কোন ধর্মের ধার্মিক নন। সমস্ত ধর্মের মূল কথা বিবেক মনুষ্যত্ববোধ। এর বাইরে কোন পন্ডিত, ব্রাহ্মণ, মৌলবী, ইমাম, এবং ফাদাররা যদি যে যার মতো করে সাজিয়ে বানিয়ে ভক্তদের ধর্ম বোঝান তাহলে সে তো হবে মুক্তাঞ্চল। এমন কি সমাজে নেমে আসতে পারে মাৎস্যন্যায়।

যাক ধর্মাবতার, এসেছেন যখন এ নিয়ে পরে কথা হবে। এখন বলুন মর্তবাসি আপনারা সবাই মিলে ভাল আছেন তো? আমার হেড করনিকের দপ্তরে মর্ত থেকে রোজ রোজ মেসেজ আসছে, উত্তর দেবার সময় পায়না। এই দেখুন না স্বর্গলোকের বাগান কর্মীরাও মিছিল করে বলছে আমাদের দাবি মানতে হবে মানতে হবে। আমি বললাম তোমাদের অভাব বলেতো কিছুই নেই তাহলে। ওরা শোনালো ম্যাগি, চাওমিন, এগরোল, বিরিয়ানি সুফ এসব খেতে পাচ্ছি না, তারপর এসি রুমের অনুভূতিও পাচ্ছিনা। ফ্রিজের জল খাবার এসবও নেই। তাহলে প্রভু এবার বলুন উত্তরে দেবরাজ বলেন একটা মানুষের প্রয়োজনের বাইরে যা কিছু পাওয়া অর্থাৎ অতিরিক্তটা সবটাই ক্ষতিকারক। এই জন্য তো সর্বশক্তিমানরা বলেন আমি যা করি তা তোমরা করোনা। করার জন্য যা বলি সেটা করো।

এইসব থাক ধর্মাবতার। মর্তের অভাব অভিযোগ শুনতে গিয়ে আমিই তো বেশি কথা বলে ফেললাম। এবার বলুন মর্তধামের অন্যান্য খবর-টবর কি। ধর্মাবতার বললেন মানুষের উৎপাত উপদ্রব হিংসা এত বাড়ছে যে মর্তে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমি আশ্চর্য হচ্ছি মহল্লার রক্ষাকার্তারাও প্রজাদের হাতে মার খাচ্ছে। যেন রাজা হয়েছে সবাই। কেউ কাউকে মানতে চাইছে না। বিভাগীয় কর্মকর্তারাই হয়েছে বদঅভ্যাসে আসক্ত। অসৎ পথে অর্থ উপার্জনের যেন প্রতিযোগিতা চলছে। শ্রদ্ধা ভক্তি বিশ্বাস উবে যাচ্ছে প্রভু। শুনলে আপনিও হয়তো কষ্ট পাবেন কথাটা হলো- একটা সময়ে মানুষ পাপী হয়ে পড়ার ভয়ে মিথ্যা কথা বলতে ভয় পেতো, আর এখন খুন হয়ে যাওয়ার ভয়ে মানুষ সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছে।

