"" আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন যে প্রশ্নের উত্তর আপনি আমার কাছে খুঁজছিলেন। আমি ইচ্ছে করলে এর উত্তর এক কথায় বলতে পারতাম। কিন্তু আপনি শুধু শুনে তা উপলব্ধি করতে পারতেন না। এই জগতে আমাদের সবার জীবনই খুবই ছোট। সময় ক্রমশ ফুরিয়ে যায়। কেউ বলতে পারে না কার সময় কখন কোথায় থেমে যাবে।""......
গল্পটি চলছে অনেক বছর ধরে, অনেক আগের। বৌদ্ধদের ধর্মীয় প্রধান বুদ্ধ তখন রাজগৃহে। (Rajgir in Nalonda also known as rajgriho)।একদিন এক আগন্তুক এসে প্রণাম সেরে বুদ্ধকে প্রশ্ন করলেন, প্রভু, অনেক দিনের ইচ্ছে, আপনাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাই, যদি আপনার অনুমতি পাই। বুদ্ধ হেসে বললেন, আপনার যা জানার ইচ্ছে আছে তা বলুন।
আগন্তক বললেন, প্রভু, আপনি সব সময় নম্র ও শান্ত। কখনই ক্ষিপ্ত বা রাগান্বিত হন না। কেউ আপনাকে কটু বাক্য বললেও আপনি শান্ত থাকেন। কেউ আপনাকে অন্যায় ভাবে উত্তক্ত করলেও আপনি তাকে উদার ভাবে ক্ষমা করেন।এই নম্র, শান্ত স্বভাব কি ভাবে আপনি রপ্ত করেছেন প্রভু। যদি অনুগ্রহ করে আমাকে বলেন।
সবটা শুনে বুদ্ধ বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি আগামী সাত দিন পর আপনি মারা যাবেন। অতএব আপনার এই প্রশ্নের উত্তর জানার কোন প্রয়োজন নেই। বরং আপনি আপনার আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধবের সাথে সময় কাটান। বুদ্ধের মুখে এই কথা শুনে আগন্তুক স্তম্ভিত হয়ে গেলেন এবং বিষণ্ণ মনে বুদ্ধকে প্রণাম করে চলে গেলেন। পরের সাত দিন সে খুব নিচু স্বরে ও শান্তভাবে সবার সাথে কথা বললেন এবং নিজের নানা ভুলের কথা মনে করে সবার কাছে বারবার ক্ষমা চেয়ে নিলেন।
সাত দিনের দিন সেই আগন্তুক রাজগৃহে এসে বুদ্ধকে প্রণাম করে বললেন, প্রভু, আজ আমার জীবনের শেষ দিন। আপনার দর্শন আর আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি। বুদ্ধ আগন্তুককের কথা শুনে হাসলেন আর বললেন, গত সাতদিন আপনি সবার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন। আগন্তুক বললেন, ভীষণ শান্ত আর নম্রভাবে আমি সবার সঙ্গে আচরণ করেছি। প্রতি মুহূর্তেই আমি অনুভব করেছি, সময় বড় অল্প। রাগ, ক্রোধ, ক্ষোভ আর অভিমান করে আমার জীবনের এই অবশিষ্ঠ সময়টুকু অপচয় করতে চাই নি।তাই সবার সাথে নম্র আর সাধু আচরণ করেছি।
বুদ্ধ তৎক্ষনাৎ হেসে বললেন আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন যে প্রশ্নের উত্তর আপনি আমার কাছে খুঁজছিলেন। আমি ইচ্ছে করলে এর উত্তর এক কথায় বলতে পারতাম। কিন্তু আপনি শুধু শুনে তা উপলব্ধি করতে পারতেন না। এই জগতে আমাদের সবার জীবনই খুবই ছোট। সময় ক্রমশ ফুরিয়ে যায়। কেউ বলতে পারে না কার সময় কখন কোথায় থেমে যাবে। তাই যতটুকু সময় বেঁচে আছি, ভালোবেসে শান্তিতে জীবন যাপন করতে চাই। আর হ্যাঁ আপনি মারা যাচ্ছেন না এখনই। ছলছল চোখে আগন্তুক বুদ্ধকে বললেন, ধন্য তুমি প্রভু। আমার অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিলে তুমি।
( সংগ্রহ ও প্রকাশ ২০১৮)।
Johir Chowdhury’s own learning
পরকালে সকল উওর যখন নিজেই দিতে হবে।তা হলে আজই নিজেকে সেইভাবে প্রস্তুত করি।ইচ্ছা হলে সংগী হতে পারেন।
মায়েরা হয়তো কথায় কথায় বলতে পারেন, আমি বাপের বাড়ি/বোনের বাড়ি চলে গেলাম। কিন্তু বাবাদের চলে যাবার মতো কোনো জায়গা থাকে না। একরাত কারো বাসায় গিয়ে থাকার মতো কোনো জায়গাও অবশিষ্ট নেই তাদের।বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ প্রাণী হচ্ছেন ‘বাবা’ *******
