Dhaka Medical College (DMC)

Dhaka Medical College (DMC) Dhaka,Bangladeshhttp://www.dmc.edu.bd/ It is the top medical college in Bangladesh.

Dhaka Medical College(DMC) and Hospital (DMCH), est in 1946 in a building constructed in 1904 as the Secretariat of East Bengal and Assam province, & transferred to Dhaka University (Arts Faculty) in 1921. Situated at the heart of the city in the academic zone along with University of Dhaka and Bangladesh University of Engineering and Technology. First class started on 10th July 1946, so 10th July is celebrated as "DMC DAY".

15/08/2026

জঙ্গি-বয়ানের শেষ গন্তব্য কোথায়?

প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি—জাতিসংঘের একটি সতর্কতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে নিয়ে কীভাবে নতুন করে “Al-Qaeda threat” narrative তৈরি হচ্ছে।

এবার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ:

এই narrative-এর রাজনৈতিক ব্যবহার কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে?

আমার আশঙ্কা, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের security নিয়ে নয়।

লক্ষ্য হতে পারে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে influence করা।

ধরে নেই , একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো—

বাংলাদেশে কয়েকটি militant cell ধরা পড়ল।

তারপর বলা হলো, এগুলোর সঙ্গে AQIS-এর যোগাযোগ আছে।

তারপর কোনও ভারতীয় security incident-এর সঙ্গে Bangladesh-based network-এর যোগসূত্রের দাবি উঠল।

এরপর বলা হলো—

“আমরা তো আগেই সতর্ক করেছিলাম।”

তারপর পশ্চিমা policy circles-এ Bangladesh সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হলো:

> **Bangladesh is becoming a security concern for India.**

এখানেই একটি ছোট security incident ধীরে ধীরে একটি বড় geopolitical narrative-এ পরিণত হতে পারে।

আর তখন intelligence cooperation হয়ে উঠতে পারে leverage

এখানে RAW chief-এর সাম্প্রতিক ঢাকা সফরটিও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

তাঁর সফরের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও নির্দিষ্ট বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা সরাসরি যুক্ত—তিনিই কি এই তথ্য দিয়েছিলেন এটা আমাদের একমাত্র নিরাপত্তা কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন ।

তবে দুই দেশের intelligence relationship যে পুনর্গঠিত হচ্ছে, সেটি প্রকাশ্য বিষয়।

আর intelligence cooperation-এর নিজস্ব একটি রাজনৈতিক শক্তি আছে।

যে পক্ষ বলে—

“আমাদের কাছে এমন intelligence আছে যা আপনার কাছে নেই”

সে পক্ষ স্বাভাবিকভাবেই security agenda-তে কিছুটা influence অর্জন করে।

তখন সহযোগিতার ভাষাটি হতে পারে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ:

> “আমরা বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই সাহায্য করতে চাই।”

কিন্তু এর একটি implicit message-ও থাকতে পারে:

> **“আমাদের সঙ্গে security cooperation গভীর রাখুন—এটাই আপনার নিরাপত্তার জন্য ভালো।”**

আমি এটাকেই বলছি coercive signalling-এর সম্ভাবনা। এটাই পুনরায় আধিপত্য কায়েমের পথ প্রশস্ত করে । অনেকে এখানে কনস্পিরেসি থিয়োরিও খুঁজে পেলে আমি তাদের দোষ দেবোনা। তবে আমার কাছে কোনও প্রমাণ নেই । কোনও কোনও ইউটিউবার অবশ্য AQIS এর সাথে অজিত দোভালের সম্পর্ক আছে দাবি করেছেন ।

তারেক রহমানের সরকার কেন এখানে গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ একটি নতুন সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তাকে একই সঙ্গে কয়েকটি বড় বাস্তবতার মোকাবিলা করতে হয়।

India একটি প্রতিবেশী পরাশক্তি।

India-র সঙ্গে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং security—সবকিছুতেই বাংলাদেশের বাস্তব স্বার্থ জড়িত।

অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি নিজের foreign এবং security policy-তে আরও strategic autonomy প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে India-র সঙ্গে সম্পর্কের নতুন balance তৈরি করাই স্বাভাবিক তা ইন্ডিয়ার স্বার্থের অনুকূলে নাও হতে পারে কিন্তু আমাদের স্বার্থ রক্ষা করাটা একটা লেজিটিমেট রাইট ।

ইন্ডিয়ার দিক থেকে এই জায়গায় terrorism narrative একটি powerful pressure mechanism হতে পারে।

কারণ তখন বার্তাটি সরাসরি না বলেও দেওয়া যায়:

> **“আপনি যদি আমাদের security concerns-কে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন, আমরা intelligence cooperation-এর মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করতে পারি।”**

আর উল্টো দিকে—

> **“আপনি যদি আমাদের security framework থেকে দূরে সরে যান, তাহলে Bangladesh-based extremist threat নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।”**

আমি বলছি না যে India এমন কোনও message ইতিমধ্যে দিয়েছে। আমার কাছে সরাসরি তথ্য নেই ।

তবে এটা পরিষ্কার বর্তমান পরিস্থিতিতে —এই ধরনের geopolitical leverage তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাটি উপেক্ষা করা যায় না।

এখানেই ২০০৪-এর স্মৃতি ফিরে আসে

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের তৎপরতা দেখা গিয়েছিল বিশেষজ করে আফগান যুদ্ধ ফেরত বাংলাদেশীদের তৎপরতা অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই।

২০০০-এর দশকে এদেশে সত্যিকারের militant violence হয়েছিল।চৌষট্টি জেলায় এক যোগে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিলো যদিও ক্ষয়খতি তেমন বড় কিছু ছিলনা কিন্তু ব্যাপক সিকিউরিটি ব্রিচ হয়েছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না ।

কিন্তু সেই বাস্তব security problem-কে কেন্দ্র করে যে বৃহত্তর international narrative তৈরি হয়েছিল—তার রাজনৈতিক ফলাফল কী হয়েছিল, সেটিও আমাদের ইতিহাসের অংশ। ১/১১ তারই ফলশ্রুতি। সেই একই পথ দিয়ে ঢুকে পড়ল ফ্যাসিজম আর পেছনে ভারতীয় আধিপত্য।

আমার আশঙ্কা -

ইতিহাসের একই template কি আবার নতুন geopolitical circumstances-এ ফিরে আসছে?

এবার হয়তো ভাষাটি আরও sophisticated হবে।

“বাংলাদেশ জঙ্গিদের ঘাঁটি”—এমন সরাসরি কথা নাও বলা হতে পারে।

বরং বলা হবে:

“Bangladesh-based extremist networks.”

“Regional terrorist connectivity.”

“Cross-border security threat.”

“AQIS expansion.”

শব্দগুলো আলাদা।

কিন্তু narrative-এর রাজনৈতিক ফলাফল একই হতে পারে:

বাংলাদেশকে আবার India-centric security lens-এর মধ্যে দেখা ।

আর পশ্চিমের ভূমিকা?

এখানেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

যদি Washington বা London-এ policy-makers রা ধীরে ধীরে এই ধারণা গ্রহণ করেন যে—
“Bangladesh-এর অভ্যন্তরীণ political instability + Islamist militancy + India security concerns”

একটি interconnected problem,

তাহলে বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক policy pressure তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে যায়।

তখন Bangladesh-এর নিজস্ব political reality-কে আর শুধু Bangladesh-এর perspective থেকে দেখা হবে না।

দেখা হবে—

“What does this mean for Indian security?”

এটাই আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই।

কারণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা অবশ্যই বাংলাদেশের বিষয়।

India-র নিরাপত্তার legitimate concern থাকতে পারে। সেটা তাদের বিষয়।

কিন্তু বাংলাদেশের security policy-র চূড়ান্ত সংজ্ঞা যেন বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে নির্ধারিত না হয়।

তাই আমার প্রশ্নটি খুব সরল

বাংলাদেশে যদি সত্যিই AQIS-এর cell থাকে—
ধরুন আছে।

তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিক।

International cooperation প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সহযোগিতা করুক।

কিন্তু সেই security problem-কে ব্যবহার করে যদি ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক narrative তৈরি করা হয়—

> **“বাংলাদেশ ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি”**

তাহলে আমাদের প্রশ্ন করতেই হবে:

এই narrative-এর political beneficiary কে?

আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন:

বাংলাদেশ কি নিজের নিরাপত্তা নিজের চোখ দিয়ে দেখবে, নাকি আবারও অন্য একটি রাষ্ট্রের security lens দিয়ে নিজেকে দেখতে বাধ্য হবে?

তাই শেষ কথাটি আমার খুব পরিষ্কার:

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ থাকলে আমরা তার বিরুদ্ধে লড়ব।

কিন্তু বাংলাদেশের জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনও geopolitical project থাকলে—তার বিরুদ্ধেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

কারণ security cooperation আর political submission এক জিনিস নয়।

আর আমাদের নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় challenge সম্ভবত এটাই—

> **India-র সঙ্গে সহযোগিতা করা, কিন্তু India-র security narrative-এর অধীন না হওয়া।**

বাংলাদেশের নিরাপত্তা—বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত।

14/08/2026

বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় আবারও ‘জঙ্গি-বয়ান’?

জাতিসংঘের সর্বশেষ রিপোর্টে Al-Qaeda in the Indian Subcontinent (AQIS)-এর বাংলাদেশে cell গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টটি ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—জাতিসংঘ আসলে কী বলেছে, আর ভারতীয় মিডিয়া সেটিকে কীভাবে উপস্থাপন করছে?

কারণ, UN report-এ বলা হয়েছে AQIS বাংলাদেশে covert cell গঠনের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু এটাকে সরাসরি “বাংলাদেশে আল-কায়েদার ঘাঁটি তৈরি হয়েছে” বলা হয়নি। অথচ ভারতীয় মিডিয়ার একটি অংশে বিষয়টি প্রায় সেভাবেই উপস্থাপিত হচ্ছে। একই রিপোর্টে ২০২৫ সালের দিল্লির Red Fort বিস্ফোরণের সঙ্গে AQIS-এর যোগসূত্রের কথাও এসেছে। ফলে Bangladesh + AQIS + Red Fort—এই তিনটি বিষয়কে একটি বৃহত্তর security narrative-এর মধ্যে বসানো খুব সহজ হয়ে যাচ্ছে। (Khabor)

কিন্তু এখানেই আমার কিছু প্রশ্ন আছে।

AQIS-এর মূল organisational infrastructure কোথায়?

UN-এর আগের assessment-গুলোতে AQIS-এর Afghanistan-based presence, leadership এবং Taliban-এর সঙ্গে সম্পর্কের কথা এসেছে। AQIS-এর সঙ্গে TTP-এর training ও সহযোগিতার কথাও UN-এর বিভিন্ন রিপোর্টে documented হয়েছে। অর্থাৎ ছবিটি শুধু “বাংলাদেশে আল-কায়েদা” নয়।

বরং একটি বৃহত্তর chain দেখা যায়:

AQIS → TTP → Afghanistan → Taliban

এবং TTP-এর বিরুদ্ধে Pakistan-এ ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ ও Afghanistan-ভিত্তিক উপস্থিতি নিয়ে UN-এর রিপোর্ট বহুদিন ধরেই কথা বলছে।

তাহলে একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসে—

যদি AQIS-এর গুরুত্বপূর্ণ organisational infrastructure Afghanistan-এ থাকে, AQIS-এর সঙ্গে Taliban-এর সম্পর্ক documented থাকে, এবং TTP Afghanistan থেকে Pakistan-এর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালায়—তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে AQIS-এর সম্ভাব্য cell নিয়ে যে security narrative তৈরি হচ্ছে, তার তুলনায় Afghanistan/Taliban dimension-টি কোথায়?

প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ একই সময়ে India ও Taliban সরকারের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ভারত Taliban-এর সঙ্গে diplomatic engagement বাড়িয়েছে, আর India–Pakistan rivalry-এর নতুন প্রেক্ষাপটে Afghanistan এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ strategic theatre। (Al Jazeera)

অর্থাৎ একই geopolitical landscape-এ আমরা দেখছি—

AQIS → Afghanistan → Taliban → TTP → Pakistan

অন্যদিকে,

AQIS → Bangladesh → India security threat

দুটি narrative-এর মধ্যে দ্বিতীয়টিকে ভারতীয় মিডিয়ায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

আমি এখানে বলছি না যে বাংলাদেশে জঙ্গি cell নেই। থাকতেই পারে। AQIS-এর কোনও কার্যক্রম থাকলে সেটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য গুরুতর security concern এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কিন্তু একটি বিচ্ছিন্ন বা ছোট militant cell থাকা এবং একটি দেশকে “terrorist safe haven” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এক জিনিস নয়।

আর এখানেই আমার সন্দেহ শুরু হয়।

কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে explosive উদ্ধারের খবরের পাশাপাশি RAW chief Parag Jain-এর ঢাকায় সফরও হয়েছে। ১০ আগস্ট তিনি DGFI-এর আমন্ত্রণে ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীর Defence Affairs Adviser-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। (The Daily Star)

আমি বলছি না—এই দুটি ঘটনা অবশ্যই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

কিন্তু প্রশ্ন করার অধিকার তো আমাদের আছে।

RAW chief-এর সফর।
বাংলাদেশে intelligence cooperation পুনর্গঠনের চেষ্টা।
তারপর জঙ্গি cell ও explosive recovery-এর খবর।
আর একই সময়ে UN report-এ Bangladesh-এ AQIS cell গঠনের আশঙ্কা।

এগুলো কি শুধুই ঘটনাচক্র?