এই তো সেদিন অর্থমন্ত্রী লক্ষী দেবী মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছেন- ধর্মাবতার-মর্তধামে থাকতে ইচ্ছে করছে না। সত্যি বলতে কি মর্তবাসীরা অনেকেই জানেন আমি একটু কোলাহল থেকে বেরিয়ে নিরব থাকতে ভালবাসি। কিন্তু সব জেনেও আমার পূজায় এখন দেখছি ঝাঁজ কাশি ও অত্যাধুনিক কর্কশবাদ্যি বাজিয়ে আমার পূজা করছে। যে কারণে মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি। কর্কশ বাজনার আওয়াজ আমার পরম ভক্তরা প্রতিবাদ করলে এটাও দেখছি আর এক শ্রেণীর ভক্ত তাদের ভয় দেখিয়ে মারধরের হুমকি দিচ্ছে। হুমকি শুনে তাদের পিলে পর্যন্ত চমকে যাচ্ছে। পূজায় আমাকে নিয়ে ভক্তরা বিকট আওয়াজ তুলে আনন্দ করে বটে, আমি কিন্তু প্যান্ডেল ছেড়ে নারদ আশ্রমে পালিয়ে যাই।
প্রভু, আপনাকে আরো জানাই মর্ত্তধামে সমাজ সংসারে যত অশান্তি বাড়ছে তত বেশি মহাপ্রভু ধর্মঠাকুরের চাহিদা বাড়ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মহাপ্রভুর সঙ্গে আমার সহাবস্থান হয়েই চলেছে। অশান্তির ঘটনা কটাই বা শোনাবো আপনাকে। ছেলে বাবা মাকে মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া, স্বামী-স্ত্রীর গোলমালে মারপিট বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে এমন অসংখ্য ঘটনায় তথাকথিত কিছু বিদ্বজন বাস্তুতে দোষ লেগেছে বললেই মহাপ্রভুকে বাস্তুতে এনে নাম সংকীর্তনের আসর ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এমনই চলছে এক একটি পরিবারের তিন চার বার পর্যন্ত। রোজ রোজ এই যাওয়া আসায় আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ছি প্রভু। তাই প্রভু, আমি আপনার কাছে একটি বর চাইছি। দেবরাজ বললেন কি বর চাইছেন বলুন? ধর্মাবতার বললেন- মাটি কাঠ এবং পাথরের মূর্তি মুখ খুলে কথা বলতে পারবে এমন একটা বর দিন। পুষ্পাঞ্জলীর সময় তাহলে বলবো- ওহে সংসার সমাজ কর্তারা শুনুন, সংসার সমাজকে শান্তিময় করতে এবং ভালো থাকতে তোমরা উপযুক্ত অভিভাবক হয়ে পরিবার পরিবেশটা তৈরি করে মুক্তমন অর্থাৎ পবিত্র মন প্রত্যেকে তৈরি করো। তাহলেই তোমরা প্রত্যেকে ভাল থাকবে।

এই মর্তধামে কয়জন মহাপুরুষ বলব প্রভু। এই ধরুন বুদ্ধদেব শ্রীরামকৃষ্ণ হজরত মহম্মদ যীশুখ্রীষ্ট এমন অনেকেই এসেছেন মানুষকে মানুষ করার জন্য। তাঁরা যে যার মত করে ধর্মসভা করেছেন প্রবচন দিয়েছেন। আমিও তাই করি প্রভু। কিন্তু প্রভু, কাম ক্রোধ লোভ ঔদ্ধত্যটাকে কিছুতেই তেমন বসে আনতে পারছি না। আপনার পরামর্শ মত আমি ভক্তদের বলি-যা কিছুর মূল কারণ প্রয়োজনের বেশি অর্থ এবং অসৎ পথে আসা সম্পদ। এই সব ভক্তদের কাছে ব্যাখ্যা করলে আর একশ্রেণীর ভক্তরা কি বলে জানেন প্রভু, তারা বলে অত নীতি জ্ঞান বুঝাতে এসো না। আমি ভগবানকেও কিনতে পারি।

হ্যাঁ প্রভু, আমি তো ভুলেই যাচ্ছিলাম। আপনার কাছে আসছি দেখে মা বিপত্তারিণী আবার শোনালো-ধর্মাবতার, আপনি দেবলোকে ইন্দ্রের কাছে যাচ্ছেন? দেবরাজকে একটু বলবেন তো মর্ত ধামে হামেশাই কিছু না কিছুতে সরকারি ছুটি ঘোষণা হচ্ছে এবং হয়েই চলেছে। বাকি আছে শুধু বিপত্তারিনীর বারের ছুটিটা। আমার অসংখ্য ভক্ত প্রায়শই বলছে এই পালনির ছুটিটা বাকি থাকবে কেন?

ধর্মাবতার, আমার দরবারে তাহলে আপনি একটু বিশ্রাম নিন। যুদ্ধ নয় শান্তি চাই এই বলে অনেকে সাদা পায়রা ওড়াচ্ছে বটে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় মর্তবাসীর আবেদনক্রমে একটা মিটিং ডেকেছি। ওখানেই এখন যাচ্ছি আমি। আপনি ধর্মরাজ, আপনাকে পরামর্শ দিবই বা কি। মর্তবাসীর কাছে আমারই বক্তব্য আপনার মুখ দিয়ে যেসব ব্যক্ত হয়েছে এতে আমি খুশি সন্তুষ্ট। তবে বিশেষ কিছু কথা আপনি বলতে না পারলেও, মর্তবাসি সবার কাছে মেসেজ পাঠিয়ে আমি জানাবো-সর্বশক্তিমানকে উপেক্ষা করে নিজের মতো করে তৈরি ইচ্ছা শক্তি দিয়ে কোন কিছু করতে যেও না। পবিত্র মন তৈরি করো। পবিত্র মনই তো ঈশ্বর। আরো জানবে তোমরা যাই করো না কেন, ধর্মের কল কিন্তু একটা সময় বাতাসে নড়বেই।

নিয়ন্ত্রনহীন স্বাধীনতা ও কিছু ভাবনা- অশোক বেরাবলি- ও ভজহরি, কেমন আছিসরে। কেমন আর থাকবো বল, সবতো দেখচিস্। বয়স হয়েছে, শরীর...
02/01/2025

নিয়ন্ত্রনহীন স্বাধীনতা ও কিছু ভাবনা

- অশোক বেরা

বলি- ও ভজহরি, কেমন আছিসরে। কেমন আর থাকবো বল, সবতো দেখচিস্। বয়স হয়েছে, শরীরে আজ এটা কাল ওটা লেগেই আছে। সময় কাটছে না। বড়ছেলে দ্যাখনা একটা টিভি কিনে দিল। সেও যেন বিরক্ত। সিরিয়াল দেখি, সংসারের কুটিলদের ক্যাচক্যাচানি, তাই নিয়ে মারামারি, কাটালালে বমমারা, আবার খবর-টপর যে দেখি সেখানেও শুধু মারামারি খুনোখুনি। দূর-দূর এসব যেন বিরক্ত। আবার দ্যাখ- কামারশালায় হাপর টেনে গরম লাল লোহা হাম্বার দিয়ে পিটে পিটে কাঠারি কুড়োল কান্তে তৈরী যেন কখনও দেখিনি। দ্যাখনা, সেটাও এখন টিভিতে আদর করে দেখাচ্ছে। তাহলে দেখবোটা কি তুইই বল।

কিছুটা সমবয়সী পাড়ার হরকালী শোনাল-হ্যারাভজা, কাঠারি কুড়োল তৈরী এসব কবে দেখালোরে। নিজে দেখে বলচিস্ নাকি লোকের কথায় বলচিস্। ভজহরি বলল তুই যে কি বলিস-আরে-আরে টিভিতে নিজে দেখছি- হাম্বারের মতো কিছু একটা দিয়ে কিছু একটাকে গায়ের জোরে ঘা মারছে তো শুধু মারছেই। তার যেন বিরাম নাই। লাল লোহার মতনইতো দেখলাম। তাহলে দেখার কি আছে বল। হরকালি উত্তরে ভজহরিকে বলল- তোর চোখ কান দুটোই দেখছি গোল্লায় গেছে। ওরে ভজা, এ ভারী কিছু দিয়ে আঘাত মারাটা কামারশালের লাল লোহাতে নয়রে। সর্বশক্তি দিয়ে ঐ ঘা-টা দিচ্ছে একটা রক্ত মাংসের মানুষকে। আর লাল যেটা বলচিস ওটা জামা কাপড়ের ছোট্ট একটা অংশ হতেও পারে। সে যাই হোক, হরো তুই বলচিস্টা কি তুই কি পাগল? এমন্ত্র নির্মম হিংস্র নিষ্ঠুর মানুষ হতে পারে? এটা বিশ্বাস করা যায়।

হরকালি বলল- দ্যাখ ভজা, বিজ্ঞান প্রযুক্তি এগিয়ে আরও কতকিছু এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই শিক্ষিত যুগে একশ্রেণীর মানুষ মনের পরিবেশহীনতায় এমন হয়ে যাচ্ছে যারা মহামানব মহাপুরুষ সাধু ঋষিদের বানী-টানী তো মানেই না, এমনকি সম্মানও দেয় না। শুধু টাকার নেশায় মত্ত। সেই সঙ্গে হিংস্রও হয়ে উঠছে। কর্তার ইচ্ছায় এরা সবকিছু করতে পারে। ওরে ভজা বলচিস্ লোহা পিটছে-কিন্তু তুই কি শুনতে পাসনিস্-পুরোশক্তি দিয়ে আঘাতটার সঙ্গে মানুষটা বাঁচার জন্য আর্ত চিৎকার করছে?

দ্যাখ হরো, তুই লেখাপড়াটা জানিস। কিছু খবর টপর রাখিসতাও জানি। তাবলে একটা মানুষ আর একটা মানুষকে লোহাপিটাইয়ের মতো মারবে এটা কোথাও শুনেচিস্? বুঝলি ভজা, কাজটা ঘৃণার এসব ঠিকই। কিন্তু এই সবকিছুর অভাবটা হোল পরিবারের মধ্যে মনন পরিবেশ তৈরীর। দোষটা কম-বেশী আমাদের সবার। জাতির জনক মহাত্মাগান্ধী আমাদের মনে করিয়েছেন -"নীতিহীন রাজনীতি, কর্মহীণ সম্পদ ও বিবেকহীন সুখ এর থেকে মহাপাপ পৃথিবীতে আর নাই"। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব বলছেন "অর্থ অনর্থের মূল"। তুই-ই বল এসব কথার গুরুত্ব কেউ কি দিচ্ছে? এযেন নিয়ন্ত্রনহীন স্বাধীনতায় আমরা মুক্ত বিহঙ্গ।

ও ভজা, এই যে পরিবার পরিবেশের কথা বলছিলাম, সেরকমই একটা ঘটনা পাড়াতেই ঘটল সেটা কেমন দ্যাখ- ঘোষবাবুর ছেলে নায়েকবাবুর সখের আমবাগানে আমচুরি যে করেছে নায়েকবাবু হাতে নাতে ধরে ঘোষবাবুর কাছে এনে বলছেন- এই দেখুন আপনার ছেলে আমচুরি করেছে। ঘোষবাবুর পাশেই দাঁড়ানো ছেলেকে অন্যায় কাজের জন্য বকাবকি কিংবা একটা থাপ্পড় দিবে এসব বাদ দিয়ে উত্তেজিত হয়ে ঘোষবাবু বলে উঠলেন দেখুন নায়েকবাবু আপনার ছেলে দাসেদের বাগানে কাঁঠাল চুরি করেনে? এবার বুঝে দ্যাখ ভজা, কে কেমন মানুষ হবে তার কারখানাটা কোথায়। টিভিতেও দেখবি একই লাইন। সেদেশে হয়েছে তো এদেশেও করতে হবে। সুতরাং সমাজ বিরোধীরা হাততালি তো দিবেই। সত্যিই ভজা, কি বিচিত্র।

সত্যি একটা ঘটনা বলি তবে শোন ভজা। চা দোকানে পাঁচজনের আসরে ধর্ম কর্ম আধ্যাত্মিকবাদের আলোচনা যেমন হয়, তেমনই চলছিল। আমি শুধু বললাম শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলেছেন "পয়সা থাকুক পকেটে, সে যেন কখনও মাথায় না উঠে"। ঠাকুরের বলা কথাটাই বললাম। কিন্তু আমি দোকান ছাড়তেই একজন কি বলল জানিস ভজা? বলল উশালার কথা বাদ দে তো। লোকটা গাড়ী বাড়ি করতে পারেনি বলেই বকবক করছে। তাহলে বল ভজা, কামারশালে লোহা পিটার মতো মানুষ পিটার মাজে ছবি দেখাটা কি স্বাভাবিক নয়?

আর কত রঙ্গ দেখবি বল ভজা। একযুগ চিৎকার চেঁচামেচি করে মিটিং মিছিল করলো মুক্তিবাদী একটা দল। মানুষের আশাও ছিল বৈষম্য দূর করে মানুষ মুক্তি পাবে। কিন্তু এদের বক্তৃতা শুনলে মনে হবে ওরা বুঝি গোটা এশিয়া ইউরোপ সুশৃঙ্খলভাবে শাসন করছে। কিন্তু বাস্তবে দ্যাখ, যুবসমাজের চরম ক্ষতিকর যে মদ, একযুগ কর্তাত্তি করেও একটা থানার মদের ভাঁটি ভেঙে মদটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারলোনি। আরও ভাবায় এক বিচারপতিকে বলছে ওহে জর্জ, খুব হয়েছে এবার এখান থেকে পালা-পালা। দিন অতীত হোল। আর এখন বিচারপতির দরজায় এজলাসে কি দেখচিস্ ভজা? ভজহরি উত্তরে শোনাল - আমি আশাহত। এসব দেখে শুনে আমার কি মনে হচ্ছে জানিস হরো ওরা যেন দেশের ভাল কাজটা নিজেরাও করতে পারবে না, আবার অন্য কাউকে করতেও দিবে না। ঠিক যেমন সুষম খাবারটা আমি নিজেও খেতে পারবো না, তো অন্য কাউকে খেতেও দিব না। আরও ওদের বলি রাজ্য সমাজ পরিচালনার জেরক্স ফাইলটা অন্য কাউকে না দিতেই তো পারতেন।

ওরে হরো, ওসব বাদ দে তো। আমি ইস্কুল যাইনি জানিস। তবু তোকে দুকথা বলি শোন- সাপুড়ে সাপ নিয়ে খেলায় এবং সেই সাপই সাপুড়েকে ছোবল মারে। এখন এই যে খেলা খেলা সবাই বলছে, আমিও বলছি। এমন কেউ তো বলছে না খেলাটা কি। সাপ নিয়ে যদি হয় তাহলে সেই সাপুড়েদের বল্ তুমি সাপকে কি পোষ মানিয়েছো জানিনি। তবে জান ভালো সুপার-সুপার পোষমানা সাপ এদেশের কর্ণধারকে সামনা-সামনি ছোবল বসিয়ে মেরে ফেলেছে। টিভির পর্দায় ঐ যে একশ্রেণীর শিক্ষিতরা অপরাধীদের কাছেই বলছেন- এসব আমেরিকা ইংল্যান্ডে হয়নি? সময় এসেছে, যদি পারিস ঐ বক্তাদের বল-নিজের সন্তান সন্ততি তো বটেই গোটা মানবজাতীর মূল্য বোধকে ক্ষনিকের সুখভোগের জন্য আপনারা ধ্বংস করে ফেলছেন। আপনারা এসব বন্ধ করুন। খেলতে হবে ঠিকই, কিন্তু যে খেলায় মনুষ্যত্ব বিবেক তথা মূল্যবোধ জেগে উঠবে সেই খেলা খেলুন। নিয়ন্ত্রনহীন স্বাধীনতার মুক্তাঞ্চলে খেয়ে পরে বেঁচে থেকে ক্ষনিকের আনন্দ ভোগটা জীবন নয়। আশ্রমের এক সাধু বলতেন "বাবা মায়েরা, তোমরা কোনকিছুতে ফেঁসে যেও না। কোনকিছুতে ফেঁসে না যাওয়াটা হোল জীবনের একটা আর্ট"

যখন আমরা শিক্ষক- অশোক বেরাব্যর্থতা কি আমাদের শিক্ষকের কাজ করে? এ নিয়ে আলোচনাটা জমেছিল বেশ। কি রাষ্ট্রে কি রাজ্যে কোন প্র...
02/11/2024

যখন আমরা শিক্ষক
- অশোক বেরা

ব্যর্থতা কি আমাদের শিক্ষকের কাজ করে? এ নিয়ে আলোচনাটা জমেছিল বেশ। কি রাষ্ট্রে কি রাজ্যে কোন প্রতিষ্ঠানে প্রায়শই আমরা বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিষ্ঠান বিরোধী রাষ্ট্র বিরোধী ব্যর্থতার আওয়াজ পাই মানুষেরই মিছিলে মিটিংয়ে। একটা রাষ্ট্রে একটা রাজ্যে একটা কর্ণধার ভাবতে পারেন অনেক, প্রতিশ্রুতিও দিতে পারেন অনেক। কিন্তু মনের চাহিদামত সবকিছুর রূপায়ণ কি সম্ভব? না হলে সমালোচনা হয়। কিন্তু আমরা আবার যারা সমালোচক, আমরা প্রত্যেক বস্তুর দাম জানি। কিন্তু কোন বস্তুর মূল্য জানি না। আর এটা সম্ভবত হয় আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই না বলেই। ইতিহাস বলে মূল্যবোধহীন চেতনাহীনদের পরিচালনায় দেশ প্রদেশ সমাজ সংস্কার কখনই তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। সমস্যা বিড়ম্বনা আসবেই।

একদল মানুষ বলেন পৃথিবীতে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন স্বভাব আচার আচরণ সবটাই চালিত হয় একটা জেনেটিক নিয়মে। এ প্রক্রিয়া আদি অনন্ত। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবকিছু একই নিয়মে শিক্ষালাভ করছি একসঙ্গে সবাই। কিন্তু এই জিন্ এমন কিছু ঘটিয়ে বসে যা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি বা বংশানুক্রমিক ধারাবাহিকতার একটা প্রতিফলন মাত্র। ব্যতিক্রম যদি কিছু থাকে সেটা প্রশ্নাতীত। সুতরাং শিক্ষা থাকলেও জেনেটিক নিয়মে যা ঘটার তাই ঘটবে এবং যা হওয়ার তাই হবে।

আর একদল বলেন- মানুষের স্বভাব আচরণ চরিত্র গঠনের দায় রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যদি দুর্বল হয় পরিচালনায় অক্ষমতা থাকে সেটাই তার ব্যর্থতা। রাষ্ট্রই মানুষের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক কালচারকে বিপথগামী করছে। এসব কিছুরই নিয়ন্ত্রণ না থাকারই পরিণাম এই অসৌজন্যতা, হিংস্রতা, সম্মানহীনতা এমন অনেক কিছুই।

সফলতা বিফলতা নিয়ে তর্কাতর্কি যাই-ই থাকুক না কেন আমরা কিন্তু আমাদের ব্যর্থতা, সেটা সরকারের হোক, প্রতিষ্ঠানের হোক এবং নিজের হোক আমরা অনেকাংশে স্বীকার করি না। কেবলই আত্মপক্ষ সমর্থন এটা হয়েছে আমাদের অভ্যাস। কোন কিছুর সত্যকে স্বীকার না করার মধ্যে কাজ করে অন্য আর এক মানসিকতা। নীতিহীনতা আদর্শহীনতা এসব আমাদের কারও কাম্য নয়। কিন্তু পারিপার্শ্বিক নানান প্রক্রিয়ায় এই অশুভ শক্তিগুলি মনে জায়গা দখল করে। যাবতীয় সব কিছুর ভালর জন্য মঙ্গলের জন্য মনের সুপ্রতিক্রিয়ার প্রকাশ না ঘটাতে পারাটাই আমাদের এক বড় ব্যর্থতা। আমরা কিন্তু সুপার সায়েন্সের যুগে এসে অতি বিজ্ঞান মনস্ক হয়ে মানব মনের এই ব্যর্থতাগুলি লঘু করে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি শুধুমাত্র ভোগবিলাসী হওয়ার জন্যই। বিজ্ঞানে অর্থনীতিতে শিক্ষায় এত উন্নত হয়েও মানুষ যে মানুষের জন্য এসব তত্ত্ব হারিয়ে রপ্ত করেছি আমি আমার জন্যই। জানি না আত্মকেন্দ্রিকতার এই ইন্দ্রজালে আর কত সময় আবদ্ধ থেকে কতদিন পর কোন্ সময়ে কোন শিক্ষক মানুষের উদ্দেশ্যে বলবেন- "ওরে মুক্তি, মুক্তি কোথায় পাবি, মুক্তি তো তোর কাছে"। এক মহামানবকেও বলতে শুনেছি- "জগতের সবকিছুর খারাপটাকে যদি তুমি জানতে চিনতে বা অনুভবে আনতে না পারো, তাহলে জগতের সবকিছুর ভালটাকে মঙ্গলটাকে তুমি জানতে বা অনুভবে আনতে পারবে না।" চলতি একটা কথাও আছে- 'যে ঠকে সে শেখে'।

একটা রাষ্ট্রে গণশিক্ষার শিক্ষকের দায়িত্ব থাকে কোন না কোন সংস্থার হাতে। সেই সংস্থা আবার মানুষের জন্য মানুষ দ্বারাই তৈরি। বেশ কিছু চ্যানেল গণশিক্ষার নামে কি দেখাচ্ছেন কি শেখাচ্ছেন, শিশুমনে কি প্রভাব কোথায় কতটা পড়ছে, তরুণ-তরুণীরা গণশিক্ষার কি গ্রহণ করে সামাজিক দায়দায়িত্ব পালনে কতটা সফল, নাকি ব্যতিক্রম কিছু ঘটছে তার মূল্যায়ণ কি মানুষের তৈরি রাষ্ট্রের নয়? পরিবারের সুপরিবেশ রক্ষার্থে আমাদের অনেক কিছুই স্থান কাল পাত্রে গোপন বা আড়াল রাখতে হয়। প্রবাদও আছে- 'বড়দের সব কথায় ছোটদের নাক গলাতে নেই'। কিন্তু আজকের বিজ্ঞান প্রযুক্তি সবটাই আড়াল না করে ঘোমটা না রেখে দূরদৃষ্টি না এনে জনকল্যাণের নামে প্রযুক্তির সবকিছুই সবার কাছে বিলিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তারপর কন্ট্রোল করবেন কে? আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করছি, স্বপ্নকে কল্পনাকে সত্য বাস্তব সব করছি। কিন্তু শতাধিক মানুষের প্রাণে বাঁচার স্বার্থে ফুলকিতুল্য ছোট্ট অংশকে নেভাতে পারছি না, বাসে ট্রামে যুবক দ্বারা লাঞ্ছিত মহিলার পাশে দাঁড়াতে পারছি না এমন অসংখ্য ঘটনা যা অহরহ ঘটে চলেছে আমরা শিক্ষিত হয়ে বা বিভিন্ন তা পেয়েও নিজেকে বাঁচাতে পাশ কাটিয়ে চলে যাই। আমরা যেন সবজান্তার দল সুইচ টিপে জল স্থল অন্তরীক্ষ মহাকাশ সব জেনে ফেলেছি সব বুঝেও ফেলেছি। জানি না দেখি না শুধু নিজেকে। বিজ্ঞান আছে থাকবেও। মানবকল্যাণে. বিশেষ জ্ঞান প্রতি মুহূর্তে চাই। যা অতীতে ছিল আজও আছে। কিন্তু আমি মনে মনে কি ভাবছি কি করছি কি করতে যাচ্ছি শুধুমাত্র সেখানেতেই যেন বিজ্ঞান নেই। আছে শুধু আমি অর্থাৎ আমিত্ব। সুস্থ মন না গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এখানেও আছে আমাদের ব্যর্থতা।

রাজনীতিতে বিরোধীদলে থেকে অনেক কিছুই বলা যায় করাও যায় শাসকদলের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিরোধীদল যখন শাসকদলে আসে লাভটা কিন্তু হয় উভয় দলেরই। কারণ কাজের ভুল কার কোথায় কি এসব জানা এবং কোনকিছুর, ব্যর্থতা থেকে আত্মসমালোচনার সুযোগটা আসে তখনই। সহজ হয় উভয় দলেরই বাস্তবটা জানার।

স্কুলপড়ুয়া পরীক্ষায় ২৯ নম্বর পেয়েছে। পাশ নং ৩০। আমরা অনেকাংশে ২৯ নম্বর পাওয়া ছাত্রটিকে খাটো করে দেখি এবং যোগ্য জায়গায় তার মর্যদাও দিই না। কেননা পাশ করার জায়গাটায় সে ব্যর্থ বলেই। কিন্তু এমন অনেক বাস্তব ঘটনা আছে যেখানে এই ব্যর্থতাই তার জীবনে নামিয়ে এনেছে বিরাট সাফল্য। আমেরিকার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের জীবনে ঘটেছিল এমনই এক ঘটনা। মিঃ লিঙ্কন ২১ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৪৯ বছর বয়স পর্যন্ত পেয়েছেন চরম ব্যর্থতা। রাজনীতি ব্যবসা বাণিজ্য সংসারে সর্বত্রই নেমে এসেছিল শুধুই ব্যর্থতা। যেন ব্যর্থতার একটা ইতিহাস। কিন্তু চর্চা প্রচেষ্টা-আত্মসমালোচনার মধ্যে ডুবে থেকে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আব্রাহাম লিঙ্কন আমেরিকার মত একটা দেশের প্রেসিডেন্ট হলেন ৫২ বছর বয়সে।

ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলতেন- "আমার মনই আমার গুরু"। কিন্তু সে মন কেমন? কেমন করে বা গড়েছিলেন নিজেকে? এসবই বিষদ আলোচনার বিষয়। তবুও অল্প কথায় বলা যায়- তিনি নিজেকে জানতেন। আমরা কিন্তু সুপার সায়েন্সের যুগে এসে নিজেকে জানলাম না এবং অপরকেও জানলাম না। মনই গুরু এত বড় ভাবনা না হয় নাই-ই ভাবলাম। কিন্তু শিক্ষাগুরু দীক্ষাগুরু এদেরই বা সম্মান মর্যাদা দিচ্ছি কোথায়! সারা বিশ্বের মিশন, আশ্রম, মাদ্রাসা, চার্চ নিজস্ব অনুশীলনের মধ্যে রেখে (ষোল আনা নাই হোক) কিছু মানুষকে যদি জাগাতে পারে সেখানে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলি পিছিয়ে থাকার কথা নয়। পশ্চিমী হাওয়ায় চক্কা বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে যা কিছুর আপাত ওটাকেই শুধু গ্রহণ করলাম? চিরস্থায়ীটাকে নয়? আর সে কারণেই হয়তো ঘটেছে আমাদের নৈতিকজ্ঞান লাভে ব্যর্থতা। আমি আমিত্বের যা কিছু জানার ক্ষেত্রে আমার ব্যর্থতা।

মানুষের এত ব্যর্থতা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়তো চলতেই থাকবে। চলতে থাকবে হয়তো মানুষকে নিয়ে অনেক আরও অনেক গান, রোডশো। কিন্তু মানুষ হিসাবে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার, মানুষ ক্রমশ যেন একা হয়ে উঠেছে। ভালবাসা বিশ্বাসের জায়গাটাও সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। আমদের প্রথম কাজ নৈতিক বোধকে জাগানো। স্বীকার করা ভাল ভুল ভ্রান্তি ব্যর্থতা আমাদের আছে। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অনুশোচনা এবং আত্মসমালোচনার জায়গাটা যেদিন বড় করতে পারবো, সেদিন আমরাই হয়ে উঠবো এই সমাজেরই এক একজন আদর্শ শিক্ষক।

Address

Arambagh

Telephone

+919800803925

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when খোলা চোখ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to খোলা চোখ:

Shortcuts

Share