15/08/2026
জঙ্গি-বয়ানের শেষ গন্তব্য কোথায়?
প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি—জাতিসংঘের একটি সতর্কতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে নিয়ে কীভাবে নতুন করে “Al-Qaeda threat” narrative তৈরি হচ্ছে।
এবার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ:
এই narrative-এর রাজনৈতিক ব্যবহার কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে?
আমার আশঙ্কা, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের security নিয়ে নয়।
লক্ষ্য হতে পারে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে influence করা।
ধরে নেই , একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো—
বাংলাদেশে কয়েকটি militant cell ধরা পড়ল।
তারপর বলা হলো, এগুলোর সঙ্গে AQIS-এর যোগাযোগ আছে।
তারপর কোনও ভারতীয় security incident-এর সঙ্গে Bangladesh-based network-এর যোগসূত্রের দাবি উঠল।
এরপর বলা হলো—
“আমরা তো আগেই সতর্ক করেছিলাম।”
তারপর পশ্চিমা policy circles-এ Bangladesh সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হলো:
> **Bangladesh is becoming a security concern for India.**
এখানেই একটি ছোট security incident ধীরে ধীরে একটি বড় geopolitical narrative-এ পরিণত হতে পারে।
আর তখন intelligence cooperation হয়ে উঠতে পারে leverage
এখানে RAW chief-এর সাম্প্রতিক ঢাকা সফরটিও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
তাঁর সফরের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও নির্দিষ্ট বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা সরাসরি যুক্ত—তিনিই কি এই তথ্য দিয়েছিলেন এটা আমাদের একমাত্র নিরাপত্তা কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন ।
তবে দুই দেশের intelligence relationship যে পুনর্গঠিত হচ্ছে, সেটি প্রকাশ্য বিষয়।
আর intelligence cooperation-এর নিজস্ব একটি রাজনৈতিক শক্তি আছে।
যে পক্ষ বলে—
“আমাদের কাছে এমন intelligence আছে যা আপনার কাছে নেই”
সে পক্ষ স্বাভাবিকভাবেই security agenda-তে কিছুটা influence অর্জন করে।
তখন সহযোগিতার ভাষাটি হতে পারে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ:
> “আমরা বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই সাহায্য করতে চাই।”
কিন্তু এর একটি implicit message-ও থাকতে পারে:
> **“আমাদের সঙ্গে security cooperation গভীর রাখুন—এটাই আপনার নিরাপত্তার জন্য ভালো।”**
আমি এটাকেই বলছি coercive signalling-এর সম্ভাবনা। এটাই পুনরায় আধিপত্য কায়েমের পথ প্রশস্ত করে । অনেকে এখানে কনস্পিরেসি থিয়োরিও খুঁজে পেলে আমি তাদের দোষ দেবোনা। তবে আমার কাছে কোনও প্রমাণ নেই । কোনও কোনও ইউটিউবার অবশ্য AQIS এর সাথে অজিত দোভালের সম্পর্ক আছে দাবি করেছেন ।
তারেক রহমানের সরকার কেন এখানে গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ একটি নতুন সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তাকে একই সঙ্গে কয়েকটি বড় বাস্তবতার মোকাবিলা করতে হয়।
India একটি প্রতিবেশী পরাশক্তি।
India-র সঙ্গে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং security—সবকিছুতেই বাংলাদেশের বাস্তব স্বার্থ জড়িত।
অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি নিজের foreign এবং security policy-তে আরও strategic autonomy প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে India-র সঙ্গে সম্পর্কের নতুন balance তৈরি করাই স্বাভাবিক তা ইন্ডিয়ার স্বার্থের অনুকূলে নাও হতে পারে কিন্তু আমাদের স্বার্থ রক্ষা করাটা একটা লেজিটিমেট রাইট ।
ইন্ডিয়ার দিক থেকে এই জায়গায় terrorism narrative একটি powerful pressure mechanism হতে পারে।
কারণ তখন বার্তাটি সরাসরি না বলেও দেওয়া যায়:
> **“আপনি যদি আমাদের security concerns-কে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন, আমরা intelligence cooperation-এর মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করতে পারি।”**
আর উল্টো দিকে—
> **“আপনি যদি আমাদের security framework থেকে দূরে সরে যান, তাহলে Bangladesh-based extremist threat নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।”**