নাকি ধীরে ধীরে একটি নতুন security narrative তৈরি হচ্ছে?

এখানে আমার আশঙ্কা আরও একটু গভীর।

বাংলাদেশে যদি আগামী দিনে আরও কিছু জঙ্গি তৎপরতা দেখা যায়, তারপর যদি ভারতীয় মিডিয়ায় বলা শুরু হয়—

“দেখুন, আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম।”

তারপর কোনও ভারতীয় terrorist incident-এর সঙ্গে যদি Bangladesh-based extremist network-এর যোগসূত্র তুলে ধরা হয়, তখন বিষয়টি আর শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ security problem থাকবে না।

সেটি হয়ে উঠবে—

“বাংলাদেশ ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

আর এই narrative-টির রাজনৈতিক মূল্য ভারতের জন্য কম নয়।

কারণ তখন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে দেখার একটি India-centric security lens তৈরি করা সম্ভব।

এবং এখানেই আমার সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আসে—

এই narrative-এর শেষ রাজনৈতিক লক্ষ্য কী?

নতুন বাংলাদেশ সরকারকে কি আবার বোঝানো হবে—

> *“আমাদের সঙ্গে security/intelligence cooperation গভীর করুন। আমাদের concerns-কে গুরুত্ব দিন। নইলে বাংলাদেশের মাটি থেকে anti-India terrorism-এর অভিযোগ উঠবে।”*

আমি এটাকে এখনই প্রমাণিত ঘটনা বলছি না।

আমি একটি সম্ভাব্য coercive signalling strategy-র কথা বলছি।

আর সেই কারণেই RAW chief-এর সফর, UN report এবং সাম্প্রতিক militant/explosive incidents—সবকিছুকে আলাদা আলাদা খবর হিসেবে না দেখে একটি বৃহত্তর geopolitical sequence হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

কারণ ইতিহাস আমাদের অন্তত এটুকু শিখিয়েছে—

জঙ্গিবাদ শুধু security issue নয়; অনেক সময় এটি একটি powerful geopolitical narrative-ও হয়ে ওঠে।

আর এবার প্রশ্নটা বাংলাদেশের:

বাংলাদেশ কি আবারও অন্যের security narrative-এর subject হতে যাচ্ছে—নাকি এবার নিজের চোখ দিয়ে নিজের security reality-কে ব্যাখ্যা করবে?

আমি এখানে কোনও “নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ” হওয়ার চেষ্টা করছি না। 😄 আমি বাংলাদেশের perspective থেকে ঘটনাগুলো পাশাপাশি রেখে একটি counter-narrative নির্মাণ করছি। যেখানে তথ্য আছে, তথ্য বলছি; যেখানে অনুমান, সেখানে সেটিকে অনুমান হিসেবেই রাখছি।

পরবর্তী অংশে: AQIS–TTP–Taliban–Afghanistan এবং Pakistan নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্টগুলো আসলে কী বলছে—এবং সেই একই ছবিতে ভারতের অবস্থান কোথায়?

08/08/2026

BRICS-এ গিয়ে সেলফি তুলবেন, নাকি বাংলাদেশের স্বার্থের হিসাব করে যাবেন?

আমার এই কথাটা মাথায় এলো সেই শেখ হাসিনার জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লী সফরের কথা মনে পড়াতে। ওই সময়ে শেখ হাসিনা বিশেষ অতিথির রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দিল্লির দাওয়াতে যোগ দিয়েছিলেন । ওখানে মোদীর সাথে তাঁর একটা বৈঠক হয় আর বাইডেন এর সাথে সেলফি আর কিছু বিশ্ব নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ। এটুকু ছিলো অর্জন ।

বরঞ্চ ভারতের অর্জন ছিলো ।

রেল সংযোগ নিয়ে অগ্রগতি হয় : আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ এবং খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে যৌথ উদ্বোধনের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

তাই ভাবছিলাম এবারো কি তাই হবে ,

ভারত বাংলাদেশকে BRICS Summit-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেছে বিমসটেকের সভাপতি হওয়ার কারণে পরে অবশ্য bilateral invitation হিসেবেও উল্লেখ করেছে ।

বাংলাদেশ BRICS-এর সদস্য নয়, এমনকি observer-ও নয়। কাজেই এই আমন্ত্রণকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া যায়, কিন্তু এটাকে কোনো সদস্যপদ বা জোটে যোগদানের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। (Hindustan Times⁠)

কূটনীতিতে এই ধরনের আমন্ত্রণ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমন্ত্রণ গ্রহণ করাই আসল প্রশ্ন নয়; প্রশ্ন হলো—যাব কেন?

বিশেষ করে বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।

সাম্প্রতিক,
শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও দিল্লি থেকে তাঁকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এ নিয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেছে, ভারত আবার বলেছে অনুষ্ঠানটি একটি private event এবং ভারত সরকার এর সঙ্গে জড়িত নয়। (Reuters⁠) । কিন্তু এটুকু বলেই দায় এড়ানো যায় কিনা আমার সন্দেহ আছে । তবে এই বিষয়টা আমার আলোচ্য নয় এই মুহূর্তে কে সঠিক কে ভুল । আমাদের সরকার এবং জনগণের কাছে কি বার্তা গেল সেটাই প্রধান ।

এই ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশ যে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, সেটিও সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হবে। ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে রাজনৈতিক সমর্থন পেয়েছেন, এমনকি তাঁর সমালোচকদের একটি অংশও যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে—এটি এখন একটি বাস্তব রাজনৈতিক factor।

এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ দিল্লিতে গিয়ে BRICS-এর একটি বড় সম্মেলনে শুধু উপস্থিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক? এই যাওয়াকে কি ভাবে দেখা হবে ? নতজানু ?

অনেকে যুক্তি দেবেন এটা একটা বড় কূটনতিক প্লাটফর্ম তাই হাসিনা ইস্যুতে দিল্লির সঙ্গে তীব্র সংঘাতের মধ্যেও যদি তারেক শেষ পর্যন্ত BRICS-এ যান, সেটি ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ নয়; বরং উল্টোভাবে দিল্লির দেওয়া প্ল্যাটফর্মকেই বাংলাদেশের বৃহত্তর কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হতে পারে।
কিন্তু শুরুতেই শেখ হাসিনার যে উদাহরণ টেনেছি তা তে করে মনেই হতে পারে এই সফর টা নিছক পর্যবসিত হবে ,

স্রেফ সেলফি তোলার জন্য ?

BRICS-এ চীন, রাশিয়া, ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর নেতারা থাকবেন—এটি অবশ্যই একটি বড় কূটনৈতিক মঞ্চ। কিন্তু বড় সম্মেলনের sidelines-এ ছবি তোলা আর substantive diplomacy এক জিনিস নয়। আগে থেকে homework, নির্দিষ্ট agenda এবং bilateral meeting-এর প্রস্তুতি না থাকলে শেষ পর্যন্ত অনেক কিছুই protocol, handshake এবং photograph-এ সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

আর তারেক রহমান তো কিছুদিন আগেই চীন সফর করে এসেছেন। ফলে সেখানে চীনা নেতৃত্বের সঙ্গে আবার একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেই বাংলাদেশের জন্য বিরাট নতুন অর্জন হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার কারণ নেই।

তাছাড়া BRICS-এর সব রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানও যে সম্মেলনে একইভাবে উপস্থিত থাকবেন, তারও নিশ্চয়তা নেই। আগের সম্মেলনগুলোতেই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রের কোনো কোনো নেতা সরাসরি উপস্থিত না থেকে অন্যভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২৬-এর দিল্লি সম্মেলনে Xi Jinping ও Vladimir Putin-এর উপস্থিতির সম্ভাবনা জোরালো হলেও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরো attendance ধরে নেওয়া যায় না। (Indian Express⁠) কিন্তু যে বিষয়টা খচখচ করছে তা হলো,

সম্পর্কের আসল কাঁটা: শেখ হাসিনা

এই মুহূর্তে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন তিস্তা, গঙ্গা বা বাণিজ্য নয়—শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিও রয়েছে। কিন্তু ভারত এখনো তাঁকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেয়নি। বরং বাংলাদেশের তীব্র আপত্তির মুখেও দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের সুযোগ তৈরি করেছে।

এখানেই বর্তমান সম্পর্কের মূল দ্বন্দ্ব।

কারণ একই সময়ে ভারত আবার বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে BRICS সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

এই দুই ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে বিষয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

ভারত কি একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে ধরে রেখে তারেক রহমানের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে?
অর্থাৎ দিল্লির বার্তা সম্ভবত সরলভাবে “ঢাকার সঙ্গে আমরা খারাপ সম্পর্ক চাই” নয়। বরং:

হাসিনা প্রশ্নে ভারত নিজের অবস্থান বজায় রাখবে, কিন্তু একই সঙ্গে তারেক সরকারের সঙ্গে নতুন একটি কূটনৈতিক channel-ও খুলবে।

এটা ভারতের জন্য বেশ বাস্তববাদী কৌশল। এর মূলে রয়েছে বাংলাদেশকে চীন থেকে দূরে রাখার প্রয়াস ।

যদি তাই হয়, তাহলে তারেকের জন্য BRICS invitation নিছক সৌজন্য আমন্ত্রণ নয়; এটি একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক bargaining opportunity।

কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণের আগে ঢাকার প্রশ্ন হওয়া উচিত:

শেখ হাসিনা সম্পর্কে ভারতের অবস্থান কী?

বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধের কী অগ্রগতি হয়েছে?

ভারত কি সত্যিই বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চায়, নাকি শুধু পুরনো সম্পর্কের নতুন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে চায়?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না নিয়ে শুধু দিল্লি গিয়ে BRICS-এর মঞ্চে ছবি তোলা হলে সেটি বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক হবে? তারেক রহমানের ইমেজের উপরও প্রশ্ন তুলতে পারে ।

তাই সম্পর্ক উন্নয়নের দৃশ্যমান প্রমাণ চাইতে হবে। শুধু আমন্ত্রণ নয়—commitment চাইতে হবে।

আর যদি ভারত সত্যিই বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে চায়, তাহলে শেখ হাসিনা প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়ে সেই সম্পর্ক স্থায়ী করা কঠিন হবে অথবা অসম্ভব বলা যায় । অন্তত জনগণের অভিমত তাই হবে । তবে শেষ উত্তর টা ভবিষ্যতই দিতে পারে।

কারণ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি এখন ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় আস্থার সংকটের প্রতীক।

তাই BRICS-এ তারেক রহমানের যাওয়া বা না যাওয়ার প্রশ্নের আগে আসল প্রশ্ন:

দিল্লি কি শুধু তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, নাকি বাংলাদেশের সঙ্গে সত্যিই নতুন সম্পর্কের দরজা খুলতে চাইছে?

এর উত্তর কথায় নয়, ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপেই পাওয়া যাবে।

তাহলে বাংলাদেশের করণীয় কী?

আমার মতে, তিনটি পথ খোলা থাকা উচিত।

প্রথমত—প্রধানমন্ত্রী নিজে যেতে পারেন।

কিন্তু তার আগে ভারতের কাছ থেকে দৃশ্যমান কূটনৈতিক অগ্রগতি চাইতে হবে।

হাসিনা প্রত্যর্পণের প্রশ্নে কী অগ্রগতি?

গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে কী concrete commitment?

তিস্তা নিয়ে ভারত কী দিতে প্রস্তুত?

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের যে কথা বলা হচ্ছে, তার দৃশ্যমান উদাহরণ কোথায়?

শুধু “সম্পর্ক ভালো করতে চাই”—এই ধরনের কূটনৈতিক বাক্য যথেষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আপত্তি উপেক্ষা করা হয়েছে ।

দ্বিতীয়ত—প্রয়োজনে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানো যেতে পারে।

এতে বাংলাদেশ দেখাতে পারে যে BRICS-কে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, কিন্তু একটি আমন্ত্রণের কারণে পুরো রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে এমন একটি সফরে পাঠাচ্ছি না যার tangible outcome আগে নিশ্চিত নয়।

তৃতীয়ত—একেবারেই না যাওয়াও একটি option।

কিন্তু সেটিও যেন আবেগের সিদ্ধান্ত না হয়। কারণ না গেলে ভারত বলতে পারবে—আমরা তো আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, বাংলাদেশই আসেনি। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ diplomatic platform-ও হাতছাড়া হবে।

তাই আমার কাছে সবচেয়ে বুদ্ধিমান পথ হলো:

যদি যাওয়া হয়, তবে deliverables নিয়ে যেতে হবে।

আমার ভয় টা ভারত তিস্তা নিয়ে কথা বলবে—আগেও তাই করেছে শেখ হাসিনার সময়ে । এতটাই যে শেখ হাসিনা এই বিষয় এক পর্যায়ে চীন কে বাদ দিয়েছিলেন কিন্তু ভারতও commitment দেয়নি বা রাখেনি । এত বড় প্রকল্প কি ভারত আসলেই করত না কি বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখত? এবারও তাই করতে পারে । আমরা আবারও চীনকে হারাতে পারি ।
সেটাই ভারতের উদ্দেশ্য আগের উদাহরণ থেকে যদি এই ধারণা করি আমাদের দোষ দেওয়া যায় কি ?

আমার প্রবল আশঙ্কা এই দাওয়াতের পেছনে এটাই মূল কারণ চীন থেকে দূরে সরানোর প্রয়াস তা না হলে শুধু সম্পর্ক উন্নয়নই যদি লক্ষ্য হত তা হলে বাংলাদেশের আপত্তিকে ভারত গুরুত্ব দিতো ।

এখানে যেটা হয়েছে হাসিনাকে দিয়ে একটা প্রেসার ট্যাকটিকস তৈরি করা অর্থাৎ দেখানো ভারতের হাতে সেই সুযোগ আছে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকারকে বিপদে ফেলার । ক্ষেত্র বিশেষে সরকারকে ব্যর্থও করে দিতে পারে ।
আবার একই সময়ে বিশেষ দাওয়াত দেওয়া যাতে করে সরকার এটা উপেক্ষাও করতে না পারে ।
তৃতীয়ত ,
গঙ্গা চুক্তি যখন ২০২৬ সালের শেষেই শেষ হওয়ার কথা, তখন তার নবায়ন নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি কোথায়?

আর প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতের অবস্থান যদি অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে শুধু BRICS invitation-কে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির প্রমাণ হিসেবে দেখব কেন?

বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত খুব পরিষ্কার:

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চাই, কিন্তু সম্পর্কের মূল্য হিসেবে চীনের সঙ্গে বৈধ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করা নয়।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক চাই, কিন্তু তার অর্থ পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারদের মধ্যে থাকবে, কিন্তু তার অর্থ ভারত, চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করা নয়।

এটাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের multi-vector foreign policy।

সুতরাং BRICS-এ যাওয়া মানেই anti-Western bloc-এ যাওয়া নয়। আবার BRICS-এ গিয়ে চীন-রাশিয়ার নেতাদের সঙ্গে দেখা করলেই পশ্চিমকে শুধু মুখের কথায় বোঝানো যাবে যে আমরা কোনো নতুন geopolitical alignment-এ যাচ্ছি না—এটাও বাস্তবসম্মত নয়।

বাংলাদেশকে কথা দিয়ে নয়, আচরণ দিয়ে দেখাতে হবে যে আমরা কারও ব্লকে যাচ্ছি না।

আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের ব্লকে আছি।

আর ভারতীয় আমন্ত্রণটির ক্ষেত্রেও একই কথা।

আমন্ত্রণটি নিঃসন্দেহে একটি কূটনৈতিক সুযোগ। এমনকি এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার একটি বার্তাও থাকতে পারে। কিন্তু সেই বার্তার দৃশ্যমান প্রতিদান কোথায়?

শুধু আমন্ত্রণ যথেষ্ট নয়।

তারেক রহমান যদি দিল্লি যান, তাহলে তাঁর যাওয়া যেন হয়—

BRICS-এর ছবিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির জন্য নয়,
বাংলাদেশের bargaining power বাড়ানোর জন্য।

আর যদি যাওয়ার মতো substantive homework না থাকে, তাহলে একজন পূর্ণাঙ্গ প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর পরিবর্তে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোও অসম্মানের কিছু নয়।

কারণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় ভুল হলো—
আমন্ত্রণকে অর্জন মনে করা।

আমন্ত্রণ হলো সুযোগ।

অর্জন হলো—সেই সুযোগ থেকে নিজের দেশের জন্য কী বের করে আনতে পারলাম।

05/08/2026

তো পলাতক ফ্যাসিস্ট খুনি কেন জাতির উদ্দেশ্যে বাংলায় ভাষণ না দিয়ে ইংরেজিতে দিচ্ছেন ?

আসলে তার অডিয়েন্স আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাংলাদেশের জনগণ নয় ।

তার প্রয়াস হলো তার বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে একটা আন্তর্জাতিক কনসেনসাস তৈরী করা যে বিচারটা যথাযথ হয়নি কারণ তার কথা শোনা হয়নি ।

এরকম ভাবে একটা পুনর্বিচারের দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা তার এই ভাষণ।

তার প্রচেষ্টায়ই হচ্ছে তার দাবি সে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে তার কথায় সুষ্ঠু বিচার হলে ।

কিন্তু প্রশ্ন এখন কেন ?

নির্দ্বিধায় বলা যায় এর পেছনে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় হয়তো একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে ।

বাংলাদেশে ইন্টেরিমের সরকার প্রস্থান করেছে । ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতায় বসেছে।

নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতি এবং সেই সাথে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাস চলছে ।

যে কৌশল ইউনুস সাহেবের সময় কার্যকর হতোনা এখন হয়ত তা সম্ভব হবে ।

তার অর্থ সরকার চাপে পরে ভারত সমর্থিত এই দাবী মেনে নিলে আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেলেই তিনি দেশে ফিরবেন আত্মসমর্পণ করবেন ।

আত্মসমর্পণ করার অর্থ বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়া অর্থাৎ যে বিচারের রায় হয়ে গেছে তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেন । নতুন করে পুনরায় বিচার শুরু করতে দিতে হবে যেখানে কিনা পুনঃ তদন্তের কথাও বলা হতে পারে ।

বিচার চলাকালে নতুন নতুন দাবি তৈরি হবে । সরকারের ভেতর থেকেই না না অংশ না না তৎপরতা শুরু করবে ।

এই ভাবে হাসিনা ফিরলে সত্যিই তারেক রহমানের পক্ষে রাজনৈতিক ভাবে সামল দেওয়া কঠিন হবে কারণ আমরা যারা আওয়ামী লীগ কে চিনি জানি তারা কি ভাবে বিএনপির দু দুটো সরকারকে নাকানি চুবানি খাইয়েছিলো, পুরোটা সময়ে সরকারকে অস্থির করে রেখেছিল । হাসিনা নিজেই বলেছিল একটা দিনও শান্তিতে থাকতে দেবোনা ।

কিন্তু যদি হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তা হলে আগের বিচারই বহাল থাকবে এবং লিগের কোনও রাজনৈতিক লাভ হাসিল হবে না ।

ভারত ও আওয়ামী লীগের দেশের অভ্যন্তরে এত এত সফ্ট পাওয়ার এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে যে তারা প্রথমেই জুলাইয়ের পক্ষ গুলোর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করবে । যা এখনই শুরু হয়ে গেছে । জুলাইকে বিতর্কিত ও নিন্দনীয় করে তুলবে । তুলেছেও ।

দু বছর পরও পুরো এস্টাব্লিশমেন্ট , মিডিয়া , কালচারাল এস্টাব্লিশমেন্টে ফ্যাসিস্ট অনুসারী এবং দোসররা বহাল তবিয়তে বসে আছে ।
সুতরাং সরকারকে চাপে ফেলতে বা ব্যর্থ করতে বেশি সময় নেবেনা।

তবে সরকারকে ততদিন পর্যন্তই সময় দেবে যতদিন পর্যন্ত্ তাদের স্বার্থ পূরণ না
হয় । কারণ আপাত:দৃষ্টিতে জামাত এনসিপির চেয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে অনেক পার্থিত ।

এখন তারেক রহমানের কাছে কোন পথটি খোলা আছে ? একটা বিভক্ত রাজনৈতিক সমাজ নিয়ে একজন সর্বগ্রাসী সবল আসামিকে ট্যাকেল করার চাইতে দূরে রাখাই স্রেয় কিন্তু এটা করতে চাইলে ওনাকে হয়ত কোনও এক বিপুল শক্তির শরণাপন্ন হতে হবে ।
দৌড় ঝাপ দেখে অমনটাই মনে হচ্ছে । সেক্ষেত্রে কোনও এক বিশেষ পরাশক্তির ছায়া বাংলাদেশের ভারসাম্যের কূটনীতিকে বাধাগ্রস্থ করবে । এতে করে দিনের শেষে দেশের বৃহত্তর কিছু স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে ।
এখানেই এসে পরে ভারতের স্বার্থ ।

ভারত দেখছে চীনের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্টতা বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প এবং সামরিক সহযোগিতা তার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য বিপদ সংকুল । আসলে যতটা না নিরাপত্তার ইস্যু তার চেয়ে বেশি ভারত চায়না বাংলাদেশ অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠুক । পানির ব্যবস্থাপনায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠুক । ভারত চায়ই না বাংলাদেশ ভারতের হাতের মুঠের বাইরে চলে যাক । এই কারণেই প্রফেসর ইউনুস ভারত এবং ভারতীয় দোসরদের কাছে সবচেয়ে অপ্রিয় ।

মুশকিল হচ্ছে চিন আমেরিকার সাথে ভারসাম্য মূলক সম্পর্ক না রাখতে পারলে কোনও একদিয়ে ঝুঁকে পড়লেই আমাদের অর্থনৈতিক এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অগ্রগতি ব্যাহত হবে ।

তাই আমাদের অভন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে এবং আওয়ামী লীগকে সামনে এনে তাদের ম্যানিপুলেশনকে ব্যাহত করতে জুলাইয়ের পক্ষগুলোর ঐকের বিকল্প নেই সেই সাথে দুর্নীতি মুক্ত, এফিশিয়েন্ট এবং গুড গভর্নেন্সের বিকল্প নেই । সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য সরকারকে শক্তিশালী করে আর শক্তিশালী সরকার পরাশক্তিদের চাপও উপেক্ষা করতে সক্ষম।

নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে একসময়ে এই সরকারকে আওয়ামী লীগ গিলে খাবে ।

দুর্নীতি মুক্ত না হলে সুসাশনও কোনোভাবেই সম্ভব নয় ।
শেষমেশ অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন হাসিনা ফিরল , বিচারও চলল, তেমন সাজা হলোনা বা সাজা দেওয়া গেলনা কারণ না না কারণে অর্থনীতি , জীবনযাত্রা, বেকারত্ব , আইন শৃঙ্খলার দ্রুত অবনতি সরকারের দৃঢ়তাকে নড়বড়ে করে দিয়েছে ফলে সরকার কে আপোষ করতে হচ্ছে । সেক্ষেত্রে ক্ষমতার কি পালাবদল হবে না কি ৫ বছর পর ভোট পরবর্তী সরকার নিশ্চিত হবে।

ফ্যাসিস্ট এস্টাব্লিশমেন্ট জিইয়ে রাখলে অন্য কিছুও ঘটতে কতক্ষণ । আমাদের কাছে তো এরশাদ এবং ১/১১ এর উদাহরণ রয়েছে ।

তাই ভালো হবে আলোচনা করেই গণভোট বাস্তবায়ন করা । ওখানে অনেক চেক এন্ড ব্যালেন্স রয়েছে । একটা স্থিতিশীল এবং জবাবদিহি সরকারের জন্য যে সরকার দরকার সেই রকম সংবিধানই আমাদের রয়েছে যা হয়ত সময় সময়ে সময়োপযোগী করতে দরকার সেই সাথে বাক স্বাধীনতা !

31/07/2026

আমরা কি ইতিমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে প্রবেশ করেছি—শুধু তার রূপটা এখনো পুরোপুরি চিনে উঠতে পারিনি?”

২৯ মার্চ আমি এই প্রশ্ন তুলেছিলাম। তখন অনেকেই বলেছিলেন, এটা অতিরঞ্জন। বিশ্বযুদ্ধ হলে নাকি ১৯১৪ বা ১৯৩৯ সালের মতোই হবে—বড় শক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে নামবে, বিশাল সেনাবাহিনী সীমান্ত অতিক্রম করবে, তারপরই তাকে বিশ্বযুদ্ধ বলা যাবে।

আজও আমি মনে করি, আমরা নতুন ধরনের সংঘাতকে পুরনো সংজ্ঞা দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি।

আমি প্রতিদিনের যুদ্ধের স্কোর বলতে চাই না। কোথায় কতটি ড্রোন ধ্বংস হলো, কোন ঘাঁটিতে হামলা হলো, কে কতটা এগোল—এসব গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো মূলত যুদ্ধের ধারাবিবরণী। আমার আগ্রহ অন্য জায়গায়।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে—যুদ্ধটি কোন দিকে যাচ্ছে? এর কৌশলগত চরিত্র কীভাবে বদলাচ্ছে?

ক্রমশ আমার মনে হচ্ছে, এই যুদ্ধ দ্রুত বিজয়ের যুদ্ধ নয়; বরং ধীরে ধীরে War of Attrition বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের কথা মনে পড়ে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেন রাশিয়ার মতো একটি বৃহৎ সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন এটি কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হবে। বাস্তবতা ভিন্ন হয়েছে।

এর অর্থ এই নয় যে ইরান ও ইউক্রেন এক পরিস্থিতিতে রয়েছে। তারা এক নয়।

কিন্তু একটি কৌশলগত শিক্ষা স্পষ্ট—আধুনিক যুদ্ধে কেবল সামরিক শক্তি নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, অর্থনৈতিক সহনশীলতা, বহিরাগত সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয় সহ্য করার ক্ষমতাও যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করে।

তাই “ইরান কতদিন টিকবে?”—এই প্রশ্নের পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ—

আমেরিকা ও তার মিত্ররা কতদিন এই যুদ্ধের সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যয় বহন করতে প্রস্তুত?

রাশিয়াকে ইউক্রেনে দীর্ঘ ক্ষয়যুদ্ধে আটকে রাখা পশ্চিমা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। সেখানে দ্রুত বিজয়ের চেয়ে প্রতিপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যস্ত ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে ধরে রাখাই বড় বিষয় হয়ে ওঠে।

এখন আমার প্রশ্ন—

মধ্যপ্রাচ্যে কি এবার উল্টোভাবে একই ধরনের কৌশল আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার চেষ্টা হতে পারে?