অনেক সময়ই বিয়ের দশ-পনের বছর পরে বউয়ের সঙ্গে আর আগের সেই ভালোবাসাটা থাকে না। ভালোবাসাটা অভ্যাসে পরিণত হয়। নিত্যদিন আলু-পেঁয়াজ, বাচ্চার স্কুল-কলেজ ইত্যাদি আলাপে ঘুম নেমে আসে চোখে।একান্ত নিজের কথা, নিজের ভাবনা, ভালোলাগা কিছু বলার অবকাশ হয় না। বিয়ের শুরুতে অথবা প্রেমিক জীবনে, হয়তো বাচ্চার নাম ঠিক করেছিলেন দুইজন মিলে। রোমান্টিসিজম ছিলো। সন্তান জন্মের পরে একরাশ দায়িত্ব কাঁধে চাপে।সন্তানের স্কুল ভালো রেজাল্ট, তাদের বিয়ে,বাড়ি-গাড়ি। এসব আলাপেই দুইজন ব্যস্ত থাকেন। একসময় হয়তো দুপুরে অফিসের ব্যস্ততার ফাঁকে ফোন দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নানা অর্থহীন গল্প গুজবে ভালোবাসা খুঁজে পেতেন।
এখন দুপুরে ফোন দিলে হয়তো স্ত্রী বলে উঠেন, ‘ডিপোজিটের টাকাটা জমা দিয়েছো/কারেন্ট বিল, গ্যাস বিল দিয়েছো?’ বাসায় ফিরে দেখেন, স্ত্রী ব্যস্ত বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক নিয়ে। যদিও স্ত্রীকে বলেন, ‘আসো একটু নিরিবিলি কথা বলি, আমাদের কথা বলি।’ উত্তরে স্ত্রী হয়তো বলে উঠেন, ‘ঢং করার জায়গা পাও না? আমার রান্না আছে! একটু পরে বলবা ভাত দাও।’
কিংবা হয়তো বলে উঠবেন, ‘বাচ্চারা বড় হয়েছে, সে খেয়াল আছে?’ কোন কোনো সময় হয়তো আমাদের মায়েরা ফ্রি থাকেন। দুই কাপ চা নিয়ে দু’জন বসে পড়েন পুরানো স্মৃতি রোমন্থনে। হঠাৎ করেই হয়তো প্রতিবেশীর মেয়ের বিয়ের দাওয়াতের কথা মনে পড়ে। কমদামে, সম্মানজনক গিফট কেনার চিন্তা গ্রাস করে বসে দু’জনকে।বাবারা যে, কতোটা নিঃসঙ্গতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে যখন আমাদের মায়েদের সঙ্গে তাদের অভিমান পর্যায় চলে। আমাদের বেশিরভাগ সন্তানই মা ঘেঁষা। বাবার সঙ্গে কেমন যেন একটা দূরত্ব থাকে।
সন্তানেরা ভাবে, ‘বাবা প্রাণীটা কেমন। সেই সকালে বেরিয়ে যায়, রাতে ফেরে। দেখা হলে কেবল রেজাল্ট জিজ্ঞাসা করে। এমন কেন এই লোকটা?’ মায়েরা সন্তানকে নিয়ে সংসার নামক পার্লামেন্টে ঐক্যজোট করে। বাবা দেখে তার সন্তানেরাও তার পক্ষে নেই। যাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তিনি বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।যাদের সঙ্গে ছোট্ট বেলায় বিছানা শেয়ার করেছেন, এক পাতে খেয়েছেন- সেই ভাইবোনেরাও সংসারের চাপে, জমি-বাড়ি-সম্পদ ইত্যাদি বৈষয়িক ঝামেলায় দূরের মানুষ হয়ে যায়। বিভিন্ন কারণে একসময়ের কাছের বন্ধুদের সঙ্গেও সেরকম যোগাযোগ থাকে না। কিংবা থাকলেও নানা রকম সামাজিক অনুষ্ঠান, বৈষয়িক কথাবার্তা, ছেলেমেয়ের রেজাল্টের খবর আদান-প্রদানে আটকে থাকে সেইসব যোগাযোগ।সহকর্মীদের সঙ্গেও একটা কৃত্রিম গাম্ভীর্য বজায় রেখে চলতে হয়। যাকে বলে প্রফেশনালিজম। কারো সঙ্গে একত্রে বসে, নিজের মনের একান্ত কিছু কথা বলার কেউ থাকে না। কেউ না। মায়েরা হয়তো কথায় কথায় বলতে পারেন, আমি বাপের বাড়ি/বোনের বাড়ি চলে গেলাম। কিন্তু বাবাদের চলে যাবার মতো কোনো জায়গা থাকে না। একরাত কারো বাসায় গিয়ে থাকার মতো কোনো জায়গাও অবশিষ্ট নেই তাদের।
(সংগ্রহ,পরিবর্তিত ও পরিবর্ধন সুন্দরের জন্য, ২০১৯))।