আমি বলছি না যে India এমন কোনও message ইতিমধ্যে দিয়েছে। আমার কাছে সরাসরি তথ্য নেই ।
তবে এটা পরিষ্কার বর্তমান পরিস্থিতিতে —এই ধরনের geopolitical leverage তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাটি উপেক্ষা করা যায় না।
এখানেই ২০০৪-এর স্মৃতি ফিরে আসে
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের তৎপরতা দেখা গিয়েছিল বিশেষজ করে আফগান যুদ্ধ ফেরত বাংলাদেশীদের তৎপরতা অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই।
২০০০-এর দশকে এদেশে সত্যিকারের militant violence হয়েছিল।চৌষট্টি জেলায় এক যোগে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিলো যদিও ক্ষয়খতি তেমন বড় কিছু ছিলনা কিন্তু ব্যাপক সিকিউরিটি ব্রিচ হয়েছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না ।
কিন্তু সেই বাস্তব security problem-কে কেন্দ্র করে যে বৃহত্তর international narrative তৈরি হয়েছিল—তার রাজনৈতিক ফলাফল কী হয়েছিল, সেটিও আমাদের ইতিহাসের অংশ। ১/১১ তারই ফলশ্রুতি। সেই একই পথ দিয়ে ঢুকে পড়ল ফ্যাসিজম আর পেছনে ভারতীয় আধিপত্য।
আমার আশঙ্কা -
ইতিহাসের একই template কি আবার নতুন geopolitical circumstances-এ ফিরে আসছে?
এবার হয়তো ভাষাটি আরও sophisticated হবে।
“বাংলাদেশ জঙ্গিদের ঘাঁটি”—এমন সরাসরি কথা নাও বলা হতে পারে।
বরং বলা হবে:
“Bangladesh-based extremist networks.”
“Regional terrorist connectivity.”
“Cross-border security threat.”
“AQIS expansion.”
শব্দগুলো আলাদা।
কিন্তু narrative-এর রাজনৈতিক ফলাফল একই হতে পারে:
বাংলাদেশকে আবার India-centric security lens-এর মধ্যে দেখা ।
আর পশ্চিমের ভূমিকা?
এখানেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
যদি Washington বা London-এ policy-makers রা ধীরে ধীরে এই ধারণা গ্রহণ করেন যে—
“Bangladesh-এর অভ্যন্তরীণ political instability + Islamist militancy + India security concerns”
একটি interconnected problem,
তাহলে বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক policy pressure তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
তখন Bangladesh-এর নিজস্ব political reality-কে আর শুধু Bangladesh-এর perspective থেকে দেখা হবে না।
দেখা হবে—
“What does this mean for Indian security?”
এটাই আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই।
কারণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা অবশ্যই বাংলাদেশের বিষয়।
India-র নিরাপত্তার legitimate concern থাকতে পারে। সেটা তাদের বিষয়।
কিন্তু বাংলাদেশের security policy-র চূড়ান্ত সংজ্ঞা যেন বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে নির্ধারিত না হয়।
তাই আমার প্রশ্নটি খুব সরল
বাংলাদেশে যদি সত্যিই AQIS-এর cell থাকে—
ধরুন আছে।
তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিক।
International cooperation প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সহযোগিতা করুক।
কিন্তু সেই security problem-কে ব্যবহার করে যদি ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক narrative তৈরি করা হয়—
> **“বাংলাদেশ ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি”**
তাহলে আমাদের প্রশ্ন করতেই হবে:
এই narrative-এর political beneficiary কে?
আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন:
বাংলাদেশ কি নিজের নিরাপত্তা নিজের চোখ দিয়ে দেখবে, নাকি আবারও অন্য একটি রাষ্ট্রের security lens দিয়ে নিজেকে দেখতে বাধ্য হবে?
তাই শেষ কথাটি আমার খুব পরিষ্কার:
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ থাকলে আমরা তার বিরুদ্ধে লড়ব।
কিন্তু বাংলাদেশের জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনও geopolitical project থাকলে—তার বিরুদ্ধেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
কারণ security cooperation আর political submission এক জিনিস নয়।
আর আমাদের নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় challenge সম্ভবত এটাই—
> **India-র সঙ্গে সহযোগিতা করা, কিন্তু India-র security narrative-এর অধীন না হওয়া।**
বাংলাদেশের নিরাপত্তা—বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত।