14/08/2025
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে।
আজ ১৫ই আগস্ট। এই দিনটি আমাদের কাছে কেবল একটি উদযাপনের দিন নয়—এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক, আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতিচ্ছবি, এবং লক্ষ লক্ষ ত্যাগের ফল।
আজ থেকে ৭৮ বছর আগে, ১৯৪৭ সালে, দেড় শতাব্দীর শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ভারত অর্জন করেছিল স্বাধীনতা।
ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো এক সম্প্রদায়, এক ভাষা বা এক ধর্মের নয়—এটি সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাস। এখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ—সবাই একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে।
কিন্তু আজ আমি বিশেষভাবে স্মরণ করতে চাই আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের অবদান—যা প্রায়শই অবহেলিত হলেও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। আজকের দিনে স্মরণ করানোর জন্য আমাকে লিখতে হচ্ছে।
ইতিহাস সাক্ষী—
টিপু সুলতান, যিনি বলেছিলেন “আমি একদিন বাঘের মতো বাঁচব, কিন্তু শতদিন শিয়ালের মতো বাঁচব না।” ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়েছিলেন, ১৭৯৯ সালে সুলতানির সিংহাসনে প্রাণ দিয়েছিলেন।
বেগম হযরত মহল, ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধে লখনৌতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সাহসের সামনে শত্রুরা কেঁপে উঠেছিল।
বাহাদুর শাহ জাফর, শেষ মুঘল সম্রাট, যিনি ১৮৫৭-র বিদ্রোহে প্রতীকী নেতৃত্ব দেন, এবং নির্বাসনে মৃত্যুবরণ করেন।
আশফাকউল্লা খান, বিপ্লবী সংগঠন “হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন”-এর সদস্য, যিনি ভগত সিং, রাজগুরুর মতোই ফাঁসির মঞ্চে হেসে হেসে প্রাণ দিয়েছিলেন।
মওলানা আবুল কালাম আজাদ, যিনি বলেছিলেন—“ভারত কোনো এক ধর্মের দেশ নয়; এটি সব ধর্মের মিলিত তীর্থভূমি।” তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শিক্ষা ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তি স্থাপন করেন।
উস্তাদ আলি ইব্রাহিম খান, সৈয়দ আহমদ খান, মির্জা গালিবের মতো চিন্তাবিদরা, যারা সমাজ সংস্কার ও জাতীয় জাগরণের পথ দেখিয়েছিলেন।
আর হাজারো নামহীন মুসলিম শহীদ—যারা কালাপানির অন্ধকার সেলে মৃত্যুবরণ করেছেন, ব্রিটিশদের গুলি খেয়েছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি।
তাঁদের স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ভারত।
একটি ভারত যেখানে মানুষকে তার ধর্ম, জাতি বা ভাষা দিয়ে নয়, তার যোগ্যতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করা হবে।
আজ আমরা দেখি ভারত অগ্রগতির পথে—প্রযুক্তি, শিক্ষা, শিল্প ও কৃষিতে আমাদের সাফল্য রয়েছে।
কিন্তু সত্য হলো—আমাদের সামনে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।
ধর্মীয় মেরুকরণ, সামাজিক বৈষম্য, বেকারত্ব—এসব আমাদের স্বাধীনতার প্রকৃত মানে নষ্ট করে দিতে পারে, যদি আমরা সতর্ক না হই।
স্বাধীনতা শুধু ১৯৪৭ সালে অর্জিত একটি অধিকার নয়—এটি প্রতিদিন রক্ষা করার এক দায়িত্ব।
আসুন, আমরা শপথ নিই—যে ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই ত্যাগকে অপমান করব না।
আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব, বিভেদের দেয়াল ভাঙব, এবং এমন এক ভারত গড়ব—যা হবে শান্তি, ন্যায়, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।
জয় হিন্দ!