“এক আবহওয়াবিদের মিথ্যা গল্প । বহু দিন আগে কোন এক দেশে এক রাজা ছিলেন। (দুঃখিত কাউকে উদ্দেশ্য করে লিখা / শেয়ার করা হয় নি, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কাম্য)।”*******
মৎস শিকারী বংশের এক সুদর্শন রাজা ছিলেন।সেই রাজা আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে ডেকে জিজ্ঞাস করলেন, আজ আমি মৎস শিকারে যেতে চাই, আজকের আবহাওয়া কেমন থাকবে ? বিশেষজ্ঞ বললেন- আজকে খুব সুন্দর উজ্জল দিন, চমৎকার আবহাওয়া থাকবে জাহাপানা। বৃষ্টির লক্ষন মোটেই নাই।আপনি নিশ্চিতে যেতে পারেন । রাজা সাগরের উদ্দেশ্য বের হলেন ।যখন রাজামশাই সাগর পাড়ে গেলেন,সাগর পাড়ে এক জেলে তখন ছাগল ছড়াচ্ছিলো।মহারাজকে দেখে খুবই বিস্মিত, ভয়ে ভয়ে আরজ করে বললেন, রাজা মশাই আজকে কেন আপনি সাগরে মাছ শিকারের জন্য যাচ্ছেন ? একটু পরেই তো বৃষ্টি হবে। রাজা বললেন- বেটা অধম বাচ্চা,তুই কি জানিস ? আমি আবহাওয়া বিভাগ থেকে সর্ব শেষ খবর জেনেই এসেছি। রাজা গভীর সাগরে গেলেন এবং কিছুক্ষন পর শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি।অনেক কষ্টে রাজামহলে ফিরে এসে রাজা আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে বরখাস্ত করে দিয়ে,ঐ জেলেকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন।জেলে পড়লে বিস্মিত ও বিপদে। সে তো আবহাওয়ার কিছুই জানে না।কিছুক্ষন পর রাজ দরবারে গিয়ে জেলে বললো, “মহারাজ আমাকে যেতে দিন, আমি আসলে আবহাওয়ার কিছু জানি না”।রাজা বললেন তাহলে ঐদিন আমার আবহাওয়া বিভাগের নিশ্চিত পূর্বাভাস থেকেও সঠিক খবর তুই কি করে দিলি। জেলে উত্তর দিল-মহারাজ সেখানে আমার কোন কৃতিত্ব ছিল না।সব কৃতিত্ব আমার ছাগলের।আমি এই ছাগলকে জন্ম থেকে জানি।বৃষ্টি আসার আধা ঘন্টা আগে থেকে ছাগলটা ঘনঘন প্রসাব শুরু করে।এর থেকে আমি বুঝতে পারি একটু পর বৃষ্টি হবে। তারপর রাজা জেলেকে ছেড়ে দিয়ে তার ছাগলটাকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন।সেই থেকেই কয়েক শত বৎসর পর্যন্ত অনেক দেশের আবহাওয়া অফিসের বড় বড় পদ গুলোতে ছাগল নিয়োগ দেওয়ার রীতি চালু হয়েছিল।বর্তমানে কম্পিউটার যুগে আর এমন নিয়োগ দেখা যায় না।
( সংগৃহীত এবং পরিমার্জিত,২০১৯ )
তাকওয়া বৃদ্ধির সহজ উপায়....
প্রশ্নের উত্তর সাবলীলভাবে, সহজ, সরল করে বলে দিয়েছিলেন ড: আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ)।বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ওয়ায়েজীনদের দেখলে আফসোস লাগে। অপ্রয়োজনীয় কথায় ভরপুর, পুরো বক্তব্যে শিক্ষণীয় কোনো মেসেজ থাকে না। শ্রোতাদের কানের সুখ মেটাতেই এরা বেশি ব্যস্ত।
প্রশ্ন: তাকওয়া বৃদ্ধির উপায় কি?
উত্তর: তাকওয়া বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বড় জিনিস হলো, সোহবত। কোরানের সাহচর্য, কোরান বুঝে পড়া, এর থেকে তাকওয়া বৃদ্ধির বড় আর কোনো অস্ত্র নাই। দ্বিতীয়ত, রাসূলের (স) হাদিস আর সীরাত পড়া, সাহাবীদের জীবনী পড়া, আপনারা ভাবছেন অনেক হয়ে গেলো, না, প্রতিদিন ১০ মিনিট পড়েন।আলেম ওয়ালামদের সাথে সম্পর্ক রাখা আর সব সময় জিকির আর দুরুদ পড়া, ওযু থাকা না থাকা উভয় অবস্থাতে, এতে অন্তর আল্লাহমুখী হয়, তাকওয়া বৃদ্ধি পায়।
"" তাকওয়া হচ্ছে সবসময় সতর্ক থাকা যে, একজন প্রচণ্ড ক্ষমতাধর সত্ত্বা সব সময় আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন। ""
কেন তাকওয়া এত গুরুত্বপূর্ণ? শুধু নামাজ, রোজা, হাজ্জ করলেই কি যথেষ্ট নয় ?
তাকওয়া নেই এমন পাঁচ-ওয়াক্ত-নামাজী বাসায় এসে পরিবারের সাথে, কাজের লোকের সাথে, এমন কি নিজের সন্তানের সাথে দানবের মত আচরণ করে।
তাকওয়া নেই এমন হাজ্জি ঘুষ খেয়ে হজ্জে যায় এবং হজ্জ থেকে ফিরে এসে আবার ঘুষ খায়। তাকওয়া নেই এমন দাড়িওয়ালা পণ্যে ভেজাল দেয়, কমদামী মাল বেশী দামে চালিয়ে দেয়, কাগজ পত্রে মিথ্যা কথা লিখে অন্যায় সুবিধা নেয়, অফিসে লুকিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করে, নামাজ পড়তে বের হয়ে আর সহজে কাজে ফেরত আসে না ইত্যাদি। ধর্মীয় বেশভূষাধারী এই মানুষগুলোর স্বভাব এবং কাজের জন্য ইসলামের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায়, কারণ এদেরকে দেখে অন্যেরা মনে করে যে, এটাই হচ্ছে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা। ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতি তখন এরাই করে।
তাকওয়া হচ্ছে সবসময় সতর্ক থাকা যে,একজন প্রচণ্ড ক্ষমতাধর সত্ত্বা সবসময় আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন।একইসাথে তিনি দুজন অদৃশ্য সত্তাকে আদেশ করেছেন প্রতি মুহুর্তে আপনার গতিবিধি নজর রাখার জন্য।এই পুরো মহাবিশ্ব তাঁর হাতের মুঠোয়। আপনি তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও ফাঁকি দিতে পারবেন-এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।- এই উপলব্ধি থেকে যারা নিজেদেরকে দুনিয়ার প্রলোভন থেকে বাঁচিয়ে চলেন এবং ‘লোকে কী বলবে’-কে ভয় না পেয়ে বরং ‘আমার প্রভু কী বলবেন’-কে বেশি ভয় পান — তারাই তাকওয়াবান, তারাই মুত্তাকী।
(সংগ্রহ ও প্রকাশ ২০১৭)।
যুগে যুগে ইসলাম প্রচার কাজ কঠিন হয়েছে। এই একবিংশ শতাব্দীতেও দেশ ত্যাগ, জেলে আজীবন মৃত্যু ইত্যাদি ও হচ্ছে। আল্লাহ তাদের ত্যাগ কবুল করুন।জেনে নিন ইমাম আবু হানিফাকে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো । ••••••
যুগে যুগে বহু ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব ইসলামের সেবা করে অমর হয়ে আছেন। ইমামে আজম হজরত আবু হানিফা (রহ.) তাদেরই একজন। তিনি ইসলামের জ্ঞান ভান্ডারে যে অবদান রেখে গেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ তার কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবে।
জন্ম ও বংশ পরিচয় : ইমাম আজমের পূর্ব পুরুষরা আদিতে কাবুলের অধিবাসী হলেও ব্যবসায়িক সূত্রে তারা কুফাতে নিবাস গড়েন। তার পিতা সাবিত ছিলেন একজন তাবেয়ি। প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি ৬৯৯ ঈসায়ি সালের ৫ সেপ্টেম্বর মোতাবেক ৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মূল নাম ছিল নোমান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আবু হানিফা উপনামে সুখ্যাতি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন বিখ্যাত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হওয়ায় ইমামে আজম ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। লেখাপড়ার প্রতি তার কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ১৯ বা ২০ বছরের দিকে ইমাম শাবীর (রহ.) নজরে পড়েন তিনি।ইমাম শাবী (রহ.) তাকে ডেকে দ্বীনী জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করেন। শাবীর ক্ষণিকের সান্নিধ্য তার জীবনের মোড় বদলে দেয়। তিনি জ্ঞানার্জনের প্রতি প্রচন্ড আগ্রহী হয়ে উঠেন। ব্যবসার পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দিয়ে জন্মভূমি কুফার বড় বড় শায়েখদের থেকে জ্ঞানার্জন করতে থাকেন। তিনি বিশেষভাবে ইমাম হাম্মাদের শিষ্যত্ব বরণ করেন। ইমাম হাম্মাদ হলেন ইবরাহিম নখঈ’র প্রিয় ছাত্র। আর ইবরাহিম ইবনে নখঈ (রহ.) হাদিস শাস্ত্র ও ইলমে শরিয়ত শিক্ষা লাভ করেছিলেন হজরত আলী (রা.) এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে। ইমাম হাম্মাদ একাধারে বিশ বছর পরম যত্নের সঙ্গে মেহনত করে নোমান ইবনে সাবিতকে ইমামে আজমরূপে গড়ে তোলেন। ইমাম আজম শুধু কুফার প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস ও ফকিহদের জ্ঞানভান্ডারের ওপর সন্তুষ্ট না থেকে জ্ঞান আহরণের জন্য হারামাইন শরিফাইন ভ্রমণ করেন।১৩০ হিজরি থেকে ১৩৬ হিজরি পর্যন্ত একটানা ৬ বছর হারামাইন শরিফাইনে অবস্থান করে সেখানকার বিখ্যাত মুহাদ্দিসদের কাছ থেকে হাদিস আহরণ করেন। ঐতিহাসিকদেরর মতে তিনি প্রায় চার হাজার মুহাদ্দিস থেকে হাদিস শিক্ষা লাভ করেছিলেন।
কর্মজীবন : ১২০ হিজরিতে উস্তাদ হাম্মাদের ইন্তেকালের পর তিনি উস্তাদের মাদ্রারাসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাঠদানের পাশাপশি পৈতৃক কাপড়ের ব্যবসাও ধরে রেখেছিলেন।তাবেয়ি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন : ইমামে আজম (রহ.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সান্নিধ্য ধন্য বেশ কয়েকজন সাহাবির সঙ্গলাভ করে তাবেয়ি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- হজরত আনাস ইবনে মালেক রা. (৯৩ হি.), হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আউফা রা. (৮৭ হি.), হজরত সাহল ইবনে সাদ রা. (৮৮ হি.) হজরত আবু তুফাইল রা. (১১০ হি.), হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইদি রা. (৯৯ হি.), হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. (৯৪ হি.) ও হজরত ওয়াসেনা ইবনে আসকি রা. (৮৫ হি.)।
জীবনচিত্র : আল্লাহতায়ালা ইমাম আবু হানিফাকে অতুলনীয় জ্ঞান দান করেছিলেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগি করতেন। কথিত তিনি প্রায় ৫৫ বার হজব্রত পালন করেন। আদায় করেন অসংখ্য ওমরা। প্রতি রমজানে অসংখ্যবার কোরআন খতম করতেন।কথিত আছে, তিনি দীর্ঘ চল্লিশ বছর এশার নামাজের অজু দিয়ে ফজরের নামাজ পড়েছিলেন। ব্যবসায়ী কার্যক্রমে কোনো লেনদেনের ব্যপারে সামান্যতম সন্দেহ দেখা দিলে সে লেনদেনের সম্পূর্ণ অর্থ দান করে দিতেন। সততা ও নৈতিকতা ছিল তার ব্যবসার মূলভিত্তি। উপার্জিত সম্পদের বৃহৎ একটি অংশ জনসেবায় খরচ করতেন।
অবদান : পাঠদানের দীর্ঘ জীবনে অসংখ্যা ছাত্রকে ফকিহরূপে তৈরি করেছেন। তদানীন্তন সময়ের বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রায় সব শহরের বিচারপতির আসন তার ছাত্ররা অলঙ্কৃত করেছিলেন। তার প্রিয় ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ছিলেন প্রধান বিচারপতি। ইমাম আবু হানিফার রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মুসনাদে আবু হানিফা, আল ফিকহুল আকবার, ওয়াসিয়াতু আবু হানিফা ও কিতাবুল আসার।গবেষকদের মতে তিনি চল্লিশ হাজার হাদিস থেকে বাছাই করে কিতাবুল আসার সঙ্কলন করেছিলেন। তার সবচেয়ে বড় অবদান হলো কোরআন ও হাদিস থেকে জনসাধারণের আমল উপযোগী মাসয়ালা বের করার মূলনীতি দাঁড় করানো।তার সম্পাদিত এ শাস্ত্রের নাম উসূলুল ফিক্হ। এ কাজের জন্যই তিনি ইমামে আজম খ্যাতি লাভ করেন। তার প্রণীত ফিকাহ আমাদের কাছে ফিকহে হানাফি নামে পরিচিত।
মৃত্যু : খলিফা মনসুর তাকে প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি জালেম শাসকের সমর্থনের দায় এড়ানোর জন্য এ পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এতে অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে খলিফা ইমাম আবু হানিফাকে কারাগারে বন্দী করেন। প্রতিদিন তাকে কারাগার থেকে বের করে প্রকাশ্যে দশটি করে চাবুক মারা হতো। চাবুকের আঘাতে তার শরীর থেকে রক্ত বের হতো। সে রক্তে কুফার মাটি রঞ্জিত হতো। পানাহারের কষ্টসহ বিভিন্নভাবে সত্তর বছর বয়সের বৃদ্ধ ইমামকে নির্যাতন করা হয়। অবশেষে জোর করে বিষ পান করানো হয়। ৭৬৭ ঈসায়ি সালের ১৪ জুন মোতাবেক ১৫০ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের নিয়ামত দানে ধন্য করুন। তার রেখে যাওয়া আদর্শের ওপর আমাদের জীবন পরিচালিত করার তওফিক দান করুক। আমিন।
( অন লাইন সংগ্রহ ও প্রকাশ ২০১৯ )।
"" বাবাদের সব সময় মনের কথা জানানোর সুযোগ নাই। বাবারা চাইলেই মা-দের মত কাঁদতে পারে না।""........
সামান্য বেতন এর চাকরি আমার। কারখানাতে কাজ॥কোন ভাবেই কোন টাকা জমাতে পারতাম না। ছেলেদের পড়াশুনার খরচ তার উপর বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসা। আমার বড় ছেলে তখন ইন্টার মিডিয়েট শেষ করে ইউনিভার্সিটিতে ঢুকেছে । সারাক্ষণ মুখ কালো করে ঘুরে বেড়ায়।ওর মা ইনিয়ে বিনিয়ে বলে ছেলের একটা ল্যাপটপ লাগবে। আমি হুংকার ছেড়ে রাগ দেখাই , বলি টাকা কি গাছে ধরে। রাত এর বেলা ঘুমাতে পারি না, সারাক্ষণ মনে হয় , অন্য বাচ্চারা একটা ল্যাপটপের জন্য ভাল রেজাল্ট করবে আর আমার ছেলে অভিমান বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে।আমি থাকতে তা কি হয়।এর ভেতরই ছেলে রাত করে ঘরে ফেরে, জিজ্ঞেস করলে বলে এসাইনমেন্ট আছে, বন্ধুর বাসায় কাজ। ছেলে আমার চোখের দিকে তাকায় না। মনে বড় আঘাত লাগে। ঠিক করি যে ভাবেই হোক একটা ল্যাপটপ আমাকে কিনতেই হবে। মহাজন কাছে যাই , বলি সারা রাতের ডিউটিটা আমাকে যেন দেয়। মালিক তো অবাক জানতে চাই সারা দিন কাজ করে কি ভাবে রাত জাগবো, আমি বলি মাত্র তো চার মাসের ব্যাপার আমি পারব। এক ঘণ্টা রাস্তা পায়ে হেটে যাই আর ফেরত আসি শুধু রাতে এক বেলা খেতে। আসল কথা না জানিয়ে ছেলের মাকে বলি লোনের টাকা শোধ করি। চার মাস পর পকেট টাকার গুছাটা নিয়ে বাসায় যাই। বুকের ভেতর অনেক আনন্দ, ভাবি আজ দেখাব ছেলেকে, বাপ চাইলে কি না পারে।উঠানে ঢুকে দেখি একটা নতুন সাইকেল রাখা। আমার শব্দ শুনে সবাই বের হয়ে আসে, আমার বৃদ্ধ মা হেসে বলে- ‘দেখ বাবা, তোর ছেলে স্কলারশিপের টাকা দিয়ে তোর জন্য সাইকেল কিনসে'। আমার ছেলে নিচু মুখে দাঁড়াই ছিল ঘরের দরজায়। ইচ্ছা করছিল ছোট বেলার মতো কোলে করে সারা শহর ঘুরি। কিন্তু বাবাদের সব সময় মনের কথা জানানোর সুযোগ নাই। বাবারা চাইলেই মা-দের মত কাঁদতে পারে না।
(সংগ্রহ ও প্রকাশ ২০১৬)।
"" আজ থেকে অনেক বছর আগে ঠিক এই ভাবে এই রাস্তা দিয়ে আমার বাবা কে আমি কাঁধে করে নিয়ে গিয়েছিলাম,আর বাবা আমার জন্য দোয়া করেছিলেন এই বলে যে, ”তোমার সন্তান ও তোমাকে এরকম করে ভালবাসবে। আজ বাবার দোয়ার বাস্তব রূপ দেখে চোখে পানি এসে গেল।""
হজ্জ যাত্রী পিতা ও পুত্র অনেক অনেক দিন আগে,এক বৃদ্ধ বাবা ও তার সন্তান উটের পিঠে চড়ে এক কাফেলার সাথে হাজ্জ পালনের উদ্দেশে রওনা দিলেন।মাঝ পথে হঠাৎ বাবা তার ছেলে কে বললেন, ” তুমি কাফেলার সাথে চলে যাও, আমি আমার প্রয়োজন সেরেই তোমাদের সাথে আবার যোগ দিব, আমাকে নিয়ে ভয় পেয় না।এই বলে বাবা নেমে পরলেন উটেরর পিঠ থেকে, ছেলেও চলতে লাগল কাফেলার সাথে,কিছুক্ষন পর সন্ধ্যা হয়ে এল। ছেলে আশে পাশে কোথাও বাবাকে খুঁজে পেল না। সে ভয়ে উটের পিঠ থেকে নেমে উল্টা পথে হাটা শুরু করল। অনেক দূর যাওয়ার পর দেখল তার বৃদ্ধ বাবা অন্ধকারে পথ হারিয়ে বসে আছেন। ছেলে দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। আদর করে বাবাকে নিজ কাঁধে চড়ালো।তারপর আবার কাফেলার দিকে হাটা শুরু করলো। তখন বাবা বললেনঃ আমাকে নামিয়ে দাও আমি হেঁটেই যেতে পারবো।ছেলে বললোঃ বাবা আমার সমস্যা হচ্ছে না, তোমার ভার ও খোদার জিম্মাদারি আমার কাছে সব কিছুর চেয়ে উত্তম।এমন সময় বাবা কেঁদে ফেললেন ও ছেলের মুখের ওপর বাবার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল।ছেলে বললঃ ” বাবা কাদছ কেন ? বললাম না আমার কোন কষ্ট হচ্ছে না।
বাবা বললেনঃ আমি সে জন্য কাঁদছি না।কাঁদছি কারণ আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে ঠিক এই ভাবে এই রাস্তা দিয়ে আমার বাবাকে আমি কাঁধে করে নিয়ে গিয়েছিলাম।আর বাবা আমার জন্য দোয়া করেছিলেন এই বলে যে, তোমার সন্তান ও তোমাকে এরকম করে ভালবাসবে।আজ বাবার দোয়ার বাস্তব রূপ দেখে চোখে পানি এসে গেল।
বৃদ্ধ মা বাবাকে আপনি যেমন করে ভালবাসবেন, ঠিক তেমনটাই আপনিও ফেরত পাবেন আপনার সন্তানদের মাধ্যমে। নিজের সুখের জন্য হলেও মা বাবার সেবা যত্ন করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করুন।" রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বা য়ানি সাগিরা। ”
( সংগ্রহ ও প্রকাশ, ২০১৭)।
"" সারাজীবন দুনিয়াতে যাকে ডেকেছেন।যাকে না দেখে চোখ দুটো অঝোরে কেঁদেছেন।কাউকে না বলা আপনার একান্ত কথাগুলো যাকে বলেছেন।খুব বিপদে কেউ নেই পাশে, কেঁদে কেঁদে যাকে বলেছিলেন।পকেট ফাঁকা, ঘরে খাবার নেই, অনিশ্চিত উৎস থেকে খাবারের ব্যবস্হা যিনি করেছেন । কত চাওয়া, মাকে বলেন নি, বাবাকেও না , রাতের আঁধারে কেঁদে কেঁদে যাকে বলেছিলেন।কত অপরাধ করেছি, কেউ দেখে নি । একজন দেখেছেন কিন্তু গোপন রেখেছেন । বারবার ভুল করেছি, যিনি মাফ করে দিয়েছেন, অদৃশ্য ইশারায় সাবধান করেছেন।মমতাময়ী মা, আমার আদরের সন্তান, প্রিয়তমা স্ত্রীর ভালবাসা দিয়ে অদৃশ্য ভালবাসায় আমাকে যিনি ভালবেসেছেন সবচেয়ে বেশী।সবচেয়ে আপন, সুমহান সেই প্রতিপালকের মুখোমুখি।"".......
জান্নাতীরা জান্নাতে নিজ গৃহে অবস্থান করবেন।এমন সময় দরজায় কেউ কড়া নাড়বে। দরজা খুলে দেখবেন একজন ফেরেস্তা দাঁড়িয়ে । তিঁনি বলবেন ‘চলো আল্লাহ সুবহানাহু ওতায়ালার সাথে দেখা করে আসি।তিনি তখন খুবই উল্লসিত হয়ে বের হয়ে এসে দেখবেন খুব সুন্দর একটা বাহন তাঁর জন্য প্রস্তুত।বাহন ছুটে চলবে খুব বিস্তৃত নয়নাভিরাম মাঠ দিয়ে যা স্বর্ণ আর মণি মুক্তা খচিত পিলারে সাজানো।জান্নাতিরা খুব পরিতৃপ্তি নিয়ে ছুটবে । এমন সময় আলো দেখবে আলোর পর আরো আলো । তারপর আরো আলো।
জান্নাতীরা তখন উল্লসিত হয়ে ফেরেস্তাদের জিজ্ঞেস করবেন ‘ আমরা কি আল্লাহকে দেখেছি ?’
না, আমরা সে পথেই ছুটছি।ফেরেস্তা বলবেন।হঠাৎ জান্নাতীরা শুনবেন গায়েবী আওয়াজ -
"আস সালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল জান্নাহ"।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা স্বয়ং সালাম দিচ্ছেন জান্নাতীদের ।খুবই আবেগময় হবে সে মুহূর্তটা।আল্লাহু আকবার।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সালামের জবাবে তখন জান্নাতীরা বলবেন,
"আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।” অর্থ- হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময় এবং আপনা হতেই শান্তি উৎসারিত হয়।আপনি বরকতময় হে মহান ও সম্মানের অধিকারী।
তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা জিজ্ঞেস করবেন- তোমরা কি খুশী ? তোমরা কি সন্তুষ্ট ?
বান্দারা বলবে- ও আল্লাহ, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে আমাদের আপনি জান্নাত দিয়েছেন।আমরা অসন্তুষ্ট হই কি করে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তখন জিজ্ঞেস করবেন- তোমাদের আর কি চাই ?
তখন জান্নাতীরা (ইনশাআল্লাহ) বলবেন- আর কিছু চাই না। মহান আল্লাহ তায়ালা বলবেন- না না,আজ তো দেয়ার দিন । আমি আরও দিব।বলো কি চাই।
তখন জান্নাতীরা (ইনশাআল্লাহ) সমস্বরে বলে উঠবেন- ও আল্লাহ, আমরা আপনাকে দেখতে চাই।আপনাকে দেখি নি কখনও।আপনাকে আমরা ভালবাসি।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তখন পর্দা সরিয়ে দেবেন।সৃষ্টি এবং স্রষ্টা মুখোমুখি । চোখ বন্ধ করে একটু চিন্তা করুন। সারাজীবন দুনিয়াতে যাকে ডেকেছেন।যাকে না দেখে চোখ দুটো অঝোরে কেঁদেছেন।কাউকে না বলা আপনার একান্ত কথাগুলো যাকে বলেছেন।খুব বিপদে কেউ নেই পাশে, কেঁদে কেঁদে যাকে বলেছিলেন।পকেট ফাঁকা, ঘরে খাবার নেই, অনিশ্চিত উৎস থেকে খাবারের ব্যবস্হা যিনি করেছেন।কত চাওয়া, মাকে বলেন নি, বাবাকেও না , রাতের আঁধারে কেঁদে কেঁদে যাকে বলে ছিলেন।কত অপরাধ করেছি, কেউ দেখে নি। একজন দেখেছেন কিন্তু গোপন রেখেছেন।বারবার ভুল করেছি, যিনি মাফ করে দিয়েছেন, অদৃশ্য ইশারায় সাবধান করেছেন।মমতাময়ী মা, আমার আদরের সন্তান, প্রিয়তমা স্ত্রীর ভালবাসা দিয়ে অদৃশ্য ভালবাসায় আমাকে যিনি ভালবেসেছেন সবচেয়ে বেশী । সবচেয়ে আপন, সুমহান সেই প্রতিপালকের মুখোমুখি।
সাহাবীদের প্রশ্নের জবাবে নবীজী বলেছেন , পৃথিবীতে আমরা যেমন চাঁদকে স্পষ্ট দেখি , আমরা আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালাকে তেমনি দেখব।ইনশাআল্লাহ ।
এ যে জান্নাতের সবচেয়ে বড় নেয়া নেয়ামাহ্। ইয়া আল্লাহ - স্বল্প সংখ্যক সেই মহা সৌভাগ্যবানদের তালিকায় আমাদের নামটা যোগ করে দিন ।আমিন।
(অনলাইন সংগ্রহ ও প্রকাশ ২০১৯)।
বাস্তবিক অর্থে সর্ব ক্ষেত্রে এভাবে এমনই হচ্ছে॥
এক দেশে ছিলো এক পিপড়া। সে প্রতিদিন ৯টায় অফিসে ঢুকতো। তারপর কারো সঙ্গে সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে কাজে বসে যেত।
সে যে পরিমাণ কাজ করত, তাতে কোম্পানির উৎপাদন হতো প্রচুর এবং এর ফলে সে আনন্দের সঙ্গেই জীবন নির্বাহ করত।
ওই অফিসের সিইও সিংহ অবাক হয়ে দেখত, এই পিঁপড়াটি কোনো ধরনের সুপারভিশন ছাড়াই প্রচুর কাজ করছে। সিংহ ভাবল, পিঁপড়াকে যদি কারও সুপারভিশনে দেওয়া হয়, তাহলে সে আরও বেশি কাজ করতে পারবে।