যদি চীন, রাশিয়া বা অন্য কোনো শক্তি মনে করে যে আমেরিকার সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক মনোযোগ দীর্ঘ সময়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকলে তাদের কৌশলগত সুবিধা হবে, তাহলে তারা স্বাভাবিকভাবেই চাইবে এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হোক। এর অর্থ এই নয় যে তারা সরাসরি যুদ্ধে নামবে; বরং তারা এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে নিজেদের স্বার্থে উপযোগী মনে করতে পারে।

এখানেই আরেকটি বিষয় আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

প্রথমদিকে মনে হচ্ছিল, ইরানের প্রধান চাপের কেন্দ্র হবে হরমুজ। কিন্তু যদি একটি মাত্র চোকপয়েন্ট কাঙ্ক্ষিত কৌশলগত ফল না দেয়, তাহলে সংঘাত কি ধীরে ধীরে বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে?

আমার কাছে মনে হচ্ছে, এখানেই স্পিলওভার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।

সম্ভবত ইরানের হিসাব হলো—যুদ্ধের খরচ শুধু ইরানের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া। অর্থাৎ, ইরানের নিরাপত্তা সংকটকে উপসাগর, সমুদ্রপথ ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে তোলা।

কিন্তু এখানেই একটি বড় ঝুঁকি রয়েছে।

যদি উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো মনে করে যে এই সংঘাত তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সমুদ্রপথকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে, তাহলে তারা নিরপেক্ষ থাকার পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আরও ঘনিষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের দিকে যেতে পারে।

অর্থাৎ, যে স্পিলওভার ইরানের কাছে কৌশলগত চাপ তৈরির উপায়, সেটিই উল্টো ইরানকে আরও কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও আঞ্চলিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যয়ের একটি অংশ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

তাই আমার কাছে মনে হচ্ছে, উভয় পক্ষই হয়তো সংঘাতকে আঞ্চলিক মাত্রায় নিয়ে যেতে চাইছে—কিন্তু উদ্দেশ্য এক নয়।

এক পক্ষ চাইতে পারে যুদ্ধের খরচ আন্তর্জাতিক করতে।
অন্য পক্ষ চাইতে পারে নিরাপত্তার দায় ও রাজনৈতিক বৈধতা আন্তর্জাতিক করতে।

এখানে আমার কাছে আরও একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।
এই যুদ্ধ কি শুধু সামরিক সংঘর্ষ, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য (regional balance of power) নির্ধারণের যুদ্ধও?

আমার ধারণা, এখানেই যুদ্ধ থামানো এত কঠিন হয়ে উঠছে। কারণ যদি যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হয় যে ইরান তার মূল সামরিক, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব অক্ষুণ্ণ রেখে বেরিয়ে আসে, তাহলে অনেক আঞ্চলিক শক্তির কাছে সেটি ভবিষ্যতে ইরানের প্রভাব আরও বৃদ্ধির ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, ইরানও এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে চাইতে পারে, যেখানে তাকে উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করা সম্ভব না হয়।

অর্থাৎ, এই সংঘাত শুধু যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে নয়; যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে কে কতটা প্রভাবশালী থাকবে, সেই প্রশ্ন নিয়েও।

সম্ভবত এই কারণেই আমরা দেখছি, সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রতিযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই কারণেই আমি মনে করি, আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো না—আজ কে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল।

বরং প্রশ্ন হলো—

এই যুদ্ধ কি এমন এক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত হচ্ছে, যেখানে সামরিক বিজয়ের চেয়ে প্রতিপক্ষকে বছরের পর বছর ব্যস্ত, ব্যয়বহুল এবং কৌশলগতভাবে সীমাবদ্ধ করে রাখাই প্রধান লক্ষ্য?

যদি উত্তর “হ্যাঁ” হয়, তাহলে ২৯ মার্চের প্রশ্নটি আবারও সামনে আসে—

আমরা কি ইতিমধ্যেই এমন এক নতুন ধরনের বিশ্বসংঘাতে প্রবেশ করেছি, যার রূপ ১৯১৪ বা ১৯৩৯ সালের মতো নয়, কিন্তু যার প্রভাব ধীরে ধীরে সমগ্র আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করছে?

এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

এটি একটি হাইপোথিসিস।

আর ইতিহাসের কাজই হলো—সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই হাইপোথিসিসকে সত্য অথবা মিথ্যা প্রমাণ করা।

হয়তো আমি ভুলও হতে পারি। ইতিহাসই শেষ পর্যন্ত রায় দেবে। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলো হয়েছে তখনই, যখন মানুষ নতুন বাস্তবতাকে পুরনো মানচিত্র দিয়ে বুঝতে চেয়েছে। আমার প্রশ্ন কেবল এতটুকুই—আমরা কি সেই ভুলটাই আবার করছি?”

29/07/2026

তা হলে কি বাংলাদেশে বিরোধী দল বলে কিছু থাকতে পারবে না ? সমালোচনা সহ্য করা হবে না ? বারে বারে বাকশাল ফেরে নবরূপে । Once a victim now is the perpetrator!

27/07/2026

কয়েকটা প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর পদত্যাগের পর । বিশেষ করে যেহেতু তিনি এখন রাষ্ট্রপতি নন তারপরও কি ইনডেমনিটি ভোগ করবেন ? এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান কি বলে ? যদিও আমরা জানি সংবিধানের ব্যাখ্যা দেবার দায়িত্ব এবং অধিকার একমাত্র সুপ্রীম কোর্টের ( যদি ভুল না বুঝে থাকি ) কিন্তু তারপরও অনেকেই ব্লান্টলি পক্ষে বিপক্ষে রায় দিয়ে যাচ্ছেন এমনকি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পজিশন থেকে । যা বোধগম্য নয় ।

তো আমি যদিও নিজে কোনও আইন বিশারদ নই তারপরও কমন সেন্স ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে সাধারণ রিডারদের সাথে আমার ধারণা গুলো শেয়ার করতে পারি ।
মূল প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরও ক তিনি সংবিধানের ৫১ ধারায় প্রদত্ত ইনডেমনিটি ভোগ করেন কিনা ?

বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি হবার পূর্বে সংগঠিত কোনও ফৌজদারি অপরাধ যদি প্রকাশ্যে আসে তাও কি ইনডেমনিটির আওতায় পড়বে?

দুর্নীতি বা কোনপ্রকার ক্ষমতার অপব্যবহার কি ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পরে ?
এই দুটো প্রশ্নের জবাব পেতে হলে প্রথমেই দেখতে হবে সংবিধানের ৫১ নং ধারা কি বলে ?

সেখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বলা হয়েছে:

1. রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনকালে করা বা না করা সরকারি কাজের জন্য আদালতে জবাবদিহি করবেন না। এটি মূলত তাঁর official acts-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
2. রাষ্ট্রপতি তাঁর পদে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা শুরু বা চালিয়ে যাওয়া যাবে না এবং তাঁকে গ্রেপ্তারও করা যাবে না। লক্ষ্য করুন, এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে “During his term of office”—অর্থাৎ পদে থাকা পর্যন্ত। তথ্য সূত্র : Bangladesh Laws

এ থেকে সাধারণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায় যদিও শেষ কথা বলার অধিকার সুপ্রিম কোর্টের তারপরও বলি,

* যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা স্থগিত থাকতে পারে বা শুরু করা না-ও যেতে পারে।
* কিন্তু রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দিলে সেই সাময়িক সুরক্ষা শেষ হয়ে যায়। তখন, যদি আইনে অপরাধের উপাদান থাকে এবং তদন্তকারী সংস্থা প্রমাণ পায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত, মামলা ও বিচার হতে পারে। সংবিধান তাঁকে আজীবন ফৌজদারি দায়মুক্তি দেয় না।
অন দিস নোট, আমরা আরেকটা প্রশ্ন করতে পারি ,

ব্রিটেনের রাজা বা ইউএস এর প্রেসিডেন্টও কি প্রেসিডেন্ট পদ চলে যাবার পর ব্যক্তিগত অপরাধের দায়মুক্তি পান ?

সংক্ষিপ্ত উত্তর হবে : না। যুক্তরাজ্যের রাজা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে নিয়ম এক নয়, তবে পদ ছেড়ে দেওয়ার পর ব্যক্তিগত ফৌজদারি অপরাধের জন্য স্থায়ী দায়মুক্তি—এমন কোনো সাধারণ নীতি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল ফৌজদারি মামলা করা যাবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক আছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার:

* পদ ছেড়ে দেওয়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়মুক্ত নন।
* তিনি অন্য যে কোনো নাগরিকের মতো তদন্ত, মামলা এবং বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।
* এর বাস্তব উদাহরণ হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বিরুদ্ধে পদত্যাগ/মেয়াদ শেষে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। এসব মামলার আইনি পরিণতি বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু এ থেকে দেখায় যে সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করা সাংবিধানিকভাবে অসম্ভব নয়।

যুক্তরাজ্যের রাজা

এখানে বিষয়টি ভিন্ন।

যুক্তরাজ্যে একটি প্রাচীন সাংবিধানিক নীতি আছে:

“The King can do no wrong.”

অর্থাৎ বর্তমান সম্রাটের বিরুদ্ধে তাঁর নিজের আদালতে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না। এটি ব্যক্তিগত সুবিধা নয়; বরং ব্রিটিশ সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য।

তবে দুটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ:

* এই সুরক্ষা বর্তমান রাজা বা রানির সঙ্গে সম্পর্কিত।
* কেউ যদি সিংহাসন ত্যাগ করেন (abdicate) বা আর সম্রাট না থাকেন, তাহলে সেই বিশেষ সাংবিধানিক অবস্থানও আর থাকে না। ইতিহাসে এমন পরিস্থিতির নজির খুবই বিরল, তাই এ বিষয়ে সরাসরি আদালতের রায়ও সীমিত।

উদাহরণ হিসেবে Edward VIII সিংহাসন ত্যাগ করার পর আর রাজা ছিলেন না; তিনি সাধারণভাবে “Duke of Windsor” হিসেবে জীবনযাপন করেন। তাঁর জন্য “বর্তমান সম্রাট” হিসেবে যে সাংবিধানিক সুরক্ষা ছিল, তা আর প্রযোজ্য ছিল না।
আমাদের প্রেসিডেন্ট অবশ্য king নন ।

দ্বিতীয় প্রশ্ন:

দুর্নীতি কি ফৌজদারি অপরাধ নয়?

বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি, যেমন ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ইত্যাদি, সাধারণত ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এগুলো বিভিন্ন আইন, বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-সম্পর্কিত আইনের আওতায় বিচারযোগ্য।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা আর আদালতে অপরাধ প্রমাণ হওয়া এক জিনিস নয়। কারও বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার হতে হলে আইন অনুযায়ী তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

অর্থাৎ, যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে যে তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই দুর্নীতির মতো ফৌজদারি অপরাধ করেছেন, তাহলে শুধু সাবেক রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে তিনি স্থায়ী সাংবিধানিক দায়মুক্তি পাবেন—এমন কথা সংবিধানে নেই। তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলায় বিচার হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া, প্রমাণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
তথ্য সূত্র : Bangladesh laws,
Bdlaws.Minlaw. gov
Constitution.congress

সুতরাং, গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার সাধারণ নীতিই হলো কেউই পদ ছেড়ে দেওয়ার পর স্থায়ীভাবে আইনের ঊর্ধ্বে থাকেন না, যদিও পদে থাকাকালীন কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক বা কার্যকরী (functional) দায়মুক্তি থাকতে পারে।

শেষমেষ আমরা প্রায়ই একটা কথা বলি ,

কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়” (No one is above the law) আধুনিক সাংবিধানিক গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক নীতি। এটি Rule of Law (আইনের শাসন)-এর কেন্দ্রীয় ধারণা।এর অর্থ কি ,
ব্রিটিশ সাংবিধানিক চিন্তাবিদ A. V. Dicey। তাঁর মতে, আইনের শাসনের একটি মৌলিক উপাদান হলো:
প্রত্যেক ব্যক্তি, তাঁর পদ বা মর্যাদা যাই হোক না কেন, আইনের অধীন এবং সাধারণ আদালতের জবাবদিহির আওতাভুক্ত।

তাহলে রাষ্ট্রপ্রধানও কি এর আওতায় পড়বেন?
নীতিগতভাবে হ্যাঁ। রাষ্ট্রপ্রধান—তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা রাজা যেই হোন—আইনের ঊর্ধ্বে নন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে:
*
* Substantive immunity (স্থায়ী দায়মুক্তি): অর্থাৎ কখনোই বিচার করা যাবে না।
* Procedural immunity (প্রক্রিয়াগত বা সাময়িক দায়মুক্তি): অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ না করে বিচার করা যাবে না।

বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক সংবিধান রাষ্ট্রপ্রধানকে দ্বিতীয় ধরনের, অর্থাৎ সাময়িক বা প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা দেয়। এর উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ যেন রাজনৈতিক বা তুচ্ছ মামলার কারণে অকার্যকর হয়ে না পড়ে।

সারসংক্ষেপ
“কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়” একটি মৌলিক সাংবিধানিক নীতি। তবে এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রপ্রধানের কখনো কোনো বিশেষ সুরক্ষা থাকবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই সুরক্ষা পদে থাকা অবস্থার জন্য সীমিত এবং প্রক্রিয়াগত; এটি সাধারণত আজীবন বা সব ধরনের অপরাধের জন্য স্থায়ী দায়মুক্তি নয়।

এই কারণেই সাংবিধানিক আইনে একটি প্রচলিত কথা আছে:
Immunity is not impunity.
অর্থাৎ, দায়মুক্তি (immunity) মানে অপরাধ করলেও চিরদিনের জন্য শাস্তি থেকে মুক্তি (impunity) নয়।

তবে আবারও মনে করিয়ে দেই শেষ কথা বলার কর্তৃত্ব একমাত্র সর্বোচ আদালত সুপ্রীম কোর্টের ।

Address

London

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dhaka Medical College (DMC) posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share