কয়েক দিনের মধ্যেই সিংহ একটি তেলাপোকাকে পিঁপড়ার সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ দিল। সুপারভাইজার হিসেবে এই তেলাপোকাটির ছিল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, আর সে দুর্দান্ত রিপোর্ট লিখতে পারত।
তেলাপোকাটি প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিল, এই অফিসে একটি অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম থাকা উচিত।
কয়েক দিনের মধ্যেই তেলাপোকার মনে হলো, তার একজন সেক্রেটারি দরকার, যে তাকে রিপোর্ট লিখতে সাহায্য করবে। … সে একটা মাকড়সাকে নিয়োগ দিল এই কাজে যে সব ফোনকল মনিটর করবে, আর নথিপত্র রাখবে।
সিংহ খুব আনন্দ নিয়ে দেখল যে তেলাপোকা তাকে প্রতিদিনের কাজের হিসাব দিচ্ছে আর সেগুলো বিশ্লেষণ করছে গ্রাফের মাধ্যমে। ফলে খুব সহজেই উৎপাদনের ধারা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাচ্ছে এবং সিংহ সেগুলো বোর্ড মিটিংয়ে ‘প্রেজেন্টেশন’ আকারে পেশ করে বাহবা পাচ্ছে।
কিছুদিনের মধ্যেই তেলাপোকার একটি কম্পিউটার ও লেজার প্রিন্টার প্রয়োজন হলো এবং এগুলো দেখভালের জন্য আইটি ডিপার্টমেন্ট গঠন করল। আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেল মাছি।
আমাদের কর্মী পিঁপড়া, যে প্রতিদিন অফিসে এসে প্রচুর কাজ করে মনের সুখে গান গাইতে গাইতে বাসায় ফিরত, তাকে এখন প্রচুর পেপার ওয়ার্ক করতে হয়, সপ্তাহের চার দিনই নানা মিটিংয়ে হাজিরা দিতে হয়।
নিত্যদিন এসব ঝামেলার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটায় উৎপাদন কমতে লাগল, আর সে বিরক্ত হতে লাগল।
সিংহ সিদ্ধান্ত নিল, পিঁপড়া যে বিভাগে কাজ করে, সেটাকে একটা আলাদা ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করে সেটার একজন ডিপার্টমেন্ট প্রধান নিয়োগ দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।
সিংহ ঝিঁঝিপোকাকে ওই ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিল। ঝিঁঝিপোকা প্রথম দিন এসেই তার রুমের জন্য একটা আরামদায়ক কার্পেট ও চেয়ারের অর্ডার দিল।
কয়েক দিনের মধ্যেই অফিসের জন্য স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরি করতে ঝিঁঝি পোকার একটি কম্পিউটার ও ব্যক্তিগত সহকারীর প্রয়োজন হলো। কম্পিউটার নতুন কেনা হলেও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ঝিঁঝিপোকা নিয়োগ দিল তার পুরোনো অফিসের একজনকে।
পিঁপড়া যেখানে কাজ করে, সেখানে আগে ছিল চমৎকার একটা পরিবেশ। এখন সেখানে কেউ কথা বলে না, হাসে না। সবাই খুব মনমরা হয়ে কাজ করে।
ঝিঁঝিপোকা পরিস্থিতি উন্নয়নে সিংহকে বোঝাল, ‘অফিসে কাজের পরিবেশ’ শীর্ষক একটা স্টাডি খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।
পর্যালোচনা করে সিংহ দেখতে পেল, পিঁপড়ার বিভাগে উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
কাজেই সিংহ কয়েক দিনের মধ্যেই স্বনামখ্যাত কনসালট্যান্ট পেঁচাকে অডিট রিপোর্ট এবং উৎপাদন বাড়ানোর উপায় বাতলে দেওয়ার জন্য নিয়োগ দিল।
পেঁচা তিন মাস পিঁপড়ার ডিপার্টমেন্ট মনিটর করল, সবার সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলল। তারপর বেশ মোটাসোটা একটা রিপোর্ট পেশ করল সিংহের কাছে। ওই রিপোর্টের সারমর্ম হলো, এই অফিসে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী বেশি। কর্মী ছাঁটাই করা হোক।
পরের সপ্তাহেই বেশ কয়েকজন কর্মী ছাঁটাই করা হলো। কে সর্বপ্রথম চাকরি হারাল??
- ওই হতভাগ্য পিঁপড়া।
কারণ, পেঁচার রিপোর্টে লেখা ছিল, ‘এই কর্মীর মোটিভেশনের ব্যাপক অভাব রয়েছে এবং সর্বদাই নেতিবাচক আচরণ করছে, যা অফিসের কর্মপরিবেশ নষ্ট করছে।
( সংগৃহিতঃ বিদেশি গল্পের অবলম্বনে,২০১৪)।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